ইলেকট্রনিক্সে কাজ করতে গেলে প্রতিদিন দরকার পড়ে — LED-এ কত ওহমের রেজিস্টর লাগবে, রেজিস্টরের রঙের ব্যান্ড কী বলছে, 555 টাইমারের ফ্রিকোয়েন্সি কত হবে। এই হিসাবগুলো মাথায় করা যায়, কিন্তু সময় নষ্ট হয় এবং ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বাংলায় এই সমস্যার সমাধান এখন পর্যন্ত কেউ করেনি — আমরা করেছি।
সমস্যাটা আসলে কী — বাংলায় ইলেকট্রনিক্স রিসোর্সের অভাব
বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক্স নিয়ে কাজ করা মানুষের সংখ্যা কম নয়। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী, শখের ইলেকট্রনিক্স করেন এমন মানুষ, ছোট ইলেকট্রনিক্স রিপেয়ার ব্যবসা, Arduino-Raspberry Pi নিয়ে কাজ করা developer — সবাই একটা সাধারণ সমস্যায় পড়েন।
সমস্যাটা হলো ভাষার দেওয়াল। DigiKey, Mouser, All About Circuits — এই সাইটগুলোতে চমৎকার ক্যালকুলেটর টুল আছে। কিন্তু সব ইংরেজিতে। যিনি ইংরেজিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না — তার জন্য এই টুলগুলো মানসিক দূরত্ব তৈরি করে।
"একটা সার্কিট কাজ না করলে সমস্যা হয় ডিজাইনে, নাকি হিসাবে — এটা বুঝতে প্রথমে হিসাবটা সঠিক হওয়া দরকার। ভাষা যখন বাধা হয়ে দাঁড়ায়, হিসাবটাই আর হয় না।"
যেকোনো দুটো মান দিন — V, I, R, P — বাকি দুটো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান হয়। মোট ৬টি সম্ভব জুটি সব কভার করা। ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঠিক এককে ফরম্যাট হয় — যেমন 0.005 A → 5 mA। নিচে ইন্টারেক্টিভ ওহমের চাকতি ও ১২টি সূত্রের টেবিল।
Vf, If ও সাপ্লাই ভোল্টেজ দিন। সঠিক রেজিস্টর মান, E12/E24/E96 স্ট্যান্ডার্ড ভ্যালু ও পাওয়ার ডিসিপেশন বার একসাথে। LED প্রিসেট বাটন: লাল (2V), নীল (3.2V), সাদা (3.4V)। একাধিক LED সিরিজে থাকলে সংখ্যা দিয়ে হিসাব হয়।
৪রেজিস্টর কালার কোড ক্যালকুলেটরResistor Color Code
৪-ব্যান্ড ও ৫-ব্যান্ড মোড। রঙ নির্বাচন করলে SVG রেজিস্টর ডায়াগ্রামে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন হয়। টলারেন্স ও PPM/°C তথ্য সহ। নিচে সম্পূর্ণ কালার কোড রেফারেন্স চার্ট বাংলায়।
ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক্যাল, কম্পিউটার — এই ট্রেডের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই হিসাবগুলো করেন। ক্লাসে যা পড়া হয়, সেই সূত্রগুলো এখানে বাংলায় দেওয়া আছে সরাসরি প্র্যাকটিক্যাল ফরম্যাটে।
Arduino ও Raspberry Pi উৎসাহী
ঢাকার স্টেডিয়াম মার্কেট, পাটুয়াটুলি বা চট্টগ্রামের ইলেকট্রনিক্স বাজার থেকে কম্পোনেন্ট কিনে বাড়িতে সার্কিট বানান — এই মানুষদের জন্য এই টুলগুলো সরাসরি কাজের।
⚡ ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও রিপেয়ার পেশাদার
মোবাইলে এই পেজ খুলে — বা ডাউনলোড করে — অফলাইনেও কাজ করা যায়। রেজিস্টরের রঙ দেখে মান বের করা, LED সার্কিটের রেজিস্টর যাচাই করা — এই কাজগুলো মাঠে দরকার পড়ে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন — ব্যবহারিক উদাহরণ
উদাহরণ ১: Arduino-তে LED জ্বালানো
Arduino UNO-এর ডিজিটাল পিন থেকে ৫V আসে। একটি লাল LED-এর Vf = 2.0V, If = 20mA। রেজিস্টর কত হবে?
⚠️ মনে রাখুন:ভোল্টেজ ডিভাইডার লোড ড্রাইভের জন্য নয়। ESP32 GPIO সিগনালের জন্য ঠিক আছে, মোটর বা রিলে চালাতে পারবে না।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
এই টুলগুলো কি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে?
▾
হ্যাঁ, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কোনো রেজিস্ট্রেশন নেই, কোনো সাবস্ক্রিপশন নেই। HTML ফাইল ডাউনলোড করে অফলাইনেও ব্যবহার করা যায়।
মোবাইলে কি ঠিকমতো কাজ করে?
▾
হ্যাঁ। সব টুল responsive — ছোট স্ক্রিনে layout পরিবর্তন হয়ে মোবাইলে সুন্দরভাবে দেখা যায়। Android Chrome বা iOS Safari — দুটোতেই কাজ করে।
এই হিসাবগুলো কতটা নির্ভুল?
▾
সূত্রগুলো আদর্শ ইলেকট্রনিক্স সমীকরণের উপর ভিত্তি করে তৈরি। বাস্তব সার্কিটে কম্পোনেন্টের টলারেন্স, তাপমাত্রা এবং parasitic প্রভাব থাকে। তাই ক্রিটিকাল ডিজাইনে সবসময় SPICE সিমুলেশন এবং বাস্তব পরীক্ষা করুন।
ইলেকট্রনিক্স শেখার পথে ভাষা কখনো বাধা হওয়া উচিত নয়। টুলগুলো বানানো হয়েছে এই বিশ্বাস থেকে — যে বাংলায় কাজ করতে পারলে চিন্তা আরও পরিষ্কার হয়, হিসাব আরও দ্রুত হয়।
টুলগুলো ব্যবহার করে দেখুন
কোনো ইনস্টলেশন নেই, কোনো রেজিস্ট্রেশন নেই। সরাসরি ব্রাউজারে।
ভোল্টেজ বাড়ায় অথবা কমায় — কারেন্টের সাথে সমন্বয় রেখে, পাওয়ার প্রায় অপরিবর্তিত রেখে।
এটা এমন একটি যন্ত্র যেখানে কোনো নড়াচড়া নেই, কোনো ঘূর্ণায়মান অংশ নেই। কিন্তু ইনপুটে যে বিদ্যুৎ ঢোকে, আউটপুটে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভোল্টেজে বেরিয়ে আসে — কোনো সরাসরি সংযোগ ছাড়াই।
এটাই ট্রান্সফরমারের মূল চমক।
ট্রান্সফরমার কীভাবে কাজ করে?
এটি চলে মিউচুয়াল ইন্ডাকশন নীতিতে — ফ্যারাডের সূত্রের উপর ভিত্তি করে।
প্রক্রিয়াটা তিন ধাপে বোঝা যায়:
ধাপ ১ — প্রাইমারি কয়েলে AC প্রবাহ: প্রাইমারি কয়েলে পরিবর্তনশীল AC কারেন্ট প্রবেশ করে। এই পরিবর্তনশীল কারেন্ট কোরের চারপাশে একটি পরিবর্তনশীল চুম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করে।
ধাপ ২ — ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স কোরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়: সিলিকন স্টিলের কোর সেই চুম্বকীয় ক্ষেত্রকে সেকেন্ডারি কয়েলের দিকে পরিচালিত করে।
ধাপ ৩ — সেকেন্ডারি কয়েলে ভোল্টেজ আবিষ্ট হয়: সেকেন্ডারি কয়েল সেই পরিবর্তনশীল ফ্লাক্স থেকে নতুন ভোল্টেজ তৈরি করে। এই ভোল্টেজের মান নির্ভর করে প্যাঁচ সংখ্যার অনুপাতের উপর।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: DC দিলে কি হয়?
কাজ করে না।
DC-এর ফ্রিকোয়েন্সি শূন্য — তাই চুম্বকীয় ক্ষেত্র পরিবর্তন হয় না, ফ্লাক্স আবিষ্ট হয় না, সেকেন্ডারিতে কোনো ভোল্টেজ তৈরি হয় না। ট্রান্সফরমার শুধুমাত্র AC বা পালসেটেড DC-তে কাজ করে।
ট্রান্সফরমার রেশিও: ভোল্টেজ ও প্যাঁচ সংখ্যার সম্পর্ক
এটি ট্রান্সফরমারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র:
Vp ÷ Vs = Np ÷ Ns = Is ÷ Ip
এখানে Vp ও Vs যথাক্রমে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি ভোল্টেজ, Np ও Ns প্যাঁচ সংখ্যা এবং Ip ও Is কারেন্ট।
সহজ উদাহরণ: প্রাইমারিতে ২২০V এবং ১০০ প্যাঁচ থাকলে, ৫০ প্যাঁচের সেকেন্ডারিতে পাবেন ১১০V। প্যাঁচ কমলে ভোল্টেজ কমে, প্যাঁচ বাড়লে ভোল্টেজ বাড়ে। কিন্তু পাওয়ার প্রায় সমান থাকে — ভোল্টেজ বাড়লে কারেন্ট কমে, ভোল্টেজ কমলে কারেন্ট বাড়ে।
স্টেপ আপ বনাম স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার
স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার: সেকেন্ডারির প্যাঁচ সংখ্যা প্রাইমারির চেয়ে বেশি। ভোল্টেজ বাড়ে, কারেন্ট কমে। পাওয়ার স্টেশন থেকে দূরে বিদ্যুৎ পাঠাতে ব্যবহার হয় — কারণ উচ্চ ভোল্টেজে কম কারেন্ট লাগে, তাই ক্যাবলে পাওয়ার লস কম হয়। IPS, UPS, ইনভার্টারে এই ধরনের ট্রান্সফরমার থাকে।
স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার: সেকেন্ডারির প্যাঁচ সংখ্যা প্রাইমারির চেয়ে কম। ভোল্টেজ কমে। বাড়ির যন্ত্রপাতি, চার্জার এবং ইলেকট্রনিক সার্কিটে এটি ব্যবহার হয় — কারণ মেইন লাইনের ২২০V সরাসরি বেশিরভাগ যন্ত্রপাতির জন্য নিরাপদ নয়।
একই ট্রান্সফরমারকে স্টেপ আপ থেকে স্টেপ ডাউনে পরিণত করা সম্ভব — শুধু ইনপুট ও আউটপুট পাল্টে দিলেই হয়।
এত বেশি হওয়ার কারণ হলো কোনো নড়াচড়া নেই — ঘর্ষণ লস শূন্য। শুধু দুটো ধরনের লস আছে: আয়রন লস (কোরে) এবং কপার লস (কয়েলে)। যখন এই দুটো লস সমান হয়, তখন ট্রান্সফরমারের দক্ষতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে।
ক্ষমতার একক kVA (কিলোভোল্ট অ্যাম্পিয়ার) — কিলোওয়াট নয়। কারণ লস দুটো ভোল্ট ও অ্যাম্পিয়ার উভয়ের সাথে সম্পর্কিত।
ট্রান্সফরমার কোর কেন লেমিনেটেড?
