আমাদের ইলেক্ট্রনিক্স এর সকল ভাই বন্ধু ও শ্রদ্ধেও বড় ভাইদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও
অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি Arduino ও ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক্স এর উপর চেইন টিউন এর প্রথম পর্ব ।
আমি প্রথমেই বলে নিচ্ছি আমার এই টিউটোরিয়াল টা শুধুমাত্র তাদের জন্য যাদের বেসিক ইলেক্ট্রনিক্স সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা আছে ।
প্রথমেই আমরা জানব Arduino কি? এবং Arduino কেন ব্যবহার করব ?
Arduino কি ?
আরডুইনো হলো ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক্স এ মাইক্রকন্ট্রলার ভিত্তিক একটা ডেভলপমেন্ট বোর্ড। এখন প্রশ্ন আসতে পারে মাইক্রকন্ট্রলার কি? মাইক্রকন্ট্রলার হল একটা ছোট্ট চিপ বা আইসি, যেটাকে আমরা একটা সম্পুর্ন কম্পিউটারের এর সাথে তুলনা করতে পারি। কম্পিউটারের যেমন র্্যাম,রম,প্রসেসর,ইনপুট,আউটপুট ইত্যাদি থাকে তেমনি একটি মাইক্রকন্ট্রলার এরও র্্যাম,রম,প্রসেসর,ইনপুট,আউটপুট ইত্যাদি আছে। আমরা কম্পিউটার দিয়ে যখন কোনো কাজ করতে চাই তখন কম্পিউটার কে কাজের উপযোগি করে তোলার জন্য সাধারনত বিভিন্ন সফটত্তয়্যার বেবহার করি তেমনি মাইক্রকন্ট্রলার কে দিয়ে কোনো কাজ করাতে চাইলে মাইক্রকন্ট্রলার এর জন্য ওই কাজের ওপর একটা সফটত্তয়্যার তৈরি করে নিতে হয়। কিভাবে আমরা আরডুইনোর জন্য একটা সফটত্তয়্যার তৈরি করব সেটা ধাপে ধাপে শিখব।
কম্পিউটার বা মাইক্রকন্ট্রলার একটা নিজস্ব ভাষা আছে এই ভাষাকে বলা হয় “মেশিন ল্যাংগুয়েজ” । কম্পিউটার বা মাইক্রকন্ট্রলার কে যদি এই ভাষাতে কিছু বুঝাতে হয় তাহলে আমাদের অন্য একটা ভাষার সাহায্য নিতে হবে।
যেমন, একজন আফ্রিকার লো্ককে যদি আমি কিছু বুঝাতে চাই তাহলে আমাকে ইংরেজি ভাষা বেবহার করতে হবে। কম্পিউটার বা মাইক্রকন্ট্রলার কে বোঝানো্র জন্য এই ভাষাগুলকে বলা হয় প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ । উচ্চমানের প্রোগ্রামাররা প্রোগ্রামিং এর জন্য অনেক ধরনের ভাষা ব্যবহার করে থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সি, সি++,পাইথন,বেসিক ইত্যাদি ইত্যাদি । এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল “সি” ।
আর তাই আরডুইনতে আমরা সি ল্যাংগুয়েজ ই ব্যবহার করব।
Arduinoকেন ব্যবহার করব ?
আরডুইনো হলো এমন একটা ডেভলপমেন্ট বোর্ড যার সমস্ত সোর্স কোড ও লাইব্রেরি আরডুইন এর নিরমাতা সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে, আর এ কারনেই আরডুইনকে open source hardware ও বলা হয় । আমরা চাইলেই এর সোর্স কোডকে ইচ্ছা মত পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করতে পারি। এ কারনে আরডুইনকে আমরা আমাদের প্রগ্রামিং শেখার ট্রেইনার বোর্ড হিসাবে ব্যবহার করব
Arduino পরিচিতি।
বাজারে অনেক ধরনের আরডুইন পাওয়া যায় যেমন, Arduino uno, Arduino mega,Arduino lionardo ইত্যাদি ইত্যাদি । এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল আরডুইন ইউ,এন,ও । এর কারন হল এটা বাজারে সহজলভ্য এবং দামেও সস্তা ।
উপরে আমরা একটা Arduino uno ও এর পিন বিবরন দেখতে পাচ্ছি। Arduino uno তে মুলত এটিমেল সিরিজ এর atmega328p মাইক্রকন্ট্রলার ব্যবহার করা হয়েছে, যার পিন সংখ্যা ২৮ । আর এ কারনেই আমরা Arduino uno তে প্রায় ২০ টার মত ইনপুট ও আউটপুট পিন পাবো । আসুন পিন গুলোর কাজ একে একে জেনে নিই।
Arduino uno এর ০ ও ১ নং পিনকে যথাক্রমে RX ও TX পিন বলা হয় । এই পিন দুইটি সাধারনত কম্পিউটার কিংবা অন্য কোন ডিভাইস এর সাথে সিরিয়াল কমিউনিকেশন এর জন্য ব্যবহার হয়।
এরপর যথাক্রমে ২ থেকে ১৩ নং পিন গুলোকে বলা হয় ডিজিটাল পিন এই পিন গুলোকে ডিজিটাল ইনপুট বা আউটপুট পিন হিসাবে ব্যবহার করা যায় ।
যথাক্রমে A0 থেকে A5 পিন গুলোকে বলা হয় এনালগ ইনপুট পিন এই পিন গুলোকে মুলত এনালগ ভ্যালু রিড করার জন্য ব্যবহার করা হয় এছাড়াও এই পিন গুলোকে আউটপুট হিসাবেও ব্যবহার করা যায় ।
এ বাদেও বিশেষ কিছু কাজের জন্য যথাক্রমে ৩,৫,৬,৯ ও ১১ নং পিন দিয়ে PWM signal তৈ্রি করা যায় । এ সম্পর্কে বিস্তারিত আমরা পরে জানতে পারব।
এই পিন গুলো বাদেও Arduino uno তে আছে Re্set পিন, 5vপিন, Gnd পিন এবং ICSP পিন,
আজকে আমরা এই পরজন্তই শিখব, আগামি দিন শিখব কিভাবে “আরডুইন আই,ডি,ই” ও “সি ল্যাংগুয়েজ” ব্যবহার করে আরডুইনর জন্য একটা প্রোগ্রাম লেখা বা একটা সফটওয়্যার তৈরি করা যায় ।
হাই ভোল্টেজ প্লাজমা গ্লোব/ল্যাম্প তৈরি - মজার বিজ্ঞান প্রজেক্ট
হাই ভোল্টেজ প্লাজমা গ্লোব বা প্লাজমা ল্যাম্প বিজ্ঞান মেলার জন্য দারুণ একটি প্রজেক্ট। এটি একটি গোলোকের মধ্যে খেলাকরা কিছু প্লাজমা যেগুলা আসলে হাই ভোল্টেজ স্পার্ক। অনেকটা যেন ছোট গোলকের ভেতরে বজ্রপাতের কৃত্রিম দৃশ্য! আবার কিছু ভুতুড়ে মুভিতেও আমরা প্লাজমা গ্লোব দেখেছি। ডাইনীরা ওগুলা দিয়ে ভবিষ্যৎ বলে দিচ্ছে এমন দৃশ্য আমরা অহরহ মুভিগুলোতে দেখি। আজকের এই টিউটোরিয়াল এ আমরা শিখব কিভাবে একটি টাংস্টেন বাল্ব দিয়ে নিজেই একটি সহজ প্লাজমা গ্লোব তৈরি করতে পারি।
বিশেষ সতর্ক বার্তাঃ এই প্রজেক্ট এর সাথে হাই ভোল্টেজসম্পর্কিত তাই বিশেষ সাবধানতা নিতে হবে। প্লাজমা গ্লোব/ প্লাজমা ল্যাম্প বানানোর সময় আপনার শক খেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে তাই হাতে রাবার এর গ্লাভাস পড়লে ভালো হয়। হাই ভোল্টেজট্রান্সফরমারএর সাথে কানেকশন দেওয়ার সময় কিংবা প্রজেক্ট এ মেইন লাইন দেয়া অবস্থায় যেন এর উন্মুক্ত অংশ গুলোর সাথে কোন ভাবেই হাতের স্পর্শ না লাগে সে দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। প্লাজমা গ্লোব বানানোর শেষ হলে গ্লোব স্পর্শ করা যাবে না কারণ এখানে অনেক শক্তিশালী বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় তাই এটি বিপদজনক।
প্রয়োজনীয় উপকরণঃ
প্লাজমা গ্লোব/ল্যাম্প টি বানাতে হলে আমাদের প্রথমে একটি হাই ভোল্টেজ উৎস তৈরি করতে হবে। এই প্রজেক্ট এর প্রাণই হলো হাই ভোল্টেজ। তাই এখানে উপকরণ গুলোর সিংহভাগই হলো হাই ভোল্টেজ এর জন্য। এর জন্য যা ব্যবহার করতে হবে সেগুলো নিচে দেয়া হলো-
৬. লোহার বা এ্যালুমিনিয়ামের নেট বা এ্যালুমিনিয়াম ফয়েল।
৭. একটি গ্লু গান
৮. একটি বক্স যেটাতে স্থাপন করবেন
প্লাজমা গ্লোব/ল্যাম্প তৈরির প্রয়োজনীয় মূল উপকরন সমূহ
উপরের ছবিগুলো উপকরণ গুলো নির্দেশ করে যেভাবে তৈরি করবেন :
ধাপ ১ – হাই ভোল্টেজ পাওয়ার সাপ্লাই তৈরি
এখন আমরা হাই ভোল্টেজপাওয়ার সাপ্লাই তৈরি করব। প্রথমে প্লাগটি নিন এবং ওতে তার জুড়ে দিন।
ধাপ ২ – প্লাগ ও রেগুলেটর সংযুক্তকরণ
এবার প্লাগ এর দুটি তার এর একটি নিয়ে রেগুলেটর এর সাথে জুড়ে দিন এবং রেগুলেটর বক্স এর উপরে ছিদ্র করে গ্লু দিয়ে জুড়ে দিন। বক্স এর ভিতর তার প্রবেশ করার সময় দুটো ছিদ্র করে নিন।
ধাপ ৩ – ক্যাপাসিটর সংযুক্তকরণ
এখন রেগুলেটর এর আরেকটি তার ক্যাপাসিটর এর এক প্রান্তের সাথে জুড়ে দিন এবং ক্যাপাসিটর টি গ্লু দিয়ে বক্সে স্থাপন করুন।
ধাপ ৪ – ইগনিশন কয়েল সংযুক্তি
এবার ক্যাপাসিটর এর আরেক প্রান্ত জুড়ে দিন ইগনিশন কয়েল এর একটি পিন এ। নিচের ছবি অনুসরণ করুন
ইগনিশন কয়েল এর সাথে তারের সংযোগ চিত্র
কালো তারটি ক্যাপাসিটর থেকে নীল তার যুক্ত পিন টির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। নীল তারটির কাজ পরের ধাপে বোঝাবো
ধাপ ৫ – ইগনিশন কয়েলের সাথে অন্য তারটি সংযুক্তি
এখন প্লাগ থেকে দুটি তার এর একটি আমরা আগেই রেগুলেটর এর সাথে লাগিয়েছি। বাকি রইল আর একটি। আমরা সেটি ইগনিশন কয়েল এর যেই প্রান্তে ছোট পিন এর সাথে কালো তার টি লাগিয়েছি তার বিপরীত প্রান্তের বড় ছিদ্র যুক্ত পিনের সংগে লাগাবো।
ইগনিশন কয়েল এর সাথে তারের সংযোগ চিত্র – ২
ধাপ ৬ – হাই ভোল্টেজ আউটপুট লাইন বের করা
আমাদের হাই ভোল্টেজের কাজ প্রায় শেষ। এখন আমরা শুধু আউটপুট লাইন বাইরে এনে গ্লু করব। মনে আছে ওই নীলরং এর তারটি? আমরা ওটা এবং ইগ্নিশন কয়েল এর সবচেয়ে বড় তারটি বক্স এর ঢাকনার সাথে ফুটো করে জুড়ে দেব।
প্লাজমা গ্লোবের হাই ভোল্টেজ তার দুটিকে কাছে আনলে এমন স্পার্ক দেখা যাবে
এখন প্লাগটি আপনি যেকোনো সকেট এ ঢুকিয়ে দিন এবং রেগুলেটর দিয়ে ভোল্টেজ ও ফ্রিকুয়েন্সি ঠিক করে নিন। এরপর আপনি তার দুটিকে কাছাকাছি আনলে তাদের মাঝে স্পার্ক দেখবেন।
কিন্ত সতর্ক থাকবেন। কাজটি বিপদজনক। আপনার হাই ভল্টেজ তৈরি হয়েগেল। এটি আপনার অন্যান্য প্রেজেক্ট এও কাজে লাগতে পারে। এখন আমরা প্লাজমা গ্লোব টি তৈরি করি-
ধাপ ৭ – প্লাজমা গ্লোব/ল্যাম্প তৈরি
বালব টি নিন। ওটা হোল্ডারে স্থাপন করুন। আমি পুরানো ফিউজ হয়ে যাওয়া বাল্ব ব্যবহার করেছি। আপনি চাইলে ভালো বাল্ব ও ব্যবহার করতে পারেন। তাতেও কাজ হবে। মনে রাখবেন এই প্রজেক্টের জন্য অবশ্যই টাংস্টেন বাল্বই ব্যবহার করতে হবে।
প্লাজমা ল্যাম্প/গ্লোব প্রজেক্টে ব্যবহারের জন্য বাল্ব ও হোল্ডার
ধাপ ৮ – প্লাজমা ল্যাম্পের উপর ধাতব নেট স্থাপন
এখন একটি ধাতব নেট নিয়ে বাল্ব এর আকার অনুযায়ী কাটুন এবং বাল্বের উপর চিত্র অনুযায়ী স্থাপন করুন। মশা মারার ব্যাট এ এমন সুক্ষ নেট থাকে। সেগুলোও ব্যবহার করতে পারেন।
হাই ভোল্টেজ প্লাজমা ল্যাম্প প্রজেক্টের জন্য বাল্বের উপরে ধাতব নেট স্থাপন
প্লাজমা ল্যাম্প/গ্লোব কানেকশন ডায়াগ্রাম
বুঝবার সুবিধার্থে উপরোক্ত ধাপ গুলোকে ডায়াগ্রাম আকারে নিচে দেখানো হলো-
আমাদের কাজ এখন শেষ। আমরা এখন বালব এর হল্ডারের নিচের টারমিনালের সাথে বড় তার এর সংযোগ দিব এবং নেট এর সাথে নিল তারটি যুক্ত করব। তারপরই বিদ্যুতিক সংযোগ দিলে আমরা বালব এর মধ্যে প্লাজমা দেখতে পাব।
মনে রাখবেন। এই প্লাজমায় কিন্তু হাত দিবেন না।
প্লাজমা ল্যাম্প এর ভেতরে দৃশ্যমান হাই ভোল্টেজের কারণে সৃষ্ট প্লাজমা
আশা করি আমার প্রজেক্ট আপনাদের ভালো লাগল। আরো প্রজেক্ট নিয়ে আবারো আপনাদের সাথে দেখা হবে। আজকে এখানেই সমাপ্ত করলাম। ভালো থাকবেন।
সবার বুঝবার সুবিদার্থে আমাদের ইলেকট্রনিক্স ইউটিউব চ্যানেলে এই প্লাজমা গ্লোবের ভিডিও দেয়া হয়েছে। আশাকরি ভিডিও টিউটোরিয়াল টি দেখলে সকলের বুঝতে অনেক বেশি সুবিধা হবে-
পাদটিকা-
প্লাজমা
