অডিও এম্প সিস্টেমে নয়েজ বা হাম দুর করবেন যেভাবে

21
603

অডিও সিস্টেম বানানোর পর কিছু সমস্যা প্রায় সব নতুন হবিষ্টদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। আমি নিজেও যখন শুরু করেছিলাম আমার বানানো প্রায় সব এম্প এ এই সমস্যা থাকত। কখনই প্রফেশনাল মানে ভলিউম লেভেল বাড়ানো অবস্থায় সাইলেন্ট মোড পেতাম না। আপনারা নতুন শুরু করলে এই সমস্যায় পড়বেন বা পড়তে পারেন যার জন্য সাধের এম্পটি কখনই মনের মত হবে না। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার জন্য আসুন দেখা যাক কি কি করতে পারি আমরা :-

  • ১. প্রথমে আমাদের নজর দিতে হবে এম্প ের পিসিবির দিকে। ভাল মানের পিসিবি ব্যবহার করা বাধ্যতামুলক। পিসিবির একটা বড় অংশ জুরে যেন গ্রাউন্ড ছড়ানো থাকে তা লক্ষ্য রাখতে হবে। সেই সাথে পিসিবির সকল কানেকশন পরিস্কার থাকতে হবে।
  • ২. এরপর পিসিবিতে যুক্ত পার্টসের দিকে নজর দিতে হবে। একটি এম্প ে মোটামুটি চার ধরনের পার্টস থাকে – ইলেক্ট্রোলাইটিক , ননইলেক্ট্রোলাইটিক , রেজিস্টর আর আইসি, এর বাইরে থাকতে পারে। সকল পার্টস অবশ্যই ভাল মানের হতে হবে। ভাল একটি এম্প বানাতে সস্তা নকল পার্টস ব্যবহার করা যাবে না। বাজারে নকল পার্টসের ছড়াছড়ি তাই বিশ্বস্ত দোকান থেকে পার্টস কিনতে হবে আর যদি নিজে পার্টস চিনেন তবে ত কথাই নেই। ননইলেক্ট্রোলাইটিক ব্যবহারের জন্য মাইলার বা পলিস্টার ব্যবহার করবেন – পারতপক্ষে সস্তা সিরামিক ব্যবহার করা যাবে না। ইলেক্ট্রোলাইটিক ের ক্ষেত্রে চায়না না ব্যবহার করাই ভাল।
  • ৩. ে ব্যবহার করা সকল তার ভাল মানের হতে হবে। ২/৩ টাকা গজের সস্তা চিকন তার ব্যবহার করা হলে কখনই ভাল আউটপুট পাবেন না। ইনপুটের ওয়্যারিয়ে ভাল মানের কোএক্সিয়াল তার ব্যবহার করতে হবে।
  • ৪. অডিও সিস্টেমে যে আইসি বা ট্রানসিস্টর ব্যববহার করবেন তা অবশ্যই অরিজিনাল হতে হবে। অরিজিনাল পার্টসের গায়ে পার্টসের নাম এ উৎপাদনকারীর নাম পরিস্কারভাবে ও উজ্জল হরফে লিখা থাকবে। অস্বচ্ছ আর কোন রকমে লিখা পার্টস ব্যবহার করবেন না। তাহলে নয়েজ ত আসবেই সাথে আউটপুটে পাওয়ারও অনেক কম পাবেন ডায়াগ্রামে উল্লেখিত পরিসমাণের চেয়ে।
  • ৫. আউটপুটের ড্রাইভার বা স্পীকার ভাল মানের হতে হবে। সস্তা জিনিস ব্যবহার করলে নয়েজ কিছুটা আসবেই যত যাই করেন না কেন।
  • ৬. পাওয়ার গ্রাউন্ড আর কানেকশন গ্রাউন্ড আলাদা রাখতে হবে।
  • ৭. মেটাল ক্যাবিনেট হলে গ্রাউন্ডের সাথে তা মোটা তার দিয়ে ঝালাই করে দিতে হবে।
  • ৮. ভলিউম কন্ট্রোলসহ টোন কন্ট্রোল ভেরিয়েবল রেজিষ্টরের বডি একসাথে বাড়তি তার দিয়ে যুক্ত করে গ্রাউন্ডের সাথে ঝালাই করে দিতে হবে।
  • ৯. প্রতিটি কানেকশনের ঝালাই যেন পরিস্কার আর ড্রাই সোল্ডার মুক্ত হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে।
  • ১০. আইসি বা ট্রানসিস্টরে ব্যবহৃত হীট সিংক পর্যাপ্ত হতে হবে।