কোর যদি একটি কঠিন লোহার টুকরো হতো, তাহলে পরিবর্তনশীল চুম্বকীয় ক্ষেত্র পুরো কোরে এডি কারেন্ট তৈরি করতো। এই কারেন্ট তাপ হিসেবে নষ্ট হতো — পাওয়ার লস বাড়তো।
সমাধান হলো পাতলা সিলিকন স্টিলের পাত একসাথে স্তরে স্তরে সাজানো, প্রতিটি পাতের মধ্যে পাতলা ইনসুলেশন দেওয়া। এতে এডি কারেন্টের পথ ছোট হয়ে যায়, লস কমে।
লেমিনেশনের পুরুত্ব সাধারণত ০.৩–০.৫ মিমি। পাওয়ার ট্রান্সমিশন লাইনে আরো পাতলা হয় — ০.২ মিমি পর্যন্ত।
টরোয়েড কোরে ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স রিংয়ের মধ্যে প্রায় সম্পূর্ণভাবে আবদ্ধ থাকে — বাইরে প্রায় কিছুই বের হয় না। এটাকে বলে নিম্ন ফ্লাক্স লিকেজ।
ব্যবহারিক সুবিধাগুলো হলো:
একই আকারের সাধারণ ট্রান্সফরমারের তুলনায় বেশি পাওয়ার দেয়। একই ক্ষমতার EI ট্রান্সফরমারের তুলনায় আয়তন প্রায় অর্ধেক। শব্দ অনেক কম — সংগীত সরঞ্জাম ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতিতে গুরুত্বপূর্ণ। অফ-লোড লস কম — সবসময় চালু থাকলেও কম বিদ্যুৎ খরচ হয়।
সীমাবদ্ধতা মাত্র একটি — প্যাঁচ দেওয়া জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। এ কারণে দাম বেশি।
ট্রান্সফরমার কেন নষ্ট হয়?
রিসার্চে দেখা গেছে ট্রান্সফরমার ব্যর্থতার দুটি প্রধান কারণ: ইনসুলেশন নষ্ট হওয়া এবং অতিরিক্ত লোড।
অতিরিক্ত তাপ: অতিরিক্ত লোড বা দুর্বল কুলিং সিস্টেম থেকে তৈরি হয়। তাপ ইনসুলেশন ধীরে ধীরে নষ্ট করে। বড় ট্রান্সফরমারে অয়েল কুলিং থাকে, ছোটটায় এয়ার কুলিং।
তেল দূষণ: অয়েল-ফিলড ট্রান্সফরমারে পানি বা অন্য দূষক তেলের ইনসুলেটিং ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
এডি কারেন্ট ও হিস্টেরেসিস লস: এই দুটো লস তাপ তৈরি করে। হিস্টেরেসিস লস শুধু ট্রান্সফরমারে নয় — মোটর, জেনারেটর, ফ্যান সব কোথাও কয়েল ও চুম্বকীয় কোর আছে সেখানেই হয়।
সতর্কতার চিহ্নগুলো যা উপেক্ষা করবেন না:
অস্বাভাবিক গুনগুন বা বাজ পড়ার মতো শব্দ। তেল লিক বা পোড়া গন্ধ। ভোল্টেজ অস্থিতিশীলতা বা ব্রেকার বারবার ট্রিপ করা। স্পর্শ করলে অস্বাভাবিক গরম অনুভব।
ট্রান্সফরমার রক্ষণাবেক্ষণ: সহজ চেকলিস্ট
ট্রান্সফরমারে হাত দেওয়ার আগে সবসময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করুন। এটা নিয়ম নয় — এটা বাঁচার শর্ত।
প্রতি ৩–৬ মাসে: বাইরে থেকে ভিজুয়াল পরিদর্শন করুন। শব্দ শুনুন — অস্বাভাবিক হলে আরো কাছ থেকে দেখুন। অয়েল-ফিলড হলে তেলের স্তর পরীক্ষা করুন।
প্রতি বছর: সম্পূর্ণ পরিদর্শন করুন। সব সংযোগ শক্ত আছে কিনা দেখুন। অয়েল-ফিলড হলে তেলের নমুনা পরীক্ষা করান — আর্দ্রতা ও অ্যাসিডিটি যাচাই করতে।
একটি রক্ষণাবেক্ষণ লগ রাখুন। পরিদর্শনের তারিখ, পর্যবেক্ষণ এবং যা করা হয়েছে লিখে রাখুন। সমস্যা আগে ধরা পড়ে, জরুরি মেরামতের খরচ কমে।
ট্রান্সফরমার কোথায় ব্যবহার হয়?
জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে শুরু করে আপনার ফোন চার্জারের ভেতর পর্যন্ত।
পাওয়ার স্টেশনে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার হাজার হাজার ভোল্টে বিদ্যুৎ পাঠায় — দূরত্বে পাওয়ার লস কমাতে। আপনার এলাকার সাবস্টেশনে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার সেই ভোল্টেজ ব্যবহারযোগ্য পর্যায়ে নামায়। আপনার বাড়িতে চার্জার, IPS এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ভেতরে আরেকটি স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার সেটাকে আরো কমায়।
একটি বিদ্যুৎ ব্যবহারের চক্রে তিন থেকে পাঁচটি ট্রান্সফরমার থাকে — বেশিরভাগ সময় আমরা সেটা জানি না।
শেষ কথা
ট্রান্সফরমার ৯০ বছরের বেশি পুরনো প্রযুক্তি। কিন্তু আজও আধুনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।
কারণটা সহজ — এর কোনো চলমান অংশ নেই, দক্ষতা অসাধারণ, এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণে দশকের পর দশক কাজ করে।
এটা বুঝলে বাকি ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যায়।
জেনারেটর আসলে বিদ্যুৎ “তৈরি” করে না, এটা অনেকেই জানেন না।
জেনারেটর নতুন বিদ্যুৎ তৈরি করে না। এটা যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে। পার্থক্যটা গুরুত্বপূর্ণ — কারণ এই রূপান্তর প্রক্রিয়াটা বুঝলে বাকি সব সহজ হয়ে যায়।
সহজ করে বললে: ইঞ্জিন ঘোরে, সেই ঘূর্ণন থেকে তড়িৎচুম্বকীয় আবেশের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এই নীতি আবিষ্কার করেছিলেন বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে — ১৮৩১ সালে।
জেনারেটর কী?
জেনারেটর হলো এমন একটি যন্ত্র যা যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে। সাধারণত ডিজেল, পেট্রোল বা গ্যাস ব্যবহার করে একটি ইঞ্জিন চালানো হয়, যার মাধ্যমে একটি কপার-তারে মোড়ানো কয়েল ঘোরে। এই ঘূর্ণনের ফলে চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি হয় এবং সেই ক্ষেত্র থেকেই তৈরি হয় বিদ্যুৎ।
জেনারেটর কীভাবে কাজ করে?
ধাপগুলো এভাবে বোঝা সহজ:
ধাপ ১ — জ্বালানি পোড়ানো: ডিজেল, পেট্রোল বা গ্যাস পুড়িয়ে ইঞ্জিন চালু হয়।
ধাপ ২ — ঘূর্ণন শক্তি: ইঞ্জিন একটি শ্যাফট ঘোরায়।
ধাপ ৩ — আল্টারনেটর: শ্যাফটের সাথে যুক্ত রোটর চুম্বকীয় ক্ষেত্রের মধ্যে ঘোরে। স্থির তামার কয়েলের (স্টেটর) মধ্যে এই চলমান চুম্বকীয় ক্ষেত্র বৈদ্যুতিক প্রবাহ তৈরি করে।
ধাপ ৪ — ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ:ভোল্টেজ রেগুলেটর নিশ্চিত করে বিদ্যুতের মান স্থিতিশীল আছে।
ধাপ ৫ — সরবরাহ: কন্ট্রোল প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ আপনার যন্ত্রপাতিতে পৌঁছায়।
পাম্প যেভাবে পানিকে চাপ দিয়ে পাইপের মধ্যে ঠেলে দেয়, জেনারেটর ঠিক সেভাবে ইলেকট্রনকে সার্কিটের মধ্যে ঠেলে দেয়।
জেনারেটরের প্রধান অংশগুলো
ইঞ্জিন — জ্বালানি পুড়িয়ে যান্ত্রিক শক্তি তৈরি করে। ইঞ্জিনের আকার সরাসরি নির্ধারণ করে জেনারেটর কতটুকু বিদ্যুৎ দিতে পারবে।
আল্টারনেটর — রোটর এবং স্টেটর মিলিয়ে AC বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। কপার কয়েলের আল্টারনেটর অ্যালুমিনিয়ামের তুলনায় বেশি টেকসই।
ভোল্টেজ রেগুলেটর (AVR) — বিদ্যুতের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করে। ল্যাপটপ বা সার্ভারের মতো সংবেদনশীল যন্ত্রের জন্য এটি বিশেষ জরুরি।
কুলিং সিস্টেম — ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়া রোধ করে।
এক্সস্ট সিস্টেম — দহন থেকে তৈরি ক্ষতিকর গ্যাস বের করে দেয়।
ব্যাটারি ও চার্জার — প্রথমবার স্টার্ট দেওয়ার জন্য। চার্জার ব্যাটারিকে সবসময় প্রস্তুত রাখে।
কন্ট্রোল প্যানেল — স্টার্ট/স্টপ, ভোল্টেজ সেটিং, ইঞ্জিনের অবস্থা — সব এখান থেকে নিয়ন্ত্রণ হয়।
ATS (Automatic Transfer Switch) — বিদ্যুৎ গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেটর চালু, বিদ্যুৎ এলে বন্ধ করে। ATS সঠিকভাবে ইনস্টল না করলে জাতীয় গ্রিডে বিপরীত বিদ্যুৎ প্রবাহ (ব্যাক-ফিড) হতে পারে — যা লাইনম্যানের জন্য প্রাণঘাতী।
কেন ব্যবহার করবেন?