পদার্থের তথাকথিত চতুর্থ অবস্থা। কঠিন, তরল, বায়বীয় অবস্থা ছাড়াও উচ্চতাপে কোন গ্যাস এর বিশেষ আয়নিত অবস্থাকে প্লাজমা বলে। এটি প্রায় সম সংখ্যক মুক্ত ইলেকট্রন ও ধনাত্মক আয়নের সমন্বয়ে গঠিত হয়। সাধারণ গ্যাস বায়বীয় কিন্তু আয়নিত নয়। অপরদিকে প্লাজমা আয়নিত এবং এই বৈশিষ্ঠ্যের জন্য একে বিশেষ শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে যাকে পদার্থের চতুর্থ অবস্থা বা Fourth state of matter আখ্যা দেয়া হয়েছে।
আরডুইনোতে ইপিরমের ব্যবহার করে আজকের টিউটোরিয়াল– আরডুইনো নিয়ে আজকের টিউটোরিয়ালে আমরা শিখব কিভাবে আরডুইনোর ইপিরম (EEPROM) এর ব্যবহার করতে হয়। মাইক্রোকন্ট্রোলারে ইপিরম খুবই কমন একটি শব্দ। EEPROM এর সম্পূর্ণ অর্থ হল electrically erasable programmable read-only memory. অর্থাৎ যার মেমোরিকে বৈদ্যুতিক ভাবে রাইট ও ইরেজ করা যায়,
আরডুইনোর(ATmega328p) ইপিরমের সাইজ 2KB. তবে এর থেকে বেশী ডেটা সংরক্ষণের প্রয়োজন হলে এক্সারনাল ইপিরম ব্যবহার করা যেতে পারে।
16Kb এর ইক্সটারনাল ইপিরম
বলে রাখা ভাল যে, আমি ইলেকট্রনিক্স/ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কোন স্টুডেন্ট নই। জেনারেলের স্টুডেন্ট। ইলেকট্রনিক্স নিয়ে কাজ করতে ভাল লাগে তাই করি। আর ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্সেও পথচলা খুব বেশী দিনের নয়। তাই, স্বাভাবিক ভাবেই লেখাতে ভূলভ্রান্তি থাকতে পারে। যদি সেরকম কিছু পেয়ে থাকেন তাহলে আমাকে জানালে লেখা আপডেট করে দিবো।
আরডুইনোতে ইপিরমের ব্যবহার কেন করে?মাইক্রোকন্ট্রোলার এ স্থায়ীভাবে ডেটা সংরক্ষণের জন্য ইপিরমের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আরডুইনোতে নিজস্ব ইপিরম লাইব্রেরী থাকায় অন্যান্য মাইক্রোকন্ট্রোলার অপেক্ষা আরডুইনোতে ইপিরমের ব্যবহার অনেক সহজ।
ইপিরমের ব্যবহার কেন করে
রিমোট দিয়ে এসি লোড নিয়ন্ত্রণ করার সার্কিট হয়ত আপনারা অনেকে দেখে কিংবা ব্যবহার করে থাকবেন। যেখানে বিদ্যুৎ চলে গিয়ে আবার আসলে লোড গুলো আগের অবস্থায় থাকে।
আরেকটু সহজে বুঝিয়ে বলি, মনে করুন আপনি একটি রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস কিনেছেন যেটা দিয়ে রুমের ফ্যান, লাইট অন-অফ করেন। ফ্যান চলছে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল, কিছুক্ষণ পর আবার এল। তখন ফ্যান আবার চলতে থাকে। এই যে বিদ্যুৎ চলে যাবার আগে ফ্যান চলছিল এই বিষয় টা ডিভাইস মনে রাখে এবং বিদ্যুৎ এলে আবার ফ্যান চালু করে দেয়… এই পূর্ববর্তি অবস্থা মনে রাখার কাজটাই মূলত ইপিরম ব্যবহার করে করাহয়। তবে বাজারের সব ডিভাইসে এই সুবিধা থাকেনা। 😛
বিদ্যুৎ চলে যাবার সাথে সাথেই প্রয়োজন অনুযায়ী ইপিরমে ডেটা সংরক্ষণ করা হয় যাতে বিদ্যুৎ এলে ডিভাইস আগের অবস্থায় ব্যাক করতে পারে।
ইপিরম লাইব্রেরীর ফাংশন
ইপিরম লাইব্রেরীর ৪ টি ফাংশন রয়েছে (আমার জানা মতে)। তবে এর মধ্যে দুইটি ফাংশন বহুল ব্যবহৃত এবং অত্যাধিক প্রয়োজনীয়। ফাংশন দুইটি হলঃ
EEPROM.write()
EEPROM.read()
EEPROM.write() ফাংশন দিয়ে ইপিরমে ডেটা রাইট করা হয়। এই ফাংশনের প্যারামিটার দুইটি।
EEPROM.write(address, value)
প্রথম প্যারামিটার হল address এখানে একটা এড্রেস ডিফাইন করে দিতে হয়, যেই এড্রেসে ডেটা রাইট করা হবে। আর দ্বিতীয় প্যারামিটার হল value এখানে কি মান সংরক্ষণ করা হবে সেইটা দিতে হয়। তবে এটা মনে রাখা ভাল যে, value বাইট আকারে সংরক্ষণ করা হয়। যার মান 0 থেকে 255 এর মধ্যে হতে হবে। চলুন একটা উদাহরণ দেখে নিই তাহলে পরিস্কার হয়ে যাবে।
EEPROM.write('led', 1)
উপরের উদাহরণে দেখুন আমরা ledনামে একটা এড্রেস ডিফাইন করেছি এবং তার মান দিয়েছি 1 .
Note: ইপিরমে ডেটা রাইট করতে মাত্র ৩.৩ মিলিসেকেন্ড সময় লাগে এবং ইপিরমের লাইফ সার্কেল হল 100,000। অর্থাৎ ১ লক্ষ্যবার ইপিরমে ডেটা লেখা/মুছে ফেলা যায়। তাই, এ ব্যাপারে অবশ্যই যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। 🙂
এবার আসুন EEPROM.read() ফাংশনের কাজ নিয়ে জানা যাক। নাম শুনেই এর কাজ সম্পর্কে আশাকরি বুঝতে পেরেছেন। এই ফাংশন দিয়ে ইপিরম থেকে ডেটা রিড করা হয়। EEPROM.read() ফাংশনের প্যারামিটার একটা।
EEPROM.read(address)
প্যারামিটারে সেই এড্রেস দিতে হয় যেখান থেকে ফাংশনটি ডেটা তুলে আনবে। যদি এমন কোন এড্রেস দেওয়া হয় যেখানে কখনও ডেটা রাইট করা হয়নি তাহলে ফাংশনটি 255 রিটার্ন করবে। উদাহরণঃ
EEPROM.read('led')
তাহলে এই (led) এড্রেস থেকে ডেটা হিসাবে কত রিটার্ন করবে বলুন তো? হুম্ম ঠিকই বলেছেন 1 রিটার্ন করবে। তো আশাকরি বুঝতে পেরেছেন। চলুন এবার প্যাক্টিকাল প্রজেক্ট দেখা যাক।
প্র্যাক্টিকাল প্রজেক্ট
আমরা এমন একটা প্রজেক্ট বানাবো যেটা এন্ড্রয়েড মোবাইল দিয়ে ব্লুথের মাধ্যমে কন্টোল করা যাবে। খুবই সিম্পল। এন্ড্রয়েড ফোন থেকে আরডুইনোতে ডেটা হিসাবে 1 সেন্ড করলে একটি এলইডি জলে উঠবে আর 0 সেন্ড করলে এলইডি নিভে যাবে। এলইডি এর স্থানে রিলে কিংবা ট্রায়াক ব্যবহার করে এসি লোডও কন্টোল করা যাবে। এটা নিয়ে পরবর্তীতে কোন লেখা দিবো।
খুবই সিম্পল একটা কোড লিখেছি আমরা। নিচের কোডটুকু কপি করে Arduino IDE তে পেষ্ট করুন। কিংবা পোষ্টের শেষে ডাউনলোড সেকশন থেকে .ino ফাইল টা ডাউনলোড করে Arduino IDE ওপেন করতে পারেন। Arduino IDE না থাকলে এখান থেকে (For windows, For android) ডাউনলোড করুন।
/*
Contibuter: S.k.joy
Web: http://skjoy.info
E-mail: [email protected]
*/
// include the EEPROM library code:
#include <EEPROM.h>
int LED= 13;
char input;
byte value;
void setup(){
Serial.begin(9600);
/* Set LED as output */
pinMode(LED, OUTPUT);
}
void loop(){
if(Serial.available()>0){
/* Catch data from android via bluetooth module */
input= Serial.read();
if(input=='1'){
/* If receive 1 from android, trun on led */
digitalWrite(LED, HIGH);
EEPROM.write('led', 1);
delay(200);
}
if(input=='0'){
/* If receive 0 from android, trun off led */
digitalWrite(LED, LOW);
EEPROM.write('led', 0);
delay(200);
}
}
else{
/* Read value from eeprom if Serial unavailable */
value = EEPROM.read('led');
if(value == 1){
/* If receive 1 from eeprom trun on led */
digitalWrite(LED, HIGH);
}
if(value == 0){
/* If receive 1 from eeprom trun off led */
digitalWrite(LED, LOW);
}
}
}
কোড ব্যাখা
যদিও কোডের মধ্যে কমেন্ট আকারে কোডের ব্যাখা দেওয়া হয়েছে, তারপরেও ছোট করে একটু ব্যাখা দেবার চেষ্টা করছি।
৯ নং লাইনে ইপিরমের লাইব্রেরী যুক্ত করা হয়েছে।
১২ নং লাইনে LED নামে একটি ভেরিয়েবল নিয়ে তাতে আরডুইনো ১৩ নং পিনকে স্টোর করা হয়েছে। এরপর ২১ নং লাইনে pinMode ফাংশনের মাধ্যমে LED ভেরিয়েবলে থাকা ১৩ নাম্বার পিনকে আউটপুট হিসাবে ডিফাইন করা হয়েছে।
২৫ নং লাইনে if কন্ডিশনের মাধ্যমে চেক করা হয়েছে যে এন্ড্রয়েড থেকে ব্লুটুথ মডিউলের মাধ্যমে কোন ডেটা পাঠানো হচ্ছে কিনা।
৩০ নং লাইনে চেক করা হচ্ছে যে, এন্ড্রয়েড থেকে যে ডেটা পাঠানো হচ্ছে সেটা ১ কিনা। যদি ১ হয় তাহলে এলইডি অন (৩২ নং লাইন) করো এবং ইপিরমে led নামক এড্রেসে মান হিসাবে ১ স্টোর করো।
৩৬ নং লাইনে চেক করা হচ্ছে যে, এন্ড্রয়েড থেকে যে ডেটা পাঠানো হচ্ছে সেটা ০ কিনা। যদি ০ হয় তাহলে এলইডি অফ (৩৮ নং লাইন) করো এবং ইপিরমে led নামক এড্রেসে মান হিসাবে ০ স্টোর করো।
৪৩ নং লাইনে else কন্ডিশনের মাধ্যমে বলা হচ্ছে এন্ড্রয়েড থেকে যদি কোন ডেটা না আসে তাহলে else কন্ডিশনের মধ্যে থাকা কোডগুলো কাজ করো। বোর্ডে পাওয়ার দিলেই else কন্ডিশনের মধ্যে থাকা কোডগুলো কাজ করা শুরু করবে।
৪৬ নং লাইনে ইপিরম থেকে ডেটা রিড করা হচ্ছে।
৪৮ নং লাইনে চেক করা হচ্ছে ইপিরমে যে ডেটা স্টোর হয়ে আছে সেটা ১ কিনা। যদি ১ হয় তাহলে এলইডি অন করো।
৫২ নাম্বার লাইনে চেক করা হচ্ছে ইপিরমে যে ডেটা স্টোড় হয়ে আছে সেটা ০ কিনা। যদি ০ হয় তাহলে এলইডি অফ করো।
আশাকরি বোঝাতে পেরেছি। যারা প্রোগ্রামিং বেসিক টা জানেন তাদের কোডগুলো বুঝতে কষ্ট হবার কথা নয়। নতুনদের কথা মাথায় রেখেই একটু ব্যাখা দেবার চেষ্টা। 😛
এবার কোড কম্পাইল করে বোর্ডে আপলোড করার পালা। কিন্তু তার আগে আরডুইনো এবং ব্লুটুথ মডিউলের মধ্যে কানেকশন গুলো খুলে ফেলুন। প্রতিবার কোড আপলোড করার আগে এই কাজটি অবশ্যই করবেন। নাহলে আপনার এবং আমার সাধের ৩০০ টাকা দামের ব্লুটুথ মডিউলটা চিরদিনের জন্য নষ্ট হয়ে যাবে। 🙁
খুলেছেন? তাহলে এবার বোর্ডে কোড গুলো আপলোড করুন। আপলোড হয়ে গেলে বোর্ড থেকে পাওয়ার সাপ্লাই বিছিন্ন করে উপরের ড্রায়াগ্রাম অনুযায়ী ব্লুটুথ মডিউলের আরডুইনোর কানেকশন দিন। এবার বোর্ডে পাওয়ার সাপ্লাই দিন। দেখবেন, ব্লুটুথ মডিউলে একটি লাল এলইডি জলা নেভা করতে থাকবে।
এবার আপনার এন্ড্রয়েড ফোনের ব্লুটুথ অন করে সার্চ করুন। HC-05 নামে একটি ডিভাইস পাবেন। ঐটার সাথে পেয়ার করুন। পার্সওয়ার্ড চাইলে 1234 দিবেন। এবার এখান থেকে LED নামে এপটা ডাউনলোড করে আপনার এন্ড্রয়েড ফোন ইন্সটল করুন (একটু বিজ্ঞজনেরা Bluetooth terminal দিয়েও কাজ চালাতে পারবেন)।
এপসটি ওপেন করুন তাহলে পেয়ার করা ব্লুটুথ ডিভাইসের লিষ্ট পাবেন।
পেয়ার করা ডিভাইসের লিষ্ট
সেখান থেকে HC-05 সিলেক্ট করুন। তাহলে আপনার এন্ড্রয়েড ফোন ব্লুটুথ মডিউলের সাথে কানেক্ট হয়ে যাবে। বুঝবেন কিভাবে যে কানেক্ট হয়েছে? কানেক্ট হলে ব্লুটুথ মডিউলের লাল রঙ এর এলইডির জলা নেভার স্পিড অনেক কমে যাবে এবং এপস টাতে Connected লেখা দেখিয়ে নতুন স্ক্রিনে চলে যাবে। যেখানে ON এবং OFF নামে দুইটি বাটন পাবেন। 😛
এপসের ইউজার ইন্টারফেস
এবার ON বাটনে ক্লিক করুন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আরডুইনোর ১৩ নং পিনের সাথে যুক্ত করা এলইডি টি জ্বলে উঠবে। OFF বাটনে ক্লিক করলে এলইডি টি নিভে যাবে।
ইপিরমের কার্যকারিতা চেক করা
এবার ইপিরমের কার্যকারিতা চেক করার পালা। এলইডি জলা অবস্থায় আরডুইনো বোর্ড থেকে পাওয়ার সাপ্লাই বিচ্ছিন্ন করুন। আবার সংযোগ দিন। কি দেখছেন? এলইডি নিজে থেকেই জ্বলছে তাইনা? তার মানে আপনি সফল হয়েছেন এবং সবকিছু একেবারে ঠিকঠাক কাজ করছে। (আহা কি আনন্দ আরডুইনোতে) 🙂
বিঃদ্রঃ সবকিছু রিয়েল হার্ডওয়ারে চেক করা। এটা ১০০% কাজ করে। আমার ফোনের ক্যামেরা টা তেমন ভালনা। তাই আর রিয়েল হার্ডওয়ারের ছবি দিলাম না। 🙁 তবে একটা ভিডিও দিলাম। 😛
