Home Blog Page 7

মিডি (MIDI) কি?

3
মিডি (MIDI) কি?

মিডি (MIDI) শব্দের পূর্ণরূপ হচ্ছে Musical Instrument Digital Interface। অর্থাৎ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র কে কম্পিউটারের সাথে ডিজিটাল ভাবে ইন্টারফেস করানোর একটি পদ্ধতি। এটি একটি প্রটোকল। তবে মিডি প্রটোকলে শব্দ পাঠানো হয়না। খালি Note 30 off, Note 55 On, Note 30 on/Pitch 129 এধরণের মেসেজ পাঠানো হয়। কম্পিউটারে যে D.A.W (Digital Audio Workplace) সফটওয়্যার থাকে সেটা এই মেসেজগুলো পড়ে ওই কমান্ডগুলো ফলো করে।

মিডি (MIDI) কিভাবে কাজ করে?

আমরা জানি যে, শব্দ হচ্ছে বিভিন্ন রকম ফ্রিকুয়েন্সির সমষ্ঠি। বাঁশি, গিটার, বেহালা, তবলা থেকে শুরু করে যে কোনো বাদ্যযন্ত্রের শব্দকে কৃত্রিম ভাবে উৎপন্ন করা সম্ভব যদি উক্ত যন্ত্রের মত করে শব্দ উৎপন্ন করা যায়। মূলত এ ভিত্তিতেই মিডি ডিভাইস ও বাদ্যযন্ত্র গুলো কাজ করে।

এখন অনেকেই ভাবতে পারেন যে কেন এই কৃত্রিমতা! ধরুন আপনি গিটার, পিয়ানো, ড্রাম, বিভিন্ন রকম বাঁশি বাজাতে পারেন। এখন প্রতিটি এমন জিনিস আলাদা আলাদা ভাবে কিনতে গেলে কত টাকা লাগবে ভেবে দেখুন!! জায়গাও প্রচুর লাগবে সেসমস্ত জিনিস কে রাখতে। কিন্তু এই সবগুলো বাদ্যযন্ত্রকে যদি একটা ছোট বক্সের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলা যায় তাহলে জায়গা যেমন বাঁচে তেমনি বহন করতেও সুবিধা হয়। এজন্য আধুনিক সব মিউজিক সাধক রা মিডি কিবোর্ডের প্রতি আস্থাশীল, মূলত এ কারনেই।

নিচের চিত্রে দেখুন মিজিজিশিয়ান তার স্টুডিও তে মিডি ড্রাম প্যাড বাজাচ্ছেন। একই সাথে তা কম্পিউটারে রেকর্ড করছেন এই মিউজিক কে পরবর্তীতে এডিট করবার জন্য-

মিউজিশিয়ান তার স্টুডিয়োতে মিডি ড্রাম প্যাড বাজাচ্ছেন
মিউজিশিয়ান তার স্টুডিয়োতে মিডি ড্রাম প্যাড বাজাচ্ছেন

মিউজিক এর কাজ করা হয় যেসব সফটওয়্যার দিয়ে সেগুলোকেই D.A.W বলে। এরকম কয়েকটি সফটওয়্যার হচ্ছে, Reason, FL (Fruity Loops) Studio, Ableton, Logic Pro X প্রভৃতি। MIDI ইন্সট্রুমেন্ট বিভিন্ন রকমের আছে। যেমনঃ MIDI কি বোর্ড, MIDI সিন্থেসাইজার, MIDI ড্রাম প্যাড ইত্যাদি। এর মধ্যে MIDI কিবোর্ড দিয়ে কম্পিউটারে সব ইন্সট্রুমেন্টই বাজানো যায় বলে এটি খুবই জনপ্রিয়।

কম্পিউটারের সাথে MIDI ডিভাইস যেভাবে সংযুক্ত থাকে
কম্পিউটারের সাথে MIDI ডিভাইস যেভাবে সংযুক্ত থাকে

যেসব গানের মিউজিক বা, বাজনা পুরোটাই সফটওয়্যার এ তৈরি করা হয় তার পুরোটাই আসলে এধরণের MIDI মেসেজ এর সমষ্টি। সফটওয়ারে এই মেসেজগুলো পরপর প্লে করায় যে মিউজিক সৃষ্টি হয়, সেটিই রেকর্ড করে mp3, WAV ইত্যাদি অডিও ফরম্যাটে নেয়া হয়। আপনার যদি একটি মিডি ডিভাইস (ইন্সট্রুমেন্ট) থাকে, তাহলে আপনি ইচ্ছা করলে ওই একটি ডিভাইস দিয়েই কম্পিউটারে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নিজের মিউজিক তৈরি করে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশে MIDI ডিভাইস বলতে শুধুমাত্র মিডি কিবোর্ডই পাওয়া যায়। এবং এই কিবোর্ডগুলোর দামও অনেক, শুরুই হয় ১২০০০ টাকা থেকে। আপনি যদি শুধুমাত্র শখের বশে মাঝেমাঝে মিউজিক বানাতে চান, তাহলে কিবোর্ড কিনে অযথা ফেলে রাখতে হবে।

তবে অনেক সফটওয়ারেই আরেকটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে, আপনি ইচ্ছা করলে আপনার পিসি কিবোর্ড দিয়েই MIDI কিবোর্ড এর কাজ চালাতে পারবেন। আমি FL Studio ব্যবহার করি, এটিতে উক্ত সুবিধাটি আছে। আবার আপনি Arduino, বেসিক একটা সার্কিট আর কয়েকটা সফটওয়্যার এর সাহায্যে নিজেই নিজের মিডি কিবোর্ড বানিয়ে নিতে পারেন, যার আনুমানিক খরচ পড়বে ৪০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে (Arduino বাদে)। আপাতত মিডি কি আমরা তা জানলাম। ভবিষ্যতে Arduino দিয়ে কিভাবে মিডি কিবোর্ড বানানো যায় তা নিয়ে লিখব। ভালো থাকুন, সাথেই থাকুন। শুভ কামনা।

ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার সিস্টেমঃ পর্ব-২

0
ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার সিস্টেমঃ

ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার সিস্টেম এর গতদিনের বাড়ির কাজ ছিলঃ একটি সিস্টেম ২ টি জেনারেটর দিয়ে গঠিত। এর একটি, ১টি reactor দ্বারা ভূমির সাথে যুক্ত। অন্যটি resistor দ্বারা একটি bus এর মাধ্যমে step up transformer সহযোগে transmission line এর সাথে যুক্ত। একটি মোটর অপর প্রান্ত থেকে একটি bus এর মাধ্যমে step down transformer এর মাধ্যমে transmission line এর সাথে যুক্ত। মটরটি resistor দ্বারা ভূমির সাথে যুক্ত।

সমস্যা ২
সমস্যা ২

যারা করেছেন তারা একটু মিলিয়ে নিন। যদি বুঝতে সমস্যা হয় তবে আগের পোস্ট আরেকবার পড়ুন –ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার সিস্টেমঃ পর্ব-১

আজ আমরা শিখব reactance diagram আঁকা। আসুন দেখে নেই কিছু symbol যা দিয়ে সহজেই single line diagram থেকে reactance diagram একে ফেলতে পারব। সবাই ১ম পোস্টের সমস্যা টা দেখুন। আমরা এটা সলভ করব। সকলের সুবিধার্থে আবার দিলাম চিত্রখানা।reactor-diagram

 

Reactance diagram এর জন্য ব্যবহৃত symbols:

Reactance diagram এ ব্যবহৃত symbol
Reactance diagram এ ব্যবহৃত symbol

এবার সব সিরিয়াল মত যোগ করি। খুব সহজ। আচ্ছা বর্ননা করে দিচ্ছি। চিত্রে দেখুন প্রথমে কি আছে? জেনারেটর। তাহলে প্রথমে জেনারেটর এর সিম্বল দিব। জেনারেটর সিম্বল উপরের ছকে দেখুন, ঠিক এমনঃ

generator-symbol
generator-symbol

এরপরে দিব স্টেপআপ ট্রান্সফরমার। সিম্বল উপরের ছকে দেখুন, ঠিক এমনঃ

transformer-symbol
transformer-symbol

এরপর ট্রান্সমিশন লাইন, সিম্বল উপরের ছকে দেখুন, ঠিক এমনঃ

transmission-line
transmission-line

এরপর আবার ট্রান্সফরমার, তবে এবার হবে স্টেপ ডাউনঃ

transformer-symbol
transformer-symbol

সর্বশেষে লোড। লোড কিন্তু দুই প্রকার। সিম্বল উপরের ছকে দেখুন, ঠিক এমনঃ

১. স্ট্যাটিক লোড

static-load
static-load

 

 

 

২. ডায়নামিক লোডঃ

dynamic-load
dynamic-load

লোড কোনটা চেয়েছে তা দেখে অবশ্যই সেটা দিবেন। আপনাদের মনে রাখার সুবিধার্থে মোটর, লিফট ইত্যাদি ভারি জিনিস গুলো ডায়নামিক লোড। আর ছোট লোড গুলো সাধারনত স্ট্যাটিক লোড

