...
Home রিভিউ বাংলাদেশে আইপিএসের দাম কত? বাজেট অনুযায়ী কেনার গাইড ২০২৬

বাংলাদেশে আইপিএসের দাম কত? বাজেট অনুযায়ী কেনার গাইড ২০২৬

0
2
বাংলাদেশে আইপিএসের দাম কত ২০২৬
বাংলাদেশে আইপিএসের দাম কত ২০২৬

লোডশেডিং বাংলাদেশে নতুন কিছু না, কিন্তু গরমের সময়টায় এটা সবচেয়ে বেশি ভোগায়। তখনই মানুষ আইপিএস খুঁজতে শুরু করে, আর প্রথম যে প্রশ্নটা মাথায় আসে সেটা হলো দাম। একটা আইপিএস আট হাজার টাকায়ও পাওয়া যায়, আবার এক লাখ টাকারও বেশিতে। এই পার্থক্যের পেছনে ঠিক কী কাজ করে, সেটাই আজকের আলোচনার বিষয়।

দামের পার্থক্যটা আসলে কীসের ওপর নির্ভর করে

আইপিএসের দাম আসলে তিনটা জিনিসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।

  • ওয়াটেজ বা VA ক্যাপাসিটিঃ কম ওয়াটের আইপিএস দিয়ে শুধু কয়েকটা লাইট আর ফ্যান চালানো যায়, বেশি ওয়াটের আইপিএস দিয়ে ফ্রিজ, টিভি, এমনকি এসিও চালানো সম্ভব হয়।
  • ব্যাটারির ধরন ও ক্ষমতাঃ আইপিএস ইউনিটের দাম আর ব্যাটারির দাম প্রায়ই আলাদা হিসাব করা হয়। শুধু আইপিএস ইউনিটের দাম দেখে বাজেট ঠিক করলে পরে ব্যাটারি কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচ চলে আসে।
  • প্রযুক্তিঃ সাইন ওয়েভ বনাম স্কয়ার ওয়েভ আউটপুট, আইপিএস-কাম-ইউপিএস সুবিধা আছে কিনা, এসবও দামে প্রভাব ফেলে।

বাজেট রেঞ্জ অনুযায়ী আইপিএসের দাম

বাজেট রেঞ্জ ক্যাপাসিটি উদাহরণ কার জন্য উপযুক্ত
৮,০০০ – ১১,৫০০ টাকা ৫০০ – ৯০০VA Luminous EVO D 700 (৳৮,০০০), Hamko শুরু ৳৮,৫০০ থেকে বেসিক প্রয়োজন, কয়েকটা লাইট-ফ্যান
১১,৫০০ – ২৫,০০০ টাকা ৯০০ – ১৬০০VA Rahimafrooz ৳১১,৫০০ – ১৯,৫০০, Hamko ব্যাটারি-প্যাকেজ ৳২০,০০০ – ২৫,০০০ মাঝারি চাহিদা, একাধিক যন্ত্র
২৫,০০০ টাকার বেশি উচ্চ ক্ষমতা বাণিজ্যিক-গ্রেড IPS, VA ভেদে দাম বাড়ে অফিস, দোকান, ভারী লোড

 

৮ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে আইপিএসঃ এই রেঞ্জে সাধারণত ৫০০ থেকে ৯০০ ওয়াটের আইপিএস পাওয়া যায়। লুমিনস-এর সবচেয়ে সাশ্রয়ী মডেল (EVO D 700) শুরু হয় ৮,০০০ টাকা থেকে। হামকো-র আইপিএসও এই রেঞ্জেই শুরু, ৮,৫০০ টাকা থেকে। এই বাজেটে মূলত বেসিক প্রয়োজন মেটে, ভারী ডিভাইস চালানোর কথা না ভাবাই ভালো।