ডাউনলোড
আপনাদের সুবিধার্থে ডাউনলোড লিংকগুলো একত্র করে দিলাম। আশাকরি ড্রপবক্স থেকে ডাউনলোড করতে কোন অসুবিধা হবেনা। 🙂
আরডুইনোতে ইপিরমের ব্যবহার নিয়ে এটাই ছিল আমার জগাখেচুরি টাইপের বিরক্তিকর লেখা। 😛 জানিনা কতটুকু বোঝাতে পেরেছি। তবে চেষ্টা করেছি সহজভাবে বোঝাতে। কোথাও বুঝতে অসুবিধা হলে অবশ্যই কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। ভাল থাকবেন সবাই। সময় সুযোগ হলে দেখা হবে পরবর্তীতে লেখাতে। 🙂
প্রশ্নোত্তরে লজিক গেইট, র্যাম ও ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স
আজ প্রশ্নোত্তরেডিজিটালইলেকট্রনিক্স এর একটি মজার ও চমৎকার বিষয়- লজিক গেইট (Logic gate) নিয়ে আপনাদের সামনে এসেছি। আশাকরি পড়ে মজা পাবেন এবং অজানা কিছু হয়ত জানতে পারবেন।
ভূমিকাঃ
আজকে আসলে যে বিষয়টি নিয়ে এসেছি তা হল ডিজিটালইলেকট্রনিক্স এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং মজার কিছু বিষয় নিয়ে। তা হল লজিক গেইট । AND, OR, NOT, XOR, NAND, NOR, XNOR এর নাম আমরা সবাই প্রায় কম বেশি শুনেছি। এগুলো কম্পিউটারে আসলে কিভাবে কাজ করে তা হয়ত আমাদের মধ্যে খুব কম লোকেরই জানা আছে। কিন্তু এগুলো জানা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা মাইক্রোকন্ট্রোলার ও ডিজিটালইলেকট্রনিক্স নিয়ে চর্চা করেন। তো চলুন শুরু করে দিই আমাদের ডিজিটাল যাত্রা।
উত্তরঃ সহজ কথায় শুরু করা যাক তাহলে। আমরা সবাই জানি কম্পিউটার শুধু বাইনারী কোড মানে ০ ও ১ ছাড়া আর কিছু বোঝে না। অর্থাৎ এর মধ্যে আপনি যাই কিছু ইনপুট দিন না কেন এটি সব কিছু কেই ০ ও ১ এ কনভার্ট করে নিবে। কিন্তু এই ০ ও ১ জিনিসটা কি? বলছি-
আমরা জানি ইলেকট্রনিক্স এর সব কিছু প্রায় ভোল্টেজ ও কারেন্ট এর সাথে সম্পর্কিত। তো কম্পিউটার এই ০ ও ১ দ্বারা কি বুঝে নেয়? কম্পিউটারের বা লজিক ডিজাইনের ভাষায় ০ বলতে বুঝায় সেখানে ০ ভোল্ট এপ্লাই করা হয়েছে বা ইনপুট ভোল্টেজ লো করা হয়েছে অর্থাৎ ইনপুট হিসেবে সেখানে কোন ভোল্টেজ ইনপুট দেওয়া হয় নি।
কিন্তু যখনই ১ বলা হবে তার মানে ইনপুট হিসেবে সেখানে ভোল্টেজ এপ্লাই করা হয়েছে বা সেখানে ভোল্টেজ হাই করা হয়েছে বা এভারেজে ৫ ভোল্ট (5 Volt) ইনপুট দেওয়া হয়েছে ।
আর কম্পিউটার এভাবেই টাইমিং ডায়াগ্রাম বা হাই-লো ভোল্টেজ আপ-ডাউনের মাধ্যমেই তার নেওয়া ইনপুট গুলোকে নিয়ে কাজ করে সঠিক আউটপুট দিয়ে থাকে । কিন্তু কাজ গুলোকে আমরা যত স্বাভাবিক ভাবে মুখে বলছি অত স্বাভাবিক ভাবে আসলে হয় না। অনেক গুলো ধাপ অতিক্রম করতে হয় এই কাজ গুলো করার জন্য । তো চলুন সেটিই দেখে নিই ।
লজিক সার্কিট এর কম্পোনেন্ট সমূহঃ
লজিক সার্কিট তৈরি করার জন্য আমরা ২ টি উপায় অবলম্বন করতে পারি । যথাঃ
১। লজিক আই সি
২। মসফেট
তবে এখানে আমি শুধু লজিক আইসি নিয়ে কথা বলব। তবে আপনারা যদি চান তাহলে আপনাদের চাহিদা অনুযায়ী আমি আমার পরবর্তী লেখায় কিভাবে মসফেট দিয়েও লজিক সার্কিট বানানো যায় তা নিয়েও বিশদ আলোচনা করব। তবে এখানেও বেসিক কিছু বিষয় আলোচনা করব ইন শাহ আল্লাহ। তো চলুন বাজে না বকে শুরু করি।
লজিক আইসি সমুহ এবং তাদের কার্যক্রমঃ
নিচে বিভিন্নপ্রকার লজিক গেট আইসি সমূহ ও তাদের বেসিক কার্যক্রম তুলে ধরা হলো। এখানে উল্লেখ্য যে প্রাথমিক ভাবে বোঝার জন্য 74XX সিরিজের লজিক আইসি সমূহ বহুল ব্যবহৃত ও জনপ্রিয় বিধায় আজকের লেখায় তা নিয়েই বলেছি।
7404 ( NOT Gate – নট গেইট ):
এই মডেলের আইসি ব্যবহৃত হয় NOT গেইট এর ইমপ্লিমেন্টেশনে। অর্থাৎ এর ইনপুটে যদি আমরা ০ ভোল্ট এপ্লাই করি তাহলে আউটপুটে আমরা পাব ৫ ভোল্ট আবার ইনপুটে যদি ৫ ভোল্ট এপ্লাই করি তাহলে পাব ০ ভোল্ট। মজার না বিষয়টা? তবে এক্ষেত্রে আপনাকে আইসি টি অবশ্যই গ্রাউন্ড আর ভিসিসি সাপ্লাই (VCC) এর সাথে আগে থেকেই কানেক্ট করে নিতে হবে। এই আইসি টির সাপ্লাই পিন হল ১৪ আর ৭ নাম্বার পিনটি হল গ্রাউন্ড পিন।
এটি ব্যবহার করা হয় এন্ড গেইট ইমপ্লিমেন্টেশনের জন্য। আমরা সাধারণত জানি গেইট এর ২ টি ইনপুট থাকবে। তবে বেশিও থাকতে পারে, কিন্তু এই আইসিটিতে ২ টি করে আলাদা আলাদা ইনপুট ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ আইসি প্রস্তুত কারক কোম্পানি এই ভাবেই তৈরি করেছে। এর ৭ নাম্বার পিনটি গ্রাউন্ড আর ১৪ নাম্বারটি পাওয়ার সাপ্লাই এর জন্য করা হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় এর ১ ও ২ , ৪ ও ৫, ৮ ও ৯ , ১১ ও ১২ নাম্বার পিনটি ইনপুট দেওয়ার জন্য করা হয়েছে । বাকি ৩,৬,১০,১২ নাম্বার পিনটি আউটপুটের জন্য করা হয়েছে। এর ইনপুটের যেকোন ২ পিনে ইনপুট দিলে এটি AND এর অপারেশন করে।
7408 AND – এন্ড লজিক গেটের আভ্যন্তরীণ সজ্জা
7432 (OR Gate – অর গেট):
এটি যোগের অপারেশন করে থাকে। পিন কনফিগারেশন পুরো আগের গেইটের মতই।
7432 OR – অর লজিক গেইট
7400 (NAND Gate – ন্যান্ড গেইট):
এর অর্থ হল AND NOT. মানে এটা প্রথমে ইনপুট এ AND অপারেশন করে সেটাকে ইনভার্ট বা বিপরীত করে দিবে। এটা একটি ইউনিভার্সাল গেইট। আইসি টি ২ টি করে ইনপুট দেওয়ার জন্য প্যাকেজে বানানো। জেনে রাখা ভাল যে- আধুনিক বিশ্বে যত প্রসেসর, চিপ, মাইক্রো চিপ তৈরি করা হয় তার বেশিরভাগই এই ন্যান্ড গেইট টেকনোলজি মেনে করা হয়। এটা যেমন সহজ তেমনি নিখুঁত।
7400 NAND – ন্যান্ড লজিক গেটের আভ্যন্তরীণ চিত্র
7402 (NOR Gate – নর গেইট):
এর মানে হল OR NOT। খুবই সহজ। আগের মতই কাজের ধরণ। কিন্তু এটা ২ টি ইনপুট কে আগে OR অপারেশন করে পরে ইনভার্ট বা বিপরীত উত্তর প্রদর্শন করে থাকে। এই আইসি টিও ২ টি করে ইনপুট দেওয়ার জন্য প্যাকেজে বানানো। এটাও একটি ইউনিভার্সাল গেইট। এটাও আগের মত বহুল ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
লজিক গেইট ব্যবহারের সতর্কতা
ডিজিটাল লজিক আইসি ব্যবহার এর বেশ কিছু সতর্কতা আছে। যেমনঃ
১। সাপ্লাই ভোল্টেজ ৫ এর বেশি দেওয়া যাবে না। তবে কিছু সিমস (CMOS) আইসি এর ব্যাতিক্রম।
২। এগুলো খুব সেনসিটিভ হয়ে থাকে, অর্থাৎ একটুতেই নষ্ট হয়ে যায়। কি মাথায় ঢুকলো না বুঝি ? বলছি…
আমরা জানি মানব দেহে ২০,০০০ থেকে ৫৫,০০০ হাজার ভোল্টের স্ট্যাটিক চার্জ (Static Charge – স্থির বিদ্যুৎ) উতপন্ন হয়ে থাকে যা মাল্টি মিটার দিয়ে মাপলে বুঝা যায় না। আর আমরা যদি অন্যসব আইসি বা কম্পোনেন্ট এর মত এটিকেও খালি হাতে বা সবগুলো পিন একসাথে স্পর্শ করে নাড়াচাড়া করতে থাকি তাহলে এটির সমাধি সেখানেই হয়ে যাবে। তাছাড়া এই আইসি গুলোর দাম বাজারে বেশ। তাই আমরা আইসি গুলোর সরাসরি পিনে না ধরে দুই সাইডে দিয়ে ধরার চেষ্টা করব। ভালহয় যদি আমরা হাতে গ্লাভস পরে আইসি গুলো নাড়াচাড়া করি।
এখানে মসফেট দিয়ে বানানো কিছু লজিক গেইটের সার্কিটডায়াগ্রাম দেওয়া হল-
মসফেট দিয়ে সিমস ন্যান্ড গেইট এর উদাহরণমসফেট দিয়ে তৈরি সিমন নর গেইট
র্যাম(RAM) কি, এর প্রকারভেদ, উদাহরণ ও আলোচনা
র্যাম(RAM)
র্যাম এর পূর্ণরূপ হল Random Access Memory. অর্থাৎ সহজ কথায় অস্থায়ী স্মৃতি। কম্পিউটারের সব পার্টস এর সাথেই আমরা প্রায় কম বেশি পরিচিত। অনেক গুলো কম্পোনেন্ট একসাথে যুক্ত হয়ে একটি কম্পিউটার তৈরী করে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য গুলো হলঃ প্রসেসর, র্যাম, হার্ডডিস্ক, ডিভিডি রম গ্রাফিক্স কার্ড, মনিটর, কি বোর্ড, মাউস ইত্যাদি। আর এই সকল কম্পোনেন্ট সবগুলোকে যার সাথে যুক্ত করা হয় তার নাম হচ্ছে মাদার বোর্ড/মেইন বোর্ড/লজিক বোর্ড। এখানেই সকল কম্পোনেন্ট কে একসাথে জুড়েদিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার মেশিন তৈরী করা হয়। আর এদের মধ্যে র্যাম অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কম্পোনেন্ট এর নাম।
মেমোরি কি
ইংরেজি মেমোরি শব্দের অর্থ স্মৃতি। কম্পিউটারের আভ্যন্তরীণ যেসকল যন্ত্রাংশ সমূহ এই স্মৃতিধারণ করতে সহায়তা করে তাকেই মেমোরি (Memory) বলে।
কম্পিউটারের স্মৃতি/মেমোরি (Memory) ‘র প্রকারভেদ
প্রথমেই আমরা জেনে নেই কম্পিউটারের কয় ধরনের মেমোরী বা স্মৃতির প্রয়োজন। সকল কম্পিউটারেরই প্রায় ২ ধরণের মেমোরী বা স্মৃতির প্রয়োজন। যথাঃ
১। স্থায়ী স্মৃতি (Secondary memory)
২। অস্থায়ী স্মৃতি (Primary memory)
স্থায়ী স্মৃতিঃ স্থায়ী স্মৃতি বলতে আমরা প্রধানত হার্ডডিস্ক, ফ্ল্যাশ মেমোরি, ইপরম, ইইপরম ইত্যাদিকে বুঝি। অর্থাৎ এদের ধারণ ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে এবং এরা অনেক ডেটা একসাথে একই সময়ে স্টোর বা সেভ করে রাখতে পারে। এবং বিদ্যুৎ চলে গেলেও এই স্মৃতি/মেমোরি নষ্ট হয়না।
অস্থায়ী স্মৃতিঃ কিন্তু অস্থায়ী স্মৃতি বা র্যাম এর স্টোরেজ ক্যাপাসিটি হার্ড ডিস্কের মত এত বেশি হয় না। এটি যেকোন কাজ তাৎক্ষণিক লোড বা প্রসেস করার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ রিয়েল টাইম লোড প্রসেস ও দ্রুত গতির কাজ করার জন্য র্যাম ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাথে সাথে এই মেমোরির সব ডেটা আবার মুছে যায়। কিন্তু হার্ড ডিস্ক, ফ্ল্যাশ বা সেকেন্ডারি মেমোরিতে তা হয় না। কারেন্ট চলে যাওয়ার পরেও এটি বেশ ভাল ভাবেই সকল ডেটা সেভ রাখতে পারে।
কম্পিউটারের বিভিন্ন প্রকার স্মৃতি/মেমোরি
র্যাম বা মেমোরি সংক্রান্ত মজার বিষয়ঃ
Random Access Memory (RAM-র্যাম) কে আরেক নামে ডাকা হয় Volatile Memory (ভোলাটাইল মেমোরি)। কারণ বিদ্যুৎ বা ভোল্টেজ চলে যাওয়ার সাথে সাথেই এটার আভ্যন্তরীন সকল ডাটা মুছে যায় সেই জন্যেই একে এ নামে ডাকা হয় । আধুনিক ডাটা স্টোরিং এবং মেমোরি ডিজাইনের ক্ষেত্রে এটিকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে আমরা কিন্তু এটা একটু অন্য ভাবে ডাকতেই পারি বিশেষ করে মনে রাখার সুবিধের জন্য।
যেমন ধরুন, এর নাম হল ভোলা+টাইল= ভোলাটাইল। তো আমরা এমনটা ধরে নিতেই পারি, যে মেমোরি বিদ্যুৎ চলে গেলে তার স্মৃতি হারিয়ে ফেলে তাকেই ভোলাটাইল মেমোরি বা র্যাম (RAM) বলা হয়। মনে রাখার সহজ উপায় হিসেবে এটি বেশ কার্যকর 😉
বিভিন্ন র্যাম এর স্পেসিফিকেশনঃ
র্যাম বেশ কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে। আকৃতি, তৈরী প্রণালী, ডেটা স্টোরিং ক্যাপাসিটি ও কাজের উপর ভিত্তি করে একে বেশ কয়েক প্রকারে ভাগ করা যায়। তবে এখানে আমরা শুধু ২ টি বিষয় নিয়ে জানব । সেগুলো হলঃ SRAM & DRAM .
