বিজ্ঞান প্রজেক্টঃ তৈরি করি 3D হলোগ্রাফিক প্রজেক্টর
বিজ্ঞান এর অভিনব আবিষ্কার এর মধ্যে একটি হল হলোগ্রাফি। আলোর প্রতিসারণ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন আলোক বিন্দুকে একটি একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে কোন দ্বিমাত্রিক আলোক উৎসকে ত্রিমাত্রিক রূপ দেওয়া যায়। এটিই থ্রিডি হলোগ্রাফি। আসুন এখন শিখি কিভাবে একটি সরল হলোগ্রাফি প্রজেক্টর বানাতে হয়।
৩. স্কচ টেপ বা কোন প্রকার আঠা (আমি গ্লু গান ব্যবহার করছি)
আমার ব্যবহৃত সরঞ্জাম-
হলোগ্রাফিক প্রজেক্টর বানাতে আমার ব্যবহৃত সরঞ্জাম
ধাপ ২: একটু হিসাব করি চলুন
এখন আমরা সিডি কেস টি কাটব। কিন্তু প্রথমে আমাদেরকে একটি মাপ নিতে হবে যেই মাপ অনুসারে আমরা এটি কাটব। মাপটি একটি গ্রাফ পেপারে আঁকলে ভালহয়।
হলোগ্রাফ প্রজেক্টরের জন্য হিসাব নিকাশ গ্রাফপেপারে
ছবিটি বাঁকা হওয়ার জন্য দুঃখিত। এখানে ট্রাপিজিয়াম টির ভুমি ৬ সেন্টিমিটার আর পাশের বাহু দুটি ৩.২ সেন্টিমিটার। উপরের ছোট বাহুটি ১ সেন্টিমিটার। এই হিসাবে কাটতে হবে
ধাপ ৩: আলাদা করা
এখন ডিভিডি কেস টি নিন এবং পাশের প্লাস্টিকের অংশ গুলো সাবধানে ভেঙে আলাদা করে ফেলুন। ঠিক যেমন এই ছবিতে আলাদা করা হয়েছে। এতে কাটাকাটি করার সময় কোন বাঁধা আসবে না।
ডিভিডি কেসের পাশের অংশ গুলো আলাদা করা হচ্ছে
ধাপ ৪: হিসাব মত কাটাকাটি
এখন আমরা গ্রাফ পেপারের মাপ অনুযায়ী কাটব। এটিহল সবচেয়ে কঠিন ধাপ। প্রথমে গ্রাফ পেপারটি একটি টেবিলে রাখুন। তারপর পেপারটির উপর সিডি কেস টি বসান। এখন নিজের হাত না কেটে গ্রাফ এর বাহু গুলোর সমান করে কাটার দিয়ে বাহু বরাবর কয়েকবার কাটুন যেন আস্তে আস্তে প্লাস্টিকের স্তরে গভির করে কাটতে পারেন। যখন কাটার এর ব্লেড সিডি কেস এ একটি গভির ক্ষত বানাবে তখন কাটা বন্ধ করুন। এভাবে তিন টি বাহুই কাটুন। স্কেল বসিয়ে কাটলে ভাল হয়।
গ্রাফপেপারের উপরে সিডি কেসটি বসিয়া দাগ দেয়া হচ্ছেকাটার দিয়ে এভাবে খুব সাবধানে কাটতে হবে
খুব সাবধানতার সাথে কাটাকাটি করবেন। ছোটরা অবশ্যই বড় কারো সাহায্য নিয়ে এই কাজটি করবে।
সাবধানে আলাদা করতে হবে
এভাবে কাটবেন। কিন্তু ছবিটির মত হাত ফসকে ভুল করবেন না। যত সম্ভব নিখুত করে কাটবেন। উপরে শুধু একটি বাহুকে কাটার পদ্ধতি দেখালাম। আপনি ৩টি বাহুই কাটবেন। আপনাকে এভাবে মোট ৪টি টুকরা কাটতে হবে।
ধাপ ৫: বাহুগুলো কে আলাদা করি
এখন বাহুগুলো কাটার পরে এগুলো আলাদা করার পালা। নিচের ছবিগুলি লক্ষ করুন-
ছবি গুলোর মত কাটা ট্রাপিজিয়াম টি প্লাস্টিক কেস থেকে আলাদা করুন। একটু বাঁকিয়ে আবার সোজা করে আলাদা করুন। কাটার সময় একদম সাইড থেকে কাটা ভাল তাহলে আলাদা করতে সুবিধে হবে।
কাটা অংশটি আলাদা করা হচ্ছেকাটা অংশটি আলাদা করা হচ্ছে-২কাটা অংশটি আলাদা করা হচ্ছে-৩সবগুলো কে আলাদা করবার পর
ধাপ ৬: চলুন জোড়া দেই
যে ৪টি টুকরা আপনি কেটে আলাদা করেছেন সেগুলো এখন জোড়া দিতে হবে।
আপনি টেপ দিয়ে জোড়া দিতে পারেন অথবা গ্লু দিয়ে লাগাতে পারেন। জোড়া দিয়ে একটি পিরামিড আকৃতি দিতে হবে।
এভাবে লাগাতে হবে-
সবগুলো অংশ এভাবে জোড়া দিতে হবেহটগ্লু দিয়ে জোড়া লাগবার পরে এমন পিরামিড আকৃতি হবে
শেষ ধাপ: উপভোগ করুন হলোগ্রাফি প্রজেক্টর
তৈরি হয়েগেল থ্রিডি হলোগ্রাফি প্রজেক্টর। ইন্টারনেট এ কতগুলো হলোগ্রাফিক ভিডিও পাওয়া যায়। ওগুলো এই প্রজেক্টরের সাহায্যে দেখুন এবং মজা নিন। তবে আপনাদের মধ্যে যারা আমার মতো বিড়াল পোষেন তাদের জানিয়ে দিলাম, বিড়াল কিন্তু প্রজেক্টরের ভিতরের প্রজাপতি টি কে ধরার জন্য লাফ দিতে পারে! কিন্তু আপনি দিয়েন না 😉
থ্রিডি হলোগ্রাফ ইমেজথ্রিডি হলোগ্রাফ ইমেজ
উপরের ছবি গুলোতে ৩ডি হলোগ্রাফি ছবির কিছু নমুনা দেওয়া হল। নিচে আমার তৈরি করা হলোগ্রাফিক প্রজেক্টর-
আজকে আমরা একটি মিনি এমপ্লিফায়ার সিস্টেম বানাবো। যে সাউন্ড সিস্টেমটার সাইজ এতটাই ছোট যে আপনি যেকোন জায়গায় চলাফেরা করার সময় পোর্টেবল বুম বক্স হিসেবেও এটিকে ব্যবহার করতে পারবেন। এমনকি এটির আউটপুটে আমরা স্টেরিও চ্যানেল এর সাউন্ড পেতে পারি। বেশ কয়েকদিন ধরে আমরা বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ বা পেজে এই ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি যে-
“আমার ল্যাপটপের সাউন্ড খুবই কম, এটার সাউন্ড বাড়ানোর জন্য কি কোন এমপ্লিফায়ার ব্যবহার করতে পারি?”
“আচ্ছা মোবাইল থেকে কি কোন উপায়ে আলাদা ছোট বক্স আকৃতির এমপ্লিফায়ার বানাতে পারি যাতে সব জায়গায় ব্যবহার করতে পারি?”
টিডিএ ২৮২২ এর সাপ্লাই ভোল্টেজ সর্বোচ্চ ১৫ ভোল্ট। তবে এখানে ৫-৯ ভোল্ট ব্যবহার করলেও ভালই ফল পাওয়া যায়। এমনকি এটি ল্যাপটপের ইউএসবি পোর্ট থেকে পাওয়ার নিয়েও চলতে পারে। কাজেই মিনি এম্পলিফায়ার টি এই সাপ্লাই ভোল্টজের মধ্যেই চলবে। আর, আমরা একটি কথা হয়ত সবাই জানি ব্যাটারির কারেন্ট(এম্পিয়ার) যতবেশি থাকবে তার ব্যাকআপ টাইমও ততো বেশি পাওয়া যাবে। আরেকটি বিষয় এর দিকে খেয়াল রাখতে হবে, ইনপুট সাপ্লাই ভোল্টেজ যেন কোন মতেই ১৫ ভোল্টের বেশি নাহয়। তাহলে উল্লিখিত আইসি টি পুড়ে কিংবা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
এই আইসি টির একটি বিশেষ দিক হলো এটাতে কোন প্রকার হিটসিঙ্ক লাগাতে হয়না। আর এটি চালাতে আমরা ইলেকট্রিক ট্রান্সফরমার দিয়ে পাওয়ার সাপ্লাই কে ডিসি তে ফিল্টার করে অথবা ডিরেক্ট ব্যাটারি ব্যবহার করতে পারি। অবশ্যই ট্রান্সফরমার দিয়ে পাওয়ার সাপ্লাই তৈরি করলে বড় ও ভালো মানের ক্যাপাসিটর ব্যবহার করবেন। নয়ত স্পিকারে প্রচুর নয়েজ বা হাম আসবে।
মিনি এম্পলিফায়ার সিস্টেমের আউটপুট লোডঃ
এখন আসি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি কথায়। স্বাভাবিক ভাবে আমরা হয়ত একটি কথা অনেকেই জানি আবার জানিনা যে, যেকোন এমপ্লিফায়ার এর আউটপুটে যদি ভাল ফলাফল পেতে চাই অথবা অপেক্ষাকৃত বেশি এফিসিয়েন্সি পেতে চাই তাহলে কিছু নিয়ম মেনে তারপর সেখানে উক্ত পার্টস লাগাতে হবে। এমপ্লিফায়ার এর এফিসিয়েন্সি অধিকতর ভাল পেতে হলে এর আউটপুট ক্ষমতার তুলনায় ৩ গুন বেশি ক্ষমতার লোড (এক্ষেত্রে স্পিকার) লাগাতে হয়। উদাহরনঃ আমার এমপ্লিফায়ার ১০০ ওয়াট এর। তারমানে আমাকে এখানে আউটপুট হিসেবে প্রায় মোটামুটি ৩০০ ওয়াটের স্পিকার(লোড) লাগাতে হবে। তা নাহলে ভাল ফলাফল আশা করা যায় না। ক্ষেত্রবিশেষে স্পিকার কেটেও যেতে পারে।
আচ্ছা তাহলে কি দাড়াচ্ছে? সেটাহল যেহেতু টিডিএ ২৮২২ এমপ্লিফায়ার এর স্বাভাবিক আউটপুট ১ ওয়াট তাহলে আমার আউটপুটে ৩-৪ ওয়াটের স্পিকার লাগাতে হবে।
বিশেষ সতর্কতা আর কিছু ট্রিক্সঃ
