...
Home তত্ত্বীয় ছোটদের উপযোগী করে লেখা বিজ্ঞান – ১

ছোটদের উপযোগী করে লেখা বিজ্ঞান – ১

0
1189
ছোটদের জন্য বিজ্ঞান ও আবিস্কার
ছোটদের জন্য বিজ্ঞান ও আবিস্কার

আমরা সবাই জানি বিজ্ঞানী নিউটন গতি বিষয়ে তিনটি সূত্র আবিস্কার করে গ্যাছেন। আবার আমরা জানি টমাস আলভা এডিসন উদ্ভাবন করেছেন বৈদ্যুতিক বাতি। আবিস্কার আর উদ্ভাবন এই দুটো শব্দ দেখ সম্পুর্ণ আলাদা দুটি শব্দ কিন্তু দুটো শব্দই খুবই কাছাকাছি অর্থ প্রকাশ করে। তোমরা কি জানো এই শব্দ দুটোর মাঝে পার্থক্য কি? যারা জানো তারা খুবই ভালো – যারা জানো না তাদের জন্য বলছি –

আমরা যে পৃথিবীতে বেড়ে উঠছি সেখানে কিছু জিনিস আমাদের নিয়ন্ত্রণে না মোটেও। উদাহরণ হিসাবে সূর্যের উদয়, অস্ত যাওয়া, চাঁদ ওঠা, সমুদ্রের বিস্তার ও বাতাসের চলাচল, পৃথিবীর নিজের চারদিকে ঘোরা ইত্যাদি বলা যায়। এই সব প্রাকৃতিক কাজের প্রতিটি একটি নির্দিষ্ট সুত্র বা নিয়ম মেনে চলে। এই নিয়মগুলোর সব কিছু মানুষ এখনও জানে না। মানুষ চেষ্টা করছে জানতে কিভাবে এই সব ঘটনা ঘটে, এই ঘটনা গুলোর পেছনে আসলে কোন শক্তি কাজ করে। এই সব শক্তির উৎস কোথায়। এটা জানবার জন্য মানুষ প্রতিনিয়ত গবেষণা করছে, নতুন নতুন জিনিস শিখছে।

প্রাকৃতিক বা প্রকৃতিতে আগে থেকেই ছিল এমন কিছুর সুত্র বা নিয়ম জানাকেই আসলে আবিস্কার বলে। আরেকটু সহজ করে বললে যা আগে থেকেই ছিলো কিন্তু মানুষ পরে জানতে পেরেছে সেটাকেই আবিস্কার বলা হয়। তাহলে উদ্ভাবন কি ? তোমাদের মনে প্রশ্ন জাগছে না !!!

উদ্ভাবন হলো আবিস্কার করা সুত্র বা নিয়ম কে কাজে লাগিয়ে কোন কিছু তৈরী করা। মানুষ মহাশুণ্যে যাবার জন্য যে রকেট বা মহাকাশযান তৈরী করেছে তা একটি উদ্ভাবন। মানুষকে প্রথম জানতে হয়েছে একটি নিয়ম যা নিউটন আবিস্কার করেছিলেন। পরে সেটাকে কাজে লাগিয়ে মানুষ তৈরী করেছে রকেট।

একটি উদ্ভাবনের পিছনে এক বা একের বেশী আবিস্কারের নিয়ম থাকতে পারে। তবে একটি আবিস্কার একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উপর হয় তবে সেখানে নিয়মের ব্যতিক্রম হবার জন্য কি কি বিষয় কাজ করে তা উল্লেখ থাকে। প্রতিটি আবিস্কার কে প্রমাণিত পরীক্ষার মাধ্যমে পাশ করে আসতে হয়। হঠাৎ করে কোন আবিস্কার হয় না। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা পরীক্ষা ছাড়া কোন আবিস্কার গ্রহণযোগ্য হয় না।

মানুষ আবিস্কার করতে শিখেছে মুলত দুটো কারণে। একটি হলো প্রশ্ন করবার ইচ্ছা থেকে আরেকটি হলো জানবার আগ্রহ থেকে। নিউটন যখন দেখেছে গাছ থেকে কেন আপেল পরে বা একটি ঢিল কে ছুড়ে দিলে কেন সেটা গতি হারিয়ে মাটিতে পরে সেটা দেখে তাঁর মনে প্রশ্ন জেগেছে কেন এমন হয়। এর উত্তর বের করতে গিয়েই আবিস্কার হয়েছে অভিকর্ষ বলের। আবার এই পৃথিবীর কোথায় কি আছে সেটা জানবার আগ্রহ থেকে প্রাচীনকালে নাবিকগণ অজানার উদ্দেশ্যে সমুদ্রে জাহাজ ভাসিয়েছে – আবিস্কার করেছে নতুন নতুন মহাদেশ। আবিস্কার করেছে আমাদের এই সবুজ পৃথিবীর।

এই সিরিজের বাকি লেখা পড়ুনঃ 1.  ছোটদের উপযোগী বিজ্ঞান – ২ (2) ছোটদের জন্য বিজ্ঞান – ৩ (3) ছোটদের জন্য বিজ্ঞান – ৪

বিজ্ঞান সংক্রান্ত আমাদের অন্যান্য লেখা পড়তে পারেনঃ বিজ্ঞান ও অন্যান্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Seraphinite AcceleratorOptimized by Seraphinite Accelerator
Turns on site high speed to be attractive for people and search engines.