তাহলে ১ম চিত্রের জন্য হবেঃ

এবার আপনাদের জন্য বাড়ির কাজ রইল সমস্যা ২। আশাকরি করতে পারবেন।

আজ এ পর্যন্তই পরবর্তি লেখায় নতুন কিছু আনার প্রয়াস থাকবে। সকলকে ধন্যবাদ।

মাইক্রোওয়েভ ওভেন কিভাবে কাজ করে

0
মাইক্রোওয়েভ ওভেন কিভাবে কাজ করে
মাইক্রোওয়েভ ওভেন কিভাবে কাজ করে

খাবার গরম না করে অনেকে আমরা খেতে পারিনা৷ আবার ঠান্ডা পিজ্জা, বার্গার জাতীয় ফাস্টফুড গুলো গরম না করলে খাওয়াই যায়না ঠিকমত৷ এই রকম আগে থেকে তৈরী জিনিস গুলো খাওয়ার সময় গরম করা ছাড়াও অনেক খাবার তৈরী করতে প্রায়ই ব্যবহার করাহয় মাইক্রোওয়েভ ওভেন ৷ মাইক্রোওয়েভ ওভেন এ আসলে মাইক্রোওয়েভ (রেডিও ওয়েভের অতি ক্ষুদ্র কম্পাঙ্ক) দিয়ে রান্না করা হয় ৷ মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে রান্না করার ধারনা প্রথম নিয়ে আসেন Percy Spencer৷ উনি হঠাৎ করেই এই আইডিয়াটা পেয়েছিলেন। এটা একটা মজার ঘটনা যেটা পোস্টের শেষেই বলবো। তার আগে আসুন জেনে নেই মাইক্রোওয়েভ ওভেন দিয়ে রান্না করার পিছনে আসলে পদার্থ বিজ্ঞানের কোন নীতিটা কাজে করে৷

আমরা পদার্থ বিজ্ঞান থেকে জানি- কোনো বস্তুর তাপমাত্রা বাড়ালে এর আভ্যন্তরিন শক্তি বৃদ্ধিপায় এবং এর ভিতরের অণুগুলো আগের থেকে অধিক হারে কাঁপতে থাকে৷ আবার যদি এর তাপমাত্রা কমানো হয় তাহলে এর আভ্যন্তরীন শক্তি কমেযায়। ফলে অণুর কম্পনের হার আগের থেকে কমে যায় ৷

এখান থেকে আমরা বুঝতে পারছি যে, বস্তুর তাপমাত্রা নির্ভর করে বস্তু গুলার মধ্যস্থিত অণুগুলো কি হারে ছোটাছুটি করছে বা কাঁপছে৷ অর্থাৎ, যদি কোনভাবে একখন্ড বস্তুর অণুগুলোকে আগের থেকে বেশি হারে কাঁপানো যায় তবে এর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে৷

আর ঠিক এই কাজটি করেই মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাদ্যবস্তুর তাপমাত্রা বাড়ানো হয় বা গরম করা হয়৷ এবং খাদ্য বস্তুগুলোর অনুগুলোকে বাইরে থেকে বেশি হারে কাঁপানোর জন্য এখানে সাধারণত ব্যবহার করা হয় 4.7″ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য এর বেতার তরঙ্গ৷

১০ মিলিমিটার থেকে ৩০ সেন্টিমিটার বেতার তরঙ্গ বা রেডিও ওয়েভকে মাইক্রোওয়েভ বলে৷ আমার আগের পোস্টে বলেছিলাম রেডিও ওয়েভ আসলে কি এবং এটা কিভাবে তৈরী করা যায়৷ আমি আরো বলেছিলাম রেডিও ওয়েভ বিভিন্ন ভাবে তৈরী করা যায় এবং একটা প্রক্রিয়ার কথাও বলেছিলাম যেখানে LC ট্যাংক সার্কিট এর মাধ্যমে রেডিও ওয়েভ তৈরী করার কথা বলা হয়েছিলো৷

কিন্তু মাইক্রোওয়েভ ওভেনে ঐ প্রক্রিয়ায় রেডিও ওয়েভ তৈরী করা হয়না। এখানে মাইক্রোওয়েভ তৈরী করতে যে জিনিসটা ব্যবহার করা হয় সেটার নাম ম্যাগনেট্রন (Magnetron)৷ নিচের চিত্রে আমরা ওভেনে ব্যবহৃত ম্যগনেট্রনের চিত্র দেখতে পাচ্ছি-

মাইক্রোওয়েভ ওভেনে ব্যবহৃত ম্যগনেট্রন
মাইক্রোওয়েভ ওভেনে ব্যবহৃত ম্যগনেট্রন

ম্যাগনেট্রন দুটি জিনিসের সমন্বয়ে তৈরী। একটা ঘুর্নায়মান চৌম্বক বা ড্রাম আর একটা হাইভোল্টেজ শক ওয়েভ ইনডাকশন কয়েল ৷

আগের পোস্টে আমরা জেনেছি- একটা চুম্বকক্ষেত্র এবং একটা তরিৎ ক্ষেত্রের মধ্যবর্তি আপেক্ষিক গতির সৃষ্টি হলে রেডিও ওয়েভ তৈরী হয়৷ এবং এও জেনেছি যে, একটা গতিশীল চৌম্বক তরিৎ ক্ষেত্র তৈরী করে৷

এখানে, ওভেনের ঐ ম্যাগনেট্রন ঘুর্নায়মান চৌম্বকটিই তরিৎ ক্ষেত্র হিসাবে কাজ করে, এবং ইন্ডাকশান কয়েলটি চৌম্বক ক্ষেত্র হিসাবে কাজ করে৷ যেখানে ইনডাকশন কয়েলের ম্যাগনেটিক ফিল্ডের দিক পরিবর্তন করা হয় এটাকে হাইভোল্টেজ শক ওয়েভ দ্বারা চালনা করে৷

ম্যগনেট্রনের মাধ্যমে মাইক্রোওয়েভ তৈরীর প্রকৃয়া
ম্যগনেট্রনের মাধ্যমে মাইক্রোওয়েভ তৈরীর প্রকৃয়া

এদের মধ্যবর্তি এই ক্রিয়ার ফলে উচ্চ শক্তির রেডিও ওয়েভ তৈরী হয়৷ এবং ইনডাকশন কয়েলের শক ওয়েভ ফ্রিকোয়েন্সি এবং চৌম্বকের ঘুর্নন এমন ভাবে সমন্বয় করা হয় যেটা সাধারনত উপরিউক্ত তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের মাইক্রো ওয়েভ তৈরী করে৷ তবে ওভেনের ক্ষেত্রে এই তরঙ্গ দৈর্ঘটি হয় সাধারণত ৪.৭ ইঞ্চি বা ২.৫ গিগাহার্জের আশেপাশে।

প্রসঙ্গক্রমে বলছি, আধুনিক কালে বহুল ব্যবহৃত রাডার (RADAR) প্রযুক্তিতেও ম্যগনেট্রন ব্যবহার করাহয়। যদিও ছোটখাটো অনেক রাডার আছে যা ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বনে করা হয় কিন্তু শক্তিশালী সব রাডার প্রযুক্তিতে ম্যগনেট্রনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।

মজার ব্যাপার হলো, সাধারনত মাইক্রোওয়েভ ওভেনে 4.7″ তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে ব্যবহারের পিছনে আরও আরেকটা কারন আছে৷ কারনটা হল, এই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারনত আঁশ জাতীয় জিনিসের ভিতর দিয়ে সহজে যেতে পারে এবং যাওয়ার সময় আঁশ জাতীয় অণুগুলা কে কাঁপাতে পার৷ আর ঠিক এ কারনে 4.7″ বা এর কাছাকাছি তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ওয়েভ কে মাইক্রো ওয়েভ ওভেনের জন্য বেছে নেওয়া হয়, অণুগুলোকে কাঁপিয়ে বস্তুটিকে গরম করার জন্যে৷

কথা ছিলো Spencer সাহবের আবিষ্কার এর পিছনে মজার ঘটনাটা বলার৷

স্পেনসার সাহেবের একটা ছোট মেয়েছিলো। যথারিতি মেয়েটার চকলেট খাওয়ার বাতিক ছিলো৷ তিনি সে সময় কাজ করতেন কোন একটি প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে। তো কাজ থেকে বাসায় যাওয়ার আগে উনার মেয়ের জন্যে চকলেট নিয়ে যাওয়া চাই-ই-চাই। কিন্তু মাঝেমাঝে ভুলে যেতেন৷

তাই একদিন উনি আগে থেকেই চকলেট কিনে প্যান্টের পকেটে নিয়ে কাজ করছিলেন একটি নতুন প্রযুক্তির জেনারেটরের উপরে৷ কাজ শেষে বাসায় ফিরে যেইনা চকলেট মেয়েকে দিয়েছেন অমনি মেয়ে দিলো কান্না করে৷ কারন, চকলেটটি গলে গিয়ে অন্য আকৃতির কোন বস্তুতে রূপান্তর হয়েছিলো স্পেনসার সাহেব খোঁজা শুরু করলেন এমন হওয়ার কারন কি- যার ফলশ্রুতিই আজকের এই মাইক্রোওয়েভ ওভেন৷ কারনটা যে কি ছিলো আপনারা এতক্ষণে নিশ্চই বুঝতে পারছেন। কারন সবই উপরে ব্যাখা করা হয়েছে 🙂

বি.দ্রঃ যে সব জিনিসে আয়রনের পরিমাণ বেশি থাকে সেগুলো মাইক্রোওয়েভ ওভেনে রান্না করতে যাবেন না৷ যেমন মূলা, গাজর, কচু, বেগুন। কারণ, মাইক্রোওয়েভ আয়রনের আয়নকে খুব দ্রুত কাঁপাতে পারে। যার ফলে ঐ জিনিস গুলো রান্না হওয়ার বদলে ভিতর থেকে দ্রুত গরম হয়ে আগুন লেগে যেতে পারে৷

ভালো থাকবেন, আজকে এ পর্যন্তই।

রেডিও ওয়েভ কি?