এমপ্লিফায়ার বানানোর ক্ষেত্রে কিছু গোপন ট্রিক্স আছে। যেগুলো হয়তবা আমরা অনেকেই জানি না। আজকে আপনাদের সামনে সব কিছু ফ্ল্যাশ করে দিব। বিনিময়ে কিছু দিতে হবে না আমাকে, শুধু ধৈর্য্য ধরে সাথে থাকুন। তো বিষয়টা হলো, এমপ্লিফায়ার খুব এফেক্টিভ একটি জিনিস। এটাতে অনেকগুলো বিষয় মাথায় রাখতে হয়। যেমন আপনি কোন কোয়ালিটির তার/ওয়্যার ব্যবহার করছেন কানেকশন দেওয়ার ক্ষেত্রে। এমপ্লিফায়ার এ ভাল মানের তার ব্যবহার করা আবশ্যক। না হলে আউটপুট এ সাউন্ড ডিস্টরশন দেখা দিবে। আবার আসি পাওয়ার সাপ্লাই এর কথায়। এমপ্লিফায়ার এর মধ্যে আমরা যে ক্যাপাসিটর/ইন্ডাক্টর ব্যবহার করি তারা তাদের ভিতর এমনকি বাইরেও একটি ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করে। তাদের আশেপাশে ধরুন ১-২ ইঞ্চির মধ্যে যদি পাওয়ার সাপ্লাই এর ইলেকট্রিক কোন তার এসে পড়ে তাহলে আউটপুটের সাইন ওয়েভ ঐ সাপ্লাই এর ম্যাগনেটিক ফিল্ডের দ্বারা ডিস্টরটেড হয়ে থাকে। তাই এই দুইটি বিষয়ের দিকে আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
এখন আমরা যদি এটা থেকে বেশি ওয়াট পেতে চাই তাহলে আমরা ক্যাসকেড/ব্রিজ পদ্ধতি (BTL) অনুসরন করতে পারি। তাতে সাউন্ড আউটপুট পাওয়ার আরো বাড়বে। নিচের সার্কিট ডায়াগ্রামটিতে ব্রিজ পদ্ধতিতে এম্পলিফায়ার দেখানো হয়েছে-
এই পুরো মিনি এমপ্লিফায়ার টিকে আমরা যদি একটি কাঠের তৈরি বা প্লাস্টিকের কোন বক্সের মধ্যে স্থানদেই তাহলে এটিকে আরও অনেক সুন্দর দেখাবে। সাউন্ড বক্স আকারে বানিয়ে নিলে তো কথাই নেই। তাছাড়াও এরসাথে আমরা আরও একটি সুন্দর লাইট ইফেক্ট সংযোজন করতে পারি। যা কিনা মিউজিক এর তালেতালে নাচতে সক্ষম। এটির সম্পর্কে জানতে হলে আমার লেখা আরেকটি কলামে ঢুঁ মেরে আসতে পারেন। অথবা মিউজিক পালসের এই লিঙ্কে ঢুকে পড়ুন। এছাড়াও আমাদের অডিও সেকশনে অনেক টিউটোরিয়াল আছে এম্পলিফায়ার নিয়ে।
নিচের ছবিটিতে একজন বিদেশী হবিস্ট বন্ধুর তৈরিকরা মিনি সাউন্ড সিস্টেম। যাকিনা উনি সিগার বক্স (Cigar box) -এ স্থাপন করেছেন। একই রকম ভাবে আমরাও ছোটকোন বক্সে সম্পূর্ণ অডিও সিস্টেমটিকে স্থাপন করতে পারি। ছবিটি দখুন, দেখলে কিছু আইডিয়া পাবেন আশাকরি-
সিগার বক্সে তৈরি মিনি এম্পলিফায়ার সিস্টেম -(ইন্টারনেট থেকে গৃহীত)একটি মিনি এম্পলিফায়ার সিস্টেম বক্স এর ভেতরের দৃশ্য
সমাপ্তিঃ
আশাকরি লেখাটা পড়ে এতক্ষনে অনেকেই মিনি এম্পলিফায়ার বানানো শুরুকরে দিয়েছেন। আর যারা করেন নি তারা দ্রুত শুরুকরে দিন। কারণ এরচেয়ে এতকম খরচে এত ভালো মানের এমপ্লিফায়ার পাওয়া সত্যই অনেক বড়কিছু। যাইহোক আজ আর নয়, যেতে হবে এইবার। তবে এ যাওয়াই শেষ যাওয়া নয়। আবার আসব সামনে আরও মজার বিষয় নিয়ে। তবে আপনাদের কে সেই সাথে রেস্পন্স দিতে হবে। আপনারা সাড়া না দিলে আমাদের আসা টা কঠিন ব্যাপার হয়ে। কোন প্রশ্ন থাকলে এখানে কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন অথবা আমাদের ফেসবুক পেজে আমাদের তা জানাতে পারেন। আমাদের স্পেশালিস্টরা সব সময় আপনাদের সাহায্য করার জন্য সদা প্রস্তুত। আসসালামু আলাইকুম ।
সেরা লেখকএর নাম ঘোষণা ও সার্টিফিকেট প্রদানের সময় সমাগত। অনেক গুলো সুন্দর লেখার মাঝে সেরা লেখা নির্বাচন অত্যন্ত দুরূহ কাজ। আমাদের বিচারক মণ্ডলী সে দুরূহ কাজটিই করেছেন শতব্যস্ততা মাঝে। তারজন্য আমাদের আন্তরিক ধন্যবাদ পাওনা এই সুন্দর ও সুচারু হাতের (ডিজিটাল হাতের) কাজের জন্য।
বলতে বাঁধা নেই, লেখকদের লেখনির মান এতই ভালো ছিল যে আমাদের সম্পাদনা পরিষদ ও বিচারক মন্ডলীদের জন্য সেরা লেখক নির্বাচন কঠিন হয়ে গিয়েছিল। যাইহোক সবাইকে আর অপেক্ষায় না রেখে আমরা সামনে এগোই।
সেরা লেখক নির্বাচন প্রতিযোগীতার ফলাফল ক্রমানুসারে-
এই প্রতিযোগীতায় মোট ১৪টি লেখা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে৷ মোট লেখক ছিলেন ৮ জন। ধারাবাহিক লেখাগুলির একের অধিক পর্বকে ১টি লেখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, এবং পূর্ণাঙ্গ লেখাগুলোকে ১টি লেখা হিসেবে ধরা হয়েছে৷ সঠিক ও নির্ভুল মূল্যায়ন এবং বিচার কাজকে সহজ করার স্বার্থে প্রতিটি লেখাকে ৫টি অংশে ভাগ করে নাম্বার প্রদান করে, চূড়ান্ত নির্বাচিত করা হয়েছে। ৫টি ভাগ নিম্নরূপ-
(১) লেখার প্রাথমিক মান
(২) ভাষা সরলী/সহজীকরন
(৩) প্রজেক্ট/ডিভাইসের গুরুত্ব
(৪) সামঞ্জস্যপূর্ণ চিত্রের ব্যবহার
(৫) পূর্বে ও বর্তমানে প্রকাশিত লেখার মোট সংখ্যা
লেখকদের উদ্দেশ্যে এই নিয়মাবলী পোস্ট আকারে প্রকাশ করা হলো, যাতে পরবর্তি লেখাগুলোতে লেখকগণ তাদের লেখনির ব্যাপারে আরো যত্নবান ও সচেতন হন।
সেরা লেখক এর সন্ধানের ১ম পর্বে যে লেখাগুলো তালিকাভুক্ত ছিলঃ-
এখানে উল্লেখ্য যে, নিরপেক্ষতার স্বার্থে আমাদের ইলেকট্রনিক্স কমিটিতে সরাসরি যুক্ত কোনো লেখক ও লেখকের লেখা এই প্রতিযোগীতায় রাখা হয়নি।
পাঠকদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, যারা সেরা হতে পারেন নি তাদের সহ বিজয়ীদের কে কমেন্ট ও শেয়ার করে উৎসাহ প্রদান করতে। আর এ পর্বই শেষনয়, সামনে এই লেখকগণ যে স্বীয় লেখনির মহিমায় উদ্ভাসিত হবেন এ দৃঢ়বিশ্বাস সর্বান্তকরণে পোষণ করি।
অশেষ শুভকামনা সবার প্রতি।
বিশেষ কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ লুতফুর রহমান বাবুল ভাই৷ উনার আন্তরিক সহযোগীতায় এই কাজটি অনেক সহজ হয়েছে৷
আরডুইনো টিউটোরিয়ালঃ এলসিডি ডিসপ্লে তে লিখুন যা খুশি
এলসিডি কন্ট্রোল করার জন্য মাইক্রোকন্ট্রোলার ভেদে বিভিন্ন লাইব্রেরি ব্যবহার করা হয়। আজকে তেমন একটি আরডুইনোপ্রজেক্ট নিয়ে আমাদের এই টিউটোরিয়াল। কোনও প্রজেক্ট এর ভিজুয়াল আউটপুট অর্থাৎ কোনও তথ্য দেখানোর জন্য বিভিন্ন রকমের ডিসপ্লে ব্যবহার করাহয়। যেমন, ডট ম্যাট্রিক্স, সেভেন সেগমেন্ট, এলসিডি, ওএলইডি ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো এই এলসিডি।
আজকের আরডুইনো প্রজেক্টঃ
আমরা আজকে শিখবো কি করে আরডুইনোর বিল্টইন এলসিডি লাইব্রেরি দিয়ে এলসিডি ডিসপ্লে ইন্টারফেস করতে হয়। এবং এই আরডুইনো ব্যবহার করে আমাদের পছন্দের লেখা কিভাবে ডিসপ্লে করা যায়।
সাধারণত এলসিডিতে মার্ক করা থাকে কোনদিক থেকে গোনা শুরু করতে হবে এবং কোনটা কোন পিন।
পিন ১কে গ্রাউন্ডের সাথে কানেক্ট করতে হয়, পিন ২ এ ৫ ভোল্ট দিতে হয়।
৩ নং পিনে ভোল্টেজ বাড়িয়ে কমিয়ে এলসিডির কনট্রাস্ট এডজাস্ট করা যায়। সাধারণত একটি পটেনশিওমিটার (ভেরিয়েবলরেজিস্টর) দিয়ে এ কাজটি করা হয়।
৪ নং পিনটি হচ্ছে রেজিস্টার সিলেক্ট (R/S) মোড, যেটায় ডেটা পাঠিয়ে বলা হয় যে এলসিডির ডিজিটাল ইনপুট পিনগুলোতে লেখা পাঠানো হবে না ইন্সট্রাকশন পাঠানো হবে। লেখা বলতে এলসিডিতে কি লেখা উঠবে সেটা, আর ইন্সট্রাকশন বলতে এলসিডির সব লেখা মুছে ফেলা, কিংবা যেই লেখা এখন পাঠানো হবে ওটা ২য় লাইনে দেখানো এরকম।
