নির্বাচিতবিজ্ঞান ও অন্যান্য

ছোটদের জন্য বিজ্ঞান - ৮

বিজ্ঞান নিয়ে অনেক কথাই হলো, আমরা জেনেছি প্রশ্ন করবার স্বাধীনতা ও প্রশ্ন করাটা বিজ্ঞান মনস্ক হবার জন্য অনেক গুরুত্বপুর্ণ একটি বিষয়। কোন কিছু নিয়ে প্রশ্ন করবার সময় দুটো বিষয় থাকতে পারে - একটি হলো, যা নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে তা অবিশ্বাস করে প্রশ্ন করা আর একটি হলো আরও জানবার জন্য, নতুন কিছু আবিষ্কার করবার জন্য প্রশ্ন করা। আমাদের চারপাশের প্রকৃতি, আমাদের সমাজ, আমাদের জন্মসুত্রে পাওয়া ধর্ম ইত্যাদির বিষয়ে আমরা যখন প্রশ্ন করি তখন আমরা আগে বলা দু ভাবনা থেকেই প্রশ্ন করতে পারি। অর্থাৎ অবিশ্বাস থেকে প্রশ্ন করতে পারি আবার জানবার জন্য, নতুন কিছু আবিষ্কার করবার জন্য আমরা প্রশ্ন করতে পারি। এই দু ভাবে প্রশ্ন করবার মধ্যে কোনটি বিজ্ঞান ভিত্তিক হবে?

অবিশ্বাস থেকে যখন কোন প্রশ্ন করা হয় তখন তা আসলে ঘটনার বা জিনিসের অস্তিত্ব নেই মেনে নিয়েই সেটাকে বাতিল করবার এক ধরনের চিন্তা থেকে প্রশ্নের মুখোমুখী করবার চেষ্টা আবার জানবার জন্য বা নতুন কিছু আবিষ্কার করবার জন্য যখন প্রশ্ন করা হবে তখন তা নতুনের পথ সামনে উন্মোচিত করবে। তাই বলা যায় কোন কিছু নেই বা অবিশ্বাস থেকে যে প্রশ্ন সেটা আসলে অমুলক চিন্তা কেননা যা নেই বলেই তুমি মনে করো সেটা নিয়ে প্রশ্ন করবার কি কোন যুক্তি আছে বা থাকে!! আসলে সেই সুযোগ নাই। তাই কোন কিছু জানবার জন্য বা আবিষ্কার করবার জন্য যে প্রশ্ন করা ও চিন্তা সেটাই বিজ্ঞান ভিত্তিক।

একটা উদাহরণ দিলে স্পষ্ট হবে বিষয়টা- বিজ্ঞানীরা মহাকাশে টেলিস্কোপ দিয়ে দেখে চিন্তা করেছে মহাবিশ্বের অগুনিত সৌর মন্ডলের মাঝে আমাদের পৃথিবীর মতো বাস যোগ্য পৃথিবী থাকতে পারে। এর জন্য তাঁরা প্রশ্ন করেছে সেটা কোথায় হতে পারে এবং তার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞানীরা টেলিস্কোপ সহ নানান ধরনের যন্ত্র দিয়ে গবেষনা করছেন কোথায় সেই পৃথিবী যেখানে মানুষের জন্য বসবাস উপযোগী বা কোন প্রাণীর জন্য বসবাস উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। এখন যদি বিজ্ঞানীরা এটা মনেই না করতো তথা অবিশ্বাস করতো এমন কিছু থাকতে পারে না তবে এই নিয়ে এতো সময় ধরে গবেষণার প্রয়োজনীযতাও থাকতো না বা প্রয়োজনই পড়তো না। মহাকাশ বিজ্ঞানের মতো একটি বিষয়েরই হয়তো তখন আর প্রয়োজন থাকতো না।

তাই অবিশ্বাস থেকে কোন কিছুর চর্চা মোটেও বিজ্ঞান ভিত্তিক নয়। অবিশ্বাস থেকে কোন কিছুর ব্যাপারে প্রশ্ন করা, যুক্তি উপস্থাপন করাটাও বিজ্ঞান ভিত্তিক নয়। বিজ্ঞান ভিত্তিকতার মুলে আছে বিশ্বাস, চিন্তার শুরুতেই থাকতে হবে বিশ্বাসের মতো জিনিস যা প্রশ্নকে ধাবিত করবে তার কাঙ্খিত ফল লাভ করতে। ফলাফলই বলে দেবে কোনটি সঠিক আর কোনটি বেঠিক। প্রমাণিত বিষয়ই টিকে থাকবে, অপ্রমাণিত বিষয় সঠিক বিজ্ঞান ভিত্তিক চিন্তার ফলে বাতিল হবে।

বিশ্বাস ও বিজ্ঞান ভিত্তিকতার ফলে দেখা যেতে পারে দীর্ঘদিনের একটি বিশ্বাস বাতিল হতে পারে প্রমাণের অভাবে, সঠিক যুক্তির খাতিরে - বাতি্ল হওয়া বিশ্বাস কে ছেড়ে প্রমাণ লব্ধ বিষয়কে গ্রহণ করাটাও বিজ্ঞান মনস্কতা। এই গ্রহণ বর্জনের বিষয়টি প্রত্যেক বিজ্ঞান ভিত্তিক মানুষের মাঝে থাকা প্রয়োজন। তোমরা সেই গ্রহণ বর্জনের পথের পথিক হবে। যুক্তি, প্রশ্ন ও চিন্তার মিশেলে প্রমাণিত বিষয়ের চর্চা করবে। সেই সাথে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন করবার মধ্য দিয়ে অপ্রমাণিত সকল কিছুকে অন্ধ বিশ্বাসের মাঝে আগলে না রেখে আলোকিত বিজ্ঞান মনস্কতার প্রমাণিত ফিল্টারের দ্বারা পরীক্ষা করবে। আগামী দিনের বিজ্ঞানী হয়ে উঠবে, নিজের মস্তিষ্ককে করে তুলবে এক একটি বৈজ্ঞানিক ল্যাবরেটরী।

Tags

duronto

Agricultural Engineering, Blogging, Analog & Digital electronics, Research and development.

Related Articles

কমেন্ট করুন-

Back to top button
Close