SRAM: এর পূর্ণরূপ হল স্ট্যাটিক র্যান্ডম এক্সেস মেমোরি। এটি ট্রানজিস্টর দিয়ে তৈরী করা হয় । DRAM: এর পূর্ণরূপ হল ডায়নামিক র্যান্ডম এক্সেস মেমোরি। এটি তৈরী করা হয় ক্যাপাসিটর দিয়ে।
উত্তরঃ মাঝে মাঝে আমরা আমাদের কম্পিটারের ডেস্কটপে এসে রাইট ক্লিক রিফ্রেশ করি এবং বেশ কয়েক বার করি। কিন্তু কেন? কি দরকার এটা করার? একবারও কি মনে হয়ছে? আচ্ছা, তো চলুন জেনে নিই।
কম্পিউটারের র্যাম এ DRAM যে অংশ থাকে সেখানে ক্যাপাসিটর গুলোকে অনেকক্ষণ যাবত ব্যবহার করার ফলে সেগুলো রিচার্জড না হওয়ায় অনেক সময় কম্পিউটার স্লো হয়ে কাজ করে। এটি কমানোর জন্যই আমরা কম্পিউটারে রিফ্রেশ বাটন চেপে রিফ্রেশ করি যাতে ক্যাপাসিটর গুলো পুণরায় চার্জ হয়ে আবার পরিপূর্ণ ভাবে কাজ করতে পারে এবং স্বাভাবিক কাজে যাতে কোন ব্যাঘাত না ঘটে।
হাল আমলের অপারেটিং সিস্টেমে গুলো এই কাজ নিজে নিজেই করতে পারে। কিন্তু ইউজার দের পূর্ববর্তি হ্যাবিট ধরে রাখতে এই ব্যবস্থা এখনো উইন্ডোজে বিদ্যমান অপরদিকে লিনাক্সের অনেক অপারেটিং সিস্টেমেই এই ডেস্কটপ রিফ্রেশ অপশন নেই।
সমাপ্তিঃ
আশা করি আজকে আমরাডিজিটাল ইলেকট্রনিক্সের গুরুত্বপূর্ণ অংশ লজিক গেইট এর সামান্য অংশ শিখতে পারলাম। তবে আপনারা যদি চান তাহলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা সম্ভব যেমন বুলিয়ান অ্যালজেবরা, ডিজিটাল লজিক ডিজাইন, গেইট ডিজাইন, ফ্লিপ ফ্লপ, ফাজি লজিক ইত্যাদি। যদি কোন বিষয় এখনও অস্পষ্ট থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। তার যথাযথ উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব, ইন-শাহ-আল্লাহ। আজকে আর আগাচ্ছি না। হয়ত আগামীর কোন সংখ্যায় আবার কোন এক উদ্ভট লেখা বা কাজ নিয়ে আসব আপনাদের সামনে । সবাই ভাল থাকবেন ।
টাটা বাই বাই। এবার আমি বাড়ি যাই 🙂 🙂 🙂
বৈদ্যুতিক লাইনে গ্রাউন্ডিং এর প্রয়োজনীয়তা ও ইলেকট্রিক শক
বিদ্যুৎ আমাদের জন্য আশির্বাদ স্বরূপ। আধুনিক যুগে বিদ্যুৎ ছাড়া কোন কিছুই চিন্তা করা যায় না। সেই সাথে বৈদ্যুতিক শক হলো জীবননাশকারী একটি ব্যাপার। এসি বিদ্যুত আবিষ্কার করবার পর, এটা যে প্রাণঘাতী এবং তা ব্যবহার করা ঠিক হবে না এই প্রচারে আলভা এডিসন নেমেছিলেন তার ডিসি বিদ্যুতের বাজার ঠিক রাখবার জন্য।
আমাদের বাসাবাড়িতে ২২০ ভোল্টের বিদ্যুত ব্যবহার করা হয় এবং বড়যন্ত্র সহ ট্রান্সমিশন লাইনে আরও বেশী ভোল্টেজ থাকতে পারে। আমাদের ব্যবহার করা অনেক যন্ত্র কম ভোল্টেজে চলবার পরও কাজের প্রয়োজনে বেশী ভোল্টেজ উৎপন্ন করতে পারে এর ভিতরের সার্কিট এর মাধ্যমে। তাই ইলেকট্রিক শক থেকে বাঁচবার জন্য সাধারণত গ্রাউন্ডিং বা আর্থিং করা হয়ে থাকে যন্ত্রপাতি ও লাইন। এতে করে শক পাওয়া বন্ধ করা না গেলেও তা যেন প্রাণঘাতি না হয় সে ব্যাপারে কিছুটা হলেও ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
হবিস্ট থেকে শুরু করে প্রফেশনাল পর্যন্ত আমরা যারা সার্কিট নিয়ে কাজ করি তাদের বৈদ্যুতিক শক সম্বন্ধে সচেতন থাকা একান্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। সাধারণত আমাদের তৈরী করা সার্কিট থেকে একটি তারের মাধ্যমে আমরা লাইন স্থাপন করা হয় যে বাক্সে, তাতে গ্রাউন্ড সংযোগ করি নয়েজ ও শক প্রতিরোধ করবার জন্য। অনেক সময় কম্পিউটারের গায়ে হাত লাগলে আমরা মৃদু শক অনুভব করি এই কারণেই। সঠিক ভাবে গ্রাউন্ডিং/আর্থিং না থাকবার ফলে এই শকের ঘটনা ঘটে।
আমরা যদি আমাদের বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ দেখি তবে দেখবো যে মিটারের সাথে বা মুল কানেকশন থেকে একটি জি আই তারের (GI Wire) মাধ্যমে লাইন টেনে তা মাটিতে স্থাপন করা হয় যা গ্রাউন্ডিং এর কাজে লাগে। এটা ঠিক মতো না থাকলে বা নিয়ম অনুযায়ী স্থাপন না করলে আপনার বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগ হবার কথা না। তবুও অনেক বাড়িতে এটা ঠিক ভাবে থাকে না। এই ঠিক না থাকবার বিষয়টি সাধারণত অজ্ঞতা ও অবহেলার কারণে হয়ে থাকে যা মোটেও ঠিক না। এর ফলে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার ফলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে এবং সচরাচর হয়েও থাকে। সুতরাং এই গ্রাউন্ডিং নিয়ে অবহেলা করা উচিৎ না।
বাসা বাড়িতে তিন পিনের প্লাগ ব্যবহার করা হয়ে থাকে মুলত এই গ্রাউন্ডিং নিশ্চিত করবার জন্যই কিন্তু আমরা দুই পিনের প্লাগ ব্যবহার করেই অভ্যস্ত যা সেফটির দিক থেকে ঠিকনা যদিনা সঠিক গ্রাউন্ডিং না থাকে। নীচের ছবিটা আসুন দেখি –
বৈদ্যুতিক শক এর মূল কারন কি তা ডায়াগ্রাম আকারে দেখানো হয়েছে
Vc = (Vs X R2)/(R1+R2)
এখানে R2 এর মান শূণ্য হলে অর্থাত গ্রাউন্ডিং লাইনের কানেকশন থাকলে চেসিসের গায়ে কোন ভোল্টেজ থাকবে না। কিন্তু R2 এর মান অসীম হলে বা R2 না থাকলে একটি ভোল্টেজ থাকবে যা বিপজ্জনক হতে পারে। একে বলে স্ট্রে ইমপিডেন্স (Stray Impedance)। এই স্ট্রে ইমপিডেন্সের কারণেই অনেক সময় কম্পিউটার বা মেটাল কেবিনেট যুক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্রতে হাত দিয়ে স্পর্শ করলে শকের অনুভূতি পাওয়া যায়। আর এই R2 টিই গ্রাউন্ডিং বা অন্যভাবে আর্থিং বলে।
আশাকরি গ্রাউন্ডিং কেন প্রয়োজন একটু হলেও পরিষ্কার হয়েছে সবার কাছে।
এখন এসি লাইন যদি চেসিসের সাথে কোন কারণ বশত শর্ট হয় তবে বাঁচবার কোন রাস্তা থাকে না এবং সরাসরি বিদ্যুত শরীরদিয়ে প্রবাহিত হয়ে মৃত্যুর ঝুকি সৃষ্টি করে। আরেকটি ডায়াগ্রাম থাকলে বিষয়টি বুঝতে সুবিধা হবে, তাহলে চলুন দেখি –
এখানে গ্রাউন্ড লাইন সঠিক থাকলে মানুষ স্পর্শ করবার পরেও প্রবাহিত মোট বিদ্যুত দুই ভাগে ভাগ হয়ে প্রবাহিত হবে। গ্রাউন্ড লাইনের রোধ কম হওয়াতে বেশীরভাগ বিদ্যুত গ্রাউন্ড লাইন দিয়ে প্রবাহিত হবে এবং মানুষের শরীর দিয়ে কম বিদ্যুৎ যাবে।
এতে করে খুব অল্প শক খাবার পরও মানুষের বেঁচে যাবার একটি সম্ভাবনা থাকে তবে যদি গ্রাউন্ড লাইন না থাকে তবে সম্পুর্ণ বিদ্যুত শরীরের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হবার কারণে মারাত্মক শক হবে যা প্রাণঘাতী হবার সম্ভবনাই বেশী।
এখানে উল্লেখ্য যে শুকনো অবস্থায় মানুষের শরীরের রোধ ১ লক্ষ ওহম পর্যন্ত হতে পারে তবে ভেজা অবস্থায় তা ১০০০ ওহম থেকে কয়েক ওহমে নেমে আসতে পারে। এর জন্যই ভেজা শরীরে শক বেশী মারাত্মক হয় এবং ভেজা শরীরে বৈদ্যুতিক কাজ করা বেশী বিপদ জনক।
এই ছোট্ট লিখা থেকে সঠিক গ্রাউন্ডিং/আর্থিং এর প্রয়োজনীয়তা আশা করি বুঝা গেছে। তাই গ্রাউন্ডিং নিয়ে আর অবহেলা নয়। আজই আপনার বাড়িতে সঠিক গ্রাউন্ডিং আছে কিনা তা পরীক্ষা করে নিন এবং না থাকলে তা সঠিক ভাবে স্থাপন করবার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করুণ।
বিদ্যুত আশীর্বাদ তবে বৈদ্যুতিক শক জীবনঘাতি এটা মনে রাখবেন। এবং সেই সাথে এটা মনে রাখতে হবে বিদ্যুত কোন অবস্থায়ই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কাওকে কোন প্রকার খাতির যত্ন করবে না।
এলডিআর/এলডিয়ার (LDR) খুব মজার একটি জিনিস। এর বেশ কিছু চমতকার ব্যবহার আছে। হাইফাই অডিওএমপ্লিফায়ার, সিগনাল কম্প্রেশন থেকে শুরু করে মজার মজার প্রজেক্ট ও সার্কিট এর মাধ্যমে তৈরি করা সম্ভব। আজকে এই মজার জিনিস টি নিয়েই লিখছি সাথে থাকছে মজার একটি সার্কিট।
LDR পরিচিতি
এলডিআর/এলডিয়ার (LDR) কি?
এলডিআর/এলডিয়ার (LDR) হচ্ছে আলোক নির্ভর রেজিস্ট্যান্স যার উপরে আলো পড়লে আলোর তীব্রতা অনুযায়ী এর রোধ কম বা বেশি হয়। LDR এর পূর্ণঅর্থ – লাইড ডিপেন্ডেন্ট রেজিস্টর। এর নির্দিষ্ট কোন ভ্যালু থাকেনা। তবে এর সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন ভ্যালু থাকে। এর আরো একটি জনপ্রিয় নাম ফটো রেজিস্টর।
সাধারণত ছোট এলডিআর গুলোর ১ মেগা ওহম পর্যন্ত রেজিস্ট্যান্স হয়। যেখানে বড় গুলোর রেজিস্ট্যান্স ১০০ কিলো ওহম বা এর আশেপাশে হতে পারে। আর সর্বনিম্ন রেজিস্ট্যান্স কয়েক ওহম পর্যন্ত হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য যে বাজারে দুই ধরণের এলডিআর পাওয়া যায়।
১. আলো পড়লে রেজিস্ট্যান্স কমে (বাজারে এটিই বেশী পাওয়া যায়)
২. আলো পড়লে রেজিস্ট্যান্স বাড়ে
কাজেই এলডিআর কিনে অবশ্যই মিটার দিয়ে পরীক্ষা করে নেয়া উচিৎ এলডিয়ার টি কোন ধরণের।
যেকোন ধরণের এলডিআর কেই সার্কিট এর সংযোগ পদ্ধতি পরিবর্তন করে প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করানো সম্ভব। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলছি, সাধারণ রেজিস্টরের মতই এর কোন পোলারিটি নেই। অর্থাৎ এর দুই পা কে উল্টো করে সংযোগ দিলেও কাজ করবে।
এলডিআর দেখতে কেমন
নিচের চিত্রে বিভিন্ন রকমের এলডিআর দেখতে পাচ্ছি-
বিভিন্ন আকৃতির এলডিয়ার/এলডিআর
ইলেকট্রনিক্স সার্কিট ডায়াগ্রাম গুলোতে সাধারণত এর চিহ্ন এমন দেখানো হয়-
অর্থাৎ একটি রেজিস্টরের উপরে আলোর আপতিত হচ্ছে এমন। ঐ তীর চিহ্নগুলো দিয়ে আলোক রশ্মি বোঝায়।
কোথায় পাওয়া যায় এলডিআর, দাম কেমন?