4
রেডিও ওয়েভ - বেতার তরঙ্গ
রেডিও ওয়েভ - বেতার তরঙ্গ

বেতার তরঙ্গ ছাড়া যে আধুনিক বিশ্বের অস্তিত্ব কল্পনা করাই দায় তা আমরা কম বেশি সবাই জানি৷ রেডিও টেলিভিশনে বিনোদন নেওয়া থেকে শুরু করে দূর মহাকাশ গবেষণায় কোথায় নেই এই বেতার তরঙ্গের ব্যবহার! মার্কনি না জগদিশ কে আগে বেতার যন্ত্র তৈরী করেছিলো তা নিয়ে তর্ক বহুদিনের। আর এই তর্কের কারনে আমরা বেমালুম ভুলে যাই হার্জের নাম৷ আমাদের আলোচনার বিষয় এনাদের নিয়ে নয়। এনাদের আবিষ্কার করা যে রেডিও ওয়েভ,  আমরা তাই নিয়ে আরেকটু গভীরে আলোচনা করবো।

তরিৎ চৌম্বক তরঙ্গঃ

রেডিও ওয়েভ বা বেতার তরঙ্গ হলো এক প্রকার তরিৎ চৌম্বক তরঙ্গ যার কম্পাঙ্ক অন্যান্য তরিৎচৌম্বক তরঙ্গ থেকে কম কিন্তু তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বড়৷ কারন সকল তরিৎ চৌম্বিকও বিকিরনের নির্দিষ্ট মাধ্যমে গতি সমান (শুন্য মাধ্যমে এর মান ৩ লক্ষ কি,মি এর মত)৷ আবার, তরঙ্গ গতি = কম্পাঙ্ক x তরঙ্গ দৈর্ঘ্য৷

তাহলে দেখা যাচ্ছে গতি যদি সমান থাকে তাহলে, কম্পাঙ্ক কমার সাথে সাথে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বাড়বে। এবং রেডিও তরঙ্গ অন্যরকম আরেকটি তরিৎচৌম্বিক তরঙ্গ, দৃশ্যমান আলোর মতই শুধুমাত্র এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আমাদের দৃষ্টি সীমার বাইরে হওয়ায় রেডিও তরঙ্গকে দেখতে পাইনা৷ আবার, এক্স রশ্মির (X-Ray) এবং গামা রশ্মিও (Gamma Ray) তরিৎ চৌম্বকিয় তরঙ্গ কিন্তু এদের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য এত ক্ষুদ্র যে আমরা দেখতে পাইনা। কিন্তু এই ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের রশ্মি গুলো আমাদের কে কিংবা কোন অধাতব ও ক্রিস্টাল বস্তুকে সহজেই ভেদ করে যেতে পারে এদের বৈশিষ্ঠের কারণে৷ এই তরিৎ-চৌম্বকিয় তরঙ্গের নাম থেকেই আমরা বুঝতে পারছি- এই তরঙ্গের সাথে কোন না কোন ভাবে তরিৎ ও চুম্বক জড়িত৷ হ্যা, আসলেই তরিৎ চৌম্বকিয় তরঙ্গ সেটা আমাদের রেডিও তরঙ্গই হোক আর দৃশ্য মান আলো হোক কিংবা এক্স বা গামা রশ্মিই হোক সবই তৈরী হয়, এই তরিৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রের মাঝে আপোক্ষিক গতি সৃষ্টি হলে৷ আসুন আগে জেনে নেই, তরিৎ এবং চৌম্বক ক্ষেত্র কি৷

তরিৎ ক্ষেত্রঃ

কোন স্থানে, একটি আধান স্থাপন করলে যে অঞ্চল ব্যাপী ঐ আধানটির প্রভাব বজায় থাকে তাকে ঐ আধানের তরিৎ ক্ষেত্র বলে৷ কোন স্থানে বা বস্তুতে ইলেকট্রন থেকে প্রোটনের সংখ্যা বেশি হলে সেটা পজিটিভ আধান হিসাবে ক্রিয়া করে আবার যদি কোন স্থানে বা বস্তুতে প্রোট্রন থেকে ইলেকট্রনের সংখ্যা বেশি হলে সেটা নেগিটিভ আধান হিসাবে ক্রিয়া করে৷ আবার একটি গতিশীল চৌম্বক পদার্থ তরিৎ ক্ষেত্র সৃষ্টি করে৷ আবার একটি, চার্জিত ক্যাপাসিটর ও তরিৎ ক্ষেত্র সৃষ্টি করেতে পারে।

চৌম্বক ক্ষেত্রঃ

একটি চুম্বক তার চারি পাশে যে অঞ্চল ব্যাপী এর প্রভাব বিস্তার করতে পারে তাকে চৌম্বক ক্ষেত্র বলে ৷ একটি গতিশীল ইলেকট্রন চৌন্বক ক্ষেত্র তৈরী করে ৷ এবং ইলেকট্রনের এই ধর্মের কারনে একটা ইনডাকশান কয়েলও চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরী করে ৷

তরিৎ চৌম্বকিয় তরঙ্গ তৈরীর প্রক্রিয়াঃ

আমি আগেই বলেছিলাম, তরিৎ এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের আলোরোনের ফলে বা এদের ভিতর আপেক্ষিক গতির সৃষ্টি হলে তরিৎ চৌম্বকিও তরঙ্গ তৈরী হয়৷ এই দুইটা ক্ষেত্রের আলোরন বা মধ্যবর্তি আপেক্ষিক গতি অনেক প্রক্রিয়ায় তৈরী করা যায়৷ কিন্তু সাধারনত একটা ক্যাপাসিটর এবং একটা ইনডাকশান কয়েলের দুইটা ক্ষেত্র কে ইলেকট্রিক্যাল পদ্ধতিতে কম্পিত করে। এদের মধ্যবর্তি এই আলোরন সৃষ্টি করা হয়৷ এই দুইটা জিনিসের সমন্বয়ে যে সার্কিট তৈরী হয় তাকে ট্যাঙ্ক সার্কিট বলে৷ একটা ট্যাঙ্ক সার্কিটের ব্যান্ড পাস ফ্রিকোয়েন্সি বা যে ফ্রিকোয়েন্সিতে এদের ভিতর দিয়ে 70% এর বেশি বিদ্যুত প্রবাহিত হয়ে একটি শক্তিশালি তরিৎচৌম্বক সৃষ্টি করবে সেই ফ্রিকোয়েন্সির মান কত হবে, তা ঐ ট্যাঙ্ক সার্কিট এ ব্যবহৃত ক্যাপাসিটর ও ইনডাক্টরের মানের উপর নির্ভর করে৷

ট্যাংক সার্কিট
ট্যাংক সার্কিট

যেখানে,

f = 1/2π√(LC)

এখান,

f = কাটঅফ ফ্রিকোয়েন্সি (Hz)
L = ইনডাক্টর এর ইনডাকটেন্স (Henry)
C = ক্যাপাসিটর এর ক্যাপাসিটেন্স (Farad)

এই ট্যাঙ্ক সার্কিট এ ইলেকট্রিক্যাল কম্পাঙ্ক পাঠিয়ে এদের ক্ষেত্র দ্বয়ের ভিতর ইলেকট্রিক্যাল পদ্ধতিতে কোন সৃষ্টি করে কঁপানো হয় যার ফলে সৃষ্ট হয় পারস্পারিক আপেক্ষিক গতির এবং ফলে তৈরী হয় রেডিও তরঙ্গের৷ এই ট্যাঙ্ক সার্কিটের প্রভাব বিস্তার কারি ক্ষেত্রের ভিতর ভিন্ন কোন ট্যাঙ্ক সার্কিট আনলে সেটিও এটির দ্বারা প্রভাবিত হয়। আর ট্যাঙ্ক সার্কিটের এই ধর্ম ব্যবহার করে তৈরী করা হয় রেডিও তরঙ্গ রিসিভার ও ট্রান্সমিটার সার্কিট

জাভা প্রোগ্রামিংঃ প্রসেসিং এর খুঁটিনাটি – পর্ব ২

2
জাভা প্রোগ্রামিংঃ প্রসেসিং এর খুঁটিনাটি পর্ব ২ – ভ্যারিয়েবলের বেসিক ও বিভিন্ন শেপ
জাভা প্রোগ্রামিংঃ প্রসেসিং এর খুঁটিনাটি পর্ব ২ – ভ্যারিয়েবলের বেসিক ও বিভিন্ন শেপ

জাভা প্রোগ্রামিংঃ প্রসেসিং এর খুঁটিনাটি পর্ব ২ – ভ্যারিয়েবলের বেসিক ও বিভিন্ন শেপ

সবাইকে ঈদ মুবারক। একই সাথে প্রোগ্রামার দের দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা। আগের পর্বে আমরা প্রসেসিং এর বেসিক ও বৃত্ত আঁকা শিখেছি। আজকে আমরা শিখবো ভ্যারিয়েবল এর ব্যবহার ও আরও কিছু শেপ আঁকা শেখা

প্রোগ্রামিং এ ভ্যারিয়েবলঃ

সব প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজেই ভ্যারিয়েবল খুব গুরুত্বপূর্ণ ও হেল্পফুল একটি জিনিস। ভ্যারিয়েবল এর বেসিক ধারনাটা হচ্ছে- এটি এমন একটি নাম যা দিয়ে কম্পিউটারে থাকা বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে যেখানে ঐ নাম দেয়া হয়েছে যে তথ্যটির,  সেটিকে চিহ্নিত করা মাথার উপর দিয়ে গেল, না? 😛

আচ্ছা সহজ কথায় বলি। ধরুন, আপনি প্রসেসিং এ একটি এলিপ্স (Ellipse-বৃত্ত) আঁকলেন। আপনাকে সেজন্য ellipse (12,34,54,76) টাইপের কিছু লিখতে হবে। কিন্তু আপনি এই নাম্বার গুলো দেখে সাথে সাথেই বুঝতে পারবেন না কোনটা কিসের ভ্যালু। আপনাকে (x co-ordinate, y co-ordinate, width, height) এই ফরম্যাটটি মনে করে তারপর বের করতে হবে কোন সংখ্যাটি কিসের মান। আপনি যদি ছোট একটি প্রোগ্রাম বানান, তাহলে হয়ত ২-৪টা এলিপ্স এর মান এভাবে সহজেই বের করতে পারবেন। কিন্তু আপনি যদি জটিল একটি গেমের কোড লেখেন, তাহলে এভাবে প্রত্যেকটা সংখ্যা কিসের মান বের করতে হলে ভাল সম্ভাবনা আছে যে আপনি একটু পরেই বিরক্ত হয়ে এবং রেগে মনিটর এ একটা ঘুষি মেরে প্রোসেসিং সফটওয়্যার আনইন্সটল করে দিবেন 😀