১১,৫০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে ব্যাটারি-প্যাকেজ সহ আইপিএসঃ এই রেঞ্জে ব্র্যান্ড আর প্যাকেজ দুটোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। রহিমআফরোজ-এর জনপ্রিয় মডেলগুলো এই রেঞ্জেই থাকে, ১১,৫০০ থেকে ১৯,৫০০ টাকা পর্যন্ত, VA ও ফিচার অনুযায়ী দাম ওঠানামা করে। হামকো-র আইপিএস ব্যাটারিসহ প্যাকেজ হিসেবে কিনলে ২০,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়, সাধারণত ৩২০ ওয়াট ক্যাপাসিটি আর ১০০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিসহ, যা দিয়ে বাসার মাঝারি চাহিদা ভালোভাবেই মেটে।

২৫ হাজার টাকার ওপরে, উচ্চ-ক্ষমতা সম্পন্ন আইপিএসঃ যাদের বাণিজ্যিক পর্যায়ের ব্যাকআপ দরকার, অফিস বা দোকানের জন্য, তাদের জন্য উচ্চ VA ক্যাপাসিটির আইপিএস এই রেঞ্জে পাওয়া যায়। এখানে দাম মূলত নির্ভর করে ঠিক কতগুলো টিউবলাইট, ফ্যান বা ভারী যন্ত্র একসাথে চালাতে হবে তার ওপর।

কেনার আগে যে হিসাবটা করে নেবেন

দাম দেখার আগে নিজের প্রয়োজনটা হিসাব করে নেওয়া জরুরি।

  • লোডশেডিংয়ের সময় ঠিক কোন কোন ডিভাইস চালাতে চান তার তালিকা করুন, তারপর মোট ওয়াটেজ যোগ করুন।
  • একটা সাধারণ নিয়ম মনে রাখা ভালো, মোট ক্যাপাসিটির ৮০ শতাংশ লোড ধরে হিসাব করা উচিত, বাকি ২০ শতাংশ ফাঁকা রাখলে আইপিএস দীর্ঘদিন ভালো সার্ভিস দেয়।
  • শুধু আইপিএসের ওয়াটেজ না, সাথে কী ব্যাটারি লাগছে সেটাও আলাদাভাবে হিসাব করে বাজেট রাখা উচিত, দুটো একসাথে ধরলেই প্রকৃত মোট খরচের হিসাব মেলে।

আইপিএস নাকি জেনারেটর

এই প্রশ্নটাও অনেকের মাথায় আসে। আইপিএস ব্যাটারিতে চার্জ জমা রাখে এবং বিদ্যুৎ গেলে সাথে সাথে নিঃশব্দে সরবরাহ দেয়, কিন্তু ব্যাটারির ক্যাপাসিটি শেষ হলে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ লোডশেডিং বা ভারী যন্ত্রপাতির জন্য জেনারেটর ভালো, কিন্তু স্বল্পমেয়াদী ও নীরব ব্যবহারের জন্য আইপিএসই বেশি ব্যবহারিক।

ব্র্যান্ড ও বাজেট অনুযায়ী আইপিএসের বর্তমান দাম ও মডেল একসাথে তুলনা করে দেখতে চাইলে বিডিস্টল-এ আইপিএস ক্যাটাগরি ঘুরে দেখতে পারেন, যেখানে একাধিক ব্র্যান্ডের প্যাকেজ পাশাপাশি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

শেষ কথা

আইপিএস কেনাটা এককালীন খরচ হলেও এর ব্যাটারি সময়ের সাথে বদলাতে হয়, তাই শুরুতেই সঠিক ক্যাপাসিটি ও ব্র্যান্ড বেছে নিলে দীর্ঘমেয়াদে খরচ ও ভোগান্তি দুটোই কমে। শুধু দাম দেখে না কিনে, নিজের প্রকৃত লোড হিসাব করে তারপর বাজেট ঠিক করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Seraphinite AcceleratorOptimized by Seraphinite Accelerator
Turns on site high speed to be attractive for people and search engines.