ইলেকট্রনিক পার্টস বিক্রি করে এমন প্রায় সব ধরণের দোকানেই এলডিআর পাওয়া যায়। প্রয়োজনে মোবাইল এ করে এর ছবি নিয়ে দোকানদার কে দেখাতে পারেন, অবশ্যই পাবেন। এর দাম মূলত নির্ভর করে এর আকৃতির উপরে। বড় এলডিআর এর দাম বেশি, অপরদিকে ছোট গুলোর দাম কম হয়ে থাকে। ৫-১০ টাকা থেকে শুরু করে ৭০ টাকা পর্যন্তও হয়।
জ্ঞাতব্যঃ কোন ইলেকট্রনিক পার্টসের দাম এলাকা ও বাজার ভেদে ভিন্ন হতে পারে
এলডিআর এর ব্যবহার
এলডিআর দামে সস্তা ও সহজলভ্য হবার কারণে এর প্রচুর ব্যবহার রয়েছে, যেমন-
মোটামুটি মানের আলো পরিমাপক যন্ত্রপাতিতে (উন্নত মানের পরিমাপক যন্ত্রে ফটো ডায়োড বা ফটো ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়)
নিচে একটি মজার ইলেকট্রনিক সার্কিট নিয়ে সংক্ষিপ্ত ভাবে লিখছি।
অডিও ভলিউম কন্ট্রোল সিস্টেম
আমরা অডিও ভলিউম কন্ট্রোলের জন্য ভেরিয়েবল রেজিস্টরের বহুল ব্যবহার জানি। এর স্বল্প মূল্যের জন্য এটি খুবই সমাদৃত। কিন্তু এর বেশ বড় একটা সমস্যা আছে। সময়ের সাথে সাথে ঘর্ষন জনিত কারণে নয়েজ সৃষ্টি হয়। তখন ভলিউম একটু কমালে বা বাড়ালেই স্পিকারে “খস-খস” শব্দ করে যা গানের শ্রুতি মধুরতা নষ্ট করে।
এ সমস্যা নিরসনের জন্য উন্নতমানের এমপ্লিফায়ার সিস্টেমে সরাসরি এম্প সিস্টেম এর সাথে ভলিউম ব্যবহার করা হয় না। এর পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় এলডিআর/এলডিয়ার। খুব দামী এম্প গুলোতে অপটোকাপলার ও ব্যবহার করা হয়। নিচের ডায়াগ্রাম টি এমনি একটি সরল এলডিআর নির্ভর ভলিউম কন্ট্রোলার সিস্টেম-
এলডিআর/এলডিয়ার দিয়ে ভলিউম কন্ট্রোল সিস্টেম
কার্যপ্রণালী
সার্কিট টির কার্যপ্রণালী অত্যন্ত সরল, কিন্তু খুবই কার্যকর। সাধারণ ভলিউম কন্ট্রোল দিয়ে একটি লাল এলইডি এর উজ্জ্বলতা কমানো বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। লাল এলইডি এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি হবার কারণে এলডিয়ার এর রেসপন্স ভালো হয়। মূলত ভলিউম কন্ট্রোল টি ট্রানজিস্টর এর বায়াসিং কে কাজে লাগিয়ে এলইডি এর উজ্জ্বলতা কম-বেশি করছে। ক্যাপাসিটর টি ভলিউম ঘোরাবার সময়ে সামান্যতম নয়েজ ও ফিল্টার করে দিচ্ছে ফলে আউটপুটে প্রাপ্ত সিগনাল একদম নিখুঁত পাওয়া যায়।
এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে এলইডি ও এলডিআর কে মুখোমুখি অবস্থানে স্থাপন করতে হবে। সহজ বুদ্ধি হচ্ছে এলইডি কে হটগ্লু দিয়ে এলডিআর এর উপরে লাগিয়ে দেওয়া। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন বাইরের আলো এলডিয়ার এর উপরে না পড়ে।
স্বভাবতই উৎসাহী পাঠক বুঝে নিয়েছেন যে এটিকে একটু পরিবর্তন করলেই ডিজিটাল ভলিউম কন্ট্রোল বানানো সম্ভব। পরের অনুচ্ছেদে তাই নিয়েই লিখছি।
এলডিয়ার দিয়ে ডিজিটাল ভলিউম কন্ট্রোল সিস্টেম
একই ডায়াগ্রামের শুধু ভলিউম আর কিছু আনুষাঙ্গিক পার্টস বাদ দিয়ে একে ডিজিটাল কন্ট্রোলার করে ফেলা যায়। নিচের ডায়গ্রাম টি দেখি-
এলডিয়ার ও পিডব্লুএম সিগনাল দিয়ে ডিজিটাল ভলিউম কন্ট্রোল
যারা মাইক্রোকন্ট্রোলার নিয়ে কাজ করেন তারা পিডব্লুএম (PWM) সম্পর্কে অবশ্যই অবগত আছেন। একটি নির্দিষ্ট পালস এর স্থায়ীত্ব কমিয়ে বাড়িয়ে আউটপুট নিয়ন্ত্রন করা হয়। এখানেও ঠিক একই কাজ করা হয়েছে।
মাইক্রোকন্ট্রোলার থেকে পিডব্লুএম সিগনাল টি ট্রানজিস্টর এর বেইজ এ দেয়া হয়েছে। যার ফলে পালস এর স্থায়ীত্বকাল অনুযায়ী এলইডি এর উজ্জ্বলতা কম বেশি হবে। আর এই আলো এলডিয়ার এ পড়বার ফলে সেটির রেজিস্ট্যান্স ও পরিবর্তীত হবে।
প্রয়োজনে ট্রানজিস্টর ব্যবহার না করে সরাসরি মাইক্রোকন্ট্রোলারে পিন থেকেও এলইডি সংযোগ দেয়া যেতে পারে।
উপরোক্ত দু’টি ডায়াগ্রামই এক চ্যানেলের জন্য। অর্থাৎ স্টেরিও করতে চাইলে একই রকম দুটি সার্কিট তৈরি করতে হবে।
এখানে উল্লেখ থাকে যে অডিও ইন থেকে শুরু করে অডিও আউট পর্যন্ত তার গুলো Shielded audio cable হতে হবে। উন্নত মানের মাইক্রফোন, হেডফোনে যে সমস্ত অডিও ক্যাবল ব্যবহার করা হয় তা ব্যবহার করলেও চলবে। নয়ত স্পিকারে প্রচুর হামিং নয়েজ আসবে। এবং অবশ্যই এলডিআর ও এলইডি কে কালো টেপ দিয়ে মুড়িয়ে দিতে হবে যাতে বাইরের আলো না প্রবেশ করে।
ইন্টারনেটে এধরনের অসংখ্য সার্কিট আছে। একটু খুঁজলেই অনেক ধরণের পাবেন। যেমন-
ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত এলডিয়ার ভলিউম ও গেইন কন্ট্রোল সিস্টেম
তবে সবগুলো কাজ নাও করতে পারে।
এলইডি ও এলডিআর স্থাপন
এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিশয়ে বলছি। এলডিয়ার ও এলইডি কে কিভাবে স্থাপন করতে হবে সে সম্পর্কে। নিচের চিত্রটি দেখুন। আশাকরি বুঝতে পারবেন-
এলইডি ও এলডিয়ার/এলডিআর কে এভাবে গায়ে গায়ে লাগিয়ে দিলে ভালো হবে
গায়ে গায়ে লাগানোর জন্য হটগ্লু বা সুপারগ্লু জাতীয় আঠা ব্যবহার করতে পারেন। ডানের চিত্রে দেখতে পাচ্ছেন অনেক গুলো এলডিয়ার কে বড় একটি এলইডি (10mm) এর চারিপাশে লাগানো হয়েছে। মূলত এলডিআর গুলোর সবগুলো পিন কে প্যারালাল করে আউটপুট নেয়ে হয়েছে এখানে। এরফলে এলইডি এর সামান্য আলোও এর রেজিস্ট্যান্স কে কম বেশি করতে পারবে।
**উপরোক্ত সার্কিটে প্রদত্ত সবগুলো এলডিআর এমন যে তাদের উপর আলো পড়লে রোধ কমে। এর উল্টোটা হলে এই সার্কিটে কাজ হবে না।
**আমাদের সাইটে প্রকাশিত এলডিআর সংক্রান্ত অন্যান্য লেখা পাবেন LDR লিংক থেকে
সমাপ্তি
আজকের মত আপাতত এটুকুই। সামনে মজার একটি প্রজেক্টস্মার্ট ইমার্জেন্সি এলইডি লাইট এর বিস্তারিত ডায়াগ্রাম ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে হাজির হবো। 🙂
ভোল্টেজ, কারেন্ট, ওয়াট, পাওয়ার ও পাওয়ার ফ্যাক্টর সম্পর্কে কমবেশি সবারই আগ্রহ প্রচুর। সেই সূত্র ধরেই আজকের এই লেখা। প্রশ্নোত্তরে সাজানো এই লেখাটি পড়ে আশাকরি ছোটবড় সবাই উপকৃত হবেন।
চারটি শব্দ, একটাই বিভ্রান্তি
ভোল্টেজ, কারেন্ট, ওয়াট, পাওয়ার ফ্যাক্টর — এই চারটি শব্দ প্রতিদিন ব্যবহার হয়।
কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ এগুলো একসাথে গুলিয়ে ফেলেন। IPS কেনার সময় VA আর ওয়াটের পার্থক্য না বোঝায় ভুল মডেল কেনেন। বিদ্যুৎ বিল দেখে বুঝতে পারেন না কোথায় খরচ বেশি।
এই লেখায় একটাই লক্ষ্য — চারটি ধারণা আলাদাভাবে বোঝানো, বাস্তব উদাহরণ দিয়ে।
বাস্তব উদাহরণ: বাংলাদেশের বাড়িতে সাপ্লাই ভোল্টেজ ২২০V। মোবাইল চার্জার আউটপুট সাধারণত ৫V। গাড়ির ব্যাটারি ১২V।
ভোল্টেজ বেশি মানেই বেশি বিদ্যুৎ খরচ নয়। একটা চিকন পাইপে উঁচু চাপেও পানি কম পরিমাণে আসে — শুধু ভোল্টেজও একই ভাবে একা কিছুই অর্থ বহন করে না।
ভোল্টেজ কীভাবে মাপবেন?
মাল্টিমিটার দিয়ে। লাল প্রোব পজিটিভে, কালো প্রোব নেগেটিভে লাগান। AC ভোল্টেজ মাপতে মিটার AC মোডে রাখুন, DC হলে DC মোডে।
নিচের চিত্রটি দেখলে বুঝতে সুবিধে হবে আশাকরি-
মাল্টিমিটারের অভ্যন্তরে থাকা ভোল্টমিটার দিয়ে ব্যাটারি ভোল্টেজ মাপা হচ্ছে (ছবিসত্ত্বঃ Sparkfun)
এখানে বিদ্যুৎ উৎস হিসেবে বামে পেন্সিল ব্যাটারি ও ডানে লিথায়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। এর কানেকশন ডায়াগ্রাম যদি লক্ষ্য করি তাহলে তা নিচের চিত্রের মত দেখাবে। এখানে উল্লেখ্য যে মাল্টিমিটারের লাল প্রোব টি ব্যাটারির পজেটিভ প্রান্তে এবং কালো প্রোব টি নেগেটিভ প্রান্তে যাবে।
এছাড়াও আরো ভিন্ন ভিন্ন ভাবে ভোল্টেজ পরিমাপ করা সম্ভব। যেমন সার্কিট এর অভ্যন্তরে বিভিন্ন পার্টস ঠিকমত ভোল্টেজ পাচ্ছে কিনা প্রভৃতি। রিপেয়ারিং কাজের ক্ষেত্রে সার্কিট এর বিভিন্ন পার্টসের এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশের ভোল্ট মেপে ত্রুটি নির্ণয় করা হয়।
কারেন্ট কী?
কারেন্ট হলো ইলেকট্রনের প্রবাহের হার।
একই পাইপের উদাহরণে — পানির প্রবাহের পরিমাণ হলো কারেন্ট। চাপ (ভোল্টেজ) যতই থাকুক, পাইপ সরু হলে পানি কম আসবে। একইভাবে ভোল্টেজ বেশি হলেই কারেন্ট বেশি হবে না — রেজিস্ট্যান্স বাধা দেয়।
প্রতীক I, একক অ্যাম্পিয়ার (A)।
কারেন্ট কত প্রকার?
তিন প্রকার: AC বা অলটারনেটিং কারেন্ট — যা দিক বদলায়, বাসার সাপ্লাই এই ধরনের। DC বা ডাইরেক্ট কারেন্ট — যা এক দিকে প্রবাহিত হয়, ব্যাটারি থেকে আসে। এডি কারেন্ট — ট্রান্সফরমার ও মোটরের কোরে তৈরি হওয়া অবাঞ্ছিত কারেন্ট যা তাপ তৈরি করে
কারেন্ট কীভাবে মাপবেন?
এম্পিয়ার মাপবার মিটার কে এমিটার (Ammeter) বা এম্পিয়ার মিটার বলে। এম্পিয়ার/অ্যাম্পিয়ার মাপবার জন্য এমিটার কে লোডের সিরিজে সংযুক্ত করতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: ভোল্টমিটার সমান্তরালে (parallel) লাগাতে হয়, অ্যামিটার সিরিজে (series) লাগাতে হয়। উল্টো লাগালে মিটার নষ্ট হতে পারে। নিচের চিত্র মোতাবেক-
অজ্ঞাত লোডের এম্পিয়ার মাপতে এম্পিয়ার মিটার কে সিরিজে সংযুক্ত করতে হয়
এখানে উল্লেখ্য সরাসরি একটি ব্যাটারির এম্পিয়ার মাপা সম্ভব নয় এ ধরণের মাল্টিমিটার বা এম্পিয়ার মিটার দ্বারা। তারজন্য আলাদা ক্যাপাসিটি মেজারমেন্ট মিটার পাওয়া যায়।
ওয়াট কী এবং কীভাবে হিসাব করবেন?