কিন্তু আপনি যদি এই সংখ্যার জায়গায় একটি নাম দিয়ে দিতেন (যেমনঃ ellipseheight) সংখ্যাগুলোর তাহলে আপনি দেখেই বুঝতে পারতেন এলিপ্স এর উচ্চতা কত দিয়েছেন।

এটিই মূলত ভ্যারিয়েবল এর মূল ধারণা। একটি তথ্যকে প্রোগ্রামার যাতে সহজে চিহ্নিত করতে পারে তার জন্য তথ্যটির একটি নাম দেয়া।

কিন্তু আপনি শুধু নাম দিলেই হবেনা, কম্পিউটার এই নাম এর ভ্যালু কত ধরবে সেটা আগেই বলে দিতে হবে। একে বলে ভ্যারিয়েবল ডিক্লেয়ার করা।

নিচের কোডটি দেখি-

int x= 500;
int y = 500;
int width= 50;
int height = 50;

void setup()
{
size (900,500);
}

void draw()
{
ellipse (x,y,width,height);
}

এখানে প্রথমেই সবার উপরে ভ্যারিয়েবল ডিক্লেয়ার করা হয়েছে, অর্থাৎ কোন নাম = কোন সংখ্যা সেটি বলা হয়েছে।  সাধারণত ভ্যারিয়েবল সবার উপরে ডিক্লেয়ার করা হয়, কিন্তু এগুলো ইচ্ছা করলে void setup এও ডিক্লেয়ার করা যায়। void draw তেও করা যায়, কিন্তু তখন বারবার ভ্যারিয়েবল এর মান রিসেট হয়ে যায়। যাইহোক, সে সম্পর্কে আমরা পরে আরও জানব। উপরের কোডে ভ্যারিয়েবলগুলো ডিক্লেয়ার করা হয়েছে এভাবে-

int x = 500;

int শব্দটির ফুল ফর্ম হচ্ছে integer, যার অর্থ পূর্ণসংখ্যা। এটি সবার প্রথমে লেখা হয়েছে কারণ ভ্যারিয়েবল এ আগেই বলে দিতে হয় ভ্যারিয়েবলটিতে কি ধরণের ডেটা থাকবে।

int হচ্ছে একধরণের ডেটা টাইপ। int ধরণের ভ্যারিয়েবল এ খালি পূর্ণ সংখ্যা থাকতে পারবে, যা ২,১৪৭,৪৮৩,৬৪৭ এর চেয়ে ছোট এবং (-) ২,১৪৭,৪৮৩,৬৪৭ থেকে বড়। আপনি ইচ্ছা করলে 5437 সংখ্যাটি int ধরণের ভ্যারিয়েবল  এ রাখতে পারবেন, কারণ 5437 int ডেটা টাইপের সর্বোচ্চ মান থেকে ছোট ও সর্বনিম্ন মান থেকে বড়, আবার দশমিক ও না।  কিন্তু 5437.4 রাখতে পারবেন না। কারণ, 5437.4 দশমিক সংখ্যা, পূর্ণ সংখ্যা না। আপনি int এর জায়গায় float ডেটা টাইপ দিয়ে দশমিক সংখ্যা ভ্যারিয়েবল এ রাখতে পারবেন।

ডেটা টাইপ লেখার পর আপনাকে ভ্যারিয়েবলটির নাম লিখতে হবে। তারপর নাম এর পরে = চিহ্ন দিয়ে সংখ্যাটি লিখে ;  দিতে হবে। যেমন –

int myvariable = 40;
float mydecimalvariable= 40.40;

উল্লেখ্য – int ও float ছোটহাতে লিখতে হবে।

নিচের চিত্রে প্রোগ্রাম দিয়ে Ellipse আঁকলে কেমন দেখাবে তার উদাহরণ দেয়া হলো-

প্রোগ্রাম দিয়ে সার্কেল আঁকা
প্রোগ্রাম দিয়ে সার্কেল আঁকা

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শেপ এর সিনট্যাক্স

আরও অনেকধরণের ভ্যারিয়েবল আছে, যা আমরা পরে জানবো। আপাতত এই ২টি ডেটা টাইপ দিয়েই কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন। এবার আমরা আরও কয়েকটি মূল শেপ এর সিনট্যাক্স দেখি –

রেক্টাংগল – চতুর্ভূজ

rect (x,y,w,h);

এখানে,

x= স্ক্রিন এর x কো-অরডিনেট (স্ক্রিনের)প্রোগ্রামিং করে রেক্টাংগল কিভাবে স্ক্রিনে দেখায়
y = স্ক্রিন এর y কো-অরডিনেট(স্ক্রিনের)
w= চতুর্ভুজ এর প্রস্থ
h= চতুর্ভুজ এর উচ্চতা

নিচের চিত্রটি দেখলে আশাকরি রেক্টাংগল এর ধারনা পাবেন-

ট্রায়াঙ্গল – ত্রিভূজ

triangle (x1,y1,x2,y2,x3,y3);

এখানে,

x1= ত্রিভুজের প্রথম বিন্দুর x কো অরডিনেট (স্ক্রিনের)প্রোগ্রামিং করে স্ক্রিনে ত্রিভূজ কিভাবে আকে
y1= ত্রিভুজের প্রথম বিন্দুর y কো অরডিনেট (স্ক্রিনের)
x2=ত্রিভুজের দ্বিতীয় বিন্দুর x কো অরডিনেট (স্ক্রিনের)
y2=ত্রিভুজের দ্বিতীয় বিন্দুর y

কো অরডিনেট (স্ক্রিনের)

x3=ত্রিভুজের তৃতীয় বিন্দুর x কো অরডিনেট (স্ক্রিনের)
y3=ত্রিভুজের তৃতীয় বিন্দুর y কো অরডিনেট (স্ক্রিনের)

নিচের চিত্রটি দ্বারা আশাকরি বুঝতে সহজ হবে-

লাইন – সরল রেখা

line (x1,y1,x2,y2);

এখানে,প্রোগ্রামিং করে লাইন স্ক্রিনে লাইন আঁকা

x1= লাইনের প্রথম বিন্দুর x কো অরডিনেট (স্ক্রিনের)
y1= লাইনের প্রথম বিন্দুর y কো অরডিনেট (স্ক্রিনের)
x2=লাইনের দ্বিতীয় বিন্দুর x কো অরডিনেট (স্ক্রিনের)
y2=লাইনের দ্বিতীয় বিন্দুর y

কো অরডিনেট (স্ক্রিনের)

পাশের চিত্রটি দেখলে কিছু সম্যক ধারণা পেতে পারেন।

এছাড়াও আপনি ইচ্ছা করলে প্রোসেসিং এর ওয়েবসাইটের রেফারেন্স পেজে আরও অনেক শেপ সম্পর্কে জানতে পারবেন। {চুপিচুপি বলে রাখি, সামনে এ দিয়ে আমরা গেমস তৈরি করবো 😉 }
এছাড়া জাভা প্রোগ্রামিং বই থেকেও কিছু ধারণা পাবেন। আজকে পর্যন্ত এটুকুই। ভাল থাকবেন।

ছোটদের জন্য বিজ্ঞান – ৮

0
ছোটদের জন্য বিজ্ঞান ও আবিস্কার
ছোটদের জন্য বিজ্ঞান ও আবিস্কার

বিজ্ঞান নিয়ে অনেক কথাই হলো, আমরা জেনেছি প্রশ্ন করবার স্বাধীনতা ও প্রশ্ন করাটা বিজ্ঞান মনস্ক হবার জন্য অনেক গুরুত্বপুর্ণ একটি বিষয়। কোন কিছু নিয়ে প্রশ্ন করবার সময় দুটো বিষয় থাকতে পারে – একটি হলো, যা নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে তা অবিশ্বাস করে প্রশ্ন করা আর একটি হলো আরও জানবার জন্য, নতুন কিছু আবিষ্কার করবার জন্য প্রশ্ন করা। আমাদের চারপাশের প্রকৃতি, আমাদের সমাজ, আমাদের জন্মসুত্রে পাওয়া ধর্ম ইত্যাদির বিষয়ে আমরা যখন প্রশ্ন করি তখন আমরা আগে বলা দু ভাবনা থেকেই প্রশ্ন করতে পারি। অর্থাৎ অবিশ্বাস থেকে প্রশ্ন করতে পারি আবার জানবার জন্য, নতুন কিছু আবিষ্কার করবার জন্য আমরা প্রশ্ন করতে পারি। এই দু ভাবে প্রশ্ন করবার মধ্যে কোনটি বিজ্ঞান ভিত্তিক হবে?