পিন ৫ হচ্ছে R/W ( Read/Write) মোড। এই পিনে মাইক্রোকন্ট্রোলার দিয়ে ক্যারেকটার পাঠানো যায় অথবা ডিসপ্লেতে এই মুহূর্তে কি লেখা আছে তা পড়াযায়। এ পিনটি সাধারণত গ্রাউন্ড করে রাখা হয়। পিন ৬ হচ্ছে Clock Enable Pin, এই পিনের মাধ্যমে এলসিডি ডিসপ্লে ড্রাইভারের ক্লক চালু করা হয়, যেটার সাহায্যে ড্রাইভার বুঝতে পারে কখন ইন্সট্রাকশন এক্সিকিউট করতে হবে।
D0 থেকে D7 পর্যন্ত ডিজিটাল পিনগুলোয় ক্যারেকটার (লেখা) ও ইন্সট্রাকশন পাঠানো হয়। যদি ৮ বিট মোড ব্যবহার করা হয়, তাহলে সবগুলো পিন ব্যবহার করতে হয়। তবে আরডুইনোতে বাই ডিফল্ট ৪ বিট মোড ব্যবহার করা হয়। তাই D4-D7 পিন আরডুইনোতে লাগালেই কাজ হয়।
A পিনে এলসিডির ব্যাকলাইটের পাওয়ার দেয়া হয়। এখানে ৫ ভোল্ট দিলে লাইট পুড়ে যেতে পারে তাই ৩.৩ ভোল্ট অথবা একটা রেজিস্টর দিয়ে ৫ ভোল্টে কানেক্ট করতে হবে।
K পিনে এলসিডির ব্যাকলাইটের পাওয়ার সোর্সের গ্রাউন্ড কানেক্ট করতে হবে। আরডুইনো থেকে ব্যাকলাইট পাওয়ার করা হলে এই পিনটি আরডুইনোর গ্রাউন্ড এর সাথে লাগিয়ে দিলেই চলবে।
এই লাইনটি দিয়ে এলসিডি ডিসপ্লে ইন্টারফেস করার জন্য লাইব্রেরি ইনক্লুড করলাম। আরডুইনোতে এই লাইব্রেরি বিল্ট ইন থাকে।
LiquidCrystal lcd(12, 11, 5, 4, 3, 2);
এই লাইন দিয়ে এলসিডির কোন পিন আরডুইনোর কোন পিনে লাগালাম সেটা ডিক্লেয়ার করতে হবে। পিনগুলো ডিক্লেয়ার করতে হবে এভাবে (R/S, E, D4, D5, D6, D7)। নামগুলোর জায়গায় যত নম্বর পিনে উক্ত এলসিডি পিন কানেক্ট সেটা লিখতে হবে।
void setup(){
lcd.begin(16, 2);
lcd.begin লিখে এলসিডিতে ডেটা পাঠানো শুরু করতে বলা হয়েছে এবং ব্রাকেটে প্রথমে এলসিডির কলামসংখ্যা ও মাঝখানে একটি কমা দিয়ে এলসিডির Row বা সারি সংখ্যা লিখতে হবে। এলসিডির নামের আগে 16×2 লেখা থাকলে বুঝতে হবে এলসিডিটিতে ১৬টা কলাম ও ২টি রো আছে। নিচে 16×2 ও 20×4 এলসিডি এর ছবি দেয়া হল-
16×2 এলসিডি ডিসপ্লে দেখতে এমন হয়20×4 এলসিডি ডিসপ্লে দেখতে এমন হয়
lcd.setCursor(0, 0);
এই কমান্ড দিয়ে কারসরকে উপরের সারির প্রথম কলামে নেয়া হল। এরপর যা লেখা হবে সেটা কারসরের পজিশন থেকে শুরু হবে। ব্র্যাকেটের ভিতরে প্রথমে কলামের সংখ্যা ও শেষে সারি/রো এর সংখ্যা লিখতে হবে।
lcd.print(“hello, world!”);
এলসিডিতে লাস্ট ডিক্লেয়ার করা কারসর পজিশন থেকে ব্র্যাকেটের ভিতরে লেখা স্ট্রিং বা লেখা প্রিন্ট/ ডিসপ্লে করানো হলো।
lcd.setCursor (0,1);
কারসরের পজিশন ২য় সারির (কলাম ও সারির গণনা ০ থেকে শুরু হওয়ায় ১ লেখা হয়েছে) ১ম কলামে নেয়া হলো।
lcd.print (“AmaderElectronics”);
এই লাইনটির মাধ্যমে, লাস্ট কারসর পজিশনে উক্ত লেখা (“AmaderElectronics”) কে আরডুইনো দিয়ে এলসিডি ডিসপ্লেতে দৃশ্যমান করা হয়েছে। এখানে AamderElectronics এর স্থানে আপনার পছন্দের কিছু লিখতে পারেন।
এলসিডি নিয়ে কিছু ট্রাবলশুটিংঃ
সমস্যা ১– এলসিডির লাইট জ্বলে, কিন্তু লেখা আসেনা অথবা লেখা সাদা ব্লকের জন্য বোঝা যায়না।
খুবই সহজ একটি সার্কিট। একটি C828 ট্রানজিস্টর দিয়ে তৈরী। 50k ভেরিয়েবলটি দিয়ে এই প্রিএম্প এর গেইন কন্ট্রোল করা যাবে। 100 nf ক্যাপাসিটরটি মুলত এর ফ্রীকোয়েন্সী কাট নির্ধারণ করবে। ইনপুটে লেফট ও রাইট দুই চ্যানেলই আসবে কিন্তু আউটপুটে শুধুমাত্র লো ফ্রীকোয়েন্সী আসবে।
যারা অডিও নিয়ে কাজ করছেন প্রাথমিক লেভেলে তাদের জন্য এই সার্কিট। তৈরী করতে অল্পটাকা লাগবে এবং সুযোগ আছে পরীক্ষানিরীক্ষা করবার। 100nf ও আউটপুটের 1mf কে পরিবর্তন করে ফ্রীকোয়েন্সী কাটঅফ কমবেশী করা যাবে তবে পরিবর্তন এরমান খুব কমবেশী না করাই যুক্তিযুক্ত।
**নোটঃ mf দ্বারা এখানে মাইক্রোফ্যারাড বোঝানো হয়েছে।
এই প্রিএম্প সার্কিটটি টেস্টেড না। আমি আশা করছি আপনারা এটাকে টেষ্ট করে এর আউটপুট কেমন হয় তা আমাদের জানাবেন। সহজ সার্কিট দিলাম যাতে করে অল্প সময়ে ও অল্প খরচে সার্কিটটি নিয়ে গবেষণা করতে পারেন। প্রফেশনাল লেভেলের সাবউফারসার্কিট আমাদের টেস্ট পর্যায়ে আছে যা অতীশিঘ্রই আপনাদের কাছে উপস্থাপন করবো, পিসিবি ডিজাইন সহ। প্রফেশনাল লেভেলের সার্কিট করবার আগে এটাকে নিয়ে গবেষণা যদি করেন তবে একটি ভালো আইডিয়া পাবেন যা প্রফেশনাল সার্কিট তৈরী ও এসেম্বল করতে সুবিধা হবে।
এই প্রিএম্প সার্কিট দিয়ে ৫০ ওয়াটের বেশী মানের এমপ্লিফায়ার না চালানোর জন্য বিশেষ পরামর্শ রইলো। এটা যেহেতু সিঙ্গেল সাপ্লাই সার্কিট তাই ডুয়েল সাপ্লাইয়ের এম্পের সাথে ব্যবহারের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে বিশেষ করে গ্রাউন্ড ও নেগেটিভ সাপ্লাই যেনো কখনো এক সাথে না লাগে।
TDA7294 দিয়ে পাওয়ারফুল এম্পলিফায়ার তৈরি (পিসিবি সহ)
আজকে একটি ৯০ ওয়াটেরশক্তিশালী এম্পলিফায়ার নিয়ে লিখছি। দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এটি যথেষ্ট পাওয়ারফুল এম্পলিফায়ার। বাজারে TDA7294 দিয়ে রেডিমেড কম্পলিট এম্পলিফায়ার পাওয়া যায় তা হয়ত সবাই জানেন। তবে সেগুলোর গুণগত মান তেমন নয়। আজ TDA7294 এর যে ডায়াগ্রামটি দিচ্ছি তা অনেক মানসম্মত একই সাথে শক্তিশালী। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এই ডিজাইনে এম্প সার্কিট আর পাওয়ার সাপ্লাই বিল্টইন। ফলে আলাদা ভাবে পাওয়ার সাপ্লাই বানানোর ঝামেলা নেই। সাবউফার স্পিকার ড্রাইভ করবার জন্যও এটি বেশ কার্যকরী। প্রথমেই এই TDA7294 এম্পলিফায়ার এর ডায়গ্রাম দেখি-
আমাদের এই এম্প সার্কিটডায়াগ্রামে মিউট ও স্ট্যান্ডবাই এর মিলিত সুবিধা দেয়া আছে যা নিরাপদ ও কার্যকরী। ডায়াগ্রামে 28V AC এই অংশটুকু পাওয়ার সাপ্লাই ট্রান্সফরমার এর সেকেন্ডারি তে একটি সুইচের মাধ্যমে সংযুক্ত হবে। এই সুইচ অন-অফ এর মাধ্যমে উক্ত সুবিধাটি কার্যকর করা যাবে (মিউট ও স্ট্যান্ডবাই নিয়ে পরে আলোচনা করছি)।
১৮ গেজ এর কপার তার বা সুপার এনামেল ওয়্যার (মোটর বা ট্করান্সফরমারের কয়েলের তার) কে ৩/৮ ড্রিলবিট এর উপরে ১০ থেকে ১১ প্যাঁচ দিতে হবে। সার্কিট বোর্ডে সংযুক্ত করবার মত তার রেখে অতিরিক্ত তার কেটে বাদ দিতে হবে।
TDA7294 এর কিছু বৈশিষ্টঃ
TDA7294 আইসি টি মনোলিথিক। এই প্যাকেজের মাঝেই হাই আউটপুট পাওয়ার দেবার ব্যবস্থা আছে। ফলে নতুন ও হবিস্টদের জন্য বানানো বেশ সুবিধা জনক। আইসি টির কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট নিম্নরূপ-
উন্নত মানের এম্প সিস্টেমে মিউট ও স্ট্যান্ডবাই সুবিধা বিশেষভাবে থাকে। উভয় ক্ষেত্রেই এম্প এর আউটপুট বন্ধহয়ে যায় কিন্তু ২টির সুবিধা এক নয়।