ওয়াট হলো প্রকৃত কাজের শক্তি।
ভোল্টেজ আর কারেন্ট একসাথে মিলে যে কাজ হয় — সেটাই ওয়াট। একটি বাল্ব জ্বলে, একটি মোটর ঘোরে, একটি হিটার গরম হয় — এই সব কাজের পরিমাপ ওয়াটে হিসাব হয়।
DC সার্কিটে এর সূত্র: P = V × I
AC সার্কিটে এর সূত্র: P = V × I × Power Factor
এখানেই DC আর AC-এর পার্থক্য। DC-তে পাওয়ার ফ্যাক্টর সমস্যা নেই, AC-তে আছে।
বাস্তব উদাহরণ: ২২০V লাইনে ২A কারেন্ট টানলে এবং পাওয়ার ফ্যাক্টর ০.৮ হলে বাস্তব পাওয়ার = ২২০ × ২ × ০.৮ = ৩৫২ ওয়াট। মিটারে দেখাবে ৪৪০ VA, কিন্তু আসল কাজ হবে ৩৫২ ওয়াটের।
ওয়াট মাপবার জন্য ওয়াট মিটার ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ওহম এর সূত্র দ্বারা বের করা যায় যা উপরোক্ত পরিচ্ছেদে দেওয়া হয়েছে। নিচের চিত্রে অত্যাধুনিক ডিজিটাল ও এনালগ ওয়াট মিটার এর ছবি দেওয়া হলো-
ওয়াট হলো মুহূর্তের শক্তি। kWh (কিলোওয়াট-আওয়ার) হলো সময়ের সাথে ব্যবহৃত মোট শক্তি। আপনার বিদ্যুৎ বিল আসে kWh-এ।
উদাহরণ: ১০০ ওয়াটের একটি বাল্ব ১০ ঘণ্টা জ্বললে খরচ ১ kWh। বাংলাদেশে প্রতি kWh বিদ্যুতের গড় খরচ প্রায় ৭–৯ টাকা।
পাওয়ার ফ্যাক্টর — যে বিষয়টা না বুঝলে IPS/UPS কেনায় ঠকবেন
পাওয়ার ফ্যাক্টর হলো প্রকৃত কাজের শক্তি বনাম সরবরাহকৃত মোট শক্তির অনুপাত বা প্রকৃত কাজে দক্ষতার পরিমাপ।
বিয়ারের গ্লাসের উদাহরণটা এখানে সেরা কাজ করে। গ্লাসের বিয়ার হলো বাস্তব শক্তি (ওয়াট) — যা কাজ করে। গ্লাসের ফেনা হলো রিঅ্যাক্টিভ পাওয়ার — যা কোনো কাজ করে না কিন্তু জায়গা নেয় ঠিকই। পাওয়ার ফ্যাক্টর বলে দেয় গ্লাসে বিয়ার কতটুকু, আর ফেনা কতটুকু।
পাওয়ার ফ্যাক্টর = প্রকৃত শক্তি (W) ÷ আপাত শক্তি (VA)
পাওয়ার ফ্যাক্টরের মান ০ থেকে ১ এর মধ্যে, বা ০% থেকে ১০০%।
তিন ধরনের পাওয়ার ফ্যাক্টর:
ল্যাগিং পাওয়ার ফ্যাক্টর — ইন্ডাক্টিভ লোডে হয়, যেমন মোটর, ট্রান্সফরমার, ফ্যান। কারেন্ট ভোল্টেজের পিছিয়ে থাকে।
লিডিং পাওয়ার ফ্যাক্টর — ক্যাপাসিটিভ লোডে হয়। কারেন্ট ভোল্টেজের আগে থাকে।
ইউনিটি পাওয়ার ফ্যাক্টর — সম্পূর্ণ রেজিস্টিভ লোডে হয়, যেমন হিটার, ইনক্যান্ডেসেন্ট বাল্ব। এটাই আদর্শ।
ব্যবহারিক গুরুত্ব:
হিসাব না জানা থাকলে পাওয়ার ফ্যাক্টর ০.৮ ধরে গণনা করুন — এটা শিল্পক্ষেত্রে প্রমাণিত আদর্শ মান।
পাওয়ার ফ্যাক্টর এর সংজ্ঞা
পাওয়ার ফ্যাক্টর (Power Factor – P.F):ভোল্টেজ ও কারেন্টের মধ্যবর্তী কোসাইন কোণ (Cosϴ) কে পাওয়ার ফ্যাক্টর বলে৷ অন্যভাবে বলা যায়- রেজিস্ট্যান্স এবং ইম্পিড্যান্স এর অনুপাত অথবা প্রকৃত শক্তি (Real Power) এবং আপাত শক্তির (Apparent Power) অনুপাতকে পাওয়ার ফ্যাক্টর (P.F) বলে৷
এসি লাইনে ভোল্টেজ ও কারেন্টের মধ্যবর্তি কোসাইন (Cosϴ) কোণ কে পাওয়ার ফ্যাক্টর বলে
VA বনাম ওয়াট — IPS/UPS কেনার আগে এটা জানুন
এই বিভ্রান্তিতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।
একটি ৬৫০VA IPS বা UPS কিনলেন। ভাবলেন ৬৫০ ওয়াটের লোড চলবে।
আসলে তা চলবে না।
৬৫০VA × ০.৮ পাওয়ার ফ্যাক্টর = ৫২০ ওয়াট হচ্ছে এর প্রকৃত ক্ষমতা।
একটি বাস্তব উদাহরণ: কোনো বাড়িতে ৩,০০০ ওয়াট সক্রিয় বিদ্যুৎ ব্যবহার হলে এবং আপাত শক্তি ৩,৭৫০ VA হলে পাওয়ার ফ্যাক্টর দাঁড়ায় ০.৮ বা ৮০%। অর্থাৎ সরবরাহকৃত ১০০ ইউনিটের মধ্যে ২০ ইউনিট কোনো কাজই করছে না কিন্তু বিদ্যুৎ বিল ঠিকই দিতে হয়।
মনে রাখবেন-IPS বা UPS কেনার সময় সবসময় ওয়াট রেটিং দেখুন, VA নয়। অথবা VA কে ০.৭–০.৮ গুণ করে প্রকৃত ওয়াট বের করুন।
পাওয়ার ফ্যাক্টর খারাপ হলে কী হয়?
পাওয়ার ফ্যাক্টর কমে গেলে তিনটি সমস্যা হয়:
বিদ্যুৎ বিল বাড়ে — কারণ বিতরণ কোম্পানি বেশি VA সরবরাহ করতে হয়।
তার ও সরঞ্জাম বেশি গরম হয় — কারণ বেশি কারেন্ট প্রবাহিত হয়।
ট্রান্সফরমার ও ক্যাবলের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে — আয়ু কমে।
সমাধান হলো পাওয়ার ফ্যাক্টর কারেকশন ক্যাপাসিটর ব্যবহার করা। ইন্ডাক্টিভ লোডের বিপরীতে ক্যাপাসিটর বসিয়ে ফেজ পার্থক্য কমানো যায়।
তিন ধরনের পাওয়ার — একসাথে বোঝা
AC সার্কিটে আসলে তিনটি পাওয়ার কাজ করে:
রিয়েল পাওয়ার (P) — একক ওয়াট (W)। বাস্তব কাজ করে। বিদ্যুৎ বিলে এটাই গোনা হয়।
রিঅ্যাক্টিভ পাওয়ার (Q) — একক VAR। কোনো কাজ করে না, কিন্তু মোটর ও ট্রান্সফরমার চালাতে দরকার।
অ্যাপারেন্ট পাওয়ার (S) — একক VA। রিয়েল ও রিঅ্যাক্টিভ পাওয়ারের ভেক্টর যোগফল।
সম্পর্ক: S² = P² + Q²
DC সার্কিটে রিঅ্যাক্টিভ পাওয়ার শূন্য। তাই DC-তে পাওয়ার ফ্যাক্টর সমস্যা নেই।
দৈনন্দিন যন্ত্রপাতির পাওয়ার ফ্যাক্টর কত?
ইনক্যান্ডেসেন্ট বাল্ব এবং হিটার — পাওয়ার ফ্যাক্টর ১.০ (বা একে ইউনিটি বলে)।
বিভিন্ন অডিও সিস্টেম ও অডিও রেকর্ডিং সিস্টেমের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
১৮৫৭ সালে শব্দ ধারনের জন্য প্রথম যন্ত্র আবিস্কার হয় যার নাম ফনোটোগ্রাফ এবং যার আবিষ্কর্তা এডওয়ার্ড লিয়ন স্কট মার্টিন (Édouard-Léon Scott de Martinville) নামের ফরাসী এক ছাপাখানার মালিক ও বই বিক্রেতা।
এই যন্ত্রে শুধুমাত্র শব্দ ধারণ করা যেতো কিন্তু শব্দকে আবার শুনবার কোন ব্যবস্থা ছিলো না। শুধুমাত্র শব্দ তরঙ্গের আকার-প্রকার কে ধারক এর মধ্যে কেমন হয় সেটা দেখা যেতো। পরবর্তীতে বিখ্যাত আমেরিকান উদ্ভাবক ও আবিস্কারক টমাস এডিসন (Thomas Edison) ১৮৭৭ সালে ধারনকৃত শব্দকে পুনরুৎপাদনের জন্য তৈরী করেন ফনোগ্রাফ বা গ্রামোফোন।
পদ্ধতিটা ছিলো একটি চোঙ এর সামনে শব্দ তৈরী করলে যে কাপুনি তৈরী হয় তা একটি মোম/সমজাতীয় বস্তুর ঘুর্নায়মান ও ক্রম চলমান ড্রামের উপর সুক্ষ পিনের সাহায্যে ধারণ করে আবার সেটাকে প্রথম থেকে সেট করে ঘুরিয়ে ধারন করা শব্দকে বাজানো। মুলত এটিই প্রথম অডিও রেকর্ডিং সিস্টেম ও শব্দ ধারণ করবার প্রাথমিক ইতিহাস।
বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন ও তাঁর আবিষ্কৃত ফনোগ্রাফ/গ্রামোফোন মেশিনের পেটেন্ট
এর মাঝে অনেক বিজ্ঞানী এটাকে অগ্রসরের জন্য কাজ করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে শব্দ ধারণ ও পুনরুৎপাদন এখন একটি বড় শিল্প। বিশ্বে গড়ে উঠেছে বড় বড় স্টুডিও। সিনেমাতে শব্দ ও গান শুনবার জন্য শব্দকে ধারণ ও পুনরুৎপাদন করতে গিয়ে মূলত এই শিল্প ও টেকনোলজীর বিকাশ ঘটেছে।
প্রথম দিকের সম্পুর্ণ মেকানিক্যাল ডিভাইস থেকে বর্তমানে এটা ডিজিটাল প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রথম দিকের এক চ্যানেল থেকে এখন এটা সর্বোচ্চ ১১ চ্যানেল হয়েছে।
বিভিন্ন অডিও চ্যানেল ও শব্দ পুনরুৎপাদন পদ্ধতির বিকাশ
এই এক চ্যানেল বা একটি ধারণ মাধ্যম কে সাধারণ ভাবে মনো সাউন্ড বলা হয়ে থাকে। বুঝবার সুবিধার জন্য যদি ধরি একটি গানের কথা। একটি গান গাইবার সময় গায়ক ছাড়াও যন্ত্র বাজানোর জন্য আরও একাধিক ব্যক্তি থাকে।
এখন এই মনো পদ্ধতিতে যদি একটি মাত্র মাইক্রোফোনের মাধ্যমে শব্দ ধারণ করা যায় তবে ঐ এক চ্যানেলেই গায়কের গলা ও তার সাথে বাজানো শব্দ রেকর্ড হবে। এবার এই ধারণ করা শব্দ যত আধুনিক পুনরুৎপাদন যন্ত্র দ্বারাই বাজানো হোক না কেনো সেটা ঐ এক চ্যানেলকেই বাজাবে। অর্থাৎ এটা মনো শব্দই থাকবে।
প্রথম দিকে এই মনো শব্দই ধারণ করা হতো কিন্তু দিন যাবার সাথে সাথে এটা বুঝা গেলো যে এভাবে ধারণ করা শব্দ বাস্তব লাগে না, কারণ আমাদের কান দুইটি এবং গায়ক গান গাইবার সময় গায়কের গলা ও বাদ্য যন্ত্রের সকল শব্দ এভাবে ধারণ ও পুনরুৎপাদন করলে আমরা সব শব্দ আসলে বাস্তবের মতো শুনতে পাই না।
এরপর আসলো স্টেরিও শব্দ ধারণ পদ্ধতি অর্থাৎ দুই চ্যানেলে শব্দকে ধারণ করা। এবং তা আবার দুই চ্যানেলেই পুনরুৎপাদন করা। মেকানিক্যাল যুগ থেকে শব্দ ইলেকট্রিক্যাল যুগে প্রবেশ করবার পর এটা করা সম্ভব হলো। শব্দকে শুধু ধারন ও পুনরুৎপাদন করাই নয় সম্ভব হলো একে বিবর্ধিত করা, পরিবর্তন করা ও পরিবর্ধিত করা।
দুটো আলাদা শব্দ বিবর্ধক দিয়ে দুই চ্যানেলে ধারণ করা শব্দকে বিবর্ধিত করবার পাশাপাশি, দুই কান যেন বুঝতে না পারে দুই পাশে দুই রকম শব্দ হচ্ছে – এমন সমস্যা মিক্সিং এর মাধ্যমে দূরকরা হলো। এটাকে বলে অডিওমাল্টিপ্লেক্সিং– আমাদের কান যেনো বুঝতে না পারে শব্দ দুই দিক থেকে দুই রকম আসছে।
একবার ভাবুন তো গান হচ্ছে, আপনার দুই পাশে দুটো স্পীকার। একটি থেকে খালি গায়কের গলা আর একপাশ থেকে শুধু বাজনা আসছে কেমন লাগবে শুনতে!!! মোটেও শ্রুতিমধুর লাগবে না এটা। এই সমস্যা তাই দূরকরা হলো। এই অল্প কিছুদিন আগের ম্যাগনেটিক টেপ দিয়ে আপনার শোনা গান (ক্যাসেট প্লেয়ার) আসলে এই স্টেরিও প্রযুক্তি ছিলো। এর জন্যই এর নাম স্টেরিও বলতেও শোনা যেতো।
এরপর শব্দ ডিজিটাল জমানায় আসলো – শুরুটা হয়েছিলো ২:১ প্রযুক্তি দিয়ে যাতে করে শব্দকে আরও ডিটেইল ভাবে ধারণ করা যায় সেই সাথে শুনবার জন্য পুনরুৎপাদন করা যায়। এখন এটা ৫:১ থেকে এখন ১০:১ পর্যন্ত আছে। এর বাইরেও বিভিন্ন আকারে প্রকারে আছে শ্রোতার পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী। নিচে এমনি একটি ৫:১ অডিও সিস্টেমের ছবি দেখতে পাচ্ছি-
আমি স্টেরিও ও মনো সাউন্ড নিয়ে আসলে বলতে চেয়েছি এখানে। স্টেরিওও মনো সাউন্ড আসলে কি তা আশা করি বুঝা গেছে। আসল ব্যাপার হলো রেকর্ডিং পর্যায়। রেকর্ডিং যদি মনো হয় তবে যত চ্যানেলেই বাজানো হোক না কেনো সেটা কখনই স্টেরিও সাউন্ড দিবে না। আবার স্টেরিও রেকর্ডিং করা থাকলে সেটা এক চ্যানেলে বাজালেও সম্পুর্ণ না হোক কিছুটা হলেও স্টেরিও শব্দের অনুভুতি দেবে।
মনো অডিও সিস্টেম
শব্দ পুনরুৎপাদন যন্ত্র (এমপ্লিফায়ার) যখন একটি ইনপুট থেকে সিগনাল নিয়ে একটি আউটপুট দিবে তখন তা মনো সিস্টেম। আবার যদি একটি ইনপুট থেকে নিয়ে দুটো আউটপুট দেয় তবে সেটা আউটপুট সাপেক্ষে স্টেরিও হলেও কাজ করবে মনো সিস্টেমের মতো। একটি ইনপুট ও একটি আউটপুট থাকবে যেখানে তা আভ্যন্তরীন গঠনে যাই হোক না কেনো সেটা মনো।
স্টেরিও অডিও সিস্টেম
যার দুটো আলাদা অডিও ইনপুট ও দুটো আলাদা অডিও আউটপুট থাকবে সেটা স্টেরিও অডিও সিস্টেম। এইক্ষেত্রে দুই চ্যানেল সম্পুর্ণ স্বাধীন থাকবে অর্থাৎ এক চ্যানেলে সিগনালের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির জন্য আরেক চ্যানেলের শব্দ গ্রহণ ও পুনরুৎপাদনে কোন ব্যাঘাত ঘটবে না।
ব্রীজ এমপ্লিফায়ার অডিও সিস্টেম
অনেক সময় একটি স্টেরিও এমপ্লিফায়ার কে একটি ইনপুট দিয়ে আউটপুটকে ব্রীজ করে একটি আউটপুটের এমপ্লিফায়ারে পরিণত করা হয়। এটাকে বলা হয় ব্রীজ করা, সাধারণ ভাবে ব্রীজ এমপ্লিফায়ার নামে ডাকা হয় যা আসলে একটি স্টেরিও এমপ্লিফায়ারকে মনো এমপ্লিফায়ারে পরিণত করে। এতে কিছু সুবিধা পাওয়া যায় তবে মনে রাখতে হবে যে-
ব্রীজ করা থাকুক আর না থাকুক একটি ইনপুট ও একটি আউটপুটের সকল এমপ্লিফায়ার মনো এমপ্লিফায়ার।
দুটো স্বতন্ত্র ইনপুট ও আউটপুট সহ এমপ্লিফায়ার হলো স্টেরিও এমপ্লিফায়ার।
কোন এমপ্লিফায়ারের দুটো ইনপুট শর্ট করে একটি ইনপুটে পরিণত করলে আউটপুট দুটো হলেও দেখতে স্টেরিও হবে কিন্তু কাজ করবে মনো এমপ্লিফায়ারের মতো।
তোমাদের/আপনাদের জানবার আগ্রহের প্রেক্ষিতে এই লেখা। কোথাও বুঝতে সমস্যা হলে বা আরও কিছু জানবার থাকলে কমেন্ট অপশন খোলা রইলো। ধন্যবাদ।
এটি এমন একটি ইলেকট্রিক্যাল বা ইলেকট্রনিক যন্ত্র যা অপর কোন ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রকে নিরাপদ রাখে।
কোন কারণে এসি লাইনে যদি অতিরিক্ত পরিমান বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় তাহলে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। যন্ত্রপাতি পুড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে আগুন লাগাও বিচিত্র নয়। যেমন-
কোন কারণে যদি এসি লাইনে শর্ট সার্কিট (Short Circuit) ঘটে,
মাত্রাতিরিক্ত লোড লাগানো (ওভার লোড), কিংবা
যদি কোন কারণে আপনার বাসার লাইন ভোল্টেজ বেড়ে যায় (ফলে কারেন্টের প্রবাহ বৃদ্ধি হয়)।
এসমস্ত ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার নিজে থেকেই ট্রিপ (Trip) করে বা বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে মূল্যবান যন্ত্রপাতি কে রক্ষা করে।
সার্কিট ব্রেকার কে আবিষ্কার করেছিলেন?