✅ বিদ্যুৎ না থাকলেও চালু থাকবে জরুরি যন্ত্রপাতি ✅ ব্যবসা বা কারখানার কাজ থেমে যাবে না ✅ ডিজিটাল ডিভাইস, সিসিটিভি বা সার্ভার চালু রাখা যাবে ✅ জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম সচল রাখা সম্ভব (যেমন: অক্সিজেন মেশিন)
kVA মানে কী এবং কোন সাইজ আপনার জন্য?
জেনারেটর কেনার সময় সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি হয় এই kVA নিয়ে।
kVA মানে কিলোভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার। এটি জেনারেটরের মোট লোড ধারণক্ষমতা। সহজ করে বললে, আপনি কত ওয়াট বিদ্যুৎ একসাথে ব্যবহার করবেন সেটাই নির্ধারণ করে কোন সাইজের জেনারেটর লাগবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি সহজ গাইড:
১–৩ kVA: আলো, ফ্যান এবং ছোট ইলেকট্রনিক্স চালানোর জন্য। ছোট দোকান বা স্বল্পমেয়াদী বাড়ির ব্যবহারে উপযুক্ত।
৪–৬ kVA: ফ্রিজ, একটি এসি এবং মাঝারি লোড চালাতে পারবে। মাঝারি সাইজের বাড়ির জন্য ভালো।
৫–১০ kVA: সাধারণ বাড়ির পুরো লোড সামলানোর জন্য যথেষ্ট।
২০–১০০ kVA: অফিস, শোরুম বা ছোট কারখানার জন্য।
১৬ kVA এবং তার বেশি: বড় বাড়ি, হাসপাতাল বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য।
সাইজ বের করার নিয়ম সহজ: বাড়ির সব যন্ত্রপাতির মোট ওয়াট যোগ করুন। তারপর সেই সংখ্যার ২০–২৫% বাড়তি রাখুন। এই মোটটাই আপনার প্রয়োজনীয় জেনারেটর সাইজ।
ডিজেল, পেট্রোল নাকি গ্যাস — কোনটা নেবেন?
ডিজেল জেনারেটর: প্রতিদিনের বা ব্যবসায়িক ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। জ্বালানি খরচ কম, আয়ু বেশি। একটি ভালো ডিজেল জেনারেটর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণে ৮–১৫ বছর টিকতে পারে। ১০ kVA ডিজেল জেনারেটর ঘণ্টায় প্রায় ৮ লিটার ডিজেল খরচ করে।
পেট্রোল জেনারেটর: দাম কম, বহনযোগ্য। বাসায় মাঝেমধ্যে ব্যবহারের জন্য ঠিক আছে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ চালালে জ্বালানি খরচ বেশি পড়ে।
গ্যাস (LPG/CNG) জেনারেটর: পরিবেশবান্ধব এবং জ্বালানি খরচে সাশ্রয়ী। কিন্তু বাংলাদেশে গ্যাস সংযোগ সব জায়গায় নির্ভরযোগ্য নয়।
ইনভার্টার জেনারেটর: স্থিতিশীল ভোল্টেজ দেয়, শব্দ কম। ল্যাপটপ, টেলিভিশন বা চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য আদর্শ।
জেনারেটর কোথায় ব্যবহার হয়?
বাড়ি ও আবাসিক ভবন, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, ব্যাংক ও অফিস, ডেটা সেন্টার ও সার্ভার রুম, শিল্প কারখানা এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে।
হাসপাতালে জেনারেটর শুধু আলোর জন্য নয়। অক্সিজেন মেশিন, ভেন্টিলেটর বা ডায়ালাইসিস যন্ত্রের মতো জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম বন্ধ হলে মানুষ মারা যেতে পারে।
কার্বন মনোক্সাইড: যে বিপদ চোখে দেখা যায় না
এটা সবচেয়ে কম আলোচিত কিন্তু সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয়।
জেনারেটর চালালে কার্বন মনোক্সাইড (CO) গ্যাস নির্গত হয়। এই গ্যাস রঙহীন, গন্ধহীন এবং নিঃশব্দে মারাত্মক। উচ্চ মাত্রায় এটি মিনিটের মধ্যে মেরে ফেলতে পারে।
প্রাথমিক লক্ষণ সাধারণ ফ্লুর মতো — মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি ভাব এবং দুর্বলতা। এই কারণেই অনেকে বুঝতে পারেন না যে বিপদে আছেন।
তিনটি নিয়ম কখনো ভাঙবেন না:
প্রথমত: জেনারেটর কখনো ঘরের ভিতরে, গ্যারেজে বা আধা-বদ্ধ জায়গায় চালাবেন না — দরজা-জানালা খোলা থাকলেও না।
দ্বিতীয়ত: জেনারেটর বাড়ি থেকে কমপক্ষে ১০ ফুট দূরে রাখুন এবং এক্সস্ট পাইপ জানালা বা দরজা থেকে দূরে রাখুন।
তৃতীয়ত: বাড়িতে CO ডিটেক্টর লাগান। জেনারেটর বাইরে থাকলেও বায়ু প্রবাহে গ্যাস ঢুকতে পারে।
চলন্ত জেনারেটরে কখনো জ্বালানি ভরবেন না। ইঞ্জিন ঠান্ডা হওয়ার পর জ্বালানি দিন — গরম ইঞ্জিনে পেট্রোল ছড়িয়ে পড়লে আগুনের ঝুঁকি আছে।
জেনারেটর ব্যবহারের সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন
???? নিয়মিত সার্ভিসিং করুন ⛽ নির্দিষ্ট ফুয়েল ব্যবহার করুন ???? কুলিং সিস্টেম সচল আছে কিনা দেখুন ⚡ অতিরিক্ত লোড দেওয়া যাবে না ???? অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখুন
রক্ষণাবেক্ষণ: যা না করলে ভালো জেনারেটরও নষ্ট হয়
বেশিরভাগ জেনারেটর নষ্ট হয় অবহেলায়, যান্ত্রিক ত্রুটিতে নয়।
প্রতি ব্যবহারের আগে: ইঞ্জিন অয়েলের মাত্রা দেখুন। ফুয়েল ট্যাংক পরীক্ষা করুন।
প্রতি ৩ মাসে: এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করুন। স্পার্ক প্লাগ (পেট্রোল জেনারেটরে) পরীক্ষা করুন। ব্যাটারি চার্জ ঠিক আছে কিনা দেখুন।
প্রতি ৬ মাসে: ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করুন। কুলিং সিস্টেম পরীক্ষা করুন।
প্রতি বছর: সম্পূর্ণ সার্ভিসিং করুন।
একটি লগ বুক রাখুন — কখন সার্ভিস হয়েছে, কতটুকু জ্বালানি ব্যবহার হয়েছে। এটা সমস্যা আগে থেকে ধরতে সাহায্য করে।
জেনারেটর বনাম IPS — কোনটা কখন?
এই প্রশ্নটা বাংলাদেশে অনেকেই করেন।
IPSব্যাটারিতে চার্জ জমা রাখে এবং বিদ্যুৎ গেলে সাথে সাথে সরবরাহ দেয়। কিন্তু ব্যাটারির ক্যাপাসিটি শেষ হলে বন্ধ হয়ে যায়।
জেনারেটর জ্বালানি থাকলে অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে। কিন্তু স্টার্ট নিতে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে এবং শব্দ হয়।
দীর্ঘ লোডশেডিং বা ভারী যন্ত্রপাতির জন্য জেনারেটর ভালো। স্বল্পমেয়াদী এবং নীরব ব্যবহারের জন্য IPS ভালো।
শেষ কথা
জেনারেটর কেবল একটি যন্ত্র নয়, এটি বিদ্যুৎ বিভ্রাটে আমাদের ভরসা। জেনারেটর কেনা শেষ কাজ নয়।
সঠিক সাইজ বেছে নেওয়া, নিরাপদ জায়গায় বসানো, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা — এই তিনটা একসাথে না হলে সবচেয়ে দামি জেনারেটরও বিপদের সময় কাজে আসবে না।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট যখন আসে, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় থাকে না। সিদ্ধান্ত আগেই নিতে হয়। জেনারেটরের সম্পর্কে আরো জানতে ভিজিট করুন
ইলেকট্রনিক্সের শিক্ষার্থী ও পেশাদারদের জন্য Electrodoc অ্যাপ: এক নজরে
আজ আমরা পরিচিত হবো এমন একটি অ্যাপের সঙ্গে, যা ইলেকট্রনিকস নিয়ে কাজ করা সকলের জন্য অপরিহার্য। শিক্ষার্থী থেকে পেশাদার, সবাই এই টুলটি ব্যবহার করে জটিল ক্যালকুলেশন মুহূর্তেই সহজে করতে পারবেন। অ্যাপটির নাম Electrodoc, যা আপনি গুগল প্লে স্টোরে সহজেই খুঁজে পাবেন। চলুন, এর অসাধারণ ফিচার এবং ব্যবহারিক দিকগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করি।
Electrodoc একটি অত্যন্ত কার্যকর অ্যাপ, যা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক উপাদানের ক্যালকুলেশন থেকে শুরু করে ডায়াগ্রাম ও রেফারেন্স তথ্য সহজেই সরবরাহ করে। এই অ্যাপটি মূলত চারটি প্রধান ট্যাব নিয়ে সাজানো:
আপনার হাতে থাকা রেজিস্টরের কালার কোডের সাহায্যে এর মান নির্ণয় করুন।