মিউট এর ক্ষেত্রে এম্প সিস্টেমের সম্পূর্ণ ফাংশন চালু থাকে অপরদিকে স্ট্যান্ডবাইএর ক্ষেত্রে সম্পুর্ণ এম্প সিস্টেম টি এমন একটি পর্যায়ে চলেযায় যখন এম্প সিস্টেম সবথেকে কম পাওয়ার কনজিউম করে। কিন্তু স্ট্যান্ডবাই এর বড় অসুবিধা হলো এই অবস্থা থেকে এম্প সিস্টেম কে সম্পূর্ণ কর্মক্ষম হতে কিছু পরিমাণ সময়ের দরকার হয়। অপরদিকে মিউটিং এর ক্ষেত্রে এম্প সিস্টেমের সকল কার্যক্রম চালু থাকে কিন্তু আউটপুট শুধু বন্ধ হয়। ফলে আউটপুট কে দ্রুত সুইচ অন বা অফ করতে মিউট পদ্ধতিই বেশী কার্যকর।
এম্পলিফায়ার এর পাওয়ার সাপ্লাইঃ
সঠিক পাওয়ার সাপ্লাই এম্পলিফায়ারের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ভোল্টজে বেশী হলে যেমন এম্প আইসি কেটে যেতে পারে তেমনি পাওয়ার সাপ্লাই এর কারেন্ট রেটিং কম হলে সাউন্ড নষ্ট হয়।
ডায়াগ্রামে দেখতে পাচ্ছি এটি একটি স্প্লিট টাইপ পাওয়ার সাপ্লাই। ট্রান্সফরমার ও ক্যাপাসিটর অবশ্যই উচ্চমানের হতে হবে। নয়ত নয়েজ বা হাম আসবে। এখানে উল্লেখ্য যে এই এম্পলিফায়ার সার্কিটটির সাথে যে পিসিবি ডিজাইন দেয়া হয়েছে তাতে এই পাওয়ার সাপ্লাই সেকশন ও যুক্ত করা আছে। তারমানে আপনি একই পিসিবি তে এম্পলিফায়ার এবং পাওয়ার সাপ্লাই পাচ্ছেন।
পাওয়ার গ্রাউন্ড আর কানেকশন গ্রাউন্ড/সিগনাল গ্রাউন্ডকে আলাদা রাখতে হবে
মেটাল ক্যাবিনেট ব্যবহার করলে মোটা তার দিয়ে ক্যাবিনেট ও গ্রাউন্ড ঝালাই করতে হবে
ভলিউম কন্ট্রোলসহ টোন কন্ট্রোল ভেরিয়েবল রেজিষ্টরের বডি একসাথে বাড়তি তার দিয়ে যুক্ত করে গ্রাউন্ডের সাথে ঝালাই করে দিতে হবে
আইসি বা ট্রানসিস্টরে ব্যবহৃত হীট সিংক পর্যাপ্ত হতে হবে
ট্রান্সফরমার এর বডিকে রাবার বা প্লাস্টিকের সাহায্যে চেসিস (ক্যাবিনেট) থেকে আলাদা করে রাখতে পারলে ভাল হবে।
ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক নজর রাখতে হবে। নয়েজ ও হাম দূর করবার জন্য পূর্বে প্রকাশিত আমার এই লেখাটি পড়তে পারেন।
এম্পলিফায়ার পিসিবি ডিজাইনঃ
এম্পলিফায়ারের নয়েজ দূর করতে চাইলে ভালো মানের পিসিবি ডিজাইন বাধ্যতামূলক। তবে অনেকেরই ডিজাইন করবার মত সুবিধা থাকেনা। চাইলেও পারেন না। তাদের জন্য এই এম্পলিফায়ার টির পিসিবি ডিজাইন দিচ্ছি-
TDA7294 এম্পলিফায়ার সার্কিটের পিসিবি
ডিজাইন টি ডাউনলোড করে ছবিতে দেয়া সাইজ অনুযায়ী প্রিন্ট করতে পারেন। সাইজ নিয়ে সমস্যা হলে নিচে দেয়া পিসিবি ডিজাইনের ডাউনলোড লিংক থেকে PDF File ডাউনলোড করে নিন। PDF ফাইল টিকে লেজার প্রিন্টার দিয়ে প্রিন্টকরে টোনার ট্রান্সফার মেথড দিয়ে পিসিবি বানাতে পারেন।
পিসিবি বানানো নিয়ে আমাদের তরুণ গবেষকদল একটি ভিডিও তৈরী করেছে। তাও দেখতে পারেনঃ সহজ ভাবে পিসিবি তৈরী
পিসিবি ডিজাইন টি প্রিন্ট করবার পর নিচের কম্পোনেন্ট লেয়াউট দেখে পার্টসগুলোকে জায়গামত বসিয়ে সোল্ডার করে নিতে হবে। অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন ড্রাইসোল্ডার না থাকে।
এম্পলিফায়ার পিসিবি’র জন্য কম্পোনেন্ট লেয়াউট
TDA7294 আইসি টি সিঙ্গেল চ্যানেল। অর্থাৎ কেউ যদি স্টেরিও হিসেবে ব্যবহার করতে চান তাহলে একই রকম ২টি সার্কিট তৈরি করে স্টেরিও করতে হবে। অবশ্যই আইসিতে বড় মাপের হিটসিংক লাগাবেন। থারমাল পেস্ট ব্যবহার করতে হবে। কম্পলিট স্টেরিও করলে দেখতে এমন হবে-
TDA7294 এর স্টেরিও এম্পলিফায়ার সিস্টেম
স্পিকার বাছাইঃ
এই সার্কিটের সাথে ব্যবহারের জন্য ৮ ইঞ্চি মাপের ও কমপক্ষে ১২০ ওয়াট লোড নিতে সক্ষম স্পীকার ব্যবহার করতে হবে।
প্যাসিভ ক্রসওভার তৈরী ও ব্যবহারঃ
অডিও এমপ্লিফায়ারের আউটপুটে লাগানোর জন্য এই প্যাসিভ ক্রসওভার যা স্পীকারের ধরণ অনুযায়ী অডিও ফ্রিকোয়েন্সীকে আলাদা করে তাতে সিগন্যাল দিবে। এতে করে আউটপুটের শব্দ আরও শ্রুতিমধুর এবং স্পীকারের কর্মক্ষমতা ভাল হবে।
উফার – ৫০০ হার্টজ,
মিডরেঞ্জ – ৫০০- ৩ কিলোহার্টজ এবং
টুইটার ৩ কিলোহার্টজ থেকে ২০ কিলোহার্টজ পর্যন্ত ফ্রিকোয়েন্সী রেঞ্জে কাজ করে।
ভালো বিট পাবার জন্য যেমন ভালো এম্পলিফায়ার সার্কিট, পাওয়ার সাপ্লাই প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন একটি ভালো স্পিকার বক্স। বিশেষ ভাবে বলতে গেলে বুকে ধাক্কা দেবার মত বিট যদি পেতে চাই তাহলে ভালো স্পিকার বক্স ডিজাইনের গত্যান্তর নাই। আমার নিজের ডিজাইন করা একটি ভালো সাবউফার বক্সের ডিজাইন নিচে দিচ্ছি। এটি বানানো যেমন সহজ তেমনি সাউন্ড ও জোড়ালো। এই সাবউফার বক্সের ডিজাইন নিয়ে বিস্তারিত লেখা পাবেন আমাদের সাইটে প্রকাশিত এই লেখায়- সাবউফার বক্স
আশাকরি উপরোক্ত ধাপগুলি সঠিক ভাবে মেনে চললে এম্পলিফায়ার বানানোতে আপনি সফল হবেন। আর আমরা তো আছিই আপনাদের পাশে।
লেখা শুরু করেছিলাম এম্পলিফায়ার নিয়ে। লিখতে লিখতে সম্পূর্ণ এম্পলিফায়ার সিস্টেম নিয়েই বলে ফেললাম। প্রজেক্ট হিসেবেও এই অডিও এম্প সিস্টেম বেশ কাজে লাগতে পারে। এতে যদি আপনার কিঞ্চিৎ উপকার হয় তাতেই এই পরিশ্রম স্বার্থক। অডিও সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে আমাদের আরো লেখা পাবেন অডিও বিভাগে। ঘুরে আসবার আমন্ত্রণ রইলো।
Variable Capacitor – বাংলা অর্থ “পরিবর্তনশীল ধারক”। যা কিনা ইলেকট্রন চার্জ ধারণ করতে পারে। যে ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিট্যান্স বা ধারকত্ব –এর মান পরিবর্তন করা যায় তাকে ভেরিয়েবলক্যাপাসিটর বলে। এগুলো সাধারণত এক বা একাধিক মুভিং প্লেটের সমন্বয়ে তৈরি করাহয়। প্লেটের অবস্থান পরিবর্তন করে ক্যাপাসিট্যান্স পরিবর্তন করাযায়। ভেরিয়েবল ক্যাপাসিটরে মুভিং প্লেট গুলোর বিশেষ সজ্জা ও ধর্মের কারণে এরা একটি অপটির উপর বা নিচ দিয়ে মুভ করার সময় বিভিন্ন ধরনের ক্যাপাসিটেন্স প্রদান করে।
এই ধরণের ক্যাপাসিটর গুলিতে একসেট স্থির ধাতব প্লেট থাকে যাদের স্টেটর বলাহয় এবং একসেট মুভেবল ধাতব প্লেট থাকে যাদের রোটর প্লেট বলাহয়। এই রোটর প্লেটসমূহকে শ্যাফটের মাধ্যমে ঘুরানো যায়। যখন ঘুরানো হয় তখন রোটর প্লেটসমূহ স্টেটর প্লেটসমূহের ফাঁকে প্রবেশ করে এবং মাঝখানের বায়ু ডাইইলেকট্রিক হিসাবে কাজ করে, কিন্তু প্লেটগুলি পরস্পর কে স্পর্শ করেনা। ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিট্যান্স নির্ভর করে রোটর প্লেট ও স্টেটর প্লেটের উপরিপাতিত ক্ষেত্রফলের উপর। শ্যাফট ঘুরালে রোটর প্লেট ও স্টেটর প্লেটের মধ্যে উপরিপাতিত ক্ষেত্রফলের পরিবর্তন হয় বলে ক্যাপাসিটরটি পরিবর্তনশীল ক্যাপাসিট্যান্স তৈরী করে।
গ্যাং হচ্ছে এক প্রকার ভেরিয়েবলক্যাপাসিটর, যা আকার বড় হয়। সাধারণত ক্যাপাসিটর এর মানের উপর নির্ভর করে এর আকার বড়-ছোট হতে পারে। গ্যাং ভেরিয়েবলক্যাপাসিটর মান পরিবর্তনের জন্য এর গায়ে নব বা চাকতি লাগানো থাকে।
