আসুন প্রথমেই এফ এম ট্রান্সমিটার (FM Transmitter) সার্কিট টি দেখে নেই –
সহজলভ্য ৫৪৭ ট্রানজিস্টর (BC547) আছে ১ টি এবং ভয়েস পিক করবার জন্য একটি কন্ডেন্সার মাইক। এন্টেনা হিসাবে একটি শক্ত তার ১ মিটার দৈর্ঘের স্প্রীংয়ের মত পেচিয়ে ব্যবহার করাই যথেষ্ট হবে। সাপ্লাই ভোল্ট হিসাবে ৩ ভোল্ট যথেষ্ট। ট্রিমারের জায়গায় একটি ১০-১৮ পিএফ মানের ক্যাপাসিটর ফিক্সড হিসাবে ব্যবহার করা যাবে তবে তা যেন অন্য চালু কোন স্টেশনের উপর না হয় তা লক্ষ্য রাখতে হবে। ট্রিমার পুরাতন রেডিও বা যেসব দোকান রেডিও এর পার্টস বিক্রি করে তাদের কাছে পাবেন।
এবার আসা যাক কয়েলের ব্যাপারে। এই কয়েল তৈরী করা নিয়ে সবাই ঝামেলাতে থাকে। এই সার্কিটে একটি কয়েল রয়েছে যা পিসিবি দিয়ে তৈরী করলে বিল্টইন হিসাবে পিসিবিতেই থাকবে। এমনিতে তৈরী করতে চাইলে ১৮-২৪ গেজ তার একটি কলমের উপর ৬ প্যাচ দিলেই হবে এবং এর ৫ প্যাচ পরে একটি প্রান্ত বের করে নিতে হবে।
এফ এম ট্রান্সমিটার পিসিবি কেমন হবে দেখি –
বি. দ্র: ১০০ মিটারের অধিক রেঞ্জের ট্রান্সমিটার ব্যবহার করা আইনত অবৈধ এবং কোন প্রকার বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করাও অবৈধ। এই পোষ্টটি শুধুমাত্র শিক্ষা ও গবেষণা কাজে ব্যবহার করা যাবে।
প্রপেলার ডিসপ্লে হচ্ছে এমন এক ধরনের ডিসপ্লে, যেখানে কোন লেখা বা কোন গ্রাফিক দেখাতে সম্পূর্ণ ডিসপ্লেকে ঘোরাতে হয়। যতক্ষণ ডিসপ্লে ঘুরবে, ততক্ষণই লেখা বা গ্রাফিক দেখা যাবে। নতুবা শুধু গুটি কয়েক এলইডিকেই জ্বলতে দেখা যাবে।
ডিসপ্লে সম্পর্কে কিছু কথা
POV Display এর নাম অনেকেই শুনে থাকবেন। এই POV এর পূর্ণ অর্থ হল Persistence Of Vision . অর্থাৎ দৃষ্টির স্থায়ীত্বতা। বিষয়টা একটু ভেঙ্গে বলি। মানুষের দৃষ্টির স্থায়ীত্বকাল ৬-১০ মিলিসেকেন্ড।
অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে কোন বস্তু আমাদের চোখের সামনে একাধিকবার চলাচল করলে আমাদের মস্তিস্ক সেটাকে একবারই ধরতে পারে। অর্থাৎ মনে হবে বস্তুটি একবারই চলাচল করল।
এই তত্ত্বকে কাজে লাগিয়েই POV Display তৈরী করা হয়েছে। আমরা LED Moving Message Display দেখেছি। এই ডিসপ্লে বিভিন্ন Alphanumeric মেসেজ দেখায় এবং এক পাশ থেকে আরেক পাশে মুভ করে যায়। নিচের মত দেখতে।
Matrix Display – মেট্রিক্স ডিসপ্লে
কিন্তু এখানে অনেক এলইডির প্রয়োজন হয়। এতে একটি অক্ষর প্রদর্শন করতে 7×5 = 35 টা এলইডি প্রয়োজন। এতে খরচও তুলনামূলক বেশি।
কিন্তু এই লেখাই দেখানো সম্ভব শুধুমাত্র ৫ টা এলইডির মাধ্যমে। জ্বি হ্যাঁ, ঠিক দেখেছেন, আমি ৫ টাই লিখেছি।
এই পাঁচটা এলইডিতে আমরা চোখের ধাঁধা (POV – Persistence of vision)কে কাজে লাগিয়ে একটা শব্দ বা বাক্য প্রদর্শন করব।
আসুন এবার জেনে নেই এলইডি ডিসপ্লে গুলো কিভাবে কাজ করে। কিভাবে একটা অক্ষর প্রদর্শন করা হয়। এলইডি ডিসপ্লে গুলো বানাতে নিচের মত করে এলডি সাজাতে হয়।
Fig: 1
ধরুন আমরা ডিসপ্লেতে A অক্ষরটি প্রদর্শন করব। তাহলে নিচের মত করে এলইডি গুলোকে জ্বালাতে হবে।
Fig: 2
কলাম আর রো এর সংখ্যা কমিয়ে দিলে বুঝতে আরো সুবিধা হবে।
Fig: 3
এখন সবগুলো এলইডিকে জ্বালাতে হলে এলইডির পজেটিভ প্রান্তে ব্যাটারীর পজেটিভ আর নেগেটিভ প্রান্তে ব্যাটারীর নেগেটিভ সংযোগ করতে হবে। তাহলে চিন্তা করুন তো কত গুলো পিন লাগবে? জ্বী আপনার হিসাব ঠিক। ১০ এলইডির জন্য ১০ টা পজেটিভ আর সবগুলো নেগেটিভ একখানে করে একটা নেগেটিভ মোট ১১ টা পিন বের হবে!!! তাহলে চিন্তা করেন এরকম অক্ষর যদি ১০০ টা…
এখানে এলইডি গুলোর কানেকশন এমন ভাবে দেয়া হয় যাতে কম সংখ্যক পিন দিয়েই সব এলইডিকে জ্বালানো যায়। এই কানেকশনকে বলা হয় ম্যাট্রিক্স কানেকশন। ম্যাট্রিক্সের অংক করেছেন নিশ্চই। যা হোক এখন ম্যাট্রিক্সের অংক শেখানোর সময় নাই। কানেকশন টা দেখে নেই।