উদাহরণ: একটি 1k ওহম রেজিস্টরের কালার কোড হবে বাদামী → কালো → লাল → সোনালী।
এটি ইনপুট দিলে অ্যাপটি সাথে সাথেই রেজিস্টরের মান দেখাবে।
যেমন, আপনার কাছে থাকা রেজিস্টর যত ব্যান্ডের, তত ব্যান্ড সিলেক্ট করার অপশন পাবেন। তীর চিহ্ন দেয়া থ্রি ডট আইকনে ট্যাপ করলে এখানে বিভিন্ন ব্যান্ড সিলেক্ট করতে পারবেন।
রেজিস্টরের কালার কোডের সাহায্যে এর মান নির্ণয়
এখানে বর্তমানে 4 Bands সিলেক্ট করা আছে। আপনি চাইলে 3, 5, 6 Bands ও সিলেক্ট করতে পারবেন।
রেজিস্টরের কালার কোডের সাহায্যে এর মান নির্ণয়
রেজিস্টর এর ভ্যালু বসানোর জন্য প্রথমে রেজিস্টর এর সোনালী কালার যে ব্যান্ড টা আছে, সেটা হাতের ডান দিকে রেখে, এরপর যথাক্রমে কালার কোড বসাতে হবে।
রেজিস্টরের সোনালী ব্যান্ড টিকে হাতের ডান দিকে রাখতে হবে
উদাহরণস্বরূপ: যদি আমার কাছে একটা 1K ওহমের রেজিস্টর থাকে, তাহলে এটার সোনালী ব্যান্ডটা ডান দিকে রেখে যথাক্রমে (বাদামী> কালো> লাল> সোনালী) কালার কোড বসালে রেজিস্টরের ভ্যালু জানতে পারলাম 1K এবং এর টলারেন্স ±৫ পারসেন্ট।
SMD রেজিস্টর কোড ক্যালকুলেটর
সার্কিট বোর্ডে থাকা SMD রেজিস্টরের কোড থেকে এর মান বের করতে পারবেন।
SMD রেজিস্টরের ভ্যালু নির্ণয়
এখানে আমরা পিসিবিতে থাকা বিভিন্ন SMD রেজিস্টর এর উপর লিখা কোডটা বসিয়ে দিলেই এই রেজিস্টর এর মান কত জানতে পারব।
উদাহরণ: 103 কোডের একটি SMD রেজিস্টরের মান হবে 10k ওহম।
ওহমস ল ক্যালকুলেটর
ওহম’স ল ব্যবহার করে যেকোনো দুটি প্যারামিটার (কারেন্ট, ভোল্টেজ, রেজিস্ট্যান্স) ইনপুট দিলে তৃতীয়টি নির্ণয় করা যাবে।
ওহমস ল ক্যালকুলেটর
উদাহরণ: আমি একটা ১২ ভোল্টের ডিসি পাওয়ার সোর্স থেকে ১০ ওহম রেজিস্ট্যান্স বিশিষ্ট একটা লোড ব্যবহার করলে, এই মান গুলো এখানে ইনপুট দিলে দেখতে পাচ্ছি আমার সার্কিটে 1.2 A এর কারেন্ট প্রবাহিত হচ্ছে। এবং সেই সাথে কতটা পাওয়ার খরচ হচ্ছে সেটাও এতে দেখা যায়।
আবার ধরা যাক আমি ১২ ভোল্ট ৫ এম্পিয়ার এর একটা পাওয়ার সোর্স থেকে এমন একটা লোড চালাতে চাচ্ছি, যেই লোডে আমি যত এম্পিয়ার দিব সে তত এম্পিয়ার নিতে থাকবে। কিন্তু আমি চাচ্ছি আমার লোডটা যেন 1.2A এর বেশি কারেন্ট নিতে না পারে। মানে কারেন্ট লিমিট করতে চাচ্ছি।
সেক্ষেত্রে আমি ১০ ওহমের একটা রেজিস্টর ব্যবহার করলে আমি সার্কিটে 1.2 A কারেন্ট লিমিট করতে পারব। আমার লোড 1.2 এম্পিয়ার এর বেশি কারেন্ট নিতে পারবে না। এক্ষেত্রে ১০ ওহমের যেই রেজিস্টরটা আছে, সেটা 14.4 ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করবে।
ভোল্টেজ ডিভাইডার ক্যালকুলেটর
দুটি রেজিস্টর ব্যবহার করে ভোল্টেজ ডিভাইড করার ক্যালকুলেশন করা যাবে এই ইলেকট্রডক ক্যালকুলেটরের সাহায্যে।
ভোল্টেজ ডিভাইডার একটি মৌলিক ইলেকট্রনিক সার্কিট যা দুটি রেজিস্টরের মাধ্যমে একটি আউটপুট ভোল্টেজ উৎপন্ন করে। এটি সাধারণত উচ্চ ভোল্টেজের সোর্স থেকে একটি নির্দিষ্ট কম ভোল্টেজ তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: আমি ৫ ভোল্টের একটা পাওয়ার সোর্স থেকে 2.20 ভোল্টের একটা আউটপুট নিতে চাচ্ছি, যেটা থেকে আমি 100k ওহমের একটা লোড চালাবো। সেক্ষেত্রে আমার 6k ওহম এবং 5k ওহমের দুটি রেজিস্টর সোর্সের সাথে সিরিজে সংযোগ করতে হবে। তাহলে দুটি রেজিস্টর এর সংযোগ পয়েন্টে আমি 2.212 ভোল্ট অর্থাৎ প্রায় 2.20 ভোল্ট পাব।
রেজিস্টর সিরিজ প্যারালাল
বাজারে না পাওয়া কোনো রেজিস্টরের মান কিভাবে সিরিজ বা প্যারালাল সংযোগে তৈরি করা যায় তা নির্ণয় করা যায় সহজেই এই এপ দিয়ে।
উদাহরণ: ধরা যাক আমার 7.5 ওহম বা তার আসেপাশের একটা রেজিস্টর দরকার। কিন্তু এটি এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই। কিন্তু আমার কাছে 33k এবং 10k এর দুটি রেজিস্টর আছে। তাহলে আমি যদি এই দুটো রেজিস্টর প্যারালাল করে দেই, তাহলে আমি 7.674 ওহমের একটা রেজিস্টর পেয়ে যাবো। অথবা যদি এই মানের রেজিস্টর না থাকে, তাহলে অন্যান্য যেসব মানের রেজিস্টর আমার কাছে আছে, সেসব মান এখানে সিরিজ বা প্যারালালে ইনপুট দিয়ে আমার কাঙ্ক্ষিত রেজিস্ট্যান্স পাবার জন্য কোন রেজিস্টর কিভাবে ব্যবহার করলে সেই মান পেতে পারি, এর ক্যালকুলেশন করে নিতে পারি।
এলইডি রেজিস্টর ক্যালকুলেটর
বিভিন্ন ভোল্টেজের সোর্স থেকে এলইডি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় রেজিস্টরের মান নির্ধারণ করুন সহজেই।
উদাহরণ: একটা ৫ ভোল্টের পাওয়ার সোর্স থেকে যদি আমি একটি 4V, 500mA এর একটা লাইট জ্বালাতে চাই সেক্ষেত্রে এই মান গুলো এখানে ইনপুট দিলেই দেখতে পাচ্ছি ২ ওহম এর একটি রেজিস্টর ব্যবহার করতে হবে।
আবার এতে আরও একটা ফিচার আছে। যেমন: আমি ১২ ভোল্টের একটা পাওয়ার সোর্স থেকে ৫ টা 2V, 20 mA এর ছোট লাইটগুলো একসাথে জ্বালাতে চাচ্ছি।
সেক্ষেত্রে এই প্যারামিটার গুলো ইনপুট দিয়ে। তীর চিহ্ন দেয়া জায়গায় ৫ সিলেক্ট করে দিলেই এপ্লিকেশনটি ক্যালকুলেট করে দিয়েছে যে আমার ১০০ ওহম এর রেজিস্টর ব্যবহার করতে হবে। নিচের ছবিতেই তা দেখতে পাচ্ছেন-
এক সাথে ৫টি এলইডি জ্বালানোর জন্য ক্যালকুলেশন
ভোল্টেজ ড্রপ ক্যালকুলেটর
খুব সহজেই এই ইলেকট্রডক এপ দিয়ে তারের ভোল্টেজ ড্রপ ও পাওয়ার লস নির্ণয় করতে পারবেন।
উদাহরণ: আমি ১২ ভোল্টের একটা সোর্স থেকে ১০ মিটার দূরে একটি ২ এম্পিয়ার এর লোড চালাতে চাচ্ছি। এক্ষেত্রে আমি যদি ১.৫mm² এর কপারের তার ব্যবহার করি, তাহলে এর ফলে আমার 472.572mV (মিলি ভোল্ট) ভোল্টেজ ড্রপ হবে, লোডের প্রান্তে ভোল্টেজ পাব 11.527 V , পাওয়ার লস হবে 945.145 mW. যা আমরা এই এপ্লিকেশনটার মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই জেনে নিতে পারলাম। কপারের তার ব্যবহার করলে ১০ মিটার দূরে 472.572mV ভোল্টেজ ড্রপ হবে।
এডজাস্টেবল ভোল্টেজ রেগুলেটর ক্যালকুলেটর
“Adjustable voltage regulator” এই অপশন দিয়ে LM317 এডজাস্ট্যাবল ভোল্টেজরেগুলেটর ব্যবহার করে ভোল্টেজ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় মানের রেজিস্টর নির্ণয় করা যায়।
যেমন: ধরা যাক আমি ১২ ভোল্টের একটা পাওয়ার সোর্স থেকে লিনিয়ার 8V আউটপুট নিতে চাচ্ছি। সেক্ষেত্রে আমার R1 এ 2k ওহম এর রেজিস্টর এবং R2 তে 10k ওহমরেজিস্টর ব্যবহার করলেই আমি রেগুলেটর থেকে লিনিয়ার ৮ ভোল্ট আউটপুট পাব।
এর সাথে এতে আরও একটা ফিচার আছে। আমি যদি আমার ব্যবহার করা লোডের কারেন্ট রেটিং এতে ইনপুট করি, তাহলে নিচে দেখতে পাব এই রেগুলেটরটা কত ওয়াট পাওয়ার লস করবে।
আমরা যদি এসি সিঙ্গেল ফেজ এর একটি লোডের ওয়াট ক্যালকুলেট করতে যাই। তাহলে লোডের কারেন্ট, সাপ্লাই ভোল্টেজ এবং পাওয়ার ফ্যাক্টর এর মান ইনপুট করলেই কত ওয়াটের লোড সেটা ক্যালকুলেট করা যাবে।
আমরা যদি ডিসি কারেন্টের একটি লোডের ওয়াট ক্যালকুলেট করতে চাই। তাহলে লোডের কারেন্ট এবং সাপ্লাই ভোল্টেজ এর মান ইনপুট করলেই কত ওয়াটের লোড সেটা ক্যালকুলেট করা যাবে।
আবার অন্যভাবে যদি আমাদের ভোল্টেজ এবং ওয়াট জানা থাকে, তাহলে এগুলো ইনপুট দিলে এর মাধ্যমে সহজেই লোডের কারেন্ট জানা যাবে।
ডিসি কারেন্টের একটি লোডের ওয়াট ক্যালকুলেট