প্রাথমিক ভাবে বিখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন ১৮৭৯ সালে তাঁর পেটেন্টে সার্কিট ব্রেকারের বর্ণনা করেন। যদিও তাঁর বাণিজ্যিক যন্ত্রগুলোতে পরবর্তিকালে ফিউজ ব্যবহার করাহয়।
মূলত তাঁর আবিষ্কৃত ফিলামেন্ট বাল্ব ও আলোক বিতরণী সার্কিট সমূহকে দূর্ঘটনাবশত শর্ট সার্কিট এবং ওভার লোড থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই এটি ব্যবহৃত হয়েছিল।
পরবর্তীকালে ১৯২৪ সালে ক্ষুদ্রকায় সার্কিট ব্রেকারের পেটেন্ট করেন Brown, Boveri & Cie নামক কোম্পানি যা আধুনিক সার্কিট ব্রেকার গুলোর পথ প্রদর্শক।
দেখতে কেমন?
বাসা-বাড়িতে ব্যবহৃত সার্কিট ব্রেকার গুলো মিনিয়েচার সার্কিট ব্রেকার (MCB) নামেও পরিচিত।
সেগুলোর আকার বেশ ছোট। চালু ও বন্ধ করার জন্য তার সামনে একটি লিভার (lever) মত থাকে যাকে অপারেটর (Operator) নামে ডাকা হয়।
নিচে বেশ কয়েক ধরণের সার্কিট ব্রেকারে চিত্র দেয়া হলো-
বাসা-বাড়িতে বহুল ব্যবহৃত সার্কিট ব্রেকারের চিত্র, একে MCB ও বলে
নিচের চিত্রে একটি হাই ভোল্টেজসার্কিট ব্রেকারের পার্শ্বচ্ছেদের চিত্র ও তারই পাশে ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারদের কে তা পাওয়ারসাবস্টেশনে বসানোর চিত্র দেখতে পাচ্ছি।
হাই ভোল্টেজসার্কিট ব্রেকারের আভ্যন্তরীন ও প্রায়োগিক চিত্র
নিচের ড্রইংটিতে আমরা ২৫ কিলো ভোল্ট সিংগেল ফেজ এয়ার সার্কিট ব্রেকারের আভ্যন্তরীন বিভিন্ন অংশ সমূহ দেখতে পাচ্ছি-
২৫ কিলো ভোল্ট সিংগেল ফেজ এয়ার সার্কিট ব্রেকারের আভ্যন্তরীন বিভিন্ন অংশ সমূহ
আরসিডি বা রিসিডিউয়াল কারেন্ট ডিভাইস (RCD) – এটি সম্পূর্ণ বর্তনিতে প্রবাহিত কারেন্টের ভারসাম্য পর্যবেক্ষণ করে। কোন কারণে এই কারেন্টের ভারসাম্য নষ্ট হলে (যেমনঃ আর্থ (Earth) এবং লাইভ (Live) তার শর্ট হলে বা মাত্রার অতিরিক্ত পরিমাণ বিদ্যুৎ আর্থ এ প্রবেশ করলে) এটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা ট্রিপ (Trip) করে। কিন্তু এটিতে ওভার লোড প্রোটেকশন ব্যবস্থা থাকে না।
রিসিডিউয়াল কারেন্ট ব্রেকার উইথ ওভার কারেন্ট প্রোটেকশন (RCBO) – উপরোক্ত সুবিধা সহ এটিতে ওভার লোড প্রোটেকশন ব্যবস্থা সংযুক্ত থাকে।
আর্থ লিকেজ সার্কিট ব্রেকার (ELCB) – এটি সরাসরি আর্থ লাইন দ্বারা প্রবাহিত কারেন্টের মাত্রার উপরে মূল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। বর্তমানে এই ধরণের ডিভাইস আর তেমন ব্যবহার হয়না কারণ এ ধরণের ডিভাইস বিভিন্ন সঙ্কটাপন্ন অবস্থার পার্থক্য ধরতে অপারগ।
উপরিউক্ত ৩টি সার্কিট ব্রেকার মূলত আর্থ বা গ্রাউন্ড ফল্ট থেকে যন্ত্রপাতি ও ব্যবহারকারী কে সুরক্ষা দিতে ব্যবহৃত হয়।
কিভাবে কাজ করে সার্কিট ব্রেকার
আমরা আগেই জেনেছি যে, কোন কারণে যদি ওভারলোড হয় বা শর্ট সার্কিট ঘটে তাহলে সার্কিট ব্রেকার স্বয়ংক্রিয় ভাবে বন্ধ হয় যায়।
কিন্তু কিভবে এই কাজটি ঘটে তা বেশ মজার। আগ্রহী পাঠকের জন্য সে ব্যাখ্যাটিই তুলে ধরছি। তবে বিভিন্ন ধরণের সার্কিট ব্রেকারে এই পদ্ধতিটিও ভিন্ন।
ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক টাইপ সার্কিট ব্রেকারের ক্ষেত্রে
একতি স্প্রিং চালিত পুশ টু অনসুইচ ব্যবহার করা হয় এই কাজে।
অনেকটা কলিং বেলে বহুল ব্যবহৃত গোলাকার পুশ সুইচের মতোই, কিন্তু এটি আরো দৃঢ় ও সুসংবদ্ধ।
এর সাথে ব্যবহার করা হয় একটি স্প্রিং লোডেড আয়রন বোল্ট। নিচের চিত্র দেখলে বুঝতে সুবিধা হবে আশাকরি-
সরল ভাবে ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক সার্কিট ব্রেকারের কার্য প্রণালি
সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটি এমন ভাবে সাজানো থাকে যার ফলে পুশ সুইচ কে চেপে অন করা হলে তা নির্দিষ্ট স্থানে আটকে যায় অপরদিকে সুইচের ২ প্রান্ত কে পরষ্পর সাথে সংযুক্ত করে দেয়। চিত্রে কমলা রঙ দ্বারা সুইচের স্পর্শক প্রান্ত (Contact point) দেখানো হয়েছে।
অপরদিকে, নির্দিষ্ঠ স্থানে আটকে রাখা বা “লক” করবার জন্য ব্যবহৃত আয়রন বোল্ট টির ঠিক পেছনেই একটি ইলেকট্রো ম্যাগনেট রাখা হয়। এটি প্রকৃতপক্ষে সলিনয়েড (Solenoid) বা তারের কুণ্ডলী যার মধ্য দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হলে এটি অস্থায়ী চুম্বকে পরিণত হয়।
সম্পূর্ন ব্যবস্থাটি এমন ভাবে করাহয় যেন-
স্প্রিং লোডেড পুশ সুইচ কে অন করলে লোডে পাওয়ার পাবে, একই সাথে
সলিনয়েডের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে এবং একে অল্প পরিমানে চুম্বকায়িত করবে।
এই ব্যবস্থার ফলে নির্দিষ্ঠ সীমার অতিরিক্ত লোড লাগানো হলে উক্ত সলিনয়েডের মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের পরিমাণ বেড়ে যাবে। ফলে সলিনয়েড টি নির্দিষ্ঠ সীমার অতিরিক্ত পরিমাণ চুম্বকায়িত হয়ে স্প্রিং বোল্ট কে নিজের দিকে টেনে নিয়ে পুশ সুইচ কে মুক্ত করে দিবে।
পুশ সুইচ টি মুক্ত হয়ে তার আভ্যন্তরীন স্প্রিং এর চাপে নিজেকে উপর দিকে ঠেলে উঠিয়ে দেবে যার ফলে স্পর্শক প্রান্তদ্বয় মুক্ত হয়ে যাবে যা লোডের থেকে পাওয়ারকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক সার্কিট ব্রেকারে ওভার লোড হলে অভ্যন্তরে যা ঘটে
ওভার লোড হলে কিংবা শর্ট সার্কিট ঘটলে এই প্রক্রিয়ায় এ ধরণের ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক সার্কিট ব্রেকার স্বয়ংক্রিয় ভাবে লোডের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে সমূহ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
এখানে উল্লেখ্য যে প্রায় সব ধরণের সার্কিট ব্রেকারই সেমি অটোমেটিক বা অর্ধ স্বয়ংক্রিয়। অর্থাৎ, ওভার লোডের কারণে এটি বন্ধ হলে একে ম্যানুয়ালি অন করতে হয়।
থার্মাল ওভার লোড টাইপ সার্কিট ব্রেকার
ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক ওভারলোড টাইপ সার্কিট ব্রেকারের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি ইলেকট্রো ম্যগানেট টি ওভার লোডের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রাখছে।
একই ভাবে থার্মাল ওভার লোড টাইপ সার্কিট ব্রেকারের ক্ষেত্রে এই কাজটি করে দ্বীধাতু (bi metal) নির্মিত একটি পাত।
আমরা জানি যে কোন পরিবাহী ধাতুর মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে। এবং এর মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের সময় ধাতুটি গরম হয়।
একই ভাবে দ্বীধাতু নির্মিত পরিবাহির মধ্যদিয়েও বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে। কিন্তু গরম হলে দ্বীধাতু তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বেঁকে যায়।
চিত্রে সরল ভাবে থার্মাল ওভার লোড টাইপ সার্কিট ব্রেকারের কাজ দেখানো হয়েছে
কাজেই থার্মাল ওভার লোড টাইপ সার্কিট ব্রেকারে ওভার লোড হলে তার অভ্যন্তরস্থ দ্বীধাতু নির্মিত অংশটি অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহের কারণে গরম হয়ে বেঁকে যায় যা উক্ত পুশ সুইচ কে অফ পজিশনে নিয়ে গিয়ে ওভার লোড বা শর্ট সার্কিটের হাত থেকে লোড কে বাঁচায়।
ইলেকট্রনিক ওভার লোড টাইপ সার্কিট ব্রেকার কীভাবে কাজ করে?