ম্যাট্রিক্স কানেকশন এলইডি কানেকশন
এখানে ৩ টা কলাম আর ৫ টা রো আছে। প্রতিটা কলামের সবগুলো এলইডির পজেটিভ প্রান্তকে একখানে করে একটা প্রান্ত বা পিন বের করা হয়েছে। আবার প্রতিটা রো এর সবগুলো নেগেটিভ একখানে করে একটি প্রান্ত বা পিন বের কর হয়েছে। তাহলে মোট পিন সংখ্যা দাঁড়াল-
কলামের ৩ টা + রো এর ৫ টা = ৮ টা।
এখন শুধু পিন কমিয়ে ৮ টা করলেই হবে না, এটাতে অক্ষরও শো করাতে হবে।
এখন আসুন দেখি এই ৮ পিন কনট্রোল করে কিভাবে অক্ষর প্রদর্শন করা যায়।
Fig: 5 এ লক্ষ্য করুন, A অক্ষর টি প্রদর্শনের জন্য প্রথম কলামের R2 থেকে R5 পর্যন্ত এলইডি জ্বালানো হয়েছে। আবার কলাম ২ এর R1 ও R3 এবং কলাম ৩ এর R2 থেকে R5 পর্যন্ত এলইডি জ্বালানো আছে। এখন কলাম ১ এর R2 থেকে R5 পর্যন্ত এলইডি গুলো জ্বালাতে হলে C1 পিনে পজেটিভ এবং R2 থেকে R5 পর্যন্ত সবগুলো পিনে নেগেটিভ দিতে হবে।
Fig: 5
এরপর C2 তে পজেটিভ এবং R1 ও R3 তে নেগেটিভ দিলে নিচের মত দেখাবে।
Fig: 6
এবং সবশেষে C3 তে পজেটিভ এবং R2 থেকে R5 পর্যন্ত সবগুলোতে নেগেটিভ দিলে নিচের মত দেখাবে।
Fig: 7
চোখের ধাঁধা বা POV ব্যবহার পদ্ধতি
এখন যদি চোখের ধাঁধার প্রক্রিয়াকে কাজে লাগাই তাহলে কি হয় দেখুন। প্রথমে ১ নাম্বার কলাম জ্বালাই। তারপর ২ নাম্বার এবং শেষে ৩ নাম্বার কলাম। এবং এই জ্বলানোর গতি যদি খুব দ্রুত করি তাহলে আমাদের চোখ বুঝতে পারবে না যে প্রতিটা কলাম আলাদা ভাবে জ্বলছে, আমাদের চোখ সম্পূর্ণটাকে একটাই দেখবে। ইলেকট্রনিক্সের ভাষায় একে বলে মাল্টিপ্লেক্সিং (Multiplexing) 😉
কিন্তু দাঁড়ান, আমাদের তো শুধু ৫ টা এলইডি দিয়া অক্ষর প্রদর্শনের কথা ছিল!!!
জ্বী এখন এটা নিয়েই লিখা শুরু করব। POV বোঝার জন্য উপরের বিষয় গুলো জানা জরুরী ছিল। চিন্তা করবেন না, এই লেখা তেমন দীর্ঘ হবে না। যদি উপরের অংশ বুঝে থাকেন। তাহলে এই অংশ অল্প কথাতেই বুঝতে পারবেন।
POV বা প্রপেলার ডিসপ্লে তে এলইডি এর সংযোগ
তো আমাদের কাছে আছে ৫ টা এলইডি। এই এলইডি গুলোকে নিচের মত করে সংযোগ করুন।
Fig: 8
এখন দেখি এই ৫ টা এলইডি দিয়ে কিভাবে আমরা অক্ষর প্রদর্শন করতে পারি?
আগের নিয়ম টা যদি একটু খেয়াল করেন তাহলে হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন যে সময়ের সাথে সাথে আমরা কলামের ইনপুট পরিবর্তন করছি। অর্থাৎ এক কলাম থেকে অন্য কলামে জাম্প করছি কিন্তু প্রতিটা কলামে এলইডির সংখ্যা কিন্তু একই আছে।
১ম এ ৫ টা , এর পরে ৫ টা, তার পরেও ৫টা।
এখন Fig: 8 কে যদি একটা কলাম হিসেবে বিবেচনা করি, এবং যত সময় পর পর Fig: 5, Fig: 6 ও Fig: 7 এর কাজ করেছি অর্থাৎ যত সময় পর পর কলামের ইনপুট পরিবর্তন করেছি, ঠিক তত সময় পর পর যদি Fig: 8 এর মত এলইডি কলামের অবস্থানের পরিবর্তন করি তাহলে কিন্তু বিষয়টা ঠিক একই দাঁড়াবে। নিচের চিত্রটি দেখলে বিষয়টি আরও পরিস্কার হয় যাবে।
Fig: 9
এখানে এলইডি ৫ টাই আছে। শুধু সময়ের সাথে এর অবস্থানের পরিবর্তন করা হয়েছে। এখনে এলইডির নেগেটিভ গুলো সবসময়ই ব্যাটারীর নেগেটিভে লাগানো থাকবে।
এখন ১ম অবস্থানে যদি ২ থেকে ৫ নং এলইডিতে পজেটিভ ভোল্টেজ দেই তাহলে ওই এলইডি গুলো জ্বলে উঠবে।
(ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্সে এই পজেটিভ ভোল্টেজ দেয়াকে বলা হয় লজিক্যাল হাই বা 1. আর যদি লজিক্যাল লো দেয়া হয় তবে সেটা হবে নেগেটিভ বা গ্রাউন্ড বা 0। এই 1 ও 0 এর একাধিক সমন্বয়কে ডাটা বলে)
দ্বিতীয় অবস্থানে ১ ও ৩ নং এলইডিতে হাই দিলে এলইডি জ্বলে উঠবে। আবার ৩য় অবস্থানে ২ থেকে ৫ এ হাই ডাটা দিলে এলইডি গুলো জ্বলে উঠবে। এখন এই কাজকে অনেক দ্রুত করলে অর্থাৎ ডাটা পরিবর্তনের সাথে সাথে এলইডি কলামের অবস্থার পরিবর্তন করলে A অক্ষর টি দেখা যাবে।
