বিজ্ঞান মেলার প্রস্তুতি – ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে পরামর্শ ও টিপ্স এন্ড ট্রিক্স

3
132
বিজ্ঞান মেলার প্রস্তুতি - ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে পরামর্শ ও টিপক্স এন্ড ট্রিক্স
বিজ্ঞান মেলার প্রস্তুতি - ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে পরামর্শ ও টিপক্স এন্ড ট্রিক্স

প্রতি বছর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় দেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞান সংগঠন/ক্লাবে বিজ্ঞান মেলা এবং বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজন করে থাকে। এদের মধ্যে সবচেয়ে জমজমাট এবং বড় আয়োজন হচ্ছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহকে কেন্দ্র করে আয়োজিত  বিজ্ঞান মেলা। মুলত এটিই দেশে আয়োজিত সবচেয়ে বড় বিজ্ঞান মেলা। উপজেলা থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত এ মেলাতে প্রতিযোগিতা হয়। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হওয়া ৩৯ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের বিজ্ঞান মেলায় আমি অংশগ্রহণ করেছিলাম। মেলার অভিজ্ঞতা থেকে বিভিন্ন তথ্য আপনাদের কাছে তুলে ধরছি যাতে আপনারা মেলা সম্পর্কে একটা ধারণা পেতে পারেন।

জাতীয় বিজ্ঞান ও  প্রযুক্তি মেলার ধাপ সমূহ

জাতীয় বিজ্ঞান ও  প্রযুক্তি মেলা চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়ে থাকে-

  • উপজেলা পর্যায়
  • জেলা  প্রশাসন পর্যায়
  • বিভাগীয় পর্যায়
  • জাতীয় পর্যায়

উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের মেলাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় আয়োজন করে থাকে। উপজেলা পর্যায় থেকে এই বিজ্ঞান মেলার শুরু। মেলা কমিটি স্কুল, কলেজ, বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান গুলোকে চিঠি পাঠায়। মেলাটিতে বিজ্ঞান প্রকল্প/প্রজেক্ট প্রদর্শনীর পাশাপাশি কুইজ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা সহ আরো অনেক প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। তবে মুল আকর্ষণ প্রকল্প প্রদর্শন।

প্রজেক্ট প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিজ্ঞান মেলায় কুইজ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা সহ আরো অনেক প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। আগারগাঁয় অবস্থিত জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে তোলা।

গ্রুপ বিভক্তি, সময়কাল ও নির্বাচন পদ্ধতি

অংশগ্রহণকারীদের প্রতিষ্ঠান, বয়সভেদে তিনটি গ্রুপে বিভক্ত করা হয়-

  • জুনিয়র গ্রুপ: ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেনী
  • সিনিয়র গ্রুপ: একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেনী
  • বিশেষ গ্রুপ: বিজ্ঞান ক্লাব/সংগঠন, প্রতিষ্ঠান (সবার জন্য উন্মুক্ত)

সময়কাল: ২-৩ দিন।

প্রতি গ্রুপ থেকে ১ম, ২য় এবং ৩য় স্থান নির্বাচন করা হয় পরবর্তী ধাপে প্রতিযোগিতার জন্য। উপজেলা পর্যায়ের পর অনুষ্ঠিত হয় জেলা পর্যায়। এ আয়োজন উপজেলা পর্যায়ের মতোই। জেলা পর্যায়ে যারা ১ম স্থান অধিকার করে তারা বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়।

জেলা পর্যায়ে ১ম স্থান অধিকারীদের নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ের বিজ্ঞান মেলা হয়ে থাকে। যেহেতু বিভাগীয় পর্যায় তাই এই মেলায় অংশ নেবার জন্য নিজ এলাকার বাইরে থাকতে হবে/থাকার জায়গা থাকে না। তাই এই বিভাগীয় মেলা আয়োজনকারীরা থাকা এবং খাবার ব্যবস্থা করে থাকে। পাশাপাশি কিছু পরিমাণ ভাতাও দিয়ে থাকে খরচের জন্য। উপরের দুই পর্যায়ের মতো এখানেও ১ম, ২য় এবং ৩য় স্থান নির্বাচিত হয় এবং পাশাপাশি কুইজ, বিতর্কসহ আরো নানা প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। এই মেলার ও সময়কাল ২-৩ দিন হয়ে থাকে।

