রেসিস্টর কালার চার্ট
কালার কোড চার্ট

রেসিস্টর ইলেকট্রনিক্সের বহুল ব্যবহৃত একটি কম্পোনেন্ট। কাজের ধরন ও ক্ষমতা অনুসারে রেসিস্টরের মান ও সাইজ বিভিন্ন হয়ে থাকে। কখনো কখনো রেসিস্টরের সাইজ এত ছোট হয় যে তাদের গায়ে এর ভ্যেলু লিখার জায়গা থাকেনা। তাই কালার কোডের মাধ্যমে বিশেষ পদ্ধতিতে রেজিস্টরের মান প্রকাশ করা হয়। আজকের এ লেখাতে আমি আমার জানা তথ্য গুলো শেয়ার করব কিভাবে সহজে রেসিস্টর চিনবেন এবং কাজ অনুসারে সঠিক মানের রেসিস্টর নির্বাচন করবেন।

রেসিস্টর কি ও এর কাজ কি

এটা এমন একটি কম্পোনেন্ট যেটা কারেন্ট প্রবাহকে বাধা দেয়। কোন বর্তনীতে কারেন্ট এর প্রবাহ কমানোর জন্য কিংবা বাধা দেয়ার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। সহজ উদাহরণ হিসেবে আমরা বাসা বাড়িতে ফ্যানের রেগুলেটরের কথা বলতে পারি। সংক্ষেপে ও সহজ ভাবে বললে এটি একটি ভ্যারিয়েবল রেজিস্টর এর ন্যায় যেটার মান পরিবর্তনের মাধ্যমে কারেন্ট প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে ফ্যানের স্পিড কন্ট্রোল করা হয়।

রেসিস্টরের বিভিন্ন রেটিং সমূহ

রেসিস্টরের একক হল । তবে ব্যবহারিক কাজে আমরা কিলো এককের রেসিস্টর বেশি ব্যবহার করি। রেসিস্টরের গায়ে কালার কোডের মাধ্যমে এর ভ্যেলু জানা যায়।

রেসিস্টরের আরেকটি রেটিংস থাকে সেটা হল ওয়াট বা ক্ষমতা। ওয়াট ভ্যালু দিয়ে বোঝা যায় সেটা কতটুকু কারেন্ট বা লোড নিতে সক্ষম। তার বেশি হলে এটি পুড়ে যেতে পারে।

কোন ইলেকট্রনিক্স ে ওয়াট বলে দেয়া না থাকলে কিংবা আপনি ইলেকট্রনিক পার্টসের দোকানে গিয়ে রেসিস্টর কেনার সময় ওয়াট বলে না দিলে তারা আপনাকে কোয়ার্টার ওয়াট (1/4 watt) ধরেই রেসিস্টর দেবে। সুতরাং কোয়ার্টার ওয়াট হলে সাধারনত ে রেসিস্টরের ওয়াট উল্লেখ করা হয় না।

তবে হাফ ওয়াট কিংবা এর উপরের কোন ভ্যেলু হলে ওয়াটের কথা উল্লেখ করতে হবে কিংবা উল্লেখ করা থাকে।সাধারনত ওয়াট চিনতে হয় রেসিস্টরের সাইজ দেখে। অনেক সময় বড় রেসিস্টরের গায়েও ওয়াট লেখা থাকে।

আরেকটি বিশেষ কথা – রেজিস্টারের কোন পোলারিটি নেই। মানে এর কোন প্রান্ত পজেটিভ আর কোন প্রান্ত নেগেটিভ তা নিয়ে আপনাকে টেনশন করতে হবেনা।

রেসিস্টর কালার কোড চার্ট

এবার দেখে নিই কিভাবে কালার কোড থেকে  রেসিস্টরের নির্ধারন করা যায়। নিচের কালার কোড চার্ট টি ফলো করলে সহজেই আপনি যে কোন রেজিস্টার এর নির্ণয় করতে পারবেন-

কালার কোড চার্ট
কালার কোড চার্ট

কালার কোড সহজে মনে রাখার সূত্র

কাবালা কহসনী বেধূসা

হিসাব পদ্ধতি

FS × 10T +/- Tolarance  (ohm)

F= first band, S= second band, T= third band.

এখানে লক্ষ্যনীয়

  • অনেক সময় থার্ড ব্যান্ড টা ফোর্থ ব্যান্ডের সাথে সোনালী হয়। এ ক্ষেত্রে থার্ড ব্যান্ডের মান 0.1 হয়। মূলত ভগ্নাংশ মানের রেজিস্টারগুলোর ক্ষেত্রে এটা দেখা যায়। যেমন 0.47
  • টেকনিক্যালি একটা রেসিস্টরের গায়ে যে ভ্যালু লেখা থাকে, আসল ভ্যালু তার চেয়ে কিছুটা কম বা বেশি হয়। এই কম বেশি হওয়ার একটা মাত্রা বা টলারেন্স আছে। চার নম্বর কালার ব্যান্ড দিয়ে এই টলারেন্স বলে দেয়া হয়। যেমন গোল্ডেন কালারের জন্য টলারেন্স ৫% মানে, ভ্যালু ১০০ হলে সত্যিকারের ভ্যালু ৯৫ থেকে ১০৫ পর্যন্ত হতে পারে। বাজারে কিনতে গেলে এটা গোল্ডেন কালারের (৫% টলারেন্স) হয় সাধারণত।