এত দ্রুত এই এলইডি গুলোর অবস্থান পরিবর্তন করবেন কিভাবে? কিছুই না, এলইডির কলামটি একটি মোটরে স্থাপন করুন, ব্যাস। ঠিক নিচের ভিডিও টির মত-
প্রপেলার ডিসপ্লে বা POV Displa এর মূল কাঠামো
আশাকরি এই প্রজেক্টের হার্ডওয়্যার সম্পর্কে ধারণা একটু হলেও পরিষ্কার করতে পেরেছি।
(না বুঝলে কমেন্ট অপশন তো চালুই আছে)
এখন প্রশ্ন হল এই লজিক্যাল হাই বা ডাটা গুলোকে এত দ্রুত কিভাবে পরিবর্তন করব। সহজ উত্তর মাইক্রোকন্ট্রোলার এর সাহায্যে। আমরা মাইক্রোকন্ট্রোলার কে প্রোগ্রামের মাধ্যমে বলে দেব কোন অবস্থানে এলইডি গুলোতে কোন ডাটা পাঠাতে হবে।
আজকের ইনস্টলমেন্ট এ পর্যন্তই। পরের ইনস্টলমেন্টে প্রোগ্রাম নিয়ে আলচনা করা হবে। ততক্ষন পর্যন্ত সার্কিটটি বানিয়ে ফেলুন। আর ডিসপ্লের সাথে ঘুরতে থাকুন। 😉
টা টা …
ডিসক্লেইমারঃ এটি মাইক্রোকন্ট্রনার নিয়ে বেসিক আলোচনা। যারা নবীশ বা মাক্রোকন্ট্রলার নিয়ে শুরুর প্রক্রিয়ায় আছেন তাদের কৌতুহোলই এই আলোচনার উপজিব্য। কোন একাডেমিক / প্রফেশনাল বা ক্রিটিকাল আলোচনা বা প্রশ্নোত্তরের প্রত্যাশা সঠিক হবেনা। এখানকার অধিকাংশ আলোচনাই ধার করা (adopted) কোন মৌলিক বা নতুন কোন আলোচনা এখানে নেই। তথ্যগত / ধারনাগত অসংগতি থাকতেই পারে তাই এই আলোচনার ভিত্তিতে কোন প্রজেক্ট দাড়া করানো হলে তার লাভ বা ক্ষতির দায় দায়িত্ব লেখকের নয়। সঠিকতার ভিত্তিতে ধারনা/তথ্য দ্রুততম সময়ে সংশোধন করা হবে।
পূর্বাভিজ্ঞতাঃ
এই লেখার পাঠকদের নিচের বিষয়ে পূর্বাভিজ্ঞতা আছে বলে ধরে নেয়া হয়েছে। এই সকল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এই লেখার আওতা বহির্ভূত তবে প্রয়োজনে কিছু বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
মাইক্রোকন্ট্রলারের সংঙ্গা, নামকরন, ইতিহাস, আর্কিটেকচার ইত্যাদি বিষয় ইচ্ছা করলে অবতারনা করা যায় কিন্তু ঐদিকে না গিয়ে প্রাসংগিক কিছু জিনিস যা না জানলেই নয় তা এখানে আলোচনা করা হলো
২। CPU (=Central Processing Unit, যাকে আমরা শুধু প্রসেসরও বলি) আর MCU এর পার্থক্য কি? কোনটি ভাল ?
CPU হলো কম্পিউটারের সাব সিস্টেম (অংশ বিশেষ) যার শুধু প্রসেসিংপাওয়ার আছে (ব্রেন ) কিন্তু ইনপুট (ইন্দ্রিয়) আওটপুট (সাড়া)-এর জন্য অন্য সাব সিস্টেমের উপর নির্ভর করে। কিন্ত MCU নিজেই একটি সম্পুর্ন সিস্টেম যার ভিতরে CPU ও অন্যান্য ইনপুট আউটপুট সিস্টেম বিল্টইন থাকে।
যার যার ক্ষেত্রে সেই রাজা। সাধারন (Generic) সমস্যায় যে খানে প্রচুর রিসোর্স (পাওয়ার, মেমরী, দ্রুততা) লাগে সেখানে CPU বেসড ফুল কম্পিউটার আর যেখানে সুনির্দিষ্ট কাজে অল্প রিসোর্স লাগে সেখানে MCU-ই যথেষ্ঠ।
৩। কিকি MCU আছে? এদের পার্থক্য কি?
প্রচুর MCU আছে। এখানে বিস্তারিত আছেঃ https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_common_microcontrollers। তবে ৮ বিট বিশিষ্ট Microchip
এর PIC, Atmel এর AVR মাইক্রো কন্ট্রোলারগুলি হবিষ্টদের মধ্যে বেশী জনপ্রিয়। ৩২ বিট ARM এর ডিজাইন বেজড মাইক্রোকন্ট্রলারও জনপ্রিয়।
আভ্যন্তরিন গঠন বা আর্কিটেকচারে পার্থক্য হয় উদ্দ্যেশের উপর ভিত্তি করে। কোনটির মেমরী কম/বেশী, CPU কোর ভিন্ন ও গতি (MHz) কম বেশী, রেজিষ্টার কম বেশী।
৪। কোন মাইক্রোকন্ট্রলার ব্যাবহার সহজ/ভালো/সুবিধা
এটা অনেকটা PC না Mac। Android না IPhone টাইপের প্রশ্ন। এর ক্লিয়ার কাট উত্তর নাই। যে যেটায় স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। কারন আভ্যন্তরিন আর্কিটেকচার ভিন্ন হলেও একই রকম আউটপুট তৈরী করতে পারে।
৫। ৮ বিট, ১৬ বিট, ৩২ বিট (বা ৬৪ বিট) ইত্যাদি কি?
