ছোটদের জন্য বিজ্ঞান – ৭

0
237
ছোটদের উপযোগী বিজ্ঞান - ৭
ছোটদের উপযোগী বিজ্ঞান - ৭

বিজ্ঞানের দুটো পা যদি আমরা বিবেচনা করি তবে আমাদের সামনে প্রথমে আসবে সুষ্ঠু যুক্তি আর দ্বিতীয় হলো প্রমাণিত সত্য। আমারা যা প্রমাণ করতে সক্ষম হইনি বা প্রমাণ করতে অপারগ, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার জন্য তার আলোচনা ও বিকাশ নির্ভর করে মুলত এই সুষ্ঠু যুক্তির উপরে। সঠিক ভাবে প্রশ্ন করতে পারবার সক্ষমতার উপর নির্ভর করে কতটুকু সঠিক ভাবে বিষয়টিকে নিয়ে চিন্তা ও যুক্তি করা যায় তার উপর।

মানুষের জীবন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলে। এই অতি অল্প সময়ে মানুষের ভোগের পরিমাণও খুব বেশী নয় কিন্তু মানুষের ভোগের চিন্তার পরিমাণ অসীম। এই সর্বগ্রাসী ভোগের চিন্তা, আকাঙ্খা ও ইচ্ছা মানুষকে ধাবিত করে যথেচ্চারে। এই সবকিছুই ব্যক্তিস্বার্থগত চিন্তা মানুষের। এটাই অধিকাংশ মানুষের জীবনদর্শন।

এই জীবনদর্শন থেকে মানুষের মানবিক চিন্তার বিকাশ তাহলে কিভাবে সম্ভব? এই মানবিক চিন্তার বিকাশ সম্ভব একমাত্র বৈজ্ঞানিক চিন্তার মাধ্যমে। সেই বৈজ্ঞানিক চিন্তা সুষ্ঠু যুক্তি ও প্রমাণিত বিষয়াবলীর আলোকে হতে হবে। বিভিন্ন উদাহরণ টেনে আমরা এখন দেখি মানুষে মানুষে সম্পর্ক। মানুষের বিভিন্ন প্রাকৃতিক আচড়ণকে বিজ্ঞান হিসাবে প্রতিষ্টা করবার এক ভ্রান্ত পরিস্থিতি তৈরী করা হচ্ছে – যার পিছনে কোন সুষ্ঠু যুক্তি নেই। নেই কোন প্রমাণ লব্ধ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফল। অমুকে এই দেখিয়েছেন, তমুকে এটা বলেছেন, এটা বনের ঐ পশুদের আচড়নে দেখা গ্যাছে তাই এটা মানতে হবে এই ধরনের কুযুক্তি মুলক তথাকথিত বিজ্ঞান দেখা যাচ্ছে।

একটা মজার উদাহরণ দিলে তোমাদের বুঝতে বেশ সুবিধা হবে –
বিজ্ঞানী নিউটন পৃথিবী ও মহাকাশের বিভিন্ন বস্তু একে অপরের সাথে কিভাবে চলমান তা বুঝতে যেয়ে যে বলবিদ্যার সূত্র ব্যবহার করেছিলেন ঠিক তেমনটিই করেছিলেন পদার্থের অভ্যন্তরে ইলেক্ট্রনের চলাচল নিরূপন করতে। অনেককাল এটা টিকেও ছিলো যা আসলে ঠিক ছিলো না। পরবর্তীতে কণাবাদী বলবিদ্যা বা কোয়ান্টাম তত্ত্বের বিকাশ এই ব্যাখ্যাকে সঠিক করেছে। তাই অমুকে বলেছে বা মনে করেছে বলেই সব ঠিক হবে না যতক্ষণ না তা সুষ্ঠু যুক্তি ও প্রমাণিত সত্য নির্ভর না হয়।

মানবিক মানুষ তৈরী বিজ্ঞানের আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ। সেই মানবিক মানুষ প্রজ্ঞাবান হবে। এটম বোমার মূল সূত্র  করে মহামতি বিজ্ঞানী আইনস্টাইন খুশী ছিলেন না তার এই মানব ধ্বংসী ব্যবহার দেখে। অপর পক্ষে আমরা যদি এটম বোমা বানানোর প্রকল্পের বিজ্ঞানী রিচার্ড পি ফাইনম্যানের দিকে তাকাই তবে দেখবো উনি মোটেও বিচলিত ছিলেন না। এখানেই পার্থক্য মানবিকতার। দুজনেই মেধাবী ছিলেন কিন্তু মানুষের জন্য দুইজনের ভালোবাসার ক্ষেত্রে পার্থক্য অনেক। আমাদের হতে হবে মহামতি আইনস্টাইনের পথের পথিক – মানবিক বিজ্ঞানের রাস্তার পথিক।

বিজ্ঞানকে করে তুলতে হবে মানবিক চিন্তার শক্তি। ব্যক্তিস্বার্থের যে ভোগবাদী জীবনদর্শন তার থেকে বের হয়ে যুক্তি ও প্রমাণিত সত্য নির্ভর মানবিক বিজ্ঞান চর্চা করতে হবে। মানব কল্যাণে বিজ্ঞান – যেখানে ঘৃণা ও স্বার্থের কোন স্থান হবে না। যে বিজ্ঞান চর্চাতে থাকবে কবিতা পাঠের আনন্দ, বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলো যেখানে জোরকরে মাথায় রাখতে হবে না – পুরো মানবিক সত্বাই যেখানে বিজ্ঞান রূপে ক্রিয়া করবে মানবের কল্যাণে।

ঘুরে আসুন আমাদের ইলেকট্রনিক্স শপ থেকেঃ
ঘুরে আসুন আমাদের ইলেকট্রনিক্স শপ থেকেঃ
ঘুরে আসুন আমাদের ইলেকট্রনিক্স শপ থেকেঃ
ঘুরে আসুন আমাদের ইলেকট্রনিক্স শপ থেকেঃ

কমেন্ট প্রদান

Please enter your comment!
Please enter your name here