যেমন:- আমার কাছে একটা ৪ ভোল্ট ৫ ওয়াটের একটা এলিডি লাইট রয়েছে, যার কারেন্ট রেটিং আমি জানতে চাই। সেক্ষেত্রে আমি ভোল্টেজ এবং এক্টিভ পাওয়ার অর্থাৎ লাইটের ওয়াট ইনপুট দিলেই কারেন্ট রেটিং জানতে পারব। অর্থাৎ এই তিনটা প্যারামিটার এর যেকোনো দুটি প্যারামিটার জানা থাকলে অন্য প্যারামিটার জানা যাবে।
এছাড়াও এটি দিয়ে এসি সিঙ্গেল ফেজ এবং থ্রি ফেজ এর পাওয়ার বা কারেন্ট অথবা ভোল্টেজ ক্যালকুলেট করা যাবে।
এই ট্যাবে বিভিন্ন পোর্ট, কানেক্টর এবং আইসির পিন আউট ডায়াগ্রাম সহজেই দেখতে পাবেন। যেখান থেকে সহজে বিভিন্ন পোর্ট এবং কানেক্টর এর পিন আউট ডায়াগ্রাম দেখা যায়।
বিভিন্ন পোর্ট এবং কানেক্টর এর পিন আউট
উদাহরণ: USB, HDMI, RJ45 ইত্যাদি পোর্টের সংযোগ ডায়াগ্রাম। উপরের চিত্রে বিস্তারিত দেয়া আছে আর মূল ইলেকট্রডক এপ টিতে পিন আউট ভালো ভাবে দেখতে পাবেন।
Resources ট্যাব
এই ট্যাবে বিভিন্ন আইসির পিন আউট, ওয়্যার সাইজ, স্ট্যান্ডার্ড ক্যাপাসিটরস লিস্ট, সিম্বল এবং এর নাম ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক বিষয় আছে। যা ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন। যেগুলো কাজ করার সময় অনেক কাজে দিবে।
Resources ট্যাবে বিভিন্ন আইসির পিন আউট, ওয়্যার সাইজ, স্ট্যান্ডার্ড ক্যাপাসিটরস লিস্ট, সিম্বল এবং এর নাম ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক বিষয় আছে
Electrodoc ব্যবহারের কিছু টিপস:
এখন এপ্লিকেশনটির বেসিক ইউজ সম্পর্কে কিছু টিপস দেয়া যাক। এরকম সবুজ বক্সের উপর ট্যাপ করলে এর ভেলু চেঞ্জ করা যাবে। ভ্যালু চেঞ্জ করার সময় এর পাশেই এর একক সিলেক্ট করার অপশন থাকবে। যেখানে প্রয়োজনীয় একক সিলেক্ট করা যাবে।
এরকম সবুজ বক্সের উপর ট্যাপ করলে এর ভেলু চেঞ্জ করা যাবেযেখানে প্রয়োজনীয় একক সিলেক্ট করা যাবে
অনেক সময় কোনো ভ্যালুকে ফিক্সড রাখার প্রয়োজন হলে নিচে থাকা Block a value অপশনে ক্লিক করে সেই ভ্যালুকে ফিক্সড করে রাখা যাবে।
কোনো ভ্যালুকে ফিক্সড রাখার প্রয়োজন হলে
ক্যালকুলেশনে রেজিস্টর রিলেটেড কিছু থাকলে রেজিস্টর এর টলারেন্স সিলেক্ট করার অপশন থাকে। যেখান থেকে প্রকৃত টলারেন্স সিলেক্ট করার মাধ্যমে একুরেট ক্যালকুলেশন করা যায়। নিচের ছবি দেখুন-
রেজিস্টরের প্রকৃত টলারেন্স সিলেক্ট করার মাধ্যমে একুরেট ক্যালকুলেশন করা যায়।
সংক্ষেপে বলা যায় যেঃ
সবুজ বক্সের উপর ট্যাপ করে ইনপুট ভ্যালু পরিবর্তন করতে পারবেন।
কোনো ভ্যালুকে স্থির রাখতে চাইলে Block a Value অপশন ব্যবহার করুন।
রেজিস্টর ক্যালকুলেশনে টলারেন্স সিলেক্ট করে আরও নির্ভুল ফলাফল পেতে পারেন।
ElectroDoc নিয়ে বিস্তারিত ভিডিও
আমাদের ইলেকট্রনিক্সের ইউটিউব চ্যানেলে ইলেকট্রডক – ElectroDoc নিয়ে বিস্তারিত ব্যবহারিক টিউটোরিয়াল ভিডিও বের হয়েছে। দেখুন এখনি –
উপসংহার
Electrodoc অ্যাপটি ইলেকট্রনিকস শিক্ষার্থী এবং পেশাদারদের জন্য একটি অত্যন্ত সহায়ক হাতিয়ার। এটি শুধু সময় সাশ্রয় করে না, বরং কাজকে নির্ভুল ও সহজ করে তোলে। আপনারা যদি এই অ্যাপের অন্যান্য ফিচার নিয়ে জানতে চান, তাহলে আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আপনার মতামতই আমাদের নতুন আর্টিকেল লেখার প্রেরণা।
Electrodoc দিয়ে আপনার কাজ সহজ করুন—আজই ব্যবহার শুরু করুন!
আজকে আমরা কিভাবে খুব সহজেই একটা কলিং বেল তৈরি করা যায় সেটা শিখবো।
এর জন্য আমাদের প্রয়োজন হবে:-
১: একটা মোবাইলের পুরাতন বা নষ্ট চার্জার।
২: একটা বার্জার (Buzzer)
৩: একটা বেল পুশ সুইচ
৪: প্রয়োজনীয় তার
মোবাইলের পুরাতন চার্জার
প্রথমে এরকম একটা পুরাতন বা নষ্ট মোবাইলের চার্জার নিতে হবে।
চার্জার খুলে মডিফাই করা হচ্ছে
এবার চার্জারটা খুলে সেখানে ২২০ ভোল্টের সিরিজ লাইন কানেকশন করতে হবে। (এসময় অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এসব কাজে পারদর্শী না হলে বাসায় চেষ্টা না করাই উত্তম)
এবার 220v এসি সিরিজ লাইন থেকে সার্কিটে পাওয়ার দিতে হবে। পাওয়ার দিয়ে মাল্টিমিটার দিয়ে চার্জারের সার্কিটের আউটপুট পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে সার্কিট থেকে আউটপুট পাওয়া যাচ্ছে কি-না। যদি আউটপুট ৫ ভোল্ট পাওয়া যায়, তাহলে সার্কিট ভালো আছে। এই সার্কিট দিয়ে কাজ করা যাবে।
আমাদের প্রয়োজন হবে এরকম একটি বাজার (Buzzer
এবার আমাদের প্রয়োজন হবে এরকম একটি বার্জার (Buzzer)। এটা যেকোনো ইলেকট্রনিকস এর দোকানে খোঁজ করলেই পাওয়া যাবে। দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা হতে পারে।
বাজার এর সাথে চার্জারের সংযোগ স্থাপন
যদি চার্জারের সার্কিট ঠিক থাকে তাহলে এর আউটপুটে বাজার (Buzzer)-টি এর পোলারিটি মেইনটেইন করে চার্জারের সাথে সংযোগ করতে হবে। পোলারিটি অর্থাৎ + ও – অবশ্যই ভালভাবে দেখে লাগাতে হবে।
এরপর বাজার সহ সার্কিটি কোন বক্সের ভেতর অথবা চার্জারে কেসিং এর ভেতর সেট করতে হবে। অবশ্যই বার্জারে ছিদ্র যুক্ত মুখটা খোলা রাখতে হবে। কোনোকিছু দিয়ে আবদ্ধ করা যাবে না। (আমি পরীক্ষামূলক প্রটোটাইপ তৈরি করেছি দেখে এভাবে কানেক্টর দিয়ে সংযোগ করেছি)।
চার্জারে এসি লাইন সংযোগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে
এবার চার্জারের এসি ইনপুট লাইনে দুটি তার সংযোগ করতে হবে। যেটা দিয়ে আমরা বিদ্যুৎ সাপ্লাই দিব।
এবার বেল পুশ সুইচ ও আমাদের তৈরি করা কলিং বেল ২২০ ভোল্টের লাইনের সাথে উপরের ডায়াগ্রামের মতো কানেকশন করতে হবে।
সব সংযোগ দেবার পরে দেখতে যেমন হবে
আপনাদের দেখানো জন্য আমি এভাবে প্রোটটাইপ কানেকশন করেছি। প্রথমে টেস্ট করার জন্য অবশ্যই ২২০ ভোল্টের সিরিজ লাইন ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় ভুলে শর্ট সার্কিট হয়ে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এবার টেস্ট করার পালা… নিচের ভিডিওটি দেখুন
আশা করি ভিডিওতে দেখতে পারছেন কলিং বেল টা কিভাবে কাজ করছে। এখানে আমি এই মাল্টিপ্লাগটা একটা সিরিজ লাইনে সংযোগ করেছি। যাতে কানেকশনে কোনো ভুল থাকলে কোনো রকমের দুর্ঘটনা না ঘটে।
যদিও এর সাউন্ডটা বেশ হাস্যকর। তবে আমি প্রায় ৫ বছর ধরে এভাবে ব্যবহার করছি। এখন পর্যন্ত নষ্ট হয়নি। আর বাজারের সাইজ দেখে হয়তো মনে করতে পারেন এটা আর কেমন সাউণ্ড করবে! সেক্ষেত্রে বলতে হয় এর সাউন্ড ভালোই। যেটা কলিং বেল হিসেবে যথেষ্ট।
আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে আমাদের ইলেকট্রনিক্স চ্যানেলে এটা নিয়ে ভিডিও দেওয়া আছে। সেটা দেখতে পারেন।
আর আজকের এই ইলেকট্রনিক্সপ্রজেক্ট কেমন লাগলো সেটা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।
উপরের সার্কিটডায়াগ্রামে ভিসিসি, ভিডিডি, ভিইই, ভিএসএস (Vcc, Vdd, Vee, Vss) দেখতে পাচ্ছি যার অর্থ হয়ত আমাদের অনেকেরই অজানা। এগুলোর পরিপূর্ণ রূপ হচ্ছে-
Vcc = Collector supply voltage
Vee = Emitter supply voltage
Vbb = Base supply voltage
Vdd = Drain supply voltage
Vss = source supply voltage
পাওয়ার সাপ্লাই পিনের এত নাম কেন?