এর সংক্ষিপ্ত উত্তর এভাবে দেয়া যায় যে, বিট হচ্ছে রেজিষ্ট্রারের পরিমাপক। বিট যত বেশী রেজিষ্টার তত বড় তাতে এবং তত বেশী মেমোরী সংযুক্ত করা যায়। ক্লক স্পিডে বেশী ইনস্ট্রাকশন সম্পন্ন করা যায় ফলে প্রসেসিং দ্রুততর হয়। কিন্তু পাওয়ার খরচ বাড়ে সার্কিটের জটিলতা বৃদ্ধি পায় ফলত খরচও বাড়ে। ছোট খাট কাজে যেমন, এল ই ডি জ্বালানো নিভানো, মটরের স্পিড কন্ট্রলে বা ডিজিটাল ঘড়িতে খুব বেশি স্পিড না হলেউ চলে তাই ৮ বিট প্রসেসরই যথেষ্ঠ। কিন্তু হেভি গ্রাফিক্স ম্যানিপুলেশন বা গেম খেলার ক্ষেত্রে প্রচুর স্পিডের ও অনেক প্রসেসিংপাওয়ার দরকার হয়। সেক্ষেত্রে ৩২ বা ৬৪ বিট মাইক্রোকন্ট্রলার বিশেষ প্রয়োজন।
Arduino আসলে নিজে কোন মাইক্রো কন্ট্রলার না। Arduino আসলে একটা ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বা মাদার বোর্ড) যাতে AVR বেসড মাইক্রোকন্ট্রলার ব্যাবহার করা হয়। যেমনঃ ATmega328
৭। রাসবেরি পাই/ব্যানানা ইত্যাদি কি মাইক্রোকন্ট্রলারঃ
না। এই গুলি মাইক্রোপ্রসেসর বেসড কম্পিউটার সিস্টেম। যারা পিসি/ম্যক-এর মতো অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা পরিচালিত হয় ও প্রোগ্রাম এক্সিকিউট করে।
বাজারে এখন এলইডি নামে নতুন টিভি ও মনিটর এসেছে। পুরাতন এলসিডির সাথে এর পার্থক্য আসলে কোথায় ?বাহির থেকে দেখতে ত তেমন পার্থক্য চোখে পড়ে না !!! আসুন দেখি মুল পার্থক্য কোথায় –
এলসিডি বা লিকুইড ক্রিষ্টাল ডিসপ্লে –
এটা মুলত একটি সমান ধরণের ডিসপ্লে (Flat Type) যার ভিতর দিয়ে আলো প্রবাহিত হতে পারে বা আলোকে বাধা প্রদান করতে পারে। এই আলো প্রবেশ বা বাধা প্রদানের বিষয়টি কাজে লাগিয়ে এটি তৈরী করা হয়। এর মাধ্যমে যে ছবি হয় তা উজ্জ্বল করতে পিছনে সাধারণত আলোর ব্যবস্থা থাকে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা এল ই ডি।
১০. এল ই ডি ডিসপ্লে এল সি ডি ডিসপ্লের তুলনায় সাইজে বড় করে তৈরী করা সম্ভব
উপরে আমরা যা বললাম তা থেকে কি মনে হয়েছে আপনাদের? এল ই ডি ও এল সি ডি দুটো আলাদা জিনিস? মজাটা আসলে এখানেই – আসলে হলো এলসিডি এর পিছনে আলো দিতে যখন এল ই ডি ব্যবহার করা হয় তখন তা এল ই ডি ডিসপ্লেই হয় আর যখন আলো দিতে অন্য আলোক উৎস (সাধারণত এনার্জী বাল্ব টাইপ) ব্যবহার করা হয় তখন তা এল সি ডি নামে থাকে।
বাজারে গিয়ে আর বিভ্রান্ত না হয়ে তাই আসুন স্ক্রীনের রেজুলেশনের দিকে মনোযোগ দেই। রেজুলেশন যত বেশী হবে ততবেশী উজ্জ্বল ছবি পাবেন কারণ এখনকার সব ডিসপ্লেতেই আসলে এল ই ডি টেকনোলজী ব্যবহার করা হয়।সেই সাথে এল ই ডি ফুল এ্যরে না সাইড এ্যরে সেটা জেনে নিন – ফুল এ্যরে টিতে বেশী উজ্জ্বল ছবি পাবেন। আর কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট অংশ খোলা আছে।
পুলিশের গাড়িতে বা এম্বুলেন্সে তোমরা অল্টারনেট করে বাতি ফ্লাশিং দেখেছ বোধ হয়। কিংবা খেলনা গাড়িতে বাতিগুলা একটা নিভেতো আরেকটা জ্বলে এমন দেখেছ নিশ্চই। আমরা এই ধরনের একটা ফ্লাশার সার্কিট বানাব লেড দিয়ে। আসলে প্রজেক্টটা একটা নিজেই মজার সার্কিট দিয়ে তৈরী কিন্তু এই সার্কিট থেকে অনেক বড় একটা থিউরিটক্যাল বেস তৈরীর আশা করছি। এই সার্কিট দিয়ে আসলে আমরা ভবিষ্যতে অসিলেটর সার্কিটের হাতে খড়ি দিব। অসিলেটর সার্কিট একটি অতি গুরুত্বপূর্ন সার্কিট। যা দিয়ে ডিসি থেকে এসি, ডিজিটাল ঘড়ি, রেডিও তৈরী, বা অনেক মজার আর সিরিয়াস এনালগ বা ডিজিটালসার্কিট তৈরি করা যায়।
মূল সার্কিট বুঝার আগে আমরা একটু RC টাইমিং নিয়ে আলোকপাত করব। আবার RC টাইমিং বুঝতে ক্যাপাসিটরের ধর্ম নিয়ে হালকা আলোচনা করব। ক্যাপাসিটর এক অর্থে একটি টাইমিং ডিভাইস হিসাবে কাজ করে। ক্যাপাসিটরে ভোল্টেজ দিলে ক্যাপাসিটরের ক্ষমতা অনুযায়ী (ক্যাপাসিটেন্স, ফ্যারাডে এই ক্ষমতা মাপা হয়, যত বেশি ফ্যারাড তত বেশী ক্ষমতা আর চার্জ হতে তত বেশী সময় নেয়) পরিপূর্ন চার্জ হবার আগ পর্যন্ত সার্কিট থেকে চার্জ গ্রহন করে এবং ক্ষমতা অনুযায়ী কিছু সময় পর চার্জ পূর্ন হয়ে গেলে তার দুই প্রান্তের ভোল্টেজ সাপ্লাই ভোল্টেজের সমান হয় এবং সে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। কিন্তু যদি সার্কিটে ভোল্টেজ ড্রপ করে (রেজিষ্ট্যান্স বা এসির প্রভাবে) তবে সে তার চার্জ ছাড়তে শুরু করে যতক্ষননা তার দুই প্রান্তের ভোল্টেজ সার্কিটের ভোল্টেজ ড্রপের সমান হয়। এই চার্জ ছাড়তেও কিছু সময় নেয়। এই চার্জ হতে যে সময় লাগে আর ছাড়তে যে সময় লাগে এটিই টাইমিং পালস তৈরী করে।