উদাহরণ

কালার কোড দেখে এবার নিচের রেসিস্টর টির মান হিসাব করি

রেসিস্টর

দেখতে পাচ্ছি রেসিস্টরটিতে দেয়া আছে কমলা-কমলা-লাল-সোনালী।

  1. প্রথমে সোনালী ব্যান্ডকে ডানে নিয়ে রাখলাম।
  2. কমলা কমলা -কে পাশাপাশি বসালে হয় 33 আর
  3. লাল এর জন্য 100 দিয়ে গুন,
  4. সবমিলিয়ে 33 x 100 = 3.3 Kilo Ohm ।

টলারেন্স হিসেব করা সাধারণ কাজের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু না।

তাহলে আপানারা নিচের ২ টা নির্ণয় করে দেখতে পারেনঃ

রেজিস্টর কালার কোড - নীল-লাল-কালো-সোনালী
রেজিস্টর কালার কোড – নীল-লাল-কালো-সোনালী

উপরে আর নিচের চিত্রে ২টি রেজিস্টরের উদাহরণ দেয়া হলো মান নির্নয়ের জন্য।

রেজিস্টর কালার কোড - বাদামী-ধূসর-হলুদ-সোনালী
রেজিস্টর কালার কোড – বাদামী-ধূসর-হলুদ-সোনালী

রেসিস্টরের ওয়াট

বিভিন্ন ওয়াটের রেসিস্টর থাকলেও মূলত আমরা নিচের ৪ ধরনের ওয়াট বেশি ব্যবহার করি। বাজারে মূলত এগুলো পাওয়া যায়।

  • ১। কোয়ার্টার ওয়াট (1/4 watt) –  একদম ছোট
  • ২। হাফ ওয়াট (1/2 watt) –  একটু বড়
  • ৩। ওয়ান ওয়াট (1 watt) – মাঝারী
  • ৪। টু ওয়াট (2 watt) –  বড়

সাইজ বুজতে নিচের চার্টটির সাহায্য নিতে পারেন। তবে কাজ করতে করতে আপনার চোখের আন্দাজে আইডিয়া হয়ে যাবে। তখন আর চার্টের দরকার হবেনা।

watt size resistor

রেসিস্টরের প্রকারভেদ

কার্বন রেসিস্টর

সাধারণত এটাই বেশী ব্যবহার করা হয়। সাধারনত কালার কোড থাকে গায়ে। একক থেকে মেগা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

কার্বন রেসিস্টর

 

সিমেন্ট বা সিরামিক রেসিস্টর

২ ওয়াটের চেয়ে বেশি ওয়াটের রেসিস্টর প্রয়োজন হলে আমরা সিমেন্ট রেজিস্টর ইউস করি। সাধারনত ৫ ওয়াট থেকে ২৫ ওয়াট হয়ে থাকে। এর গায়ে সাধারনত কালার কোড থাকেনা। সরাসরি রেটিংস লিখা থাকে।

cement resistor
সিমেন্ট রেসিস্টর

ভ্যারিয়েবল রেসিস্টর/ পটেনশিওমিটার

সাধারণত ভ্যেলু ভেরি করার যায় এ রেসিস্টরের মাধ্যমে। ৬ কিলো ের রেটিংস হলে এটা দিয়ে ০ থেকে ৬ পর্যন্ত বিভিন্ন ভ্যেলু নেয়া যাবে প্রয়োজন মত। উদাহরন হিসেবে আমরা বাসা বাড়িতে ফ্যানের রেগুলেটরের কথা বলতে পারি।

ভেরিয়াবেল রেসিস্টর'
ভেরিয়াবেল রেসিস্টর’

লাইট ডিপেন্ডিং রেজিস্টর (এল ডি আর – )

আলোর উপর নির্ভর করে এর রেসিস্ট্যান্স বাড়ে কিংবা কমে। সাধারনত আলো বাড়লে রেসিস্ট্যান্স কমে,প্রবাহ বাড়ে। আর আলো কমলে রেসিস্ট্যান্স বাড়ে,প্রবাহ কমে। লাইট ফলোয়ার রোবট সহ বিভিন্ন রকম প্রজেক্টের কাজে এটি ব্যবহার করা হয় হিসেবে।

লাইট ডিপান্ডিং রেসিস্টর
লাইট ডিপান্ডিং রেসিস্টর

রেসিস্টর নিয়ে আমার লেখাটি এখানেই শেষ করলাম। কোন ভুল থাকলে অনুগ্রহ করে কমেন্টে তথ্য দেয়ার জন্য অনুরোধ রইল। কারন মানুষের জানার মধ্যেও সীমাবদ্ধ আছে। এমন অনেক কিছুই আমি জানি যা আপনি জানেন না। আবার আপনি অনেক কিছু জানেন যেটা আমি জানিনা। জ্ঞান বিনিময় বা শেয়ারের মাধ্যমেই মূলত আমরা আরো জ্ঞান আহরণ করতে পারি। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। দেশের জন্য কাজ করুন।

  • Salman Khan Yeasin
  • Department of Electrical & Electronic Engineering.
  • International Islamic University Chittagong.

6 মন্তব্য

  1. মন্তব্য:কিন্তুু ভাই কোন জাইগায় কত মানের রেজিস্টার ব্যাবহার করবো বলবেন কি বা
    ব্যাবহারের নিয়ম টা কি?

  2. দুইটা 1/4 ওয়াটের রেজিস্টার প্যারালালে বসালে 1/2 ওয়াট পাওয়া যাবে??
    বা চারটা 1/4 ওয়াটের রেজিস্টার প্যারালালে বসালে 1 ওয়াট পাওয়া যাবে কিনা??

কমেন্ট করুন-