মিডি (MIDI) শব্দের পূর্ণরূপ হচ্ছে Musical Instrument Interface। অর্থাৎ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র কে কম্পিউটারের সাথে ডিজিটাল ভাবে ইন্টারফেস করানোর একটি পদ্ধতি। এটি একটি প্রটোকল। তবে মিডি প্রটোকলে শব্দ পাঠানো হয়না। খালি Note 30 off, Note 55 On, Note 30 on/Pitch 129 এধরণের মেসেজ পাঠানো হয়। কম্পিউটারে যে D.A.W ( Audio Workplace) সফটওয়্যার থাকে সেটা এই মেসেজগুলো পড়ে ওই কমান্ডগুলো ফলো করে।

মিডি (MIDI) কিভাবে কাজ করে?

আমরা জানি যে, শব্দ হচ্ছে বিভিন্ন রকম ফ্রিকুয়েন্সির সমষ্ঠি। বাঁশি, গিটার, বেহালা, তবলা থেকে শুরু করে যে কোনো বাদ্যযন্ত্রের শব্দকে কৃত্রিম ভাবে উৎপন্ন করা সম্ভব যদি উক্ত যন্ত্রের মত করে শব্দ উৎপন্ন করা যায়। মূলত এ ভিত্তিতেই মিডি ডিভাইস ও বাদ্যযন্ত্র গুলো কাজ করে।

এখন অনেকেই ভাবতে পারেন যে কেন এই কৃত্রিমতা! ধরুন আপনি গিটার, পিয়ানো, ড্রাম, বিভিন্ন রকম বাঁশি বাজাতে পারেন। এখন প্রতিটি এমন জিনিস আলাদা আলাদা ভাবে কিনতে গেলে কত টাকা লাগবে ভেবে দেখুন!! জায়গাও প্রচুর লাগবে সেসমস্ত জিনিস কে রাখতে। কিন্তু এই সবগুলো বাদ্যযন্ত্রকে যদি একটা ছোট বক্সের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলা যায় তাহলে জায়গা যেমন বাঁচে তেমনি বহন করতেও সুবিধা হয়। এজন্য আধুনিক সব মিউজিক সাধক রা মিডি কিবোর্ডের প্রতি আস্থাশীল, মূলত এ কারনেই।

নিচের চিত্রে দেখুন মিজিজিশিয়ান তার স্টুডিও তে মিডি ড্রাম প্যাড বাজাচ্ছেন। একই সাথে তা কম্পিউটারে রেকর্ড করছেন এই মিউজিক কে পরবর্তীতে এডিট করবার জন্য-

মিউজিশিয়ান তার স্টুডিয়োতে মিডি ড্রাম প্যাড বাজাচ্ছেন MIDI মিডি (MIDI) কি? midi drum kit mod
মিউজিশিয়ান তার স্টুডিয়োতে মিডি ড্রাম প্যাড বাজাচ্ছেন

মিউজিক এর কাজ করা হয় যেসব সফটওয়্যার দিয়ে সেগুলোকেই D.A.W বলে। এরকম কয়েকটি সফটওয়্যার হচ্ছে, Reason, FL (Fruity Loops) Studio, Ableton, Logic Pro X প্রভৃতি। MIDI ইন্সট্রুমেন্ট বিভিন্ন রকমের আছে। যেমনঃ MIDI কি বোর্ড, MIDI সিন্থেসাইজার, MIDI ড্রাম প্যাড ইত্যাদি। এর মধ্যে MIDI কিবোর্ড দিয়ে কম্পিউটারে সব ইন্সট্রুমেন্টই বাজানো যায় বলে এটি খুবই জনপ্রিয়।

কম্পিউটারের সাথে MIDI ডিভাইস যেভাবে সংযুক্ত থাকে MIDI মিডি (MIDI) কি? Midi   06
কম্পিউটারের সাথে MIDI ডিভাইস যেভাবে সংযুক্ত থাকে

যেসব গানের মিউজিক বা, বাজনা পুরোটাই সফটওয়্যার এ তৈরি করা হয় তার পুরোটাই আসলে এধরণের MIDI মেসেজ এর সমষ্টি। সফটওয়ারে এই মেসেজগুলো পরপর প্লে করায় যে মিউজিক সৃষ্টি হয়, সেটিই রেকর্ড করে mp3, WAV ইত্যাদি অডিও ফরম্যাটে নেয়া হয়। আপনার যদি একটি মিডি ডিভাইস (ইন্সট্রুমেন্ট) থাকে, তাহলে আপনি ইচ্ছা করলে ওই একটি ডিভাইস দিয়েই কম্পিউটারে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নিজের মিউজিক তৈরি করে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশে MIDI ডিভাইস বলতে শুধুমাত্র মিডি কিবোর্ডই পাওয়া যায়। এবং এই কিবোর্ডগুলোর দামও অনেক, শুরুই হয় ১২০০০ টাকা থেকে। আপনি যদি শুধুমাত্র শখের বশে মাঝেমাঝে মিউজিক বানাতে চান, তাহলে কিবোর্ড কিনে অযথা ফেলে রাখতে হবে।

তবে অনেক সফটওয়ারেই আরেকটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে, আপনি ইচ্ছা করলে আপনার পিসি কিবোর্ড দিয়েই MIDI কিবোর্ড এর কাজ চালাতে পারবেন। আমি FL Studio ব্যবহার করি, এটিতে উক্ত সুবিধাটি আছে। আবার আপনি Arduino, বেসিক একটা আর কয়েকটা সফটওয়্যার এর সাহায্যে নিজেই নিজের মিডি কিবোর্ড বানিয়ে নিতে পারেন, যার আনুমানিক খরচ পড়বে ৪০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে (Arduino বাদে)। আপাতত মিডি কি আমরা তা জানলাম। ভবিষ্যতে Arduino দিয়ে কিভাবে মিডি কিবোর্ড বানানো যায় তা নিয়ে লিখব। ভালো থাকুন, সাথেই থাকুন। শুভ কামনা।

ঘুরে আসুন আমাদের ইলেকট্রনিক্স শপ থেকেঃ
ঘুরে আসুন আমাদের ইলেকট্রনিক্স শপ থেকেঃ
ঘুরে আসুন আমাদের ইলেকট্রনিক্স শপ থেকেঃ
ঘুরে আসুন আমাদের ইলেকট্রনিক্স শপ থেকেঃ

কমেন্ট প্রদান