যখন ট্রানজিস্টরসার্কিট (বা TTL/টিটিএল আইসি সার্কিট) – এর পাওয়ার সাপ্লাই কে কালেক্টর এবং গ্রাউন্ডের মধ্যে সংযুক্ত অবস্থায় থাকে তখন এটি Vcc হিসাবে পরিগণিত হয়। সে কারণেই একে কালেক্টর সাপ্লাই ভোল্টেজ বলা হচ্ছে।
একই ভাবে এটি যদি বেস এবং গ্রাউন্ডের মধ্যে সাপ্লাই সংযুক্ত থাকে তবে আমরা এটিকে Vbb বলবো এবং এমিটার ও গ্রাউন্ডের মধ্যস্থিত হলে তাকে Vee বলে।
ট্রানজিস্টরে এই সাপ্লাই ভোল্টেজ কে Vcc, Vbe, Vee বলে
মসফেট ও ট্রানজিস্টরের ক্ষেত্রে এই সাপ্লাই ভোল্টেজ কে কী বলবো?
যদিও মসফেট/ফেট (Mosfet/Fet) মূলত ট্রানজিস্টরেরই আরেক রূপ। কিন্তু সাপ্লাই ভোল্টেজের ক্ষেত্রে একে ভিন্ন নামে ডাকা হয়। যেমন মসফেট ও ফেট এর ক্ষেত্রে Vdd, Vss বলা হবে। যেটা কমন বাইপোলার ট্রানজিস্টরের ক্ষেত্রে Vcc ও Vee বলা হতো। নিচের চিত্র দ্রষ্টব্য-
ট্রানজিস্টরের ক্ষেত্রে Vdd, Vss বলা হবে যেটা কমন বাইপোলার ট্রানজিস্টরের ক্ষেত্রে Vcc ও Vee ছিল
কোনটি (+) পজেটিভ আর কোনটি (-) নেগেটিভ সাপ্লাই?
FET ও BJT (সাধারন ট্রানজিস্টর) এর ক্ষেত্রে Vcc/Vdd কে (+) পজেটিভ সাপ্লাই আর Vee/Vss কে (-) নেগেটিভ ভোল্টেজ সাপ্লাই বলা হয়।
কারা এই পদ্ধতি নির্ধারন করেছে?
এই পদ্ধতিটি ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (IEEE) দ্বারা নির্ধারিত।
আশাকরি আজকের এই লেখা থেকে ভিসিসি, ভিডিডি, ভিইই, ভিএসএস (Vcc, Vdd, Vee, Vss) সম্পর্কে সহজ ভাবে কিছু ধারণা পেলাম।
একটি পরিবাহী বা কন্ডাক্টরের রোধ ঐ কন্ডাক্টর তৈরির উপাদানের ওপর নির্ভর করে। এর বৈশিষ্ট্যগুলিকে Ro (ρ) হিসাবে প্রকাশ করা হয়। একই সাথে, কন্ডাকটরের রোধ নির্ভর করে তার দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর। সুতরাং, কোন তারকে টেনে লম্বা করলে সেটির রোধ বা রেজিস্ট্যান্স বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু কতটুকু বৃদ্ধি পাবে?
একটু সহজ ভাবে বললেঃ
তারের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির কারণে, এটি পাতলা এবং দীর্ঘ হবে।
1. যদি এটি পাতলা হয় তাহলে বৈদ্যুতিক চার্জ এটির মাধ্যমে চলাচল করা কঠিন হবে, তাই রোধ বৃদ্ধি পাবে।
2. আবার এর সাথে এই তারটি যদি দীর্ঘ হয়, চার্জ টিকে আরও বেশি পথ অতিক্রম করতে হবে, তাই এর রোধের পরিমান ও বৃদ্ধি পাবে।
এবার আসি একটু গাণিতিক ব্যাখ্যায়
এ বিষয়ে একটু বীজগণিত ও পদার্থ-বিজ্ঞানের সাহায্য নেওয়া যাক-
আমরা জানি যে,
Resistance = (rho ρ) x (length ÷ Cross-Sectional Area)
এখানে,
(rho ρ) = ঘনত্ব
length = তারের দৈর্ঘ্য
Cross-Sectional Area = তারের প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল
যেহেতু, তারের দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ হয়েছে, তাই অবশ্যই ক্রস-সেকশনাল এরিয়া বা তারের প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলে কিছু পরিবর্তন হবে।
আবার আমরা এও জানি যে,
আয়তন = ভর/ঘনত্ব (volume = Mass/Density)
এবং যেহেতু দৈর্ঘ্যের পরিবর্তনের কারণে ভর বা ঘনত্ব কোনোটাই পরিবর্তিত হয়নি,
তাই আয়তনকে অবশ্যই স্থির থাকতে হবে।
আমরা আরও জানি যে,
আয়তন = দৈর্ঘ্য x ক্রস সেকশনাল এরিয়া
(Volume = Length x Cross Sectional Area)
আমাদের ক্ষেত্রে, তারের দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ হয়েছে।
আবার তারের ভেতরে থাকা উপাদান কিন্তু বাড়ে নি। একই আছে।
তাই ক্রস-সেকশনাল এরিয়া অর্ধেক হয়ে যাবে৷
এভাবে আমরা পাই,
নতুন ক্রস-সেকশনাল এরিয়া = (1/2) x পুরানো ক্রস-সেকশনাল এরিয়া–
অর্থাৎ,
নতুন দৈর্ঘ্য = 2 x পুরানো তারের দৈর্ঘ্য।
নতুন প্রাপ্তমাণ টি আগের সূত্রে দিলেই পেয়ে যাবো রোধ কত –
Practical Electronics for Inventors PDF বইটিতে ইলেকট্রিকাল ও ইলেকট্রনিক্সের অসংখ্য সূত্র, গণিত, চিত্র সহ, সহজ ভাষায় সবিস্তারে লেখা আছে। প্রচুর অংক কষে সার্কিটডায়াগ্রামের উপস্থাপনায় লেখকদ্বয় প্রমান দিয়েছেন সব কিছুর বিস্তারিত।
কেউ যদি আসলেই ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্সের খুটিনাটি বিষয় বিস্তারিত ভাবে জানতে চান তাহলে তার জন্য এই বইটি অবশ্যই পাঠ্য। দূর্ভাগ্য যে এটি ইংরেজিতে। কিন্তু একটি জিনিস মানতেই হবে যে ইঞ্জিনিয়ারিং বেশিরভাগ বই ইংরেজিতেই হয়। এমনকি আপনার হাতের ঐ মাল্টিমিটার টিও কিন্তু ইংরেজিতেই ভ্যালু দেখায়।
মাল্টিমিটারের কথা যখন এসেই গেল, এই PDF বইয়ের একাংশের লেখা কমেন্টে তুলে ধরছি। সাধারন মাল্টিমিটার ও ট্রু- আর.এম.এস মাল্টিমিটারের (True RMS Multimeter) মধ্যেকার পার্থক্য। আর তা কেন প্রয়োজন। এমনকি বর্তমানে বাজারে প্রাপ্ত সস্তা True RMS মাল্টিমিটার গুলো আসলে কীভাবে কাজ করে তার ও কিঞ্চিত আভাস দেয়া হয়েছে।
এই টাইপ মিটার দিয়ে ট্রায়াংগাল বা স্কয়ার ওয়েভের True RMS value পাওয়া সম্ভব নয়।
সস্তা True RMS multimeter গুলো ধরেই নেয় যে আপনার লাইন ওয়েভ সাধারন সাইনুসাইডাল ওয়েভের মত। আর সে ভাবেই ক্যালকুলেশন করে আউটপুটে রেজাল্ট দেখায়। কিন্তু এই টাইপ মিটার দিয়ে ট্রায়াংগাল বা স্কয়ার ওয়েভের True RMS value পাওয়া সম্ভব নয়। তাই লেখা আছে বই থেকে নেয়া উপরের ছবিতে
আবার কোন ইলেকট্রিক্যাল বা ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে পাওয়ার লস বিরাট একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু –
করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা নিয়ে আপনাদের বলার মত কিছু নেই। এটি যেকোনো জায়গায় থাকতে পারে এবং খুব সহজেই স্পর্শের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কিন্তু, আমরা যদি সহজ কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করি করোনাভাইরাস থেকে সাবধান থাকার জন্য, তাহলেই আক্রান্ত হবার সমস্যা অনেকাংশেই কমে যায়। এক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক সার্কিট ও ব্যবহার করা যায়। বিজ্ঞান মেলার জন্যও এটি দারুন একটি প্রজেক্ট হতে পারে বটে।
করোনা ভাইরাস স্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়, তাই আমাদের সবচেয়ে জোর দিতে হবে হাত জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য। বিজ্ঞানীদের মতে, সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ডের কম সময় ধরে হাত ধোয়া হলে হাতে জীবাণু থেকে যায়। তাই আমাদের অবশ্যই ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে।
আপনার মনে হতে পারে, এ আর কঠিন কী। মনে মনে ১ থেকে ২০ পর্যন্ত গুনেই তো হিসাব রাখা যায়। কিন্তু অবাক হলেও সত্যি, মনে মনে এভাবে সময়ের হিসাব রাখলে তাতে প্রায়সময়ই ভুল হয়ে যায়। আপনি কতটুকু তাড়ায় আছেন সেটার ওপর নির্ভর করবে আপনি ভুলভাবে দ্রুত গুনবেন না সঠিকভাবে ধীরে ধীরে গুনবেন। কিন্তু আমরা, দ্য টেক ল্যাবে, চেয়েছিলাম প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজ কোন ডিভাইস বানাতে, যা আমাদের বলে দেবে ঠিক কতক্ষণ পরে হাত ধোয়া শেষ করতে হবে। এভাবেই শুরু হলো প্রজেক্টটি।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা
টিউটোরিয়ালে যাওয়ার আগে কিছু কথা বলি। এখন করোনা ভাইরাসের জন্য ইলেকট্রনিক্স ও থ্রিডি প্রিন্টিং হবিস্টরা অনেকেই বিভিন্ন ডিভাইস ডেভেলপ করছেন, যেটি খুবই ভাল একটি বিষয়। অনেকেরই ধারণা, আরডুইনো দিয়ে অবস্টাকল এভয়েডিং রোবট, লাইন ফলোয়ার রোবট ও এরকম টুকটাক কিছু বিজ্ঞান প্রজেক্ট যেগুলো দেখতে চমকপ্রদ কিন্তু বাস্তব জীবনে তেমন কাজে আসে না; এরকম প্রজেক্ট ছাড়া আর কিছু বানানো সম্ভব না। কিন্তু তাদের এ ভুল ধারণা ভেঙে দিচ্ছে এই হবিস্টরা, যারা সাধারণ কিছু কম্পনেন্টস দিয়েই করোনা ভাইরাস -সম্পর্কিত বড় বড় সমস্যা সমাধান করছে।
আমরা, দ্য টেক ল্যাব, চাচ্ছিলাম বাংলাদেশের হবিস্টদের নিয়েও এরকম কিছু করতে। শুধুমাত্র হ্যান্ডওয়াশ টাইমারের একটি টিউটোরিয়াল দিলে হয়তো খুব বেশি মানুষ বানাতো না। তাই, আমরা আপনাদের একটি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি।
#handwashtimerchallenge
এই চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণ করার জন্য আপনাকে হ্যান্ডওয়াশ টাইমারটি বানিয়ে আপনার নাম, ডিভাইসের একটি ছবি এবং আপনার বানানোর অভিজ্ঞতা/আপনার পরিবারের ফিডব্যাক ২০০ শব্দে লিখে আমাদের দ্যা টেকল্যাব ওয়েবসাইটে (লিঙ্ক) সাবমিট করতেহবে। কৃতজ্ঞতাস্বরুপ, আমরা ই-মেইলে আপনাকে একটি ডিজিটাল সার্টিফিকেট পাঠাবো এবং ক্যাম্পেইন শেষে আমাদের ফেইসবুক পেইজে আপনার ছবি এবং আপনার অভিজ্ঞতা পোস্ট করবো।
আপনাদের মধ্যে থেকে মাত্র যদি ৫০০ জনও একটি করে হ্যান্ড ওয়াশ টাইমার (বানাতে এক ঘন্টা লাগতে পারে) বানিয়ে নিজের ঘরে ব্যবহার করেন, তাহলেই আমরা অন্তত ২০০০ মানুষকে করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করতে পারি। অসাধারণ না আইডিয়াটা?