অবিশ্বাস থেকে যখন কোন প্রশ্ন করা হয় তখন তা আসলে ঘটনার বা জিনিসের অস্তিত্ব নেই মেনে নিয়েই সেটাকে বাতিল করবার এক ধরনের চিন্তা থেকে প্রশ্নের মুখোমুখী করবার চেষ্টা আবার জানবার জন্য বা নতুন কিছু আবিষ্কার করবার জন্য যখন প্রশ্ন করা হবে তখন তা নতুনের পথ সামনে উন্মোচিত করবে। তাই বলা যায় কোন কিছু নেই বা অবিশ্বাস থেকে যে প্রশ্ন সেটা আসলে অমুলক চিন্তা কেননা যা নেই বলেই তুমি মনে করো সেটা নিয়ে প্রশ্ন করবার কি কোন যুক্তি আছে বা থাকে!! আসলে সেই সুযোগ নাই। তাই কোন কিছু জানবার জন্য বা আবিষ্কার করবার জন্য যে প্রশ্ন করা ও চিন্তা সেটাই বিজ্ঞান ভিত্তিক।

একটা উদাহরণ দিলে স্পষ্ট হবে বিষয়টা- বিজ্ঞানীরা মহাকাশে টেলিস্কোপ দিয়ে দেখে চিন্তা করেছে মহাবিশ্বের অগুনিত সৌর মন্ডলের মাঝে আমাদের পৃথিবীর মতো বাস যোগ্য পৃথিবী থাকতে পারে। এর জন্য তাঁরা প্রশ্ন করেছে সেটা কোথায় হতে পারে এবং তার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞানীরা টেলিস্কোপ সহ নানান ধরনের যন্ত্র দিয়ে গবেষনা করছেন কোথায় সেই পৃথিবী যেখানে মানুষের জন্য বসবাস উপযোগী বা কোন প্রাণীর জন্য বসবাস উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। এখন যদি বিজ্ঞানীরা এটা মনেই না করতো তথা অবিশ্বাস করতো এমন কিছু থাকতে পারে না তবে এই নিয়ে এতো সময় ধরে গবেষণার প্রয়োজনীযতাও থাকতো না বা প্রয়োজনই পড়তো না। মহাকাশ বিজ্ঞানের মতো একটি বিষয়েরই হয়তো তখন আর প্রয়োজন থাকতো না।

তাই অবিশ্বাস থেকে কোন কিছুর চর্চা মোটেও বিজ্ঞান ভিত্তিক নয়। অবিশ্বাস থেকে কোন কিছুর ব্যাপারে প্রশ্ন করা, যুক্তি উপস্থাপন করাটাও বিজ্ঞান ভিত্তিক নয়। বিজ্ঞান ভিত্তিকতার মুলে আছে বিশ্বাস, চিন্তার শুরুতেই থাকতে হবে বিশ্বাসের মতো জিনিস যা প্রশ্নকে ধাবিত করবে তার কাঙ্খিত ফল লাভ করতে। ফলাফলই বলে দেবে কোনটি সঠিক আর কোনটি বেঠিক। প্রমাণিত বিষয়ই টিকে থাকবে, অপ্রমাণিত বিষয় সঠিক বিজ্ঞান ভিত্তিক চিন্তার ফলে বাতিল হবে।

বিশ্বাস ও বিজ্ঞান ভিত্তিকতার ফলে দেখা যেতে পারে দীর্ঘদিনের একটি বিশ্বাস বাতিল হতে পারে প্রমাণের অভাবে, সঠিক যুক্তির খাতিরে – বাতি্ল হওয়া বিশ্বাস কে ছেড়ে প্রমাণ লব্ধ বিষয়কে গ্রহণ করাটাও বিজ্ঞান মনস্কতা। এই গ্রহণ বর্জনের বিষয়টি প্রত্যেক বিজ্ঞান ভিত্তিক মানুষের মাঝে থাকা প্রয়োজন। তোমরা সেই গ্রহণ বর্জনের পথের পথিক হবে। যুক্তি, প্রশ্ন ও চিন্তার মিশেলে প্রমাণিত বিষয়ের চর্চা করবে। সেই সাথে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন করবার মধ্য দিয়ে অপ্রমাণিত সকল কিছুকে অন্ধ বিশ্বাসের মাঝে আগলে না রেখে আলোকিত বিজ্ঞান মনস্কতার প্রমাণিত ফিল্টারের দ্বারা পরীক্ষা করবে। আগামী দিনের বিজ্ঞানী হয়ে উঠবে, নিজের মস্তিষ্ককে করে তুলবে এক একটি বৈজ্ঞানিক ল্যাবরেটরী।

SMPS বা সুইচ মোড পাওয়ার সাপ্লাই কিভাবে কাজ করে

11
SMPS বা সুইচ মোড পাওয়ার সাপ্লাই কিভাবে কাজ করে
SMPS বা সুইচ মোড পাওয়ার সাপ্লাই কিভাবে কাজ করে

SMPS বা সুইচ মোড পাওয়ার সাপ্লাই কিভাবে কাজ করে

SMPS (Switched Mode Power Supply) বা সুইচ মোড পাওয়ার সাপ্লাই এখন অনেক জনপ্রিয়। মূল কারণ এর অল্প আয়তন ও স্বল্প ওজনে উচ্চ ক্ষমতা এবং সেল্ফ স্টেবিলাইজেশন সিস্টেম (Self Stabilization System) এর কারনে। ইনপুট ভোল্ট প্রায় ১০০ ভোল্ট থেকে শুরু করে ২৭০ ভোল্ট পর্যন্ত যাই হোক না কেন আউটপুট ভোল্ট একদম নির্দিষ্ট যেমন দরকার ঠিক তাই দিতে পারে। অন্যান্য সব পাওয়ার সাপ্লাই এর মত এতেও ট্রান্সফরমার থাকে। কিন্তু এটি ফেরাইট কোর ট্রান্সফরমার। সাথে আরো সহযোগী কম্পোনেন্ট ও থাকে।

মূলত সুইচিং টেকনিক ব্যবহার করে এই সুইচ মোড পাওয়ার সাপ্লাই গুলো কাজ করে। এর জন্য প্রথমেই AC কে ব্রীজ রেক্টিফায়ার ও উপযুক্ত ফিল্টারিং ইন্ডাক্টর ও ক্যাপাসিটর দিয় DC করা হয়। তারপর এই উচ্চ ভোল্টেজের ডিসি কে সুইচিং সার্কিট দিয়ে উচ্চ কম্পাঙ্ক/ফ্রিকুয়েন্সি তে ট্রান্সফরমার টিকে চালনা করা হয়। আমরা সাধারন ভাবে মেইন লাইনে সরাসরি যে ট্রান্সফরমার ব্যবহার করি তা ৫০ হার্জ ফ্রিকুয়েন্সির হয়ে থাকে। কিন্তু এখানে ব্যবহার করা হয় হাই ফ্রিকুয়েন্সি ট্রান্সফরমার। যা চপার বা ফেরাইট কোর ট্রান্সফরমার (Chopper/Ferrite Core Transformer) নামে পরিচিত। মুলত এই SMPS পদ্ধতিটি 1khz থেকে Ghz পর্যন্ত কার্যকরী হয়। তবে বেশীরভাগ smps পাওয়ার সাপ্লাই গুলো 18khz থেকে 30khz রেঞ্জের হয়ে থাকে৷ সাধারণত 2.5khz এর উপরে হলেই ফেরাইট কোরে ডিজাইন চিন্তা করা হয়৷ এই ইনপুট ফ্রিকুয়েন্সি এবং পালস ওয়াইডথ মডুলেশনকে (PWM) কমিয়ে-বাড়িয়ে আউটপুট ভোল্টেজ কে নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়। নিচের ব্লক ডায়াগ্রাম দেখলে আশাকরি বুঝতে পারবেন এর মূল কর্ম পদ্ধতি-

সুইচ মোড পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ব্লক ডায়াগ্রাম
সুইচ মোড পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ব্লক ডায়াগ্রাম

নিম্নে কিছু ফেরাইট কোরের চিত্র দেয়া হলোঃ

বিভিন্ন ধরনের ফেরাইট কোর
বিভিন্ন ধরনের ফেরাইট কোর

এত উচ্চ ফ্রিকুয়েন্সি ব্যবহার করা হয় মূলত ট্রান্সফরমার এর আকৃতি ও পাওয়ার লস কমানোর জন্য। পাওয়ার লস কম হলে এফিসিয়েন্সি বা দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। ভোল্টেজ রেগুলেশন ও কম হয়। এছাড়াও এর অনেক সুবিধা আছে যা সংক্ষেপে বলা সম্ভব নয়।

প্রকৃতপক্ষে যেকোন ট্রান্সফরমার এর ইনপুট ফ্রিকুয়েন্সি কে কমবেশি করে এর আউটপুট ভোল্টেজ কমবেশি করা সম্ভব। এই সূত্রের ওপর নির্ভর করে এই পাওয়ার সাপ্লাই গুলো ডিজাইন করা হয়। সাথে আরো কিছু সূক্ষ্ণ জটিলতা আছে বৈকি। এ সূত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের সাইটে প্রকাশিত ট্রান্সফরমার তৈরির কৌশল লেখাটি পড়তে পারেন।

একটা প্রশ্ন প্রায়ই শুনি যে এই SMPS সাপ্লাই গুলোতে কেন ফেরাইট কোর ব্যবহার করে তা নিয়ে। মূলত এই সাপ্লাই গুলো ফ্রিকুয়েন্সি বা সুইচিং নির্ভর। তাই এমন একটি কোর দরকার যা কিনা উচ্চ ফ্রিকুয়েন্সিতেও সমান ভাবে কাজ করতে সক্ষম। আর তার জন্যই এই ফেরাইট কোর ব্যবহার করে। সাধারন আয়রন কোর মাত্র ২০ হার্জ থেকে ২০ কিলোহার্জ (অডিও রেঞ্জ) পর্যন্ত কাজ করতে পারে। তাও গুণগত মানের ভালো কোর হলে। সেক্ষেত্রে স্পট ওয়েল্ডিং করে দেওয়া হয় ভাইব্রেশন বা নয়েজ কমানোর জন্য। এর উপরে হলেই ফেরাইট কোর চিন্তা করতে হয় ৷ কিন্ত সুইচ মোড পাওয়ার সাপ্লাই এ দরকার আরো হাই ফ্রিকুয়েন্সি, তাই ব্যবহার করা হয় ফেরাইট কোর। উল্লেখ্য, টিভি তে ব্যবহৃত ফ্লাইব্যাক ট্রান্সফরমার কে ফেরাইট কোর দ্বারা নির্মাণ করা হয় ঠিক একই কারনে। টিভির ফ্লাইব্যাক সাধারণত ১৬৬২৫ হার্জে সুইচিং করা হয়। ডিজাইন ভেদে পার্থক্য হয়, 15625 থেকে 16625 Hz এর মধ্যেই ব্যবহার করা হয়। তবে বেশীর ভাগ ডিজাইনই 15625 Hz ব্যবহার করা হয়