নব বা চাকতি ঘুরিয়ে গ্যাং এরমান পরিবর্তন করা হয়। বিশেষ ধরনের গ্যাং ভেরিয়েবলক্যাপাসিটর এর মুভিং প্লেট গুলা ভ্যাকুয়াম চেম্বার এর ভিতরে সজ্জিত থাকে। নিচের চিত্রটিতে একটি ভ্যাকুয়াম চেম্বার ভেরিয়েবলক্যাপাসিটর দেখতে পাচ্ছি-
এদের মান শুন্য থেকে সর্বোচ্চতে পরিবর্তন করা করা যায়। গ্যাং ক্যাপাসিটরের মান অনেক বেশী হয়। যেমনঃ ০ থেকে ৫০০ পি এফইত্যাদি। গ্যাং এর একধিক পা বা লিড থাকে। ক্ষেত্রবিশেষে একে গ্যাং কন্ডেন্সার বলেও ডাকা হয়।
ট্রিমার (Trimmer) ক্যাপাসিটরঃ
ট্রিমার হচ্ছে এক প্রকার ভেরিয়েবলক্যাপাসিটর যা আকারে ছোট। তুলনায় আপনার নখের আকারের মত। এটির মান বেশী থাকেনা, কয়েক পিকো ফ্যারাড থাকে। এই ক্যাপাসিটর এর মান কখনো শুন্য করা সম্ভব নয়, এরজন্য এদের মান এভাবে লেখা হয় ২-৩০ পিএফ অথবা ১০ থেকে ২০ পিএফ ইত্যাদি। এই ট্রিমার ক্যাপাসিটর এর উপরিভাগে স্ক্রুর মত দেখতে একটি অংশ আছে। ঐ অংশটা অধাতব স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে ঘুরিয়ে এর মান পরিবর্তন করা হয়।
বিভিন্ন প্রকার ট্রিমার ক্যাপাসিটরের চিত্র
ট্রিমার কে সাধারণ মেটাল স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে টিউন করা হয় না, কারন ট্রিমার ব্যবহার করা হয় অতি সূক্ষ্ণ মান পরিবর্তেনের জন্য। ধাতব বস্তুর স্পর্শে ট্রিমার এর মধ্যকার ক্যাপাসিটেন্স এর পরিবর্তন হয়, ফলে প্রকৃত মান পাওয়া সম্ভব হয় না।
ট্রিমার কে কিভাবে সার্কিটে সংযোগ দেয়ঃ
ট্রিমার এর ২/৩ টি পা বা লিড থাকে। ৩টি পা আছে এমন ক্যাপাসিটরের একটি পা, অপর একটি পায়ের সাথে কানেক্টেড থাকে, এবং ৩ নং পা-টি মুক্তথাকে অর্থাৎ বাস্তবে ২টি লিড কার্যকর। এই ২টি কার্যকর লিডকে সার্কিটের প্রয়োজনীয় স্থানে সংযোগ দিতেহয়।
ট্রিমারের পা গুলো যেভাবে সংযুক্ত থাকে
উপরে একটি ট্রিমারের বিবর্ধিত চিত্র দেখা যাচ্ছে। ভালোকরে খেয়াল করলে দেখাযাবে যে ডান দিকের পা এর সাথে বাম দিকের বা পরষ্পর সংযুক্ত। কিন্তু নিচের দিকে যে পা টি আছে তার সাথে বাকি পায়ের কোনো সংযোগ নেই। ট্রান্সমিটার, রিসিভার বা যেসব সার্কিট এ ট্রিমার ব্যহৃত হয় সেখানে নিচের পা এবং বাকি ২ পায়ের থেকে যেকোনো একটি পা থেকে সার্কিট এ সংযোগ দিতে হয়। নাহলে সার্কিট কাজ করবে না।
আরএফআইডি (RFID) এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Radio Frequency IDentification. RFID হচ্ছে ক্রেডিট কার্ডের মত পাতলা এবং ছোট একটা ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেটায় খুবছোট একটি চিপ আর একটি কয়েল ও অ্যান্টেনা থাকে। চিপটা সাধারণত সর্বোচ্চ ২০০০ বাইট তথ্য ধারণ করতে পারে।
আরএফআইডি (RFID) এর কাজ কিঃ
RFID ‘র কাজ অনেকটা বারকোডের মতই। শপিংমল কিংবা যেখানে কোনও জিনিস কে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কম্পিউটার দ্বারা সনাক্ত করা লাগে, সেখানে অনেক সময় আরএফআইডি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। প্রত্যেকটি আরএফআইডি ট্যাগের (RFID ডিভাইসকে RFID ট্যাগ বলা হয়) একটি ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন আইডি নাম্বার থাকে। RFID Scanner দিয়ে আরএফআইডি ট্যাগ থেকে এই নম্বরটি বের করা হয়। এবং এই নম্বর দিয়ে প্রত্যেকটা ট্যাগকে আলাদাভাবে শনাক্ত করা হয়।
আরএফআইডি দ্বারা সনাক্তকরণ
আরএফআইডি (RFID) ট্যাগ কিঃ
রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি নিয়ন্ত্রিত ছোট ডিভাইস যা কোন বস্তুকে সনাক্ত করতে ব্যবহার করাহয়। এই পদ্ধতিকে কার্যকর করতে RFID Tag ছাড়াও আরও প্রয়োজন হয় একটি তথ্য আদান-প্রদানকারী সিস্টেম (Reader, writer and transmitter) যা কিনা ট্যাগে রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি সিগনাল ট্রান্সমিট করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদানপ্রদান করতে পারে। এবং উক্ত তথ্য প্রসেসিং করে কোন নির্দিষ্ঠ কাজ ও সম্পাদন করা সম্ভব যায়।
প্যাসিভ আরএফআইডি (RFID) ট্যাগ
RFID Tag কত প্রকারঃ
RFID ট্যাগ ২ ধরণের হয়, Active ও Passive। একটিভ ট্যাগে ব্যাটারি লাগে, প্যাসিভ ট্যাগ RFID স্ক্যানার থেকেই পাওয়ার পায়, ওয়্যারলেস পাওয়ার ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে।
RFID টেকনোলজি বারকোড টেকনোলজি থেকে অনেক কার্যকর, কারণ আরএফআইডি এর একটি বড় সুবিধা হচ্ছে, একে ঠিক স্ক্যানার এর উপর ধরতে হয়না। বারকোড স্ক্যানার আলোর মাধ্যমে কাজ করে, তাই ঠিক স্ক্যানারের উপর বারকোড না ধরলে স্ক্যান হতে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু যেহেতু RFID রেডিও ফ্রিকুয়েন্সির মাধ্যমে কাজ করে, তাই আরএফআইডি ট্যাগকে আসলে RFID Scanner এর কয়েক ফিটের মধ্যে রাখলেই স্ক্যান করা যায়। এমনকি হাই ফ্রিকুয়েন্সির ট্যাগের ক্ষেত্রে ২০ ফিট পর্যন্ত রেইঞ্জ পাওয়া যায়।
আবার, প্যাসিভ RFID ট্যাগ এর ব্যাটারিও লাগেনা, আরএফআইডি স্ক্যানার থেকেই তারহীন ভাবে RFID ট্যাগ এ পাওয়ার সাপ্লাই করা হয়। তাই, আপনি যদি শপিংমলে আরএফআইডি ট্যাগ লাগানো জিনিসপত্র কিনে ব্যাগে রেখে কাউন্টারে আরএফআইডি স্ক্যানারের সামনে ব্যাগটি রাখেন, তাহলেই স্ক্যানার সবগুলো ট্যাগ স্ক্যান করে ফেলতে পারে। এমনকি আপনাকে ব্যাগ থেকে একটা জিনিসও বের করতে হবেনা। তবে এভাবে অনেকগুলো ট্যাগ একসাথে রেখে স্ক্যান করার কিছু অসুবিধাও আছে। পরে সেকথায় আসছি।
আরএফআইডি টেকনোলজি বনাম বারকোড টেকনোলজি
আরএফআইডি টেকনোলজি কবে থেকে চলছে?
আরএফআইডি টেকনোলজি মোটামুটি বছর পঞ্চাশ ধরে পাওয়া যায়। তবে গত কয়েকবছরে আরএফআইডি ট্যাগ এত সস্তা হয়ে গেছে যে বিদেশের অনেক শপিংমলেই বিভিন্ন প্রোডাক্টে এই ট্যাগ পার্মানেন্টলি আটকে দেয়া হয়। Alien Technologies কম্পানি সম্প্রতি Gillette কম্পানিকে ৫০০ মিলিয়ন RFID ট্যাগ বিক্রি করেছে প্রত্যেকটার দাম মাত্র ১০ সেন্ট ধরে।
আরএফআইডি টেকনোলজি এর কিছু সমস্যাঃ
একটু আগে বলেছিলাম যে অনেকগুলো ট্যাগ একসাথে স্ক্যান করার সমস্যাও রয়েছে। এ সমস্যাটিকে বলা হয় ট্যাগ কলিশন, খবরের কাগজের ভাষায় যার অর্থ হচ্ছে- “একাধিক RFID ট্যাগের তথ্যবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ৩, ড্রাইভার পলাতক 😛 “। আসলে যদিও ব্যাপারটা ঠিক তা নয়।
একসাথে সব ট্যাগ ডাটা পাঠালে রিডারের প্যাঁচ লেগে যায়!
যেহেতু আরএফআইডি ট্যাগ পাওয়ার পায় RFID স্ক্যানার থেকে, একসাথে যখন অনেকগুলো ট্যাগকে পাওয়ার করা হয়, তখন প্রত্যেকটা ট্যাগ একসাথে নিজের UID Number (Unique Identification Number) ট্রান্সমিট করা শুরু করে। তখন এতগুলো ট্যাগ একসাথে সামলাতে গিয়ে RFID স্ক্যানারের মাথায় প্যাঁচ লেগে যায় 😀 .