দরকার শুধু আপনাদের একটু সহযোগীতা। চলুন, সবাইকে দেখিয়ে দেই, ইলেকট্রনিক্স শুধুমাত্র একটি শখ নয়, বরং এটি দিয়ে বৈশ্বিক একটি সমস্যার সমাধান করাও সম্ভব!
এখানে জ্ঞাতব্য যে-
*প্রতি পরিবারে গড়ে ৪ জন থাকে এমন ধরে হিসাব করা হয়েছে
*এই ক্যাম্পেইন পুরোপুরি একটি দাতব্য কাজ হিসাবে পরিচালিত হচ্ছে। দ্য টেক ল্যাববা আমাদের ইলেকট্রনিক্স কেউই এ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে না। আমাদের ইলেকট্রনিক্স দ্য টেক ল্যাবের এই ক্যাম্পেইনটিকে মানবতার স্বার্থে সমর্থন করছে, কিন্তু আমাদের ইলেকট্রনিক্স কোনোভাবেই দ্য টেক ল্যাবের সাথে যুক্ত নয়।
*এটি একটি ওপেন সোর্স প্রজেক্ট এবং GNU General Public License Version 3 এর আওতায় প্রকাশ করা হলো।
মূল আইডিয়া
হ্যান্ডওয়াশ টাইমার আপনার সোপ ডিসপেন্সারের পাশে থাকবে। টাইমারটির উপরে একটি আল্ট্রাসনিক/সোনার সেন্সর আছে। আপনি সাবান নিতে গেলেই আপনার হাতের মুভমেন্ট ডিটেক্ট করবে। এরপর টাইমারটি ২০ সেকেন্ডের জন্য চালু হয়ে যাবে। ইন্ডিকেটর এলইডি সময় নির্দেশ করবে। সবুজ এলইডিটি জ্বলে উঠলে এবং লাল এলইডিটি নিভে গেলে বুঝতে পারবেন আপনার হাত মোটামুটি জীবাণুমুক্ত হয়েছে, এখন হাত থেকে সাবান ধুয়ে ফেলা যায়।
৭। ব্রেডবোর্ড ও জাম্পার ক্যাবল- ব্রেডবোর্ড ভার্সনের জন্য, অথবা ভেরোবোর্ড যদি আপনি সোল্ডার করতে চান
হ্যান্ড ওয়াশ টাইমারটির কার্যপ্রণালি
আমরা হ্যান্ড ওয়াশ টাইমারটি এমনভাবে ডিজাইন করেছি যেন যে কেউ এক-দুই ঘন্টার মধ্যেই বানিয়ে ফেলতে পারে। এটা শুধুমাত্র শিক্ষামূলক একটি ডিভাইসই নয়, বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। হ্যান্ড ওয়াশ টাইমারে মূল কাজটি করে একটি আরডুইনো, যেটি সম্পর্কে আরো জানতে চাইলে এই লেখাটি দেখতে পারেন।
এখানে, আরডুইনোটি একটি আলট্রাসনিক সেন্সর ও ৬টি এলইডির সাথে কানেক্টেড আছে। আরডুইনো সবসময়ই সেন্সরটির রিডিং নিচ্ছে এবং আপনার হাত ডিটেক্ট করার জন্য অপেক্ষা করছে। যখনই আপনি সাবান নেয়ার জন্য সোপ ডিসপেন্সারের সামনে হাত আনবেন, আরডুইনো আল্ট্রাসনিক সেন্সরের সাহায্যে সেটা ডিটেক্ট করে ২০ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন শুরু করবে এবং লাল এলইডিটি জ্বালিয়ে দিবে। প্রতি ৪ সেকেন্ড পর পর একটি করে নীল এলইডি জ্বলবে যেটি দেখে আপনি বুঝতে পারবেন কতক্ষন ধরে হাত ধুচ্ছেন। সবার শেষে সবুজ এলইডি জ্বলে ওঠা ও লাল এলইডি নিভে গেলে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি ২০ সেকেন্ডের জন্য হাত ধুয়েছেন।
ব্রেডবোর্ড ভার্সনটি বানানো
এই প্রজেক্টটির দুটো ভার্সন আছে, ব্রেডবোর্ড ভার্সন ও ভেরোবোর্ড ভার্সন। আপনি যদি সোল্ডারিংএ অভিজ্ঞ না হন, তাহলে আমরা রিকমেন্ড করবো ব্রেডবোর্ডে সার্কিটটি বানাতে। চলুন দেখে নেয়া যাক সেজন্য কী কী করতে হবে।
এই সার্কিটে অল্প কয়েকটি কম্পোনেন্টস আছে, তাই ব্রেডবোর্ডে বানানো খুবই সোজা। শুধুমাত্র একটি আরডুইনো, একটি আলট্রাসনিক সেন্সর ও ছয়টি এলইডির কানেকশন দিলেই কাজ শেষ। উপরে আরডুইনো উনো এবং ন্যানো, দুটির জন্যই ব্রেডবোর্ড সার্কিটডায়াগ্রাম দেয়া আছে। দেখে দেখে কানেকশন দিতে পারবেন। যদিও ব্রেডবোর্ডের জন্য আমরা উনো ব্যবহার করাই সাজেস্ট করবো, সেক্ষেত্রে আরডুইনোটি ব্রেডবোর্ড থেকে একটু দুরেও বসানো যাবে। এলইডি গুলোর পোলারিটি লাগানোর আগে চেক করে নিতে ভুলবেন না। সাধারণত লম্বা পিনগুলো পজিটিভ এবং খাটো পিনগুলো নেগেটিভ হয়ে থাকে। তাই, লম্বা পিনগুলো আরডুইনোর ডিজিটাল পিনে কানেক্টেড থাকবে এবং খাটো পিনগুলো আরডুইনোর গ্রাউন্ডে কানেক্টেড থাকবে।
ভেরোবোর্ড ভার্সনটি বানানো
আপনার যদি সোল্ডারিং নিয়ে অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে পুরো সার্কিটটি ভেরোবোর্ডেও বানিয়ে ফেলতে পারেন। উপরে সার্কিটডায়াগ্রাম দেয়া আছে, সেটি অনুসরণ করলেই চলবে। এমনকী, আপনি যদি পিসিবি বানাতে চান, তাহলে এই ইজিইডিএ (EasyEDA) ডিজাইন ফাইলটি থেকে পিসিবিও এক্সপোর্ট করে নিতে পারেন।
সোল্ডারিং এর সময়ও খেয়াল রেখেন এলইডিগুলোর পোলারিটি ঠিক আছে কিনা। আপনি চাইলে প্রত্যেকটা এলইডির সাথে একটি করে ১৫০ ওমের রেজিস্টরও দিতে পারেন যাতে সেগুলো বেশিদিন টেকে। আমরা এই প্রজেক্টটি খুবই বিগিনার-ফ্রেন্ডলি রাখতে চেয়েছি তাই রেজিস্টর ব্যবহার করিনি। ল্যাবে ডিভাইসটি পরীক্ষা করার সময় এজন্য কোনো সমস্যাও হয়নি, যেহেতু একেকবারে মাত্র ৪ সেকেন্ডের জন্য জ্বলে থাকছে।
কোড আপলোড করা
সার্কিটের কাজ শেষ হওয়ার পর এখন কোড আপলোড করতে হবে। কোড আপলোড করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন –
১। আরডুইনো আইডিই (সফটওয়ার) এ কোডটি ওপেন করে আরডুইনো বোর্ডটি কেবল দিয়ে কানেক্ট করুন।
আপনি যদি আপলোডের সময় কোনো এরর পান, তাহলে চেক করে দেখুন বোর্ডে বা পোর্টে সমস্যা আছে কিনা। পোর্টে একটি একটি করে সবগুলোই চেষ্টা করে দেখুন। এবং আপনি যদি আরডুইনো ন্যানো ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে টুলস থেকে প্রসেসর মেনুতে গিয়ে অন্য একটি প্রসেসর সিলেক্ট করে দেখুন।
কাজ করছে কিনা পরীক্ষা করা
কোড আপলোড করা হয়ে গেলে এবার হ্যান্ড ওয়াশ টাইমারটি পরীক্ষা করে দেখার পালা। কেবল দিয়ে ডিভাইসটি পাওয়ার করুন, এমনিতে সবগুলো এলইডি অফ থাকার কথা। আলট্রাসনিক সেন্সরের সামনে হাতটি নিলে লাল এলইডি জ্বলে উঠবে। ৪ সেকেন্ড বিরতি দিয়ে বাকি সবগুলোও একে একে জ্বলে উঠবে।
যদি এ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকমত হয়ে থাকে, তবে অভিনন্দন, আপনার সার্কিটটি কাজ করছে!