এখন কেউ যদি মনে করেন যে SMPS এর এই ফেরাইট ট্রান্সফরমার টি খুলে নিয়ে মেইন লাইনে লাগালেই হয়ত চলবে -তা হলে সেটা মারাত্মক ভুল হবে। কারন আগেই বলেছি যে এই ফেরাইট কোর ব্যবহার করে হাই ফ্রিকুয়েন্সি তে। তাই একে সাধারন মেইন লাইনে সরাসরি লাগালে কাজ করবে না বরং ট্রান্সফরমার পুড়ে যাবে ও আরো অনেক ক্ষতিও হতে পারে। তাই ভুলেও এ কাজটি করা উচিত হবে না। নিচের চিত্রে আমরা কিছু ফেরাইট কোর ট্রান্সফরমার দেখতে পাচ্ছি-

বিভিন্ন রকম ফেরাইট কোর ট্রান্সফরমার বা চপার
বিভিন্ন রকম ফেরাইট কোর ট্রান্সফরমার বা চপার

মূলত সুইচ মোড পাওয়ার সাপ্লাই এর জন্য চপার ট্রান্সফরমার যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এর সুইচিং সার্কিট টি। একটি ছাড়া অপরটি চলতে পারে না। এর সার্কিট ডিজাইন করতে এই হয় চপার ট্রান্সফরমার এর ডিজাইন অনুযায়ী। তাই এমন ধরনের পাওয়ার সাপ্লাই ডিজাইন করা বেশ শ্রমসাধ্য ও জটিল হিসাব নিকাশে পূর্ণ। তবে আশার কথা হলো আমাদের ইলেকট্রনিক্সের গবেষক মণ্ডলী এ নিয়ে কাজ করছেন এবং কিছুদিনের মধ্যেই দেশীয় ভাবে প্রস্তুতকৃত এমন প্রযুক্তি আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করে পারবো বলে আশা করছি।  

এই ট্রান্সফরমার কে উচ্চ ফ্রিকুয়েন্সি তে সুইচিং করে চালনা করা হয়। আর এই ফ্রিকুয়েন্সি কে নিয়ন্ত্রণ করেই ট্রান্সফরমার এর আউটপুট কে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সাধারনত সেকেন্ডারি থেকে একটা ফিডব্যাক লাইন থাকে। সেকেন্ডারি ভোল্ট কমলে বা বাড়লে এই ভোল্টজের পার্থক্য টা ফিডব্যাক এর মাধ্যমে ফ্রিকুয়েন্সি কনট্রোলারে/আইসি তে যায়। যার মাধ্যমে অভন্তরস্থ অসিলেটরের পালস ওয়াইডথ নিয়ন্ত্রন হয় আর তার ফলে সেকেন্ডারি তে সাম্যবস্থা আনে।

নিচে কম্পিউটারে ব্যবহৃত এমন একটি সুইচ মোড পাওয়ার সাপ্লাই এর চিত্র দেয়া হলো।

প্রদত্ত চিত্রেঃ

কম্পিউটারে ব্যবহৃত সুইচ মোড পাওয়ার সাপ্লাই
কম্পিউটারে ব্যবহৃত সুইচ মোড পাওয়ার সাপ্লাই

A: ইনপুট EMI ফিল্টারিং; তার সাথেই ব্রীজ রেক্টিফায়ার;
B: ইনপুট ফিল্টার ক্যাপাসিটর;
C: ফেরাইট ট্রান্সফরমার;
D: আউটপুট ফিল্টার কয়েল;
E: আউটপুট ফিল্টার ক্যাপাসিটর সমূহ।

আসলে সুইচ মোড সাপ্লাইয়ের কথা ও কাজ বলে শেষ হবে না। আমাদের কম্পিউটার থেকে শুরু করে টিভি, ডিভিডি, সেট টপ বক্স ইত্যাদিতে এটি হরহামেশা ব্যবহার হচ্ছে। আশা করি সংক্ষেপে যা বললাম তা নতুন পুরানো সবার কাজে লাগবে। আজকের মত এ পর্যন্তই। সামনে আবারো নতুন কোনো লেখা নিয়ে হাজির হবো আপনাদের সাথে। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। আর অবশ্যই সাইটে কমেন্ট করে উৎসাহ দিবেন আমাদের লেখকদের। সবার জন্য শুভকামনা।

বিশেষ কৃতজ্ঞতাঃ Lutfur Rahman Babul

জাভা প্রোগ্রামিংঃ প্রসেসিং এর খুঁটিনাটি – পর্ব ১

2
জাভা প্রোগ্রামিংঃ প্রসেসিং এর খুঁটিনাটি
জাভা প্রোগ্রামিংঃ প্রসেসিং এর খুঁটিনাটি

প্রসেসিং হচ্ছে একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। যদিও সঠিকভাবে বলতে গেলে প্রসেসিং হচ্ছে জাভায় লেখা একটি লাইব্রেরি। লাইব্রেরি কি সেটা এখনই আপনি বুঝতে গেলে মাথায় প্যাঁচ লেগে যেতে পারে। তাছাড়া মানুষজনের কাছে লাইব্রেরি শিখছি বলার চাইতে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শিখছি বলে বেশি ভাব নেয়া যায় 😛  তাই আমরা আপাতত প্রোসেসিংকে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজই বলব।

আপনি যদি আগে থেকে কোনও প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ না জানেন তাহলে আমি প্রসেসিং শেখাই রিকমেন্ড করব। কারণ, নতুন কেউ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিখতে গেলেই সাধারণত জাভা, সি, সি প্লাস প্লাস (Java, C, C++) ইত্যাদি দিয়ে শুরুকরে এবং এসব ল্যাংগুয়েজের খটমটে সিনট্যাক্স দেখে দুইদিনেই শখ পালায়, যার জ্বলন্ত প্রমাণ আমি 😀

নোটঃ সিনট্যাক্স (syntax) হচ্ছে- বিভিন্ন ভাষার যেরকম গ্রামার থাকে, সেরকম প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের গ্রামার। যেমন, লেখা স্ক্রিনে দেখানোর জন্য পাইথনে printf() লিখতে হয়, আবার জাভায় System.out.print লিখতে হয়। এখানে printf() পাইথনের সিনট্যাক্স ও System.out.print জাভার সিনট্যাক্স

আমি নিজে প্রথমে পাইথন শেখার চেষ্টা করেছিলাম। ২ সপ্তাহ শেখার পর বোর হয়ে গিয়ে ছেড়ে দিয়েছিলাম। কারণ সিনট্যাক্স মনে থাকতো না। পরে আবার সি প্লাস প্লাস শেখার চেষ্টা করেছিলাম, প্রায় হিব্রু ভাষার মত সিনট্যাক্স দেখে কয়েকদিন পরেই বন্ধ করে দিয়েছিলাম 😛

প্রসেসিং এর সিনট্যাক্স খুব সহজ তাই আপনি খটমটে সিনট্যাক্স মুখস্ত করায় সময় নষ্ট না করে প্রোগ্রামিং এর গভীরে সহজে চলে যেতে পারবেন। তাছাড়া এর সিনট্যাক্সগুলো বোঝা খুব সহজ। এমনকি আপনি এটি না পারলেও প্রোগ্রাম দেখেই আন্দাজ করতে পারবেন কি কাজ করে।

প্রসেসিং এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে, এই ল্যাংগুয়েজ এ আপনার প্রোগ্রাম দিয়ে খুব সহজেই ভিজুয়াল আউটপুট দিতে পারেন। অর্থাৎ, অন্য বেশিরভাগ ল্যাংগুয়েজে আপনার প্রোগ্রাম এর আউটপুট আসে লেখার আকারে। কিন্তু এটিদিয়ে আপনি চাইলে আপনার প্রোগ্রামকে শৈল্পিকভাবে আউটপুট দেয়াতে পারেন। যেমন- আপনি ইচ্ছা করলে এমন একটি প্রোগ্রাম লিখতে পারেন যেটা স্ক্রিনে একটা বল বাউন্স করাবে, আর প্রত্যেকবার বাউন্সের সাথে বলটির রঙ পরিবর্তন হবে। প্রসেসিং দিয়ে আপনি অ্যানিমেশন, গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেস, এমনকি আস্ত একটি গেমও বানিয়ে ফেলতে পারবেন! তাই, প্রসেসিং এ প্রোগ্রাম করতে করতে বোর হবার সম্ভাবনা খুবই কম।

আজকে আমরা প্রসেসিং এর বেসিক জিনিসগুলো দেখব, আর তার আগে আরেকটা কথা বলে নেই, এর উৎপত্তি যেহেতু জাভা থেকেই, তাই সিনট্যাক্সের অনেক মিল রয়েছে। আপনি এখন প্রসেসিং শিখলে পরে সহজেই জাভা শিখতে পারবেন। তবে, সব প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের  লজিক এক, তাই একটি ল্যাংগুয়েজ ভালমতো শিখলেই বাকিগুলো শেখা সহজ হয়ে যাবে।

যাইহোক, প্রসেসিং নিয়ে কাজ করার জন্য প্রথমে আমাদের প্রসেসিং সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করতে হবে। https://processing.org/download/?processing -এই লিঙ্ক থেকে প্রসেসিং সফটওয়্যার ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিন। তারপর প্রসেসিং ওপেন করলে এরকম একটি উইন্ডো ওপেন হবে-

প্রসেসিং ওপেন করলে এমন উইন্ডো আসবে
প্রসেসিং ওপেন করলে এমন উইন্ডো আসবে

প্রসেসিং এর প্রোগ্রামকে স্কেচ (sketch) বলা হয়। আপনি নতুন কোনো স্কেচ খুললে প্রসেসিং নিজে থেকেই sketch_12345a টাইপের একটা নাম দিয়ে দিবে, যা আপনি পরে পরিবর্তন করতে পারবেন। এবার উপরে ফাইল মেনুটি ক্লিক করলে কয়েকটি সাবমেনু আসবে-