আরএফআইডি টেকনোলজিতে কিছু সমস্যার সমাধানঃ
বিভিন্ন কোম্পানি এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেন, তবে জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি হল, RFID স্ক্যানার যখন বুঝতে পারবে ট্যাগ কলিশন হচ্ছে, তখন সে প্রত্যেকটা ট্যাগকে কতক্ষন পর ইউআইডি (UID) নং পাঠাতে হবে সেটা বলে দিবে। প্রত্যেকটা ট্যাগ তার জন্য নির্ধারিত সময়ে তার ইউআইডি নং সেন্ড করবে, তাই ট্যাগ কলিশন হবেনা।
এছাড়া ২টি স্ক্যানার যদি একসাথে কোনও RFID ট্যাগ স্ক্যান করার চেষ্টা করে, তখন আবার ট্যাগ একসাথে ২টা স্ক্যানারকে ইউআইডি নং পাঠাতে পারেনা, একে রিডার কলিশন বা স্ক্যানার কলিশন সমস্যা বলা হয়।
একটি আরএফআইডি (RFID) সিস্টেমে কি থাকেঃ
একটা RFID সিস্টেমে-
১। একটি স্ক্যানিং অ্যান্টেনা
২। একটি ট্রান্সমিটার ও রিসিভার মডিউল এবং সাথে একটি ডিকোডার থাকে যা প্রাপ্ত তথ্য ডিকোড করে। একেবলে RFID রিডার (স্ক্যানার)
৩। একটি ট্রান্সপন্ডার, যেটা হচ্ছে RFID ট্যাগ
একটি আরএফআইডি সিস্টেমের বিভিন্ন অংশ
নিচে একটি আরএফআইডি সিস্টেমের আর্কিটেকচার দেখানো হলো-
আরএফআইডি সিস্টেমের আর্কিটেকচার
আরএফআইডি (RFID) সিস্টেমের কার্যপ্রণালীঃ
স্ক্যানিং অ্যান্টেনা দুটি কাজ করে থাকে- আরএফ (রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি) সিগনালের মাধ্যমে ট্যাগের সাথে যোগাযোগ করে এবং passive ট্যাগ এর ক্ষেত্রে ট্যাগে পাওয়ার ট্রান্সমিট করে ওয়্যারলেস পাওয়ার ট্রান্সমিশন টেকনোলজির মাধ্যমে।
একটা ট্যাগ যখন স্ক্যানিং অ্যান্টেনার রেঞ্জের মধ্যে আসে, তখন ট্যাগ টি স্ক্যানিং অ্যান্টেনাতে সর্বক্ষণ পাঠাতে থাকা একটিভেশন সিগনাল পেয়ে স্ক্যানারকে তার ইউআইডি(UID) পাঠায়।
সংক্ষেপে, এভাবেই একটি RFID সিস্টেম কাজ করে।
ফান ফ্যাক্ট – একটা RFID ট্যাগ পড়তে স্ক্যানার সময় নেয় ১০০ মিলিসেকেন্ড, আপনি চোখের পাতা ফেলতে যা সময় নেন তার ৪ ভাগের ১ ভাগ!
প্রথমদিকে RFID ট্যাগ শুধুমাত্র জড়বস্তু অর্থাৎ প্রাণহীন জিনিসে লাগানো হত। যেমন সুটকেস, কাপড় ইত্যাদি। বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এখন প্রাণীদেহেও RFID ট্যাগ ব্যবহার করা যায়। প্রাণীদেহের RFID ট্যাগগুলো সাধারণ RFID ট্যাগ থেকে একটু ভিন্ন হয়ে থাকে। এগুলো ক্যাপসুল আকৃতির হয়।
মানব দেহে ক্যাপসুল আকৃতির আরএফআইডি ট্যাগ ব্যবহার হয়
এগুলো এত ছোট করে বানানো হয় যে একেকটা ট্যাগ একটা চালের সমান হয় এগুলোর ক্যাপসুল এমন পদার্থ দিয়ে বানানো হয় যাতে দেহের কোনও ক্ষতি বা অস্বস্তিবোধ না হয়।
এ ট্যাগগুলো প্রাণীদেহে স্থাপনের একটা সাধারণ সমস্যা হচ্ছে, ট্যাগগুলো বারবার এদিক সেদিক সরে যায়। তাই অনেক কোম্পানি ট্যাগের ক্যাপসুল এমন একটি পদার্থ দিয়ে বানান, যেটা আশেপাশের টিস্যুকে নিজের চারপাশে বর্ধিত করে, তখন টিস্যুগুলোই ট্যাগকে আটকে রাখে।
সাধারণত পোষা প্রাণী, গরু ইত্যাদির পরিচয় নির্দিষ্ট করার জন্য RFID ট্যাগ তাদের দেহে সিরিঞ্জের মাধ্যমে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। তবে কিছু ট্যাগ মানুষের দেহেও ব্যবহার করা হয়।
আরএফআইডি (RFID) এর ব্যবহারঃ
RFID ট্যাগ বিভিন্ন আকার এবং বিভিন্ন আকৃতিতে পাওয়া যায়, তাদের বিভিন্ন জায়গায় ফিক্স করাযায়। RFID ব্যবহারের কিছু ক্ষেত্র হচ্ছে-
১। কোনও প্রাণী ট্র্যাক(track) বা প্রাণীটিরঅবস্থান নির্ণয়করা
২। স্ক্রু আকৃতির ট্যাগ কে গাছে কিংবা কাঠের জিনিসে লাগানো, যা পরে আইডেন্টিফিকেশনেরসুবিধা দেয়।
৩। ক্রেডিটকার্ড শেপের ট্যাগ ব্যবহার করে অফিস-বাসায় মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রন করা
৪। দোকানে পন্যের মধ্যে RFID ট্যাগ লাগিয়ে চুরি প্রতিরোধ করা (ট্যাগ দোকানের বাইরে গেলেই অ্যালার্ম বেজে উঠবে)
৫। শিপিং কন্টেইনার, ভারী যন্ত্রপাতি ইত্যাদি পরিবহনের সময় RFID ট্যাগ ব্যবহার করে পরিচয় নির্দিষ্ট করা।
RFID সিস্টেম কি নিরাপদ?
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আরএফআইডি (RFID) সিস্টেম খুব একটা নিরাপদ না। RFID ট্যাগ যেহেতু স্ক্যানারের কাছাকাছি রেখেই স্ক্যান করা যায়, তাই কেউ সঠিক ফ্রিকুয়েন্সির স্ক্যানার নিয়ে আপনার পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেই আপনার ট্যাগগুলো স্ক্যান করে জেনে নিতে পারবে আপনি কি কি জিনিস কিনেছেন অথবা আপনার পোশাকটি কোন কোম্পানির। এটা হয়তো তেমন মূল্যবান কোনও তথ্য নয়, তবে কোনও মিলিটারি সিচুয়েশনে শত্রুপক্ষ হাই রেঞ্জের স্ক্যানার নিয়ে অপরপক্ষের কাছাকাছি লুকিয়ে গেলেই তাদের মধ্যে কে অফিসার, কে জেনারেল শনাক্ত করে সেভাবে টার্গেট করতে পারবে।
সাধারণত সামরিক আর এধরণের ক্ষেত্রে যেখানে নিরাপত্তা দরকার সেখানে বিশেষ ধরণের RFID ট্যাগ ব্যবহার করা হয় যেগুলো ডেটা এনক্রিপ্ট করে ট্রান্সমিট করে।
এই টেকনোলজির নিরাপত্তা জনিত সমস্যা
কিন্তু সাধারণ ট্যাগ (যেমন যেগুলো শপিং মলে ব্যবহার করা হয়) এর চিপ ডেটা এনক্রিপ্ট করার মত শক্তিশালী হয়না। তাই ইচ্ছা করলে যে কেউ সহজেই আপনার RFID ট্যাগ স্ক্যান করে আপনার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
জম্বি (Zombie) RFID ট্যাগঃ
এরকম সমস্যা নিরসনে জম্বি (Zombie) RFID ট্যাগ নামে একধরণের ট্যাগ আবিষ্কার হয়েছে। জম্বি অর্থ হচ্ছে জীবন্মৃত মানুষ। যারা কবর দেয়ার পর বেঁচে উঠে জীবন্ত মানুষের কলিজা খাওয়ার জন্য (!) ব্যস্ত হয়ে ওঠে। যদিও এর কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।
জম্বি ট্যাগের আইডিয়াটাও অনেকটা সেরকমই। ধরি, একটা কাপড়ের দোকানে কোনও কাপড়ে জম্বি RFID ট্যাগ লাগানো আছে। ট্যাগটি যখন দোকানের ভিতর থাকবে, তখন এটি “জীবন্ত” থাকবে এবং কোনও স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করা যাবে। কিন্তু ক্রেতা যখন কাপড়টি কিনে দোকান থেকে বের হয়ে যাবে, তখন একটা বিশেষ ডিভাইস RFID ট্যাগটিতে নির্দেশ পাঠাবে “মরে” যেতে, তখন ট্যাগটি আর কোনও স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করে তথ্য পাওয়া যাবেনা। আবার, ক্রেতা যখন কোনও কারনে কাপড়টি নিয়ে দোকানে আসবে, তখন সেই ডিভাইসটি আবার জম্বি ট্যাগ এ নির্দেশ পাঠাবে “বেঁচে” উঠতে, তখন দোকানের ভিতর আবার স্ক্যানার দিয়ে জম্বি ট্যাগ স্ক্যান করা যাবে।
RFID আধুনিক ও অনেক কাজের উপযোগী একটি প্রযুক্তি। এ লেখায় যেগুলো আছে তার বাইরেও আরএফআইডি এর কাজের অনেক ক্ষেত্র আছে। আবার, আরএফআইডি স্ক্যান করা খুব সহজ হওয়ায় বারকোড ও অন্যান্য প্রচলিত শনাক্তকরণ প্রযুক্তি থেকে RFID অনেক ভাল কাজ করে। বর্তমানে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট, গাড়ির নাম্বার প্লেটেও এই প্রযুক্তি অহরহ ব্যবহার হচ্ছে। তবে, RFID ব্যবহার করায় এখনও কিছু নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। RFID ট্যাগ এ সংরক্ষিত তথ্য যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কেউ দেখতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে, তাহলেই আমরা দৈনন্দিন জীবনে নিশ্চিন্তে আরএফআইডি(RFID) টেকনোলজি সচ্ছন্দে ব্যবহার করতে পারবো।
মোটরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি নিয়ে আজকের এই লেখা। জানতে পারবো মোটর কি, মোটর কত প্রকার, মোটর কিভাবে কাজ করে, ডিসি মোটর কিভাবে কাজ করে, এসি মোটর কত প্রকার ইত্যাদি সম্পর্কে। চলুন পাঠক দেরি না করে শুরু করি।
মোটর কিঃ
মোটর কি? সাধারণ কথায় যা দিয়ে আমরা বাসাবাড়িতে পানি তুলি, তাকেই মোটর বলে ডাকি (ক্ষেত্র বিশেষে পাম্পও বলে)। হ্যাঁ, অনেকটা এরকমই। কিন্তু কিসের জন্য আমরা একই জিনিস কে দুইটি ভিন্ন নামে ডাকি? যেমন একটা জেনারেটরআর আরেকটা মোটর?