নিচের সার্কিটটি লক্ষ্য কর। ধরা যাক ১.৫ ভোল্টের একটা একটা ব্যাটারি একটা ক্যাপাসিটর আর বাল্বের সাথে চিত্রের মতো লাগানো হয়েছে। এই অবস্থায় একদিকে বাল্ব জ্বলতে শুরু করবে আর ক্যাপাসিটর চার্জ হতে শুরু করবে। ক্যাপাসিটর যত চার্জ হতে শুরু করবে তার + প্লেটের পজেটিভ চার্জ আর – প্লেটে নেগেটিভ চার্জ জমা হতে থাকে। এই চার্জই আবার নতুন করে সমজাতীয় চার্জকে প্লেটে আসতে বাধা দিতে থাকে কিন্তু ব্যাটারির ভোল্টেজের কারনে সেই বাধা পর্যদুস্ত হয়। কিন্ত চার্জ জমতে জমতে ক্যাপাসিটরের ভোল্টেজও বাড়তে থাকে এক পর্যায়ে তা ব্যাটারীর সমান ভোল্টেজে (১.৫ ভোল্ট) উপনিত হয়। এই সময় সে ব্যাটারীর সাথে সেয়ানে সেয়ানে ফাইট দেয় অর্থাৎ বিদ্যুৎ প্রবাহ থামিয়ে দেয়, কারন যেন ক্যাপাসিটরটি উলটা চার্জের ব্যাটারীতে পরিনত হয় (-১.৫ ভোল্ট)। তাই প্রথমে বাল্বটি ভালোভাবে জ্বলতে থাকলেও ক্যাপাসিটর যত চার্জ হয় ততই ডিম হতে হতে একবার নিভেই যায় (ক্যাপাসিটর ফুল চার্জ)।
এই বার যদি আমরা ব্যাটারীটাকে খুলে ফেলি এবং ব্যাটারী যেখানে ছিল সেই দুইপ্রান্ত জোড়া দিয়ে দেই তবে এই বার ফুল চার্জড ক্যাপাসিটর থেকে (উলটা ব্যাটারী) আগের কারেন্ট যে দিকে যেত ( আসল ব্যাটারির + থেকে –এর দিকে) তার উলটা দিকে প্রবাহিত হয়। এবারে ক্যাপাসিটরের চার্জ ফুল থেকে ধীরে ধীরে শুন্য হতে থাকে। ফলে বাল্বের উজ্বলতা প্রথমে বেশী থকে পরে একেবারে নিভে যায় (ক্যাপাসিটর ফুল ডিসচার্জ)। এই পেজে সুন্দর একটা ফ্ল্যাশ এনিমেশন সাথে থিউরি আছে দেখতে পারঃ (http://www.learnabout-electronics.org/ac_theory/capacitors02.php)
এখন এই ক্যাপাসিটর কতক্ষনে চার্জ হবে বা ডিসচার্জ হবে তা দুইটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে
১। ক্যাপাসিটরের ক্ষমতা (ক্যাপাসিটেন্স C, যার একক ফ্যারাড)
২। সার্কিটের রোধ (রেসিষ্ট্যান্স R যার একক ওহম, যা চার্জের চলাচলে বাধা দেয়। যত বেশী রেসিষ্ট্যান্স তত চার্জ চলাচলে বাধা, তত বেশী সময় লাগে চার্জ বা ডিসচার্জ হতে)
তাই R, C এর গুন ফল RC কে টাইম কনস্ট্যান্ট বলে। এই গুনফল R এর কারনেই হোক বা C এর কারনে হোক অথবা এই দুইয়ের কারনেই হোক যত বড় বা ছোট হবে ক্যাপাসিটিভ সার্কিটে তত বেশী বা কম সময় লাগবে ক্যাপাসিটর চার্জ হয়ে সার্কিটের প্রবাহ বন্ধ বা চালু হতে।
আমরা যদি ঐ ক্যাপাসিটরকে ক্রমাগত চার্জ ডিসচার্জ চক্রে ফেলতে পারি তবে আমরা ডিসি সার্কিট থেকেই এমন একটা অন/অফ পালস তৈরী হবে যা লেডকে অন অফ করতে পারব। তাই রেজিষ্ট্যান্স ও ক্যাপাসিটর ছাড়াও একটি সুইচিং ডিভাইস লাগবে যা ক্যাপাসিটর চার্জড হলেই ক্রমাগত শর্ট সার্কিট করে দিবে (ব্যাটারি খুলে আমরা দুই প্রান্ত জোড়া দিয়ে যে কাজ করেছি) আর ডিসচার্জ হলেই ওপেন সার্কিট করে দিবে যাতে ক্যাপাসিটর আবার চার্জড হতে পারে। এই সুইচিং (শর্ট সার্কিট/ ওপেন সার্কিট) আমরা ট্রাঞ্জিষ্টর দিয়ে খুব এফিশিয়েন্টলি করতে পারি। ট্রাঞ্জিষ্টর বেস ফরোয়ার্ড বায়াসে অন বা শর্ট হয় আর রিভার্স বায়াসে অফ বা ওপেন হয়ে যায়।
নিচের চিত্রের সার্কিটটি লক্ষ্য করিঃ
(এই সার্কিটের সাথে এর আগে প্রজেক্ট-৫ঃ ফ্লিপ-ফ্লপ তৈরী এর এক পুশ বাটন দুই লেড সার্কিটের তুলনা করে দেখতে পার। দেখবে যে এরা প্রায় একই। কিছুটা কানেকশন কিছুটা অদল বদল আর পুশ বাটনটি বাদ দেয়া হয়েছে। আগে যে কাজটি ম্যানুয়ালি বা টিপে টিপে করা হতো এখন ক্যাপাসিটর নিজেই সেই কাজটি করে।)
এই খানে দুইটি করে ক্যাপাসিটর, ট্রাঞ্জিষ্টর, আর লেড দিয়ে একটি সার্কিট তৈরী করা হয়েছে দৃষ্টি নন্দন করার উদ্দেশ্যে। এখানে লেড দুটির রঙ ভিন্ন করলে আরো ভালো হয়। এই সার্কিটের জোড়ায় জোড়ায় যে পার্টস ব্যাবহার করা হয়েছে তা একটি আরেকটির রেটিং সমতুল্য। কিন্তু বাস্তবে হুবুহু একই সমতুল পার্টস তৈরী করা যায় না। অন্তর্নিহিত কারনেই রেটিং একই থাকার পরও একই রেটিং এর দুটি পার্টসে কিছু ভিন্নতা থাকে। এখন যদি এই সার্কিটিকে চালু করলে কি হতে পারে? একটু বিশ্লেষন করে দেখা যাকঃ