  • ১। New অপশনটি ব্যাবহার করে আপনি নতুন একটি স্কেচ উইন্ডো খুলতে পারবেন।স্কেচ এ সাবমেনু
  • ২। Open অপশনটি ব্যাবহার করে আপনি আগে সেভ করা কোনো স্কেচ খুলতে পারবেন।
  • ৩। Open recent অপশনটির উপর কার্সর নিলে আপনার সম্প্রতি খোলা স্কেচগুলো দেখাবে, যা আপনি ক্লিক করে ওপেন করতে পারবেন।
  • ৪। Sketchbooks অপশনে ক্লিক করলে আপনার স্কেচগুলো যেই ফোল্ডারে সেইভ হয়, সেটি ওপেন হবে।
  • ৫। Examples এ প্রসেসিং এর উদাহরণ কোডগুলো রয়েছে।
  • ৬। Save এ ক্লিক করে আপনার স্কেচ সেভ করতে পারবেন।
  • ৭। Preferences এ গিয়ে আপনি প্রসেসিং এর সেটিংস ঠিক করতে পারবেন।

বাকি অপশনগুলো সম্পর্কে এই মুহূর্তে আমাদের না জানলেও চলবে।

কনসোল
কনসোল

এবার আমরা প্রসেসিং এর খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস, Console দেখি।

কনসোল প্রসেসিং এর নিচের দিকে থাকে। আপনার স্কেচ/কোডে কোনো সমস্যা দেখালে কনসোলে লাল কালীতে এরর মেসেজ দেখাবে। যেগুলো আপনি না বুঝলে কপি করে নেটে সার্চ করে দেখতে পারেন কোনটির কি মানে।

এখন আমরা প্রসেসিং এর ইন্টারফেসের সাথে মোটামুটি পরিচিত হয়েছি।  এবার প্রসেসিং এ একটি বৃত্ত আঁকা ও ব্যাকগ্রাউন্ডের রঙ পরিবর্তন করা শিখবো।

void setup()  {
size (500,500);
}

প্রথমে আমরা প্রসেসিং এ এই লেখাটা লিখে ফেলি। এই void setup()  হচ্ছে স্কেচের মূল ২টি অংশের একটি। এখানে আমরা যে কমান্ডই লিখি কম্পিউটার সেটা শুধুমাত্র ১বার এক্সিকিউট/পালন করবে। তাই যেসব কাজ স্কেচে ১বার করলেই চলে সেগুলো void setup() এ লেখা হয়। void setup()  এর পর সেকেন্ড ব্র্যাকেট দিয়ে ব্র্যাকেট শেষ করতে হয়। এবং এই সেকেন্ড ব্র্যাকেটের মাঝখানে কোড লিখতে হয়। নতুন প্রোগ্রামাররা সাধারণত এই ব্র্যাকেট শুরু করে শেষ করতে ভুলে যায় তাই কোডে এরর আসে ( আমি এখনো এই ভুল করি মাঝে মাঝে 😛 ) তাই ব্র্যাকেট মনে করে ঠিকমত দিতে হবে।

এবার, আমরা যে size (900,500);  লাইনটা লিখেছি, তার মানে হচ্ছে আমরা যে স্কেচটি রান করাবো, সেটি ৯০০ বাই ৫০০ পিক্সেলের একটি উইন্ডোতে খুলবে। পিক্সেল (pixel) হচ্ছে মনিটরের ক্ষুদ্রতম একক।  এখানে, size লিখে ( ) ব্র্যাকেটের মাঝখানে ২টি সংখ্যা দিতে হবে, যার প্রথমটা হবে উইন্ডোটির Width/ দৈর্ঘ্য ও পরেরটি প্রস্থ। আর size লেখাটা অবশ্যই ছোটহাতে লিখতে হবে, নইলে এরর আসবে। sketch (900,500) লিখে একটি সেমিকোলন ;  দিতে হবে। প্রসেসিং এ প্রায় সব লাইনের শেষেই সেমিকোলন দিতে হয়। যাতে কম্পিউটার বুঝতে পারে ওই লাইনটি শেষ করা হয়েছে। আমরা যেমন লিখতে গিয়ে দাড়ি দেই। তেমনি প্রসেসিং এ সেরকম সেমিকোলন দিতে হয়। এই সেমিকোলন নিয়মিত দেয়াও আমাদের অভ্যাস করে ফেলতে হবে।

এবার আমরা স্কেচের পরের অংশ লিখি –

void draw(){
background (0,215,215);
ellipse (20,20, 100,100);
}

Void draw()  হচ্ছে স্কেচের মূল অংশের দ্বিতীয়টি। এখানেও void setup() এর মতই সেকেন্ড ব্র্যাকেট দিয়ে মাঝকানে কোড লিখতে হয়। তবে পার্থক্য হচ্ছে, এখানে যা লেখা হয় সেটা কম্পিউটার বারবার রান করতে থাকে। যেমন, void setup এ কম্পিউটারকে এক পা হাটতে বলা হলে কম্পিউটার এক পা হেটে থেমে যায়, কিন্তু void draw তে এক পা হাটতে বলা হলে কম্পিউটার একই আদেশ বারবার পালন করতে থাকে, হাটতে হাটতে উত্তরমেরু পৌঁছে যায় 😀

এখানে আমরা background (0,215,215);  লাইনটি লিখে স্কেচ যে উইন্ডোতে খুলবে সেটার background রঙ ঠিক করেছি। background এ ব্র্যাকেট এর ভিতর প্রথম সংখ্যাটি হচ্ছে তা রঙ এ লাল এর পরিমাণ কতটুকু থাকবে। পরের সংখ্যাটি ঠিক করে সবুজ রঙ এর পরিমাণ। এবং শেষ সংখ্যাটি নীল রঙ এর পরিমাণ। ইংরেজিতে সঙ্খেপে RGB (red,green,blue) বলা হয়। এখানে আপনি সংখ্যাগুলো বাড়িয়ে কমিয়ে পছন্দমত রঙ ঠিক করতে পারেন। আমি আকাশী নীল রঙ এর value দিয়েছি।

ellipse  (50,50,300,300);  এই লাইনটি দিয়ে আমি একটি স্কেচে একটি বৃত্ত (ellipse) ঢুকিয়েছি। ellipse লেখাটার পরে ( ) এর ভিতর প্রথম সংখ্যাটি বৃত্তের X,Y Position, তারপরের ২টি সংখ্যা হচ্ছে যথাক্রমে বৃত্তের Width, Height. X position এ যা বসাবেন তা হচ্ছে স্ক্রিনের বামদিকে থেকে তত পিক্সেল ডানে বৃত্তের অবস্থান, আর Y positon এ যা বসাবেন সেটি হচ্ছে স্ক্রিনের উপর দিক থেকে তত নিচের পিক্সেলে বৃত্তের অবস্থান। Width ও Height সমান দিলে বৃত্তটি নিখুঁত গোল হবে (ইশ! স্কুলের ড্রয়িং ক্লাসে যদি প্রসেসিং ব্যাবহার করতে দিত! 🙁 ), Width আর Height ২টা ভিন্ন হলে আপনার বৃত্ত মুরগির ডিমের আকারও হয়ে যেতে  পারে! 😀

উল্লেখ্য- এখানে ellipse ও background লাইনদুটোর শেষে সেমিকোলন বসবে।

প্রসেসিং এর উপরের দিকে দুটি বাটন আছে, একটি ত্রিভুজ আকৃতির, যেটায় ক্লিক করলে প্রোগ্রাম রান করে। চতুর্ভুজ এ ক্লিক করলে প্রোগ্রাম বন্ধ হয়ে যায়। আপনার স্কেচটি সেইভ করে রান করুন।

প্রোগ্রাম রান ও বন্ধ করা
প্রোগ্রাম রান ও বন্ধ করা

সব ঠিক থাকলে আপনার এরকম একটি উইন্ডো খোলার কথা।

কোডিং রান করবার পর
কোডিং রান করবার পর

অভিনন্দন,আপনি প্রসেসিং এ আপনার প্রথম স্কেচ সফলভাবে করতে পেরেছেন! 🙂

যদি এরর আসে, তাহলে সব লেখা ছোটহাতের লিখেছেন কিনা, ব্রাকেট ঠিকমতো দিয়েছেন কিনা, সেমিকোলন দিয়েছেন কিনা চেক করুন। তারপরও না পারলে, এরর মেসেজটা কপি করে কমেন্টে জিজ্ঞেস করুন।

আজকের মত এটুকুই।

ট্রানজিস্টর দিয়ে মিউজিক পালস এলইডি

2
ট্রানজিস্টর দিয়ে মিউজিক পালস এলইডি
ট্রানজিস্টর দিয়ে মিউজিক পালস এলইডি

সূচনাঃ

মিউজিক আমরা সবাই কম বেশি পছন্দ করি। কেউ পছন্দ করি বেশি বেজ, কেউ বেশি ট্রেবল আবার কেউ দুইটাই। আর আমরা প্রায়শই বিভিন্ন পার্টি, ক্লাব বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখে থাকি যে মিউজিক এর বেজ এর তালেতালে কিছু লেজার লাইট, এলইডি লাইট জ্বলছে আর নিভছে যাকে আমরা মিউজিক পালস নামে চিনি (অন্য নাম মিউজিক্যাল স্ট্রোব লাইট – Musical Strobe Light)।  আজ সেরকম একটিই মজার জিনিস বানানো শিখব। তবে চলুন আর দেরি না করে কাজে লেগে পড়ি

প্রয়োজনীয় উপকরণঃ

  • ১। TIP 31 Transistor
  • ২। কিছু এল ই ডি
  • ৩। ৯ ভোল্ট ব্যাটারি

মিউজিক পালস এলইডি সার্কিট ডায়াগ্রামঃ

ট্রানজিস্টর দিয়ে মিউজিক পালস স্ট্রোব লাইট সার্কিট ডায়াগ্রাম
ট্রানজিস্টর দিয়ে মিউজিক পালস স্ট্রোব লাইট সার্কিট ডায়াগ্রাম