একে আমরা এ জন্যই মোটর বলে ডাকি কারণ এই যন্ত্রটি ইলেকট্রিক শক্তি কে মেকানিক্যাল শক্তিতে পরিণত করে। অর্থাৎ আমরা একে চালাতে ইনপুট হিসেবে দিচ্ছি বৈদ্যুতিক শক্তি আর আউটপুটে আমরা এর দ্বারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করিয়ে নিতে পারছি। অর্থাৎ, মেশিনের যে দুটি ভাগের কথা বলেছিলাম একটি মোটর আর আরেকটি জেনারেটর, সেই দুটির মধ্যে এটিই হল মোটর, যা কিনা ইলেকট্রিক্যাল শক্তিকে মেকানিক্যাল শক্তিতে পরিণত করতে পারে এবং আমাদের দৈনন্দিন কাজ সম্পাদনে সাহায্য করে।
ইলেকট্রনিক্সইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ আগ্রহীদের জন্য মোটর সম্পর্কে জানা খুবই প্রয়োজন। বিশেষ করে যাদের রোবটও রোবোটিক্সএর উপর কাজ করার ইচ্ছা। কারণ রোবটের মুভমেন্ট কন্ট্রোলিং এরজন্য ভিন্নভিন্ন মোটর ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। নামেই পরিচয় বিধায় এসি মোটর আর ডিসি মোটর এর ব্যাখ্যায় গেলাম না।
এছাড়াও ইন্ডাকশনমোটর, সিনক্রোনাস মোটর প্রভৃতি বিভিন্ন ভাগে ভাগকরা যায়, তবে তা নিয়ে আজ লিখবো না। সামনে কোনো এক লেখায় ইন্ডাকশনমোটর, সিনক্রোনাস মোটর সহ আরো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলবো।
মোটরের কন্সট্রাকশন বা গঠনঃ
আসলে গঠন প্রনালী নিয়ে এক্সট্রা কিছু বলার দরকার পড়েনা। কারন ডিসি মোটর আর ডিসি জেনারেটর এর গঠন প্রনালী প্রায় একই। খুব বেশি পার্থক্য বা এক্কেবারেই কোন পার্থক্য নেই বলা চলে। তবে ডিসি মোটর আর ডিসি জেনারেটর এর কাজের ধরনে আকাশ-পাতাল তফাৎ আছে। দুটিরই কাজ পুরোপুরি ভিন্ন। তবে মোটরের ক্ষেত্রে আরও অতিরিক্ত বিষয় আছে যেগুলো এখন আলোচনা করব।
মোটরের টর্ক(Torque)এর কথা আমরা কমবেশি সবাই শুনেছি। তার পরেও আবার ঝালাই করে নেই সহজ কয়েকটি কথায় যা মনে থাকবেই। ধরুন, আমরা সবাই কমবেশি বাসে উঠেছি। এখন সবাই হয়ত খেয়াল করেছি যে বাস থেমে থেকে যদি হঠাত করে চলতে শুরুকরে তাহলে যাত্রী যারা থাকেন তারা একটু পিছনের দিকে পিছিয়ে যান বা উলটো দিকে একটি ধাক্কা খান। আবার, যদি নৌকা পানিতে থাকা অবস্থায় সেখান থেকে স্থলে লাফ দেওয়া হয় তাহলে নৌকা পিছনের দিকে একটু পিছিয়ে যায়। কিন্তু কেন?
হ্যা, ঠিক ধরেছেন। এটিই সহজ কথায় টর্ক বলাযায়। তবে টর্কের একদম সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলঃ শক্তি x কৌণিক দূরত্ব । অর্থাৎ, বিপরীত দিকে উতপাদিত শক্তির পরিমান কে তাদের আভ্যন্তরীন কোণ দিয়ে গুন করলে যে মান পাওয়া যাবে তাকে টর্ক বলে। আহ, একটু বলতে বলতে পুরো মহাভারত বলে ফেললাম। আচ্ছা এবার বিপরীত ভোল্টেজ/Back EMF এর কথায় আসি যা মূলত টর্কেরকারণেই সৃষ্টিহয়।
মোটরের টর্ক কিভাবে সৃষ্টি হয় তার সরল এনিমেশন চিত্র
মোটরের বিপরীত ভোল্টেজ বা Back EMF:
এখন কথাহলো ব্যাক ভোল্টেজ জিনিস টা কি? একই জিনিস কিন্তু একটুখানি ভিন্ন কথা। থিওরি হিসেবে বলতে গেলে বলতে হবে, ”বিপরীত ভল্টেজ হল সেই ভোল্টেজ যা উতপাদিত কারেন্ট এর বিপরীতে শক্তি প্রদান করে এবং শক্তির ক্ষয়করে”। একে একেবারে দূরকরা প্রায় অসম্ভব, তবে যতটা সম্ভব কমিয়ে রাখার ব্যবস্থা আছে।
কথা প্রসঙ্গে বলছি মোটর, রিলে, ট্রান্সফরমার বা যে কোনো তার দিয়ে প্যাঁচানো লোড কে ইন্ডকটিভ লোড বলে। এবং আমরা প্রায় সময়ই ইলেকট্রনিক্সসার্কিট সমূহে এই ব্যাক ইএমএফ থেকা বাঁচবার জন্য নিম্নরূপ সংযোগ দেখতে পাই-
এরফলে হয়কি মোটরের বা রিলের কয়েল থেকে সৃষ্ট ব্যাক ইএমএফ বা বিপরীত ভোল্টেজসার্কিট এ দেখানো ট্রানজিস্টরে প্রবেশ করতে পারেনা। যারফলে ট্রানজিস্টর টি অতিরিক্ত গরম হবার হাতথেকে বাঁচে। ক্ষেত্র বিশেষে এই বিপরীত ভোল্টেজ সার্কিটের সাপ্লাই ভোল্টেজ থেকেও অনেক বেশী হয়ে যেতে পারে যা এই ডায়োড টি সার্কিট এ প্রবেশের হাত থেকে রক্ষাকরে, ফলে বাঁচে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ও দামী পার্টস। এখানে উল্লেখ্য যে ডায়োড টি ইন্ডাকটিভ লোডের সাপেক্ষেরিভার্স বায়াসে লাগাতে হবে।
শান্ট ওয়াইন্ডিং এবং সিরিজ ওয়াইন্ডিংঃ
এই দুইটি জিনিস প্রতিটি মোটর বা জেনারেটরে থাকবেই। আসলে এটি হছে এক প্রকারের কয়েল বা তারের প্যাঁচ। কিন্তু নামের ভিন্নতা কিসের জন্য? হ্যা সেটাই বলছি। প্র্যাক্টিকালি এবং সরাসরি বলতে গেলে বলতে হবে- যে কয়েলের তার গুলো চিকন কিন্তু অনেক গুলো প্যাঁচ থাকে তাকে শান্ট ওয়াইন্ডিং বা শান্টের প্যাঁচ বলে। এর বিশেষত্ব হল এর প্যাঁচ অনেক এবং তার গুলো অনেক সরু হয়। যারফলে এর মধ্যে দিয়ে খুব বেশি পরিমাণ কারেন্ট প্রবাহিত হতে পারে না, অর্থাৎ এর রেজিস্ট্যান্সবেশি থাকে।
আর অন্যদিকে সিরিজ ওয়াইন্ডিং বা সিরিজ প্যাঁচ পুরোপুরি এর উল্টো। মানে, এখানে প্যাঁচ কম থাকে। তারফলে যাহয় তাহল এর মধ্যে দিয়ে অনেক বেশি পরিমাণের কারেন্ট প্রবাহিত হতে পারে। নিচের চিত্র গুলো দেখলেই আপনাদের ধারণা এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে আশা করছি ।
শান্ট ওয়াইন্ডিং এবং সিরিজ ওয়াইন্ডিং
মোটরের RPM/আরপিএম কিঃ
অনেক সময় অনেক ছোট মোটর থেকে বড় বিশাল আকৃতির মোটরের গায়ে এই জিনিস লেখা থাকে। কিন্তু এটা আমাদের কৌতূহলই থেকে যায়। আসলে এর মানে হচ্ছে- “কোন মোটর এক মিনিটে কত বার ঘূর্ণন সম্পন্ন করতে পারে”। সহজ কথায়, একটি মোটর পূর্ণগতি লাভ করার পর যদি কোন একটি নির্দিষ্ট এক মিনিট কে কেন্দ্র করে তার ঘূর্ণন পরিমান করা হয় তাহলে তার পরিমান কে আরপিএম(RPM) বা ঘূর্ণন প্রতি মিনিট বলে।
অনেক সময় বিভিন্ন গাড়ির স্পেসিফিকেশনে বা মোটর সাইকেলের স্পেসিফিকেশনেও এই কথাটি লেখা থাকে। হয়ত তখন জানতাম না। কিন্তু এখন কিন্তু আমরা সবাই জানি এর আসল কথাটি কি বা এটি আসলে কি বুঝায়। এখন হয়ত সবাই সঠিক জিনিস চিনতে আর ভুল করব না।
ঠিক সেরকমই আমরা যে মোটর ব্যবহার করি তার গায়েও একই কথা লেখা থাকে। তারমানে যে মোটর এর আরপিএম যতবেশি তার ঘূর্ণন ক্ষমতা ততো বেশি হবে। কিছু জায়গায় আরপিএমএর স্থানে আরপিএস বা রেভোলুশনব্যবহার করে থাকে। এটি দেখলেও ঘাবড়ে যাওয়ার কোন দরকার নেই। এর মানেও একই, শুধু তারা ঘূর্ণন প্রতি মিনিটের জায়গায় প্রতি সেকেন্ড ব্যবহার করেছে। রেভোলুশন মানেও ঘুর্ণন।
ডিসি মোটরের এফিসিয়েন্সি বা লস সমূহঃ
আমরা একটি কথা সবাই জানি যে যেকোন মেশিনের ই আলাদা আলাদা এফিসিয়েন্সি বা আউটপুট ক্ষমতা থাকে। অর্থাৎ, একটি মেশিনের ইনপুট অনুযায়ী আউটপুটে কি রকম শক্তি পাচ্ছে তার হিসাব। এপর্যন্ত পৃথিবীতে এমন কোন মেশিনআবিষ্কার হয় নি যা দিয়ে ১০০ ভাগ এফিসিয়েন্সি পাওয়া সম্ভব। মোটরও এর ভিন্ন কিছু নয়।
কিন্তু এই এফিসিয়েন্সি ইনপুটের তুলণায় কম হওয়ার কারণ কি আসুন তা এক নজরে জেনে নেই। ডিসি মোটরের লস বা ক্ষতি সমূহ কে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। তা হলঃ
১। মোটরের কপার ক্ষতি