জেলা পর্যায়ে প্রতি গ্রুপে ১ম স্থান অধিকারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় বিজ্ঞান মেলা। এখানেও উপজেলা, জেলা পর্যায়ের মতো তিনটি গ্রুপে লড়াই হয় (জুনিয়র, সিনিয়র ও বিশেষ গ্রুপ)। থাকা-খাওয়ার আয়োজন মেলা কর্তৃপক্ষ করে থাকে। এই মেলার সময়কাল ৩ দিন হয়ে থাকে। তবে এইখানে বিজয়ী নির্বাচন হয় সেরা দশের মধ্য থেকে। প্রতি গ্রুপ থেকে দশটি প্রকল্পকে সেরা দশ হিসেবে নির্বাচন করা হয়। এদের মধ্যে ১ম, ২য়, ৩য় স্থান অধিকারীদের বিদেশে ভ্রমণেরও সুযোগ রয়েছে☺।

এই হলো মোটামুটি বিজ্ঞান মেলার বিবরণ। তবে প্রতিবছর এই নিয়মকানুন এর কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। যেমন: ২০১৬ সালে আমি বিজ্ঞান মেলায় যখন অংশ নিয়েছিলাম তখন জুনিয়র গ্রুপ ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেনী, সিনিয়র ৯ম-১০ম এবং বিশেষ গ্রুপ একাদশ-দ্বাদশ, বিজ্ঞান ক্লাব এবং পলিটেকনিক কলেজগুলো ছিল। এ বছর এই নিয়মের পরিবর্তন হয়েছে।

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের একটি গ্যালারি। এখানেই জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের জাতীয় পর্যায়ের বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের একটি গ্যালারি। এখানেই জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের জাতীয় পর্যায়ের বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞান মেলার কিছু টিপস এন্ড ট্রিক্স

এতক্ষণ বিজ্ঞান মেলার পরিবেশ এবং হালকা-পাতলা নিয়মের ব্যাপারে অনেক বকবক করলাম। এইবার আসি কিছু টিপস নিয়ে।