হাম বা ভো ভো শব্দ দুর করবার জন্য যা করতে হবে :-

  • ১. কে ডিসি করবার রেক্টিফায়ার ভাল মানের আর উপযুক্ত এম্পের লাগাতে হবে।
  • ২. ফিল্টারিং ের মান কমপক্ষে ১০০০০ মাইক্রোফেরাড হওয়া উচিৎ সেই সাথে মানের ব্যপারে আপোষ করা চলবে না।
  • ৩. কানেকশনের তার মোটা আর ভাল মানের হতে হবে।
  • ৪. ভাল মানের ও উপযুক্ত এম্পের হতে হবে।
  • ৫. হতে এম্প যতটা সম্ভব দুরে স্থাপন করতে হবে।
  • ৬. কানেকশেনর কোন তার যেন ের উপরদিয়ে বা পাশদিয়ে না যায় তা খেয়াল রাখতে হবে।
  • ৭. ের বডিকে রাবার বা প্লাস্টিকের সাহায্যে চেসিস (ক্যাবিনেট) থেকে আলাদা করে রাখতে পারলে ভাল হবে।
  • ৮. সম্ভব হলে এম্প ও প্রি এম্পের জন্য আলাদা ট্রান্সফরমার ব্যবহার করতে হবে।

মোটামুটিভাবে উপরে লিখা মোতাবেক কাজগুলো ভাল ভাবে করতে পারলে একটি ক্রিস্টাল ক্লিয়ার সাউন্ড মেশিন আপনি নিজেই বানাতে পারবেন। তবে কথা থাকে যে এই কাজে কখনই তাড়াহুড়ো করবেন না। আর প্রতিটি কানেকশন কমপক্ষে ৩ বার চেক করবার পর পাওয়ার দিবেন ে। যা জানেন না তা নিয়ে অভিজ্ঞ কারও সহায়তা ছাড়া এক্সপেরিমেন্ট করতে যাবেন না। ইলোক্ট্রোলাইটিক ভুল কানেকশনের ফলে বিস্ফোরিত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বা আপনি মারাত্বক রকমের ব্যদ্যুতিক শক খেতে পারেন। সাধারণ সতর্কতা পালন করতে হবে এবং সেই সাথে আমার লিখা পড়ে কিছু করতে গিয়ে উল্টাপাল্টা করে ফেলেন যদি তবে আমাকে দায়ী করা যাবে না।

পুর্বে এখানে প্রকাশিত: www.muktochintablog.com/blogpost/details/18565

ঘুরে আসুন আমাদের ইলেকট্রনিক্স শপ থেকেঃ
ঘুরে আসুন আমাদের ইলেকট্রনিক্স শপ থেকেঃ
ঘুরে আসুন আমাদের ইলেকট্রনিক্স শপ থেকেঃ
ঘুরে আসুন আমাদের ইলেকট্রনিক্স শপ থেকেঃ

21 টি কমেন্ট

  1. ১২”x২ ইচপিকারের জন্য একটা ডায়াগ্রাম দিলে খুসি হতাম
    বলেরাখা ভালজে অল্প ছাউন্টটে হবি বেজ+টাবল থাকবে

  2. পোষ্টের ৬নং এ লেখা আছে- “পাওয়ার গ্রাউন্ড আর কানেকশন গ্রাউন্ড আলাদা রাখতে হবে” কথাটার অর্থ কি? এ ব্যাপারে পূর্ণ ব্যাখ্যা চাই।

    • অডিও যেদিক দিয় ইনহয় সেতাই এখানে কানেকশন গ্রাউন্ড বুঝিয়েছে। সেটা থেকে পাওয়ার সাপ্লাইয়ের গ্রাউন্ড কে আলাদা রাখতে হবে।

    • Audio ইন এ দুটা কানেকশন তার থাকে। একটা পজেটিভ, অন্যটা নেগেটিভ (গ্রাউন্ড)। এই নেগেটিভ পয়েন্ট অবশ্যই পাওয়ার সাপ্লাই থেকে একটা উপযুক্ত মানের তার দিয়ে কানেক্ট করতে হয়। নয়তো অডিও ইন এ গ্রাউন্ড ফেল (মিস) করবে। আর গ্রাউন্ড ফেল করলে গান আর শুনতে হবে না। 🙂

    • power supply এর সাথে অবশ্যই কানেক্ট থাকবে কিন্তু তা উপযুক্ত ফিল্টারিং এর পরে আর পাওয়ার সাপ্লাই থেকে দূরেঃ)

  3. পোষ্টের হেড লাইন দেখেই আইডিয়া করলাম, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও ডিমান্ডেবল পোষ্ট । ধন্যবাদ

  4. ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর ও সরলভাবে প্রযেক্টগুলোর উপস্থাপন করার জন্য। যা আমি কোনো সাইটে পাইনি।চালিয়ে যান আমাদের সাথে নিয়ে…..

  5. পাওয়ার
    গ্রাউন্ড আর কানেকশন গ্রাউন্ড আলাদা
    রাখতে হবে।
    এটা একটা ডায়াগ্রাম এর সাহায্যে দেখাতে পারবেন?
    আমি ঠিক ভাল ভাবে বুঝতে পারলাম না।

  6. মন্তব্য:
    পাওয়ার
    গ্রাউন্ড আর কানেকশন গ্রাউন্ড আলাদা
    রাখতে হবে।
    এটা একটা ডায়াগ্রাম এর সাহায্যে দেখাতে পারবেন?
    আমি ঠিক ভাল ভাবে বুঝতে পারলাম না।

কমেন্ট প্রদান

Please enter your comment!
Please enter your name here