ইলেকট্রনিক সার্কিট ব্রেকার গুলো মূলত তড়িৎ প্রবাহের পরিমাণ সেন্স করবার মাধ্যমে ওভার লোড বা শর্ট সার্কিট কে সনাক্ত করতে পারে এবং তদানুযায়ী পূর্ব নির্ধারিত কোন কাজ করতে পারে (যেমনঃ লোড কে পাওয়ার থেকে বিচ্যুত করা, এলার্ম বাজানো, মোবাইলে এসএমএস পাঠানো, ইত্যাদি)।
প্রয়োজনে এগুলোতে ডিজিটাল ডিসপ্লে সংযুক্ত করবার ব্যবস্থাও থাকে যার মাধ্যমে প্রবাহিত কারেন্টের পরিমাণ, ওভার লোড সিচুয়েশনে নির্দিষ্ট কাজ সেট করবার ব্যবস্থা, বিশেষ কোন বার্তা প্রদর্শন ইত্যাদি করা যায়।
ক্ষেত্র বিশেষে এসমস্ত তথ্যগুলো কে কম্পিউটারে স্থানান্তরের জন্য ডাটা পোর্ট (ইউএসবি বা অন্যকোন) ও ব্যবহার করা হয়।
নিচে আমরা একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাজে ব্যবহৃত হয় এমন ইলেকট্রনিক সার্কিট ব্রেকার ও তার বাহ্যিক বিভিন্ন অংশ দেখতে পাচ্ছি-
ইলেকট্রনিক সার্কিট ব্রেকার ও তার বাহ্যক বিভিন্ন অংশ সমূহ
এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে, বোঝার সুবিদার্থে এই লেখায় বেসিক ও মূল কার্য প্রণালী দেখানো হয়েছে যা প্রাযুক্তিক উন্নয়নের সাথে সাথে আরো উন্নত হচ্ছে। এখন এসকল পদ্ধতির সংকরায়নে আরো আধুনিক ও দ্রুত গতির সার্কিট ব্রেকার ও নির্মিত হচ্ছে।
সার্কিট ব্রেকার ক্ষেত্রবিশেষে ফিউজের তুলনায় খুব দ্রুত কাজ করে
এগুলি ফিউজের তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য
সার্কিট ব্রেকার বেশি পরিমাণ সেন্সেটিভ হয় ফিউজের তুলনায়
ফিউজ একবার নষ্ট হলেই পাল্টাতে হয় যেখানে সার্কিট ব্রেকার একের অধিক বার ব্যবহার করা যায়
সঠিক ও উপযুক্ত মানের সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করলে তা দীর্ঘদিন টেকার নিশ্চয়তা দেয়
অপেক্ষাকৃত দ্রুত সময়ে লোডের বিদ্যুৎ পুনর্বহাল করা যায়। অর্থাৎ ডাউন টাইম (Down time) কম হয়
ক্ষেত্রে বিশেষে লোডের জন্য আলাদা ভাবে সুইচ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা থেকে বাঁচায়
অধিকাংশ ভালো সার্কিট ব্রেকার গুলোতে টেস্ট বাটন থাকে যার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় সার্কিট ব্রেকারটি ঠিকমত কাজ করছে কিনা। ফিউজে এমন ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়।
সার্কিট ব্রেকার ট্রিপ (Trip) করে কখন?
মিনিয়েচার টাইপ সার্কিট ব্রেকার (MCB) গুলো সাধারণত ৩ ধরণের হয়। এই ধরন বা টাইপ অনুযায়ী এদের ট্রিপিং কারেন্ট ও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে, যথা-
টাইপ B সার্কিট ব্রেকার – ৩ থেকে ৫ গুণ বেশি কারেন্ট প্রবাহিত হলে এগুলো ট্রিপ করে;
টাইপ C সার্কিট ব্রেকার – ৫ থেকে ১০ গুন বেশি কারেন্টে এগুলো ট্রিপ করে;
টাইপ D সার্কিট ব্রেকার – লোড কারেন্ট ১০ থেকে ২০ গুণ হলে এগুলো ট্রিপ হয়।
মূলত কোন সার্কিট ব্রেকার কখন ট্রিপ করবে তা তার ম্যানুয়েল বা ডাটাশিট এ উল্লেখ থাকে।
সার্কিট ব্রেকার লাগানোর ওয়্যারিং ডায়াগ্রাম কেমন?
সাধারণত সার্কিট ব্রেকার কে কোন লোডের সিরিজে সংযোগ দিতে হয়। কি ধরণের লোড ব্যবহার হচ্ছে এবং লোডের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পরিমাণ কারেন্ট রেটিং অনুযায়ী সার্কিট ব্রেকার লাগাতে হয়।
নিচে একটি বাসার বিভিন্ন রুমের জন্য লোডের পাওয়ার রেটিং অনুযায়ী সার্কিট ব্রেকার ব্যবহারের তুলনা মূলক ডায়াগ্রাম দেয়া হলো-
একটি বাসার বিভিন্ন ঘরে সার্কিট ব্রেকারের ওয়্যারিং ডায়াগ্রাম দেখানো হয়েছে
চিত্রটি খেয়াল করলে দেখতে পাবো যে একটি সম্পূর্ণ বাড়ির জন্য একটি মুখ্য বা প্রধান সার্কিট ব্রেকার থেকে প্রতিটি ঘরের লোড ও পাওয়ার অনুযায়ী বিভিন্ন মানের গৌন সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা হয়েছে।
এভাবে ওয়্যারিং করবার ফলে কোন কারণে গৌন সার্কিট ব্রেকার ব্যর্থ হলেও বিশাল ক্ষতির হাত থেকে যেমন রক্ষা পায় তেমনি প্রতিটি ঘরের আলাদা আলাদা ব্রেকার ব্যবহারের ফলে ফল্ট ফাইন্ডিং (Fault finding/fault isolate) করতেও সুবিধে হয়।
প্রয়োজনে প্রতিটি হাই পাওয়ার লোডের ক্ষেত্রে আলাদা সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা উচিৎ (যেমনঃ ফ্রিজ, এসি, ইলেকট্রকি হিটার, মাইক্রো ওয়েভ ওভেন, আয়রন প্রভৃতি)
কত মানের সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা উচিৎ
রেজিস্টিভ লোডের ক্ষেত্রে – লোডের মোট গৃহীত এম্পিয়ারের ৩ গুণ ব্যবহার করা শ্রেয়। উল্লেখ্য রেজিস্টিভ লোড হচ্ছে – টাংস্টেন বা ফিলামেন্ট লাইট, হিটার, আয়রন প্রভৃতি।
ইন্ডাক্টিভ লোডের ক্ষেত্রে – লোডের মোট গৃহীত এম্পিয়ারের ৬ গুণ ব্যবহার করা উচিৎ। কারণ ইন্ডাক্টিভ লোড সমূহ, সুইচ অন করবার সময় ৩-৬ গুণ পরিমাণ কারেন্ট টানে এবং আস্তে আস্তে তার কারেন্ট টানার পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে আসে।
ইন্ডাক্টিভ লোড হচ্ছে সে সকল লোড যাদের মধ্যে ইন্ডাক্টর/কয়েল আছে। উদাহরণ – সিলিং ফ্যান, টেবিল ফ্যান, ইলেকট্রিক মোটর, ছোট ট্রান্সফরমার চালিত যন্ত্রপাতি, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি।
ক্যাপাসিটিভ লোডের ক্ষেত্রে – ক্যাপাসিটিভ লোড গুলোও প্রাথমিক ভাবে বেশি কারেন্ট টানে কিন্তু তা ক্ষণিক সময়ের জন্য এবং ইন্ডাক্টিভ লোডের মত দীর্ঘ সময় ব্যাপীও না।
একে ইনরাশ কারেন্ট বলে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লোডের মোট কারেন্টের ৬ গুণ পরিমাণ ব্যবহার করাই শ্রেয়। এরফলে ইনরাশ কারেন্টে সার্কিট ব্রেকার ট্রিপ করবার সম্ভাবনা কমে।
সার্কিট ব্রেকার লাগানোর নিয়ম কি?
যে লোডের সাথে সার্কিট ব্রেকার লাগানো হচ্ছে সেটি কত এম্পিয়ার কারেন্ট টানে তা হিসেব করে বের করতে হবে। তার জন্য, I = W÷V সূত্র প্রয়োগ করা যেতে পারে। যন্ত্রের গায়ে/পেছনে অনেক সময় ওয়াট ও এম্পিয়ার মান খোদাই/লেখা থাকে।
যে লোডে সার্কিট ব্রেকার লাগানো হচ্ছে সেটি কি টাইপের তা নির্ণয় করতে হবে। যদি এমন হয় যে উক্ত লাইনে বা উক্ত সার্কিট ব্রেকারে ভিন্ন ভিন্ন টাইপের লোড লাগানো হবে (বাসা বাড়িতে যেমন থাকে) সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ মান ধরে হিসাব করতে হবে।
ইন্ডাকটিভ লোডে ব্যবহারের জন্য লোডের এম্পিয়ার মানের চেয়ে ৩-৬ গুণ বেশি রেটিং সম্পন্ন সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করতে হবে।
ক্যাপাসিটিভ লোডের ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকারের মান হবে লোডের এম্পিয়ার মানের ৬ গুণ।
রেজিস্টিভ লোডের ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার লাগানোর নিয়ম হচ্ছে লোড যত এম্পিয়ার টানবে তার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি ধরা। অর্থাৎ লোড যদি ১ এম্পিয়ার টানে তাহলে সার্কিট ব্রেকার টি ১.২ এম্পিয়ারের হলেই চলবে। যদিও রেজিস্টিভ লোড চালু থেকে বন্ধ হবার আগে পর্যন্ত একই এম্পিয়ার টানে তবুও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সার্জ কারেন্টের ফলে যেন অযথাই সার্কিট ব্রেকার ট্রিপ না করে তাই কিছুটা অতিরিক্ত মানের লাগানো ভালো।
হাই এম্পিয়ার প্রতিটি লোড আলাদা আলাদা সার্কিট ব্রেকারে সংযোগ দিতে হবে। হাই এম্পিয়ার লোড যেমন – হাই পাওয়ারমোটর, পানির পাম্প, এয়ার কন্ডিশনার, ইলেকট্রিক হিটার, ইস্ত্রি লাগানোর প্লাগ পয়েন্ট ইত্যাদি।
এখানে উল্লেখ্য যে- যদি হিসাবকৃত মান বাজারে না পাওয়া যায় তাহলে কাছাকাছি বেশি মানের ব্যবহার করা যেতে পারে। (যেমন – লোডের কারেন্ট ১১ এম্পিয়ার পাওয়া গেল কিন্তু বাজারে এই মানের সার্কিট ব্রেকার পাওয়া যায় না। কিন্তু ১৬ এম্পিয়ারের ব্রেকার সহজ লভ্য। কাজেই ১৬ এম্পের ব্রেকার ব্যবহার করা যেতে পারে)
সার্কিট ব্রেকারের প্রেক্ষাপটে “ট্রিপ” অর্থ বন্ধ হওয়া।
ট্রিপিং কারেন্ট (Tripping current)
যে পরিমাণ কারেন্ট প্রবাহিত হলে একটি সার্কিট ব্রেকার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় তাকে ট্রিপিং কারেন্ট বলে।
ইনরাশ কারেন্ট
সুইচ অন করার সাথে সাথে কোন লোড যে কারেন্ট গ্রহণ করে তাকে ইনরাশ কারেন্ট বলে। স্বাভাবিক ভাবে ইন্ডাকটিভ ও ক্যাপাসিটিভ লোডে এই ইনরাশ কারেন্ট তার স্বাভাবিক গৃহীত কারেন্টের তুলনায় অনেক বেশি হয়।
সার্জ ভোল্টেজ
অল্টারনেটিং কারেন্ট বর্তনিতে অর্ধ সাইকেল বা তার কম সময়ের জন্য মাত্রাতিরিক্ত ভোল্টেজের উপস্থিতি কে সার্জ ভোল্টেজ বলে।
সার্জ কারেন্ট
ইনরাশ কারেন্টের অনুরূপ।
সেফটি ডিভাইস হিসেবে সার্কিট ব্রেকার এর ভূমিকা অপরিসীম। সংক্ষিপ্ত এই লেখায় গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস টির কিছু দিক আর সহজ হিসাব নিকাশ তুলে ধরলাম।
আরো অনেক চমকপ্রদ বিষয় আছে এ নিয়ে যা নিয়ে লিখতে গেলে বিশাল বই হয়ে যাবে! বিশেষ করে হাই ভোল্টেজ লাইনে ব্যবহৃত সার্কিট ব্রেকার গুলো আরো মজার!
এখানে উল্লেখ করছি, পাওয়ারইঞ্জিনিয়ারিং এ বিশেষ ভাবে দক্ষ এবং সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সোহরাব হোসেন সৌরভ ভাই হাই ভোল্টেজসার্কিট ব্রেকার এবং আরো কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের মাঝে তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে কিছু বিতরন করবেন এ প্রত্যাশা দিয়েছেন। আমাদের এ প্রত্যাশা সুদীর্ঘ হবে না এ আশাই করছি।
বিদায়ের শেষ মুহুর্তে একটি ছোট পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। নির্দিষ্ঠ মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত লোড সংযোগ, শর্ট সার্কিট ইত্যাদি কারণে সার্কিট ব্রেকার ট্রিপ করে।
তাই কোন ব্রেকার ট্রিপ করলে সাথে সাথেই সেটিকে অন না করে আগে কারণ খোঁজা উচিৎ কেন সার্কিট ব্রেকার টি ট্রিপ করলো। এর মাধ্যমে আপনি মারাত্মক কোন দূর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচতে পারেন।
সবাই ভালো থাকবেন, নিরাপদে থাকবেন আর অবশ্যই ইলেকট্রিক্যাল কাজ করবার সময় মনে রাখবেন – SAFETY FIRST!
সাবউফার এম্পলিফায়ার - ১০০% টেস্টেড কমপ্লিট পিসিবি সহ
আজকে যে সার্কিট টি দিচ্ছি তা একটি কমপ্লিট অডিও সাবউফার এম্পলিফায়ার এর সার্কিট যা #পিসিবি সহ দেওয়া হচ্ছে। প্রথমে বলে নেই এই #সার্কিট টি আমি নিজে টেস্ট করেছি এবং সম্পুর্ণ কার্যকরী একটি সার্কিট। অরিজিনাল সার্কিট টি ডিজাইন করেছেন ভারতের Karunesh Shukla এবং প্রথম এই সার্কিট টি ইলেকট্রনিক্স ফর ইউম্যাগাজিনে পাবলিশ হয়। তাহলে সার্কিট টি দেখি –
একটি অপারেশনাল এমপ্লিফায়ারের উপর ভিত্তি করে এর ফিল্টার সেকশন ডিজাইন করা হয়েছে যার ইনপুটে মিক্সড অডিও ইনপুট সিগনাল ও আউটপুট একটি ইমিটার ফলোয়ার ট্রানজিস্টর এম্পের মাধ্যমে মুল এমপ্লিফায়ারের ইনপুটে দেওয়া হয়েছে। ইমিটার ফলোয়ার এমপ্লিফায়ার ব্যবহার করাহয় হাই আউটপুট ইম্পিডেন্স তৈরী করতে, যাতে ইনপুটের সাথে ইমপিডেন্স ম্যাচিং ভালো হয়।
সার্কিটের বিভিন্ন টেস্ট পয়েন্ট/টার্মিনাল পরিচিতি
সার্কিট টিতে বিভিন্ন TP বা টেস্ট পয়েন্ট/টার্মিনাল পয়েন্ট ব্যবহার করা হয়েছে নির্মান পরবর্তী টেস্ট ও সংযোগ করবার সুবিধার জন্য। এগুলো নিম্নরূপ-
এখানে ছবি ভালো না আসলে মুল আর্টিক্যাল থেকেও ছবি দেখে নিতে পারবেন – মুল আর্টিকেল দেখতে এখানে ক্লিক করবেন। বা ছবির উপর রাইটক্লিক করে ব্রাইজারে ওপেন করেও ছবি বড় করে দেখতে পারবেন।
আমাদের ইলেকট্রনিক্সের সাথে থাকবার জন্য ধন্যবাদ। কমেন্ট সেকশনে আপনার ভালো লাগা, প্রশ্ন বা আপনার চাহিদা জানাতে পারেন আমাদের। সেই সাথে আপনার বিজ্ঞান বা ইলেকট্রনিক্স নিয়ে যে কোন লিখা আমাদের কাছে দিতে পারেন সাইটে প্রকাশ করবার জন্য।