প্রথম পর্যায়ঃ ধরাযাক সুইচ অন করার সাথে সাথে ডান পাশের ট্রাঞ্জিষ্টার, ডান রেসিষ্টোরের দ্বারা পজেটিভ বায়াস পেয়ে অন হয়ে যায় এবং ডান পাশের লেড জ্বলতে শুরু করে। ডানের ট্রাঞ্জিষ্টারটি এখানে শর্ট সার্কিটের মতো আচরন করায় ডানের ট্রাঞ্জিষ্টরে কোন চার্জ থাকেনা, কিন্ত ইত্যাবসরে বামের ট্রাঞ্জিষ্টারটি ওপেন সার্কিটে চার্জ হতে থাকে। যতই বামের ক্যাপাসিটর চার্জ হয়। তার নেগেটিভ প্লেটে যুক্ত ডানের ট্রাঞ্জিষ্টারের বেস, ততই বায়াস হারিয়ে একসময় ডান পাশের ট্রাঞ্জিষ্টারকে বন্ধ করে দেয় (0.69RT সেকেন্ড পরে)।
দ্বিতীয় পর্যায়ঃ ডানের ট্রাঞ্জিষ্টার বন্ধ হলে কারেন্ট বামের ট্রাঞ্জিষ্টরে প্রবাহিত হতে থাকে। ডানের ক্যাপাসিটর ইত্যাবসরে ওপেন সার্কিটে চার্জ হতে থাকে। কিন্ত চার্জ হতে থাকলে সেও আগের মতো করে বাম পাশের ট্রাঞ্জিষ্টারকে নির্দিষ্ট সময় পর (0.69RT সেকেন্ড পরে)অফ করে দেয়। এই ভাবে তৃতীয়, চতুর্থ ….. চলতেই থাকে যতক্ষন সার্কিটে বিদ্যুৎ প্রবাহ থাকে।
এখন এক্যটা লেড কতক্ষন জ্বলে ? এটি নির্ভর করে RC টাইম কনষ্ট্যান্টের উপর। যেমন পরিক্ষায় দেখা যায় এক একটা ট্রাঞ্জিষ্টর 0.69xRC সেকেণ্ড পরে অফ হয়ে যায়। তাহলে যদি ট্রাঞ্জিষ্টার অন-অফ টাইমিংকে এভাবে লেখা যায়ঃ
t1 = 0.69xRC (বামের ট্রাঞ্জিষ্টর)
t2 = 0.69xRC (ডানের ট্রাঞ্জিষ্টর)
এখন দুই টাঞ্জিষ্টর মিলে যে অফ-অন হয় একে পুর্ন একটা চক্র ধরলে পূর্ন টাইমিং সমীকরন নিচের মত হয়ঃ
T = t1+t2 = 1.38 RC
চিত্রানুসারে আমাদের ক্যাপাসিটর আর রেসিষ্টরের মান বসালে আমাদের টাইমিং আসে
T = 1.38 X (100×10^3) X (10 x10 ^ -6)
= 1.38 সেকেন্ড
আমরা জানি হার্জে ফ্রিকোয়েন্সি f= 1/T = 1/1.38= 0.72 হার্জ।
এখানে আমরা ধরে নিয়েছি t1 = t2, যেহেতু দুই জোড়া R,C অনুরূপ। কিন্তু তা যে হতেই হবে এমন নয়। আমরা ভিন্ন ভিন্ন মানের R, C নিলে t1 ও t2। ভিন্ন হবে। নিচের চিত্র উপরের অংশে t1 = t2 দিয়ে পালস দেখানো হয়েছে। নিচের অংশে t2>t1 দিয়ে দেখানো হয়েছে।
যেহেতু ১ হার্জ মানে সেকেন্ডে একবার পালস তৈরী হওয়া, তাই উপযুক্ত RC নির্বাচনে আমরা হয়তো ১ হার্জের একটা পালস তৈরী করে একটা ডিজিটাল ঘড়ির কাছাকাছি পালস তৈরি করতে পারব ( এক্সাক্ট ১ হার্জ পালস বেশ কঠিন কাজ)। আবার আমরা যদি ৫০ হার্জের একটা পালস তৈরী করতে পারি তবে হয়তো একটা ইনভার্টারও বানানো যায় যা দিয়ে বাসাবাড়ির এসি তৈরী করা সম্ভব।
নিচে ৫৫৫ আইসি আর ক্যাপাসিটর দিয়ে সহজে কিভাবে দুইটি লেড অল্টারনেটিভ ভাবে ফ্ল্যাশ করানো যায় তাই দেখানো হয়েছে। এখানে আমরা ভ্যারিয়েবল ১০০ কে রেসিষ্টর ব্যাবহার করেছি যাতে আমরা এর মান পরিবর্তন করে বা টাইম কনষ্টান্ট পরিবর্তন করে ফ্লাশের টাইমিং পরিবর্তন করতে পারি।
৫৫৫ আইসি কে কেন টাইমার আইসি বলা হয় সম্ভবত এখান থেকে তোমরা বুঝতে পারবে। ক্যাপাসিটর ও রেসিষ্টরের সাহায্যে এই আইসি দিয়ে টাইমিং পালস তৈরী করা যায়। সাধারনত এই পালস গুলি স্কয়ার ওয়েভ (অন-অফ-অন-অফ) হয়। তবে একটি মডিফাই করলেই আমরা সাইন ওয়েভ, স-টুথ ওয়েভ তৈরী করতে পারি। আসলে এই সিম্পল ফ্লাশিং ছাড়াও বুদ্ধি খাটিয়ে আরো কিছু কম্পোনেন্টের (ডিজিটাল/এনালগ) সহায়তায় অনেক জটিল জটিল ফ্লাশিং বা টাইমিং তৈরি করা যায়। নেটে এধরনের প্রচুর উদাহরন পাবে।
ইউটিউবে গেলে এই ৫৫৫ আইসি দিয়ে প্রচুর ফ্লাশিং লেডের উদাহরন দেখতে পাবে।
ভোল্ট মিটার এর প্রয়জনীতার কথা বলে শেষ করা যাবেনা, আর যদি তা হয় ডিজিটালভোল্ট মিটার, হবিস্ট দের কাছে তো এর বিকল্প ভাবাই যায়না, কোন প্রজেস্ট এর ইনপুট পাওয়ার সাপ্লাই এর জন্য যারা ভেরিয়েবল পাওয়ার সাপ্লাই ব্যাবহার করেন তাদের কাছে এটা সোনায় সোহাগা। একটা ভোল্ট মিটার থাকলে আপনি অনায়াসে লোডের ইনপুট ভোল্ট কে সেট করে নিতে পারবেন। যাহ আপনার ডিভাইজ এর কাজ করার এ্যাকুরিসি বাড়িয়ে দেয়। এবং প্রজেক্ট এর নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচিয়ে দেয়। এটা তৈরির জন্য দুই ধরনের ডিভাইস ব্যাবহার করা যায় , ডিজিটাল আইসি বেজ ও মাইক্রোকন্ট্রোলার বেজ। মাইক্রোকন্ট্রোলার বেজ নিয়ে আমরা এই প্রজেক্ট বানবো কেননা এই মাইক্রোকন্ট্রোলার বেজ সিস্টেম সুবিধাজনক। যেমন খরচ কম হয়, জটিলতা কম সার্কিট ছোট। ডিজিটাল আইসি টি মনে হয় ৩০০-৫০০ টাকার মত স্টেডিয়াম মার্কেট-এ