২। মোটরের লোহার ক্ষতি
৩। মোটরের মেকানিক্যাল ক্ষতি
তাছাড়াও আরও কিছু ক্ষতি বা লস আছে যেগুলো প্রায় সব মেশিনেই হয়ে থাকে যেমন শব্দ দূষন, ঘর্ষণ এর শক্তি, ব্যাক ভোল্টেজ (আগের কলামে উল্লিখিত)।
ডিসি মোটরের এফিসিয়েন্সি বা লস সমূহ
মোটরের স্টার্টারঃ
যেকোন ডিসি মোটরের ভিতরেই স্টার্টার নামের একটা অংশ বা পার্টস বসানো থাকে যার কাজ হল একটি নির্দিষ্ট ভোল্টেজে নিয়ে মোটরটিকে চালু করা। অর্থাৎ এর মধ্যে এমন এক ধরনের অটো ভেরিয়েবল রেজিস্ট্যান্স বসানো থাকে যার কাজ হলো ঐ নির্দিষ্ট ভোল্টেজে না পৌঁছা পর্যন্ত স্টার্টারটি মোটর কে চালু হতে দিবে না।ডিসি মোটরের ক্ষেত্রে এর অবদান অনেক।
ডিসি মোটরের ব্যবহারঃ
বাসাবাড়িতে সোলার প্যানেল কিংবা ব্যাটারি দিয়ে পানি তোলার জন্য, আধুনিক বিভিন্ন গাড়িতে, বিভিন্ন সুপার কারের বিশেষ অংশের পরিচালনার ক্ষেত্রে, লিফটের এস্কেলেটরে, রোবট, এছাড়াও আমরা ডিসি মোটর আরও অনেক কাজে ব্যবহার করে থাকি।
নিচের চিত্রে একটি রোবট আর্ম (Robot arm) দেখতে পাচ্ছেন যাকিনা আধুনিক শিল্পকারখানায় বহুল ভাবে ব্যবহৃত হয় ভারী কোনকিছু তুলতে। একে সচল রাখতে মোটরের ভূমিকা যে অপরিসীম তা বুদ্ধিমান পাঠক নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন।
রোবট আর্মে ডিসি মোটরের ব্যবহার
কেউ যদি পরীক্ষার জন্য কিংবা বিজ্ঞান প্রজেক্টের জন্য হাতে মোটর বানাতে চান তাহলে আমাদের সাইটে প্রকাশিত নিজেই বানাই ইলেকট্রিক মোটর লেখাটি পড়তে পারেন।
শেষ কথাঃ
বলতে বলতে অনেক কথাই হয়ে গেল। আশাকরি লেখা, ছবি ও ভিডিও সব মিলে পুরো বিষয় গুলো আপনাদের কে একটু হলেও শেয়ার করতে পেরেছি। আপনাদের হয়ত বা ভালো লেগেছে। যদি লেগেই থাকে তাহলে অনুগ্রহ পূর্বক লেখাটি শেয়ার করবেন। পরিশেষে বলতে চাই, আধুনিক সভ্যতাকে যেমন “চাকা“ অনেক অগ্রগামী করেছে তেমনি এই চাকাকে এগিয়ে নিয়েগেছে মোটরের গতি। ভেবে দেখুনতো মোটর আর জেনারেটর যদি আবিষ্কার নাহতো তাহলে কি এই লেখা আপনাদের সামনে নিয়ে আসতে পারতাম? অবশ্যই নয়। সামনে এমনি আরো অনেক লেখা নিয়ে আসবো সেই প্রত্যাশা করছি।
এই লেখা সম্পর্কে বা এই সাইটের যেকোন লেখা সম্পর্কে আমাদের কাছে কোন প্রশ্ন জানার থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। তাছাড়া ফেসবুকেও আমাদের পেজে লাইক দিয়ে সেখানেও বিভিন্ন প্রশ্ন করতে পারেন। সাথে থাকুন, ভালো থাকুন।
ব্রেডবোর্ড/প্রজেক্ট বোর্ড পরিচিতি ও বেসিক ইলেকট্রনিক্স সার্কিট
ব্রেডবোর্ড/প্রজেক্ট বোর্ডের পরিচিতিঃ
ব্রেডবোর্ড (breadboard) এর নামের মধ্যে ব্রেড থাকলেও আসলে এটির সাথে রুটির, এমনকি খাদ্যেরও কোনও সম্পর্ক নেই। ব্রেডবোর্ড হচ্ছে সার্কিট প্রোটোটাইপ করার জন্য বিশেষ ধরণের বোর্ড যা প্রজেক্ট তৈরি করতে দ্রুত সাহায্য করে থাকে। এজন্য এর অপর নাম প্রজেক্ট বোর্ড। নিচে ব্রেডবোর্ডের একটি ছবি দেখি –
ব্রেডবোর্ডে যে ছিদ্রগুলো দেখা যাচ্ছে ওগুলো কম্পোনেন্ট বসানোর জন্য। মাঝখানের যে ২ সারি ছিদ্র দেখা যাচ্ছে ও গুলো লম্বালম্বি ভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত। উপরের ও নিচের সারির ছিদ্রগুলো পাশাপাশি ভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত। নিচের ছবি দেখে ব্যাপারটি ভালোমত বোঝা যাবে।
ব্রেডবোর্ড/প্রজেক্ট বোর্ডে ছিদ্রগুলো যেভাবে থাকে
ব্রেডবোর্ডের বিবরণঃ
মাঝখানের ছিদ্রগুলোর ১টি সারির ৫টি ছিদ্র লম্বালম্বি ভাবে কানেক্টেড। কিন্তু পাশাপাশি একটি সারির সাথে আরেকটি সারি কানেক্টেড না।
আবার নিচের ছিদ্রগুলোর ৫০টি ছিদ্র পাশাপাশি যুক্ত, কিন্তু উপরের ও নিচের সারি যুক্ত নয়।
মাঝখানে যে একটি ফাঁকা আছে, এই ফাঁকটি প্রস্থ আইসির এক পা থেকে অপরদিকের আরেক পায়ের দূরত্বের সমান। এবং এই ফাঁকের দুইপাশের সারি যুক্ত না। তাই এই জায়গায় আইসি বসিয়ে কাজ করা যাবে। মাঝখানের ফাঁকের ফলে আইসির দুইদিকের পিন শর্ট হয়ে যাবেনা।
ব্রেডবোর্ডের উপরের ও নিচের সারি কে সাধারণত কমন পাওয়ার লাইন হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং মাঝখানে কম্পনেন্ট বসানো হয়।
কিছু ব্রেডবোর্ডে আবার পাওয়ার লাইনের মাঝখানে ব্রেক থাকে। যেগুলোতে ব্রেক থাকে সেগুলোতে মাঝখানে দুইটা সারির মাঝের দূরত্ব একটু বেশি থাকে। তবে শিওর হওার জন্য মিটার দিয়ে চেক করে নেয়া উচিত।
ব্রেডবোর্ডের সুবিধা হল এখানে কম্পোনেন্ট গুলোকে পার্মানেন্টলি সোল্ডার করতে হয় না। যেকোনো সময় খুলে ফেলা যায়। তাই র্যাপিড প্রটোটাইপিং এর জন্য ব্রেডবোর্ড খুব কাজে লাগে।
ব্রেডবোর্ডে কানেকশন কিভাবে দেয়?
ব্রেডবোর্ডে এক পয়েন্ট থেকে আরেক পয়েন্টে কানেকশন দেয়ার জন্য জাম্পার ওয়্যার (Jumper wire)নামে বিশেষ ধরণের তার ব্যবহার করা হয়। একে মাঝেমাঝে হেডার ওয়্যার ও বলে। জাম্পার ওয়্যার আসলে চিকন সাধারণ তার। যার দুই মাথায় প্লাস্টিকের হাউজিং থেকে শক্ত পিন বের হয়ে থাকে। এই পিন ব্রেডবোর্ডের ছিদ্রতে ঢুকানো হয়।
জাম্পার ওয়্যার/হেডার ক্যাবল
জাম্পার ওয়্যার কত প্রকার?
জাম্পার ওয়্যার ৩ ধরণের হয়-
১। মেইল টু মেইল– এধরণের জাম্পারের দুইমাথা থেকে পিন বের হয়ে থাকে
৩। মেইল টু ফিমেইল – এধরণের জাম্পার একমাথা থেকে পিন বেরিয়ে থাকে, অপর মাথায় পিন ঢুকানোর জায়গা থাকে।
জাম্পার ওয়্যার এর পরিবর্তে কি ব্যবহার করতে পারি?
জাম্পার ওয়্যারের দাম একটু বেশি হওায় অনেকে ইথারনেট কেবলের তার বা Cat5 ক্যাবল ইউজ করেন। আবার সলিড কোর তামার তার ব্যবহার করা যায়।
ব্রেডবোর্ডের দাম কেমন?
ব্রেডবোর্ড বিভিন্ন সাইজের হয় এবং কোয়ালিটি ও সাইজ অনুযায়ী দামও কম-বেশি হয়। একদম ছোট মিনি ব্রেডবোর্ড ৫০-১০০ টাকা দামে পাওয়া যায় এবং স্ট্যান্ডার্ড সাইজের গুলো ১৫০-৩০০ টাকায় পাওয়া যায়। ভালো মানের গুলো দামে বেশী হয়।
ভালো ব্রেডবোর্ড কিভাবে চিনবো?
ভালো মানের ব্রেডবোর্ডে পাওয়ার লাইনে কোনটা পজিটিভ কোনটা নেগেটিভ ইত্যাদি মারকিং করা থাকে। আর সব ব্রেডবোর্ডের নিচেই ডাবল সাইডেড টেপ লাগানো থাকে। যার কভারটা খুলে ব্রেডবোর্ডকে পার্মানেন্টলি কোনও জায়গায় ফিক্স করা যায়।
ব্রেডবোর্ড দিয়ে বেসিক ইলেকট্রনিক্স সার্কিটঃ
চলুন এবার ব্রেডবোর্ডে একটি সার্কিট বানাই। যেহেতু ব্রেডবোর্ডে এটি আমাদের প্রথম সার্কিট, তাই আমরা খুব সহজ ও কাজের একটি সার্কিট, ডার্ক ডিটেক্টর বানাবো। সার্কিটটি বানাতে আমাদের যেসব কম্পোনেন্ট লাগবে, তা হল –
এখানে জাম্পারের কানেকশনগুলো সবুজ দাগ দিয়ে বোঝানো হয়েছে। নিচের পাওয়ার লাইন গ্রাউন্ড লাইন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং উপরের পাওয়ার লাইন কে পজিটিভ লাইন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। LDR এর ওপর আলো না পড়লেই LED টি জ্বলে উঠবে এবং আলো পড়লেই LEDটি নিভে যাবে। পটেনশিওমিটার বা ভেরিয়েবল ঘুরিয়ে এর সেন্সিটিভিটি কনট্রোল করা যাবে।