যদি না হয়ে থাকে, চিন্তার কিছু নেই। প্রথমে সোনার সেন্সরের কানেকশনগুলো চেক করুন, মাঝে মাঝে মাঝে লাগাতে গিয়ে উলটোপাল্টা হয়ে যায়। যদি কোনো এলইডি কাজ না করে, তাহলে পোলারিটি চেক করুন। তারপরো কাজ না হলে নতুন আরেকটি এলইডি লাগিয়ে দেখুন।
এনক্লোজার বা হ্যান্ড ওয়াশ টাইমারের বক্স বানানো
হ্যান্ড ওয়াশ টাইমার বেসিনের ওপর থাকবে, তাই একটি এনক্লোজার বানানো খুব জরুরী। তাহলে পানির ছিটা লেগে সার্কিটের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকবে না।
এনক্লোজারটি বানানোর জন্য আপনি যেকোনো ধরণের বক্স ব্যবহার করতে পারেন, যেমন প্লাস্টিকের টিফিন বক্স। এটার আসলে বাঁধাধরা কোনো নিয়ম নেই। তারপরো, আমাদের এনক্লোজার থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারেন।
আমাদের তৈরি হ্যান্ড ওয়াশ ডিভাইসের এনক্লোজার বক্স
আমরা এনক্লোজারটি নিজেরা বানাতে চেয়েছিলাম, এজন্য একটি পুরানো ইলেকট্রিক্যাল আউটলেট বক্স ব্যবহার করেছি । আউটলেট বক্সের উপরে ব্ল্যাঙ্ক সুইচবোর্ডের কাভার স্ক্রু দিয়ে লাগিয়েছি, এবং কাভারে সোল্ডারিং আয়রন দিয়ে ছিদ্র করে এলইডি ঢুকিয়েছি। এরপর এলইডিগুলোতে তার সোল্ডার করে তা একটি আরডুইনোর পিনে সরাসরি সোল্ডার করে কানেকশন দিয়েছি। সবার শেষে উপরে কার্বন ফাইবার স্টিকার লাগিয়েছি যেন দেখতে সুন্দর লাগে।
ইলেকট্রিক্যাল আউটলেট বক্সের ছবি নিচে দেয়া হলো।
ডিজাইনে আরো একটি ইউজফুল ফিচার আছে। এখানে সোনার সেন্সরটি এমনভাবে লাগানো যেন লম্বালম্বিভাবে ডিভাইসটি রাখলে ঠিক সোপ ডিসপেন্সারের নজলের উচ্চতাতেই সোনারটি থাকে। ইউজার যখনই সাবান নেয়ার জন্য নজলে চাপ দিবে, সোনার সেন্সর সেটা ডিটেক্ট করবে। এজন্য টাইমার চালু করার জন্য আলাদা করে সোনার সেন্সরের সামনে হাত নাড়া লাগছে না। শুধু তাই নয়, আমরা হ্যান্ড ওয়াশ টাইমারটির সামনে এটির কাজ লিখেও রেখেছি, যেন নতুন কারো বুঝতে সমস্যা না হয়। 🙂
আমাদের বানানো এনক্লোজারটির ডিজাইনও নিচে দেয়া হলো। চাইলে এভাবেও বানাতে পারেন।
আপনি যদি হ্যান্ডওয়াশ টাইমারটি বানিয়ে থাকেন, তাহলে অভিনন্দন! এই আপাতদৃষ্টিতে ছেলেমানুষি ডিভাইসটিই আপনার হাতকে আরো জীবাণুমুক্ত রাখতে সাহায্য করবে। আমরা যখন ল্যাবে পরীক্ষা করছিলাম, তখনই আবিষ্কার করেছি এই টাইমার ব্যবহার করার আগে আমরা মনের অজান্তেই আরো অনেক কম সময় ধরে হাত ধুতাম। কিন্তু এখন এই টাইমার ব্যবহার করার পর ভুল করার কোনো সুযোগ থাকছে না। আপনার পরিবারের বাচ্চাদেরও ডিভাইসটি হাত ঘন ঘন এবং ধরে ধুতে উৎসাহিত করবে, কারণ হাত ধোয়ার সময় এলইডিগুলোর জ্বলানেভা দেখতে ভালই লাগে। চাইলে আরো কয়েকটা বানিয়ে নিজের মত ডেকোরেট করে বিভিন্ন ওয়াশরুমে রেখে দিতে পারেন। আর করোনাভাইরাস কিংবা অন্যসকল জীবাণু থেকেও নিজেকে রাখতে পারেন পরিষ্কার 🙂
সকল বন্ধুদের স্বাগতম আমার আরডুইনো দিয়ে স্ক্রলিং এলইডি মেসেজ ডিসপ্লে প্রজেক্টে। এটা খুবই মজার একটি প্রজেক্ট। এই প্রজেক্টে একটি ৮x৮ মেট্রিক্স ডিসপ্লেতে লেখা স্ক্রল হবে। প্রথমেই বলে নিই এই প্রজেক্ট করতে হলে অবশ্যই আগে মাইক্রোকন্ট্রোলার ও তার প্রোগ্রামিং সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে বিশেষ করে অরডুইনো। তাহলে শুরু করা যাক।
উপরের কোডে লক্ষ্য করি char ALPHA[] = এর পর কিছু সংখ্যা দেখা যাচ্ছে । এখানে সবার উপরে ১০ টি শূন্য ও শেষে ১০ টি শূন্য এগুলা হল স্পেস । আর এর মাঝের প্রত্যেক ১০ টি সংখ্যা হল এক একটি অক্ষর । যেমন উপরের কোডে CIRCUITDIGEST লেখা। এখানে CIRCUITDIGEST মোট ১৩ টি অক্ষর, উপরের কোডে খেয়াল করলে দেখবেন প্রথমে ১০টি ও শেষে ১০টি শূন্য এর মাঝে ১৩ টি ১০ সংখ্যা বিশিষ্ট্য লাইন আছে।
নিজের নাম লিখতে চাইলে
এখন প্রশ্ন হল আপনি যদি নিজের নাম লিখতে চান তখন। এর জন্য আপনাকে A-Z পর্যন্ত সবগুলো অক্ষরের ডিসপ্লে কোড জানতে হবে। নিচে কোড দেওয়া হল ।
24,60,102,126,102,102,102,0,0,0, // A
124,102,102,124,102,102,124,0,0,0, // B
60,102,96,96,96,102,60,0, 0,0, // C
120,108,102,102,102,108,120,0, 0,0, // D
126,96,96,120,96,96,126,0, 0,0, // E
126,96,96,120,96,96,96,0, 0,0, // F
60,102,96,110,102,102,60,0, 0,0, // G
102,102,102,126,102,102,102,0, 0,0, // H
60,24,24,24,24,24,60,0, 0,0, // I
30,12,12,12,12,108,56,0, 0,0, // J
102,108,120,112,120,108,102,0, 0,0, // K
96,96,96,96,96,96,126,0, 0,0, // L
99,119,127,107,99,99,99,0, 0,0, // M
102,118,126,126,110,102,102,0, 0,0, // N
60,102,102,102,102,102,60,0, 0,0, // O
124,102,102,124,96,96,96,0, 0,0, // P
60,102,102,102,102,60,14,0, 0,0, // Q
124,102,102,124,120,108,102,0, 0,0, // R
60,102,96,60,6,102,60,0, 0,0, // S
126,24,24,24,24,24,24,0, 0,0, // T
102,102,102,102,102,102,60,0, 0,0, // U
102,102,102,102,102,60,24,0, 0,0, // V
99,99,99,107,127,119,99,0, 0,0, // W
102,102,60,24,60,102,102,0, 0,0, // X
102,102,102,60,24,24,24,0, 0,0, // Y
126,6,12,24,48,96,126,0, 0,0, // Z
উদাহরণ
এখন মনে করি আমি DAD লিখব। এর জন্য char ALPHA[] = এরপর ১০টি শূন্য, এর পর
120,108,102,102,102,108,120,0, 0,0, // D,
24,60,102,126,102,102,102,0,0,0, // A
120,108,102,102,102,108,120,0, 0,0, // D
এই কোড টুকু পেস্ট করতে হবে এবং শেষে ১০টি শূন্য দিতে হবে। অর্থাৎDAD লিখার জন্য সম্পুর্ন কোডটি হবে এরকম-
char ALPHA[] = {0,0,0,0,0,0,0,0,0,0,0,
120,108,102,102,102,108,120,0,0,0,
24,60,102,126,102,102,102,0,0,0,
120,108,102,102,102,108,120,0,0,0,
0,0,0,0,0,0,0,0,0,0,0};
একই ভাবে আপনি চাইলে এই পদ্ধতি অনুসরণ করে অন্যান্য নাম ও লিখতে পারবেন।
বিশেষ জ্ঞাতব্য
এখানে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, মনে করি DAD লিখব। অর্থাৎ DAD লেখার জন্য উপরের কোডটি খেয়াল করলে দেখবো যে ৫ টি লাইনে ১০টি করে সংখ্যা আছে। এই লাইন আর লাইনে অবস্থিত অক্ষরের সংখ্যা গুণ হবে।
DAD লিখার ক্ষেত্রে ৫টা লাইন আর প্রতি লাইনে ১০টা সংখ্যা অর্থাৎ ৫ গুন ১০ সমান ৫০। এই ৫০ থেকে ৮ বিয়োগ করতে হবে। বিয়োগ করে যে সংখ্যা পাব সেটা মূল কোডের একটি নির্দিষ্ঠ স্থানে বসাতে হবে। নিচে দেওয়া হল।
উপরের কোডের আন্ডারলাইন করা 142 এর স্থানে ঐ যে উপরে আমরা ৫*১০=৫০ আর ৫০-৮= ৪২ পেলাম সেই ৪২ বসাতে হবে। প্রতিবার নাম চেঞ্জ করার সময় এই নিয়মে হিসাব করে সংখ্যা বসাতে হবে। এটি করা হয়েছে মূলত অক্ষর গুলো যাতে ডিসপ্লেতে ওভারফ্লো না হয় তার জন্য।
আশাকরি এত খুলে বলার পর আর কারও কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। তারপরও কোন সমস্যা হলে কমেন্টে জানাবেন। আর নিচে আমার তৈরি এই প্রজেক্টের ভিডিও দেখতে পাচ্ছেন-
তৈরি প্রজেক্টের ভিডিও
নীচে দেখতে পাচ্ছেন আমার তৈরি করা ৮x৮ এলইডি ম্যাট্রিক্স স্ক্রলিং এলইডি মেসেজ ডিসপ্লে প্রজেক্ট এর একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও।
সমাপ্তি
আজকের মতো আপাতত এখানেই ইতি টানছি। সামনে এমনি কোন মজার প্রজেক্ট নিয়ে হাজির হবো। ততোক্ষণে এই স্ক্রলিং এলইডি মেসেজ ডিসপ্লে সার্কিট সম্পর্কে আপনার কোন অভিজ্ঞতা জানানোর থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।