প্রজেক্ট প্রজেক্ট টি PIC 16F676 মাইক্রোকন্ট্রোলার দিয়ে বানাব । ইনপুট ভোল্ট মেজর করে MCU(মাইক্রোকন্ট্রোলার) এর internal adc কনভার্টার ও রেজিস্টারের নেট ওয়ার্ক। adc কনভার্টার ও রেজিস্টারের নেট ওয়ার্ক ভোল্টেজ কে বিভাজিত করে ইনপুট ভোল্ট পরিমাপ করে। আর যাহা ডিজিটাল আকারে ৩ টি ৭ সিগমেন্ট ডিসপ্লে তে প্রদর্সিত হয়। ডানের ডিজিট টা দশমিক এবং বামের দুইটা পূর্ন মান দেখায়। ডিভাইস টি চালনা করার জন্য ভোল্টেজরেগুলেটর 7805 IC ও ফিল্টারিং
ক্যাপাসিটর ব্যাবহার হয়েছে , ৭ সিগমেন্ট কে ড্রাইভ করার জন্য ব্যাবহার করা হয় ৩ টি ট্রানজিস্টার ১০ টি রেজিস্টেন্স। একটি ভেরিয়েবল যাহা ভোল্ট কে এডজাস্ট করার জন্য । এছাড়া 5.1 যেনার ডায়ড ব্যাবহার হয়েছে যাতে MCU এর ইনপুট পরিমাপের ভোল্ট ৫ ভোল্ট এর উপর না যায়।
পিসিবিঃ
বানাতে ১৪০/- থেকে যায়গা ভেদে ১৮০/- হতে পারে।
প্রজেক্ট টি বানানোর সুবিধার্থে নিচে সংযুক্ত ফাইল (PCB PDF layout and Proteus file) দেওয়া হল।
কোর ভাল মানের হতে হবে। কোন নষ্ট ট্রান্সফরমার বা নতুন কোর নিতে পারেন। কোর কে ভাল করে পাতলা টেপ দিয়ে পেচিয়ে নিন। এবার দুই পাশে ০.৫ সেমি পরিমান জায়গা রেখে তার পেচিয়ে নিন। তাড়াহুড়ো না করে আস্তে আস্তে সুন্দর করে পেচাবেন। তারের দুই প্রান্ত ভাল করে আটকাবেন এবং সম্পুর্ণ কোর টি টেপ দিয়ে পেচিয়ে নেবেন। কানেকশন দেবার জন্য দুই প্রান্ত প্রয়োজনমত রাখবেন।
মিডরেঞ্জের জন্য:
৫ মিমি – ৫ মিমি — ৩.৫ সেমি সাইজের ট্রান্সফরমারের আই কোর
বাজারে এই প্যাসিভ ক্রসওভার পাওয়া যায় যার দাম ৮০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা। এই ক্রসওভার টি বানাতে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা লাগতে পারে। ১০ মাইক্রোফেরাড ননপোলার ক্যাপাসিটর না পেলে দুটি ২২ মাইক্রোফেরাডের ইলেকট্রোলাইট ক্যাপাসিটর এর নেগেটিভ প্রান্ত জোড়া দিলেই হয়ে যাবে। তাতে করে খরচও পরবে কম।
অডিও এমপ্লিফায়ারের আউটপুটে লাগানোর জন্য এই প্যাসিভ ক্রসওভার যা স্পীকারের ধরণ অনুযায়ী অডিও ফ্রিকোয়েন্সীকে আলাদা করে তাতে সিগন্যাল দিবে। এতে করে আউটপুটের শব্দ আরও শ্রুতিমধুর এবং স্পীকারের কর্মক্ষমতা ভাল হবে।
আমাদের অনেক প্রজেক্ট এ রেগুলেটেড পাওয়ার সাপ্লাই প্রয়োজন হবে। এই প্রয়োজনের হয় কারণ অনেক সার্কিটে স্টেবল বা স্থির ভোল্টের প্রয়োজন। সার্কিট কে সঠিক ভাবে কাজ করবার জন্য। বিশেষ করে অপারেশনাল এম্প জাতীয় আইসি নির্ভর প্রজেক্টগুলোর জন্য এটা বাধ্যতামুলক। সেই সাথে ব্যাটারী অপারেটেড কোন সার্কিট আমরা যদি নির্দিষ্ট ভোল্টে চালাতে চাই তবে সেখানেও রেগুলেটেড পাওয়ার সাপ্লাই দরকার হবে।
এটা একটি ব্যাসিক সার্কিট। এর মাঝে একটি আইসি দেখা যাচ্ছে। আমাদের ভোল্টেজ রেগুলেশনের প্রাণ হলো এই আইসিটি। এর তিনটি পা আছে। ১ম পা টি ইনপুট, ২য় পা টি গ্রাউন্ড আর ৩য় পা টি আউটপুট হিসাবে কাজ করে। আমাদের যত ভোল্টের দরকার হবে সেই ভোল্ট অনুযায়ী আমাদের আইসির মান নির্ধারণ করতে হবে। বাজারে এই আইসি সহজলভ্য এবং ১০-১৫ টাকার মাঝে পাওয়া যায়। এই আইসি থেকে সর্বোচ্চ ১ এম্পিয়ার বিদ্যুত পাওয়া যাবে। ভালো ভাবে কাজ করবার জন্য এর সাথে একটি হীট সিংক লাগাতে হবে। হীট সিংক লাগানোর জন্য এর গায়ে যে ছিদ্র আছে তাতে একটি এলুমিনিয়ামের পাত আটকে দিতে হবে নাট বোল্ট দিয়ে।
বাজারে এটি ৫, ৬, ১২, ১৫ ইত্যাদি মানে পাওয়া যায়। সাধারণ ভাবে এর নম্বর হয় LM78xx টাইপ। এই xx ভ্যালুর মান যত হবে এই আইসি দিয়ে ততভোল্টের রেগুলেটেড আউটপুট পাওয়া যাবে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় যদি আমরা ৫ ভোল্ট চাই তবে 7805 মানের আইসি লাগবে, আবার যদি ১২ ভোল্ট চাই তবে 7812 মানের আইসি লাগবে।
সার্কিটের মাঝে ক্যাপাসিটরগুলো মুলত ফিল্টারিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। খুব বেশী সফস্টিকেটেড বা সংবেদনশীল সার্কিট না হলে এইগুলোর তেমন প্রয়োজন নেই। কোন অবস্থায় ২০ ভোল্টের বেশী ইনপুটে দেওয়া যাবে না, দিলে আইসি নষ্ট হয়ে যাবে। ডাটা শীটে ২৫ ভোল্ট লিখা থাকতে পারে তবে আমাদের এখানে যে মানের পার্টস পাওয়া যায় সেটা বিবেচনা করে ২০ ভোল্টের বেশী ব্যবহার না করাই ভালো হবে ইনপুটে।