  • বিজ্ঞান মেলায় অংশ নেবার প্রায় ৩-৪ মাস আগে প্রজেক্টে কাজ করা সবচেয়ে উত্তম সময়। একটা প্রজেক্ট এত সময় নিয়ে করার কথা বলছি কারণ অনেক সময় একা একা একটা প্রজেক্ট এ কাজ করা সম্ভব হয়ে উঠে না। প্রয়োজন পড়ে আরেকজনের সহায্যের।
  • এছাড়া আমরা যারা ছাত্র-ছাত্রী আছি তাদের পড়াশোনার ও একটা ব্যাপার থাকে। পড়াশোনার ফাঁকেফাঁকে টিমওয়ার্কের মাধ্যমে প্রজেক্ট করাই আমার মতে উত্তম। অনেককে দেখেছি ঠিক বিজ্ঞান মেলার আগেরদিন একা একা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করে। এতে অনেক সুক্ষ্ণ বিষয়বস্তু প্রজেক্ট থেকে হারিয়ে যেতে পারে। তাই সময় নিয়েই প্রজেক্টে হাত দেওয়া উচিত।
পড়াশোনার পাশাপাশি বিজ্ঞান মেলার প্রস্তুতি গ্রহন
পড়াশোনার পাশাপাশি বিজ্ঞান মেলার প্রস্তুতি গ্রহন
  • প্রজেক্ট/প্রকল্প সরাসরি কোনো ওয়েবসাইট-ইউটিউব ভিডিও থেকে কপি না করাই ভালো। অনেকে এই কাজটি করে। কপি করলে সমস্যা হয়। প্রজেক্ট কঠিন হলে কিভাবে কাজ করে তা বলা মুশকিল। ক্ষেত্রবিশেষে কিছু বোঝাও দুষ্কর হয়ে পড়ে। তবে প্রজেক্ট যদি শিক্ষণীয় কাজে করা হয় তাহলে কিভাবে কাজ করে সেটা পুরোপুরিভাবে বুঝবার পর করা উচিত।
  • কোনো প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করার পূর্বে প্রজেক্টের বিষয়বস্তু সম্পর্কে খুঁটিনাটি জ্ঞান থাকা অবশ্যক। প্রজেক্টে কাজ করবার সময় বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি আসতে পারে। সেসব সমাধানের জন্য এইসব জ্ঞান কাজে লাগবে। সবচেয়ে ভাল প্র‍্যাক্টিস হবে একটা ল্যাব নোট তৈরি করা। প্রজেক্ট করার সময় কি কি সমস্যা হলো কিংবা হতে পারে, সমাধান কি তা লিখে রাখা। প্রজেক্ট এর কাজ শেষে নোটস থেকে অনেকগুলো প্রশ্ন তৈরি করে তার উত্তর লিখে ফেলা। অনেকটা QnA এর মতো। কারণ বিচারক আপনাকে প্রশ্ন করে আটকিয়ে আপনাকে যাচাই করবার চেষ্টা করবে আদৌ আপনি কিছু জানেন কিনা বুঝতে! এছাড়া আপনাকে ভুলপ্রশ্ন করে বিভ্রান্তও করতে পারে। তাই সময় থাকতে আগে-ভাগে প্রস্তুতি নেওয়া ভাল।
  • প্রজেক্ট এর কাজ শেষ হয়ে গেলে খুঁটিনাটি ডিটেইলস সহ প্রজেক্টের একটা বর্ণনা/প্রেজেন্টেশন তৈরি করা ভাল। এতে সাধারণ জনগণ এবং বিচারকদের প্রজেক্টটি বুঝাতে সুবিধা হবে। এছাড়াও প্রজেক্টের জন্য একটি সুন্দর ব্যানার/পোষ্টার তৈরি করা যাতে জনগণের আকর্ষণ আপনার স্টল এবং প্রজেক্টের দিকে হয়।
সুন্দর পোস্টার ও ব্যানারের মাধ্যমে বিজ্ঞান মেলায় প্রজেক্ট কে আকর্ষনিয় ভাবে উপস্থাপন করা যায়
সুন্দর পোস্টার ও ব্যানারের মাধ্যমে বিজ্ঞান মেলায় প্রজেক্ট কে আকর্ষনিয় ভাবে উপস্থাপন করা যায়
  • প্রজেক্ট সম্পন্ন হলে সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো একাধিকবার প্রজেক্টটি পরীক্ষা করা, বিশেষ করে প্রজেক্টটি হয় যদি একটি ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক্যাল প্রজেক্ট। আমার পরামর্শ হবে প্রজেক্টের ইলেকট্রনিক্স বিভিন্ন পার্টস অতিরিক্ত নিজের কাছে রাখা। কারণ যদি বিজ্ঞান মেলায় কিংবা পরীক্ষার সময় যদি কিছু নষ্ট হয়ে যায় তখন কাজে লাগবে। আমার একবার একটি প্রজেক্টে IR Proximity Sensor নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। হাতে extra sensor না থাকায় বিজ্ঞান মেলায় প্রজেক্টটি দেখাতে পারি নি।
  • যদি আপনি নিজ এলাকার বাইরে থেকে বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করে থাকেন তবে কিছু ব্যাপারে আপনারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিজ্ঞান মেলার জন্য আপনাকে বাড়ির বাইরে অবস্থান করতে হবে। সুতরাং সেইভাবে আপনাকে প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রজেক্ট এর আকার যদি বড় হয় তাইলে প্রজেক্টটি খন্ড খন্ড করে সাবধানে পরিবহণ করতে হবে। আগেই বলেছি সাথে অতিরিক্ত প্রজেক্ট সম্পর্কিত পার্টস রেখে দিতে। পরিবহণের সময় যদি কিছু নষ্ট হয়ে যায় সেইজন্য।
  • মেলার সময় স্টল নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আপনার প্রজেক্টের আকার যদি বড় হয় তাহলে আগেভাগেই মেলা কমিটিকে জানানোর চেষ্টা করবেন। নাহলে স্টল বরাদ্দে সমস্যা হতে পারে।
  • স্টলে সাধারণত বিদ্যুতের লাইন দেয়াই থাকে। যদি আপনার প্রজেক্টে বিদ্যুৎ এর প্রয়োজন হয় তাহলে সেখান থেকে নিতে পারেন। আর সাথে নিজের প্রজেক্টের ইলেকট্রনিক্স সার্কিট এর ভোল্ট, এম্প অনুযায়ী পাওয়ার সাপ্লাই রাখতে ভুলবেন না। এছাড়া একাধিক বৈদ্যুতিক লাইন প্রয়োজন হতে পারে। তাই সাথে একটি মাল্টিপ্লাগ রাখা ভালো। প্রজেক্ট প্রদর্শন এর সময় বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে। তাই সাথে বিকল্প হিসেবে ব্যাটারি রাখতে পারেন।
  • স্টলে প্রজেক্টের পাশে অবশ্যই একটি মন্তব্য খাতা রাখবেন। এতে দর্শনার্থীরা আপনার প্রজেক্ট সম্পর্কে মতামত, পরামর্শ দিতে পারবে। এসবের উপর ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে আপনার প্রজেক্ট আরো সমৃদ্ধ করতে পারেবেন😁।

বিজ্ঞান মেলার খবর কোথায় পাওয়া যাবে?