কিছু সমস্যা ও তা দূরীকরণঃ

এটি খুব ছোট একটি সার্কিট। তাই তেমন কোন সমস্যা থাকার কথা না। আর তাছাড়াও এই সার্কিট টি একাধিক বার পরীক্ষা করা। তার পরেও যদি কোন সমস্যা হয়েই থাকে তাহলে প্রথমে ব্যাটারী চেক করে দেখুন ফুল চার্জ আছে কিনা। আর কানেকশন গুলো আবার ভাল করে পরীক্ষা করুন। কিছু সময় লক্ষ করা যায় সব ট্রানজিস্টরের লেগ গুলো নেটের ডায়াগ্রামের সাথে মিল পড়ে না। প্রয়োজনে উলটো করে লাগিয়ে দেখতে পারেন। এর বাইরেও কোন সমস্যা থাকলে কমেন্ট করুন উত্তর দিতে চেষ্টা করবো।

কাজের নির্দেশনাঃ

নিচে দেওয়া ডায়াগ্রাম অনুযায়ী সার্কিটে কানেকশন দিতে হবে। আর যে কোন ডিভাইসের অডিও আউটপুট থেকে যেকোন চ্যানেল যেমনঃ বাম চ্যানেল (Left Channel) অথবা ডান চ্যানেল (Right Channel) ব্যবহার করতে পারেন।

উদাহরণঃ

যদি এম্পলিফায়ার এর বাম দিকের চ্যানেল (Left Channel) ব্যবহার করতে চান সেক্ষেত্রে শুধু বাম অডিও পিন থেকে আউট আর গ্রাউন্ড নিলেই হয়ে যাবে।

এলইডি এর সাইজঃ

যদি ৩ টি সাদা এলইডি ব্যবহার করতে চান তাহলে ৯ ভোল্টই যথেষ্ঠ। তবে এখানে এলইডি বাড়িয়ে ভোল্টেজও বাড়িয়ে দিতে পারবেন। তবে ম্যাক্সিমাম ৪০ ভোল্ট পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন একটি ট্রানজিস্টরের ক্ষেত্রে। সার্কিট বড় করতে চাইলে ব্রিজ পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। আমি ৩ টি সাদা ১ ওয়াটের এলইডি সিরিজে ব্যবহার করেছিলাম।

উপকারিতাঃ

এটি আপনার ঘরের সৌন্দর্য বর্ধনে ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া কোন পার্টি বা অনুষ্ঠানে আপনার বানানো মিউজিক পালস হিসেবে ব্যবহার করতেই পারেন নিজের বানানো জিনিস হিসেবে। বিভিন্ন কালারের নিওন টাইপ এল ই ডি ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।

আবশ্যিক বিষয়ঃ

এই কাজের জন্য অবশ্যই ভাল মানের তার ব্যবহার করা আবশ্যক। তাছাড়া মোবাইলের অডিও আউট-পুট থেকে ভাল ব্যাক-আপ নাও পেতে পারেন। আর এটি কম্পিউটার বা অডিও আউট-পুটে মোটামুটি হাই ভোল্টেজ আসে এরকম ডিভাইসের সাথে লাগালে ভাল ফলাফল পাবেন।

নোটঃ এই সার্কিট ব্যবহার করলে ডিভাইসের একটি চ্যানেল সরাসরি এই সার্কিটে আসবে। কাজেই অপর একটি চ্যানেল শুধু ব্যবহার করা যাবে গান শুনবার জন্য।

সমাপ্তিঃ

আজ এ পর্যন্তই । আগামি দিন আরও নতুন ও চমকপ্রদ জিনিস নিয়ে আসব। আর এই প্রজেক্ট টিউটিরিয়াল টি পড়ে ভাল লাগলে নিচে লাইক এবং শেয়ার করতে ভুলবেন না। আর আমাদের ওয়েবসাইটের প্রশ্ন/উত্তর সেকশনে আপনার যেকোন সমস্যার কথা সরাসরি তুলে ধরতে পারেন। আমাদের স্পেশালিস্টরা সব সময় আপনার সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তুত।

স্বীকারক্তিঃ

এই ডায়াগ্রামটি নেট থেকে নেয়া। তবে সার্কিট টি আমি নিজে বানিয়ে ব্যবহার করেছি। আনন্দও পেয়েছি অনেক। তাই ভাবলাম আমার আনন্দ আপনাদের মাঝে শেয়ার করি। আপনাদের কেও আনন্দিত করবে আমি নিশ্চিত। তাই দেরি না করে বানিয়ে ফেলুন এই মিউজিক পালস এলইডি।  ধন্যবাদ সকলকে।

খুব সহজেই বানিয়ে নিন ফায়ার এলার্ম

2
বানিয়ে নিন সহজ ফায়ার এলার্ম
বানিয়ে নিন সহজ ফায়ার এলার্ম

ফায়ার এলার্মঃ অগ্নিকান্ড একটি মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞ৷ এর ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়৷ অনেক প্রান অকালে ঝরে পড়ে৷ আগুনের তাণ্ডবের ফলে সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়৷ অনেক সময় অসতর্কতাবশত অগ্নিকান্ড ঘটে৷ এই অনাকাঙ্খিত আগুন যাতে দ্রুত নিয়ন্ত্রনে আনা যায় তার জন্য রয়েছে ফায়ার এলার্ম। আগুন থেকে বাঁচার জন্য একটি আধুনিক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি৷ আজকে তেমনি একটি সহজ কিন্তু কাজের সার্কিট দেখব।

এই ফায়ার এলার্মটি প্রজেক্ট হিসেবে বিজ্ঞান মেলাতে প্রদর্শন করা যেতে পারে৷

ফায়ার এলার্ম সার্কিট ডায়াগ্রামঃ

ফায়ার এলার্ম সার্কিট ডায়াগ্রাম
ফায়ার এলার্ম সার্কিট ডায়াগ্রাম

সার্কিট এর কার্যকারিতাঃ

সার্কিটটিতে মাত্র একটি ট্রানজিস্টর রয়েছে৷ আর আমরা এখানে থার্মিস্টর এর পরিবর্তে টিউব লাইটের স্টার্টার এর ভিতরের ছোট লাইট ইউজ করবো৷ ওটা আমাদের সুইচ হিসাবে কাজ করবে৷ যখনি ওই সুইচ এ আগুন বা তাপ লাগবে সাথে সাথেই সার্কিটে থাকা বাজারটি সংকেত দিবে৷ কাজেই উক্ত স্টার্টার টিকে এমন স্থানে রাখতে হবে যেখানে আগুন লাগবার সম্ভাবনা আছে। যেমন গুদাম, ঘরের ইলেকট্রিক তার বা মেইন সুইচের কাছে।

fire-alaram-ckt-diagram3পার্টস লিস্টঃ

  • ১. ১টা 10uF ক্যাপাসিটর।
  • ২. ১টা রেজিস্টেন্স (১ কিলো ওহম)
  • ৩. ১টা ভেরিয়াবেল রেজিস্টেন্স (১০ কিলো ওহম)
  • ৪. ১টা ট্রানজিস্টর  (BC547, BC548, C828, D400)
  • ৫. ১টা ডায়োড (1N4007, 1N4148 )
  • ৬. ১টা ৬ ভোল্টের বাজার (Buzzer)
  • ৭. থার্মিস্টর অথবা টিউব লাইট স্টার্টারের ভিতরের ছোট লাইট

টিউব লাইটের স্টার্টার দেখতে কেমন ও ভেতরে কি থাকেঃ

টিউব লাইটের স্টার্টার দেখতে কেমন ও ভেতরে কি থাকেঃ
টিউব লাইটের স্টার্টার দেখতে কেমন ও ভেতরে কি থাকে

**নোটঃ সার্কিট টিতে মূলত থার্মিস্টর ব্যবহার করা হয়েছিল। আমি সৈয়দ রাইয়ান ভাইয়ের পরামর্শে টিউব লাইট স্টার্টারের ভেতরে থাকা ছোট বাল্ব কে ব্যবহার করেছি। ভালো মানের থার্মিস্টর আমাদের এখানে পাওয়া যায় না তাই।

থার্মিস্টর দেখতে কেমনঃ

নিচে কিছু থার্মিস্টর (Thermistor = Thermal Resistor) এর ছবি দেয়া হলো। নাম শুনেই নিশ্চই বুঝতে পারছেন এর রোধ তাপমাত্রার সাথে সাথে কমে-বাড়ে।

বিভিন্ন আকারের থার্মিস্টর
বিভিন্ন আকারের থার্মিস্টর

কিভাবে সার্কিট অ্যাডজাস্ট করবোঃ

সার্কিটটিতে ১টা ভেরিয়েবল রেজিস্টর আছে যা কমবেশি করার মাধ্যমে সার্কিটের সেন্সিটিভিটি কম বেশি করা যায়৷ এটা করতে হয় থার্মিস্টর ব্যবহার করলে। স্টার্টারের ক্ষেত্রে প্রয়োজন নেই।

নোটঃ বাযারের (Buzzer) এর পরিবর্তে LED কিংবা রীলে ব্যবহার করা যাবে৷

 

 

সার্কিট টেস্ট করাঃ

নিচের চিত্রের মত করে টেস্ট করুন। স্টার্টারের বাল্বে ম্যাচের কাঠি কিংবা লাইটারের আগুন কিছুক্ষন ধরে রাখলেই এলার্ম / বাযার বাজতে শুরু করবে।

ফায়ার এলার্ম টেস্টিং
ফায়ার এলার্ম টেস্টিং

তাহলে বন্ধুরা, দেরি না করে এখনি বানিয়ে ফেলুন এই ফায়ার এলার্ম।