কোন জিজ্ঞাসা থাকলে কমেন্ট অংশ খোলা রইল বা ফেসবুকের মাধ্যমেও কমেন্ট করে আপনার প্রশ্নের উত্তর জেনে নিতে পারবেন।
কেমন হয় যদি দূরে বসে শুধু মোবাইল ফোনের মিস কল দিয়ে কোন যন্ত্র চালু/বন্ধ করা যায়? মজার হয় তাই না? আজকে সহজ কিন্তু দারুণ ইলেকট্রনিক বিজ্ঞান প্রজেক্টে আমরা সেটাই শিখব।
তোমরা ভাবছ, জটিল জটিল সব সার্কিট বোধয় এতে লাগবে! নাহ খুব সিম্পল ভাবে এটি করা সম্ভব। কারন সবচেয়ে জটিল জিনিস যা হলো একটি মোবাইল সেট, তা আমাদের হাতের কাছেই এখন সহজ লভ্য। হয়ত পুরান একটি সেট অবহেলায় ঘরের কোনেই পড়ে আছে। সেই অবহেলার জিনিসটাই আজকের মুল্যবান বস্তু।
মোবাইল সেট ছাড়াও লাগবে একটা লাইটসেন্সর (আগে করেছি)।
প্রথমে মোবাই ফোনটাকে প্রয়োজন মতো প্রস্তুত করে নিতে হবে এই প্রজেক্টের জন্য। তোমরা জানো যে মোবাইলে কল আসলে রিং বাজে আর কি পরিবর্তন ঘটে? ডিসপ্লেটি জ্বলে উঠে। কোন কোন ক্ষেত্রে ভাইব্রেশন হয়। এই তিন ভাবে মোবাইল আমাদের জানায় যে একটি কল এসেছে।
আমরা তিনটি পদ্ধতিকেই আমাদের কাজে লাগাতে পারি। তবে ভাইব্রেশন আর রিং দিয়ে আমরা কাজ করবো না। কারন প্রসেসটি একটু জটিল।
রিংগার দিয়ে অবশ্য অনেক বেশী ফাংশন যুক্ত করা সম্ভব (যেমন আলাদা আলাদা নাম্বারের জন্য আলাদা রিংটোন এবং এথেকে আলাদা কমান্ড) কিন্তু এতে সার্কিট জটিল হবে।
আমরা সহজ সরল রাখবার খাতিরে শুধু অন/অফ করবো খুবই সহজ ভাবে। আমরা ডিসপ্লের আলোটাকে ব্যাবহার করব।
আমরা জানি অন্ধকারে LDR এর রোধ অনেক বেশী থাকে আলোতে রোধ কমে যায়। এখন একটা অন্ধকার বাক্সে একটা মোবাইল আর তার ডিসপ্লের সরাসরি একটা LDR মুখামুখি রাখলে কি হবে? যখনি কল আসবে LDR এ আলো পরবে আর রোধ কমে যাবে তাই না।
প্রথম ছবিতে এই ধারনাটি দেখানো হয়েছে। একটি আলো বিরুধি বাক্সে (কাঠ/ষ্টিল/ মোটা কার্টুন) একটি সিম সহ মোবাইল সেট রাখা হয় একটি এল ডি আর ওর ভিতর দিয়ে মাল্টিমিটার কানেকশন দেয়া হল। এখন ঐ মোবাইলে কল দিয়ে মাল্টিমিটার রিডিং দেখি। যদি দেখি রোধ কমে গেছে তবে এই সেটাপে আমাদের সার্কিট তৈরী করা যাবে।
L
এবার একটা সিংগেল পুশ বাটন বাই ষ্টেবল ফফ সার্কিট তৈরী করি (আগে করা হয়েছে) তবে পুশ বাটনের পরিবর্তে এল ডি আর এর দুই পা থেকে পুশ বাটন লাগানোর দুই প্রান্তে লাগাই (২য় চিত্র)। এবার আবার কল দেই। একবার কলে যদি পুশ অন, আরেকবার কলে যদি পুশ অফের মতো আচরন করে তবে সার্থক এটি দিয়েই কাজ হবে।
চিত্রে LDR কে মোবাইল ডিসপ্লের উপর স্থাপন করা হচ্ছে। অবশ্যই একটি বক্সের মধ্যে যাতে আশেপাশের আলো না পড়ে।
কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে আমাদের বেসিক সেটাপ বিভ্রান্তিকর রেজাল্ট দিতে পারে। তাই আমরা চুড়ান্ত ভাবে কার্যকর সিস্টেম করতে একটি লাইটসেন্সর বানাই (আগে করা হয়েছে)। যাতে আলো পাওয়া মাত্রই সার্কিট অন আর অন্ধকারে অফ হয়ে যায়। এবার ৩য় চিত্রানুযায়ী সিস্টেম সেটাপ করি। কল দেই, আশা করি এবার কল পাবার সাথে সাথে কাংখিত রেজাল্ট পাওয়া যাবে। মোবাইলে একটি চার্জার যুক্ত করে রাখলে ২৪ ঘন্টা ৭ দিনই কাজ করবে।
দ্রষ্টব্যঃ
# নতুন বা অপরিচিত সিম নিলে ভাল হয়। যাতে ঐ নাম্বারে তুমি নিজে ছাড়া আর কেউ কল করবেনা।
# উপদ্রব এড়াতে কলব্লক + মেসেজ ব্লক সিস্টেম যুক্ত মোবাইল হলে ভাল হবে । যেটাতে হোয়াইট আর ব্ল্যাক লিষ্ট করা যায় তা সবচেয়ে ভাল (অনেক কমদামী চায়না মোবাইলেই আছে আর এন্ড্রয়েড হলে তো কথাই নেই)। হোয়াইট লিষ্টে তোমার নাম্বারটি শুধু থাকবে এছাড়া বাকি অল-ব্লক করে দাও। ফলে একমাত্র তুমি কল দিলেই সেটের ডিসপ্লে জ্বলে উঠবে অন্য সব ব্লক থাকবে।
# ডিসপ্লে যাতে ফ্লিকারিং (আলো লাফানো) না হয়। সম্ভব হলে রিঙ্গার ও অবশ্যই ভাইব্রেশন অফ রাখবে। এতে ফ্লিকারিং ও ফলস অন/অফের সম্ভাবনা কমে যাবে।
মন্দ দিকঃ
এটি একটি মজার সিস্টেম কিন্তু প্রফেশনাল কাজের উপযুক্ত নয়। এর বড় কারন এতে ফিড ব্যাক সিস্টেম নাই। দৃষ্টির আড়ালে থাকা অবস্থায় সার্কিট অন না অফ অবস্থায় আছে তা সরাসরি বুঝার উপায় নেই। ফলে স্মৃতি বিভ্রম হলে যে টা চাইছ তার উল্টোটা হতে পারে। এছাড়া এর উপর ১০০ ভাগ নির্ভর না করাই ভালো।