বিজ্ঞান মেলার সম্ভাব্য সময় আমি আপনাদের আগেই জানিয়ে দিয়েছি। ঠিক মেলা শুরু হবার সম্ভাব্য তারিখের এক মাস আগে থেকে মেলা সম্পর্কে খবরদারি করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। খবরদারি কই করবেন? সাধারণত নিজ নিজ জেলার উপজেলা পরিষদ, ডিসি অফিস মেলা আয়োজনের দায়িত্ব পালন করে থাকে। উক্ত অফিসে কর্তব্যরত অফিসারদের জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবেন।

বিজ্ঞান মেলার আগে এইসব অফিসে একটু ঢুঁ মারলেই মেলা সম্পর্কে অনেক তথ্য পেয়ে যাবেন। অনেক সময় অফিসে প্রচুর কাজের ব্যস্ততা থাকে যার কারণে খবর পেতে সমস্যা হয়। তাই এইসব অফিসে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা ভালো। আমার এমনও মেলা গিয়েছে যে ঠিক আগেরদিন কিংবা স্কুলে গিয়ে শুনেছি আজকে সকাল ১০ টায় কিংবা উমুক সময় বিজ্ঞান মেলা। এত স্বল্প সময়ে একটা প্রজেক্ট দাড় করানো কতোটা কষ্টকর সেটা সহজেই অনুমেয়। তবে এমন কষ্টই স্বার্থক হয়ে যায় তেমন একটি পুরষ্কার পেলে। 

উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০১৮ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মেলার পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মহোদয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ASP, উপজেলা চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন
উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০১৮ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মেলার পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মহোদয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ASP, উপজেলা চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন

লিখতে লিখতে পোষ্টটি অনেক বড় হয়ে গেল। আশাকরি উপরে বিজ্ঞান মেলা সম্পর্কে বর্নিত আমার অভিজ্ঞতা, টিপস আপনাদের কাজে লাগবে। আজ এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ 🙂

3 মন্তব্য

  1. ১. জেলা পর্যায়ে ১ম স্থান অধিকারীদের নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ের বিজ্ঞান মেলা হয়ে থাকে।
    ২. জেলা পর্যায়ে প্রতি গ্রুপে ১ম স্থান অধিকারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় বিজ্ঞান মেলা।
    পরেরটা তো মনে হয় বিভাগীয় পর্যায়ের হবে।
    তাছাড়া লেখাতে কিছু গড়মিল আছে বলে মনে হচ্ছে। জেলা পর্যায়ের প্রথম স্থান অধিকারীদের নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা হলো। সেই জেলা পর্যায়ের প্রথমদের নিয়েই আবার জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগীতা হবে? তাহলে বিভাগীয় পর্যায়ের দরকার কি?
    আবার, জাতীয় পর্যায়ে যদি শুধু বিভাগীয় পর্যায়ের প্রথমদের নিয়ে প্রতিযোগীতা হয়, তাহলে দেশে বিভাগ আছে আটটি। ফলে প্রতি গ্রুপ থেকে আটজন প্রতিযোগী (বা টিম) জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগীতা করবে। কিন্তু আপনি বলেছেন প্রতিগ্রুপ থেকে সেরা দশটি প্রকল্প/প্রজেক্ট নির্বাচন করা হবে। তারমানে আটজন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে দশটি প্রকল্প নির্বাচন করতে হলে প্রত্যেকেই একাধিক করে প্রকল্প জমা দিতে হবে।
    যদিও আমি বিজ্ঞানমেলায় কখনো অংশগ্রহন করিনি, এবং এ সম্পর্কে আমার কোনো ধারনাও নেই। তবুও সরল অংক করে হিসাবটা মেলাতে পারছিনা। এ বিষয়গুলো একটু পরিষ্কার করে দেবেন আশাকরি।

    • জেলা পর্যায়ে যারা বিভিন্ন গ্রুপে(জুনিয়র,সিনিয়র­,বিশেষ) গ্রুপে ১ম হয়,তারাই শুধুমাত্র বিভাগীয় এবং জাতীয় পর্যায়ের বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করতে পারে।বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগের সকল জেলা থেকে যারা বিভিন্ন গ্রুপে ১ম হয়েছে তারা অংশ নেয়।কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে দেশের প্রতি জেলা থেকে মেলার ৩টি গ্রুপে ১ম হওয়া ৩ জন অংশ নেয়।জাতীয় পর্যায়ে মোট প্রকল্পের সংখ্যা হয় ৩*৬৪=১৯২ টি,অর্থাৎ প্রতি গ্রুপ থেকে ৬৪ টি প্রকল্প।এই ৬৪ টি প্রকল্পের ভিতর থেকেই প্রতি গ্রুপের সেরা দশ নির্বাচন করা হয়।আর বিভাগীয় পর্যায়ের বিষয়টা আমার কাছেও খটকা লেগেছিল, দরকার কি! পরে শুনি প্রতিবছর নাকি এইরকম হয়ে আসছে।

      • ও। তারমানে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা দিয়ে বিভাগের মান বাচাইছে মনে হয়।

